Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 5:17

[1] এরপর আমি মন্দিরের মধ্য থেকে এক উচ্চ রব শুনতে পেলাম, যা ওই সাতজন স্বর্গদূতকে বলছিল, “তোমরা যাও, গিয়ে ঐশ-ক্রোধে পূর্ণ ওই সাতটি বাটি পৃথিবীতে ঢেলে দাও।”

[2] প্রথম স্বর্গদূত গিয়ে তাঁর বাটি ভূপৃষ্ঠের উপরে ঢেলে দিলেন। এতে যারা সেই পশুর ছাপ ধারণ করেছিল ও তার মূর্তির পূজা করেছিল, তাদের গায়ে বীভৎস ও যন্ত্রণাদায়ক ক্ষত উৎপন্ন হল।

[3] দ্বিতীয় স্বর্গদূত সমুদ্রপৃষ্ঠে তাঁর বাটি ঢেলে দিলেন। এতে তা মৃত মানুষের রক্তের মতো হল ও সমুদ্রের সমস্ত সজীব প্রাণী মারা পড়ল।

[4] তৃতীয় স্বর্গদূত তাঁর বাটি সব নদনদী ও জলের উৎসগুলির উপরে ঢেলে দিলেন, সেগুলি রক্তে পরিণত হল।

[5] তখন আমি শুনলাম, জলরাশির উপরে ভারপ্রাপ্ত স্বর্গদূত বলছেন: “যিনি আছেন ও যিনি ছিলেন, সেই পবিত্রজন, এই সমস্ত বিচারে তুমিই ধর্মময়, যেহেতু তুমি এরকম বিচার করেছ;

[6] কারণ তারা তোমার সন্তজনেদের ও ভাববাদীদের রক্তপাত করেছিল, আর তুমি তাদের রক্ত পান করতে দিয়েছ, কারণ তারা তারই উপযুক্ত।”

[7] আর আমি সেই যজ্ঞবেদির প্রত্যুত্তর শুনতে পেলাম: “হ্যাঁ, প্রভু ঈশ্বর, সর্বশক্তিমান, তোমার সব বিচারাদেশ যথার্থ ও ন্যায়সঙ্গত।”

[8] চতুর্থ স্বর্গদূত তাঁর বাটি সূর্যের উপরে ঢেলে দিলেন। আর সূর্যকে ক্ষমতা দেওয়া হল, যেন সে আগুনের দ্বারা সব মানুষকে ঝলসে দেয়।

[9] যাঁর এই সমস্ত আঘাত উপরে নিয়ন্ত্রণ ছিল, প্রখর উত্তাপে তারা তাপদগ্ধ হয়ে সেই ঈশ্বরের নামকে অভিশাপ দিতে লাগল। কিন্তু তারা মন পরিবর্তন করতে ও তাঁকে গৌরব দিতে চাইল না।

[10] পঞ্চম স্বর্গদূত সেই পশুর সিংহাসনের উপরে তাঁর বাটি ঢেলে দিলেন। তার রাজ্য অন্ধকারে ছেয়ে গেল। মানুষেরা যন্ত্রণায় তাদের জিভ চিবাতে লাগল

[11] এবং তাদের যন্ত্রণা ও তাদের ক্ষতগুলির জন্য স্বর্গের ঈশ্বরকে অভিশাপ দিল। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করল না।

[12] ষষ্ঠ স্বর্গদূত মহানদী ইউফ্রেটিসের উপরে তাঁর বাটি ঢেলে দিলেন। এতে সেই নদীর জল শুকিয়ে গিয়ে পূর্বদিক থেকে রাজাদের আগমন-পথ সুগম করল।

[13] তারপর আমি তিনটি মন্দ-আত্মা দেখলাম, যেগুলি দেখতে ছিল ব্যাঙের মতো। সেগুলি সেই নাগ-দানবের মুখ থেকে, সেই পশুর মুখ থেকে ও সেই ভণ্ড ভাববাদীর মুখ থেকে বেরিয়ে এল।

[14] তারা ভূতদের আত্মা, অলৌকিক সব চিহ্নকর্ম করে, আর তারা সমস্ত জগতের রাজাদের কাছে যায়, যেন সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সেই মহাদিনের জন্য সেইসব রাজাদের যুদ্ধে একত্র করতে পারে।

[15] “দেখো, আমি চোরের মতো আসছি! ধন্য সেই মানুষ, যে জাগ্রত থেকে তার পোশাক সঙ্গে রাখে, যেন সে নগ্ন না হয় ও তার লজ্জা প্রকাশ হয়ে না পড়ে।”

[16] তারপর তারা সেই রাজাদের একটি স্থানে একত্র করল, হিব্রু ভাষায় যে স্থানটির নাম হরমাগিদোন।

[17] সপ্তম স্বর্গদূত অন্তরীক্ষের উপরে তাঁর বাটি ঢাললেন। তখন মন্দিরের অভ্যন্তরস্থিত সিংহাসন থেকে এক উচ্চধ্বনি শোনা গেল, যা বলছিল, “সমাপ্ত হল!”

[18] তারপর সেখানে প্রকাশ পেল বিদ্যুতের ঝলকানি, গুরুগম্ভীর গর্জন, বজ্রপাত ও হল এক প্রচণ্ড ভূমিকম্প। পৃথিবীতে মানুষের সৃষ্টি হওয়া থেকে এমন ভূমিকম্প আর কখনও হয়নি, সেই ভূমিকম্প ছিল এমনই সাংঘাতিক।

[19] এতে সেই মহানগরী তিন ভাগে বিভক্ত হল ও বিভিন্ন দেশের নগরগুলি ধূলিসাৎ হল। ঈশ্বর মহানগরী ব্যাবিলনকে স্মরণ করলেন এবং তাঁর ভয়ংকর ক্রোধে পূর্ণ সুরার পানপাত্র তাকে দিলেন।

[20] প্রত্যেকটি দ্বীপ অন্তর্ধান করল ও পর্বতগুলিকে আর খুঁজে পাওয়া গেল না।

[21] আর মহাকাশ থেকে মানুষদের উপরে বড় বড় শিলাবৃষ্টি হল, তার এক একটির ওজন প্রায় পঞ্চাশ কিলোগ্রাম। আর তারা শিলাবৃষ্টির জন্য ঈশ্বরকে অভিশাপ দিল, কারণ সেই আঘাত ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর।

প্রকাশিত বাক্য — Chapters