Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 4:43

[1] আমি দেখছিলাম, সেই মেষশাবক সাতটি সিলমোহরের প্রথমটি উন্মুক্ত করলেন। তারপর আমি শুনলাম, ওই চারজন জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে একজন বজ্রগম্ভীর কণ্ঠে ডেকে উঠলেন, “এসো!”

[2] আমি তাকিয়ে দেখলাম, আমার সামনে এক শ্বেতবর্ণ অশ্ব! এর আরোহী ছিল ধনুর্ধারী। তাকে একটি মুকুট দেওয়া হল। বিজয়ীর বেশে সে জয় করার জন্য বেরিয়ে পড়ল।

[3] মেষশাবক যখন দ্বিতীয় সিলমোহরটি খুললেন, আমি শুনতে পেলাম, দ্বিতীয় জীবন্ত প্রাণী বলছেন, “এসো!”

[4] তখন আগুনে-লাল রঙের দ্বিতীয় একটি অশ্ব বের হয়ে এল। এর আরোহীকে ক্ষমতা দেওয়া হল পৃথিবীর শান্তি অপহরণ করার, যেন মানুষেরা পরস্পরকে হত্যা করে। তাকে দেওয়া হল দীর্ঘ এক তরোয়াল।

[5] মেষশাবক যখন তৃতীয় সিলমোহরটি খুললেন, আমি তৃতীয় জীবন্ত প্রাণীকে বলতে শুনলাম, “এসো!” আমি তাকিয়ে দেখলাম আমার সামনে এক কৃষ্ণবর্ণের অশ্ব। এর আরোহীর হাতে একটি দাঁড়িপাল্লা ছিল।

[6] তারপর আমি শুনতে পেলাম, সেই চারজন জীবন্ত প্রাণীর কোনো একজনের কণ্ঠস্বর যেন বলছেন, “এক কিলো গমের দাম এক দিনার ও তিন কিলো যবের দাম এক দিনার। তুমি তেল বা দ্রাক্ষারসের অপচয় কোরো না!”

[7] মেষশাবক যখন চতুর্থ সিলমোহর খুললেন, আমি চতুর্থ জীবন্ত প্রাণীর কণ্ঠস্বর বলছে, “এসো!”

[8] আমি তাকিয়ে আমার সামনে এক পাণ্ডুর রঙের অশ্ব। এর আরোহীর নাম ছিল মৃত্যু, পাতাল ঘনিষ্ঠভাবে তাকে অনুসরণ করছিল। তাদের ক্ষমতা দেওয়া হল যেন, তরোয়াল, দুর্ভিক্ষ, মহামারি ও পৃথিবীর বন্য জন্তুদের দ্বারা পৃথিবীর এক-চতুর্থাংশ প্রাণীকে হত্যা করে।

[9] তিনি যখন পঞ্চম সিলমোহর খুললেন তখন আমি বেদির নিচে তাঁদের প্রাণকে দেখলাম, যাঁরা ঈশ্বরের বাক্য ও তাঁদের অবিচল সাক্ষ্যের জন্য নিহত হয়েছিলেন।

[10] তাঁরা উচ্চস্বরে বলে উঠলেন, “পবিত্র ও সত্যময়, সর্বাধিপতি প্রভু, পৃথিবী নিবাসীদের বিচার করতে ও আমাদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে আর কত কালবিলম্ব করবেন?”

[11] তখন তাঁদের প্রত্যেককে একটি করে শুভ্র বসন দেওয়া হল এবং তাঁদের বলা হল, আর অল্প সময় অপেক্ষা করতে, যতক্ষণ না তাঁদের সহদাস ও ভাইবোন, যাঁদের নিহত হতে হবে তাঁদেরই মতো, তাঁদের সংখ্যা পূর্ণ হয়।

[12] আমি দেখা করছিলাম, তিনি ষষ্ঠ সিলমোহরটি উন্মুক্ত করলেন, তখনই এক মহা-ভূমিকম্প হল। সূর্য ছাগলোমে বোনা কম্বলের মতো কৃষ্ণবর্ণ ও পূর্ণচন্দ্র রক্তের মতো লালবর্ণে রূপান্তরিত হল।

[13] আর আকাশের তারাগুলি পৃথিবীতে পতিত হল, ঠিক যেভাবে প্রবল বাতাসে আন্দোলিত ডুমুর গাছ থেকে অপক্ব ডুমুর ঝরে পড়ে।

[14] আকাশ দৃষ্টিপথ থেকে দূরে সরে গেল, ঠিক যেভাবে পুঁথিকে গুটিয়ে ফেলা হয়। প্রত্যেক পর্বত ও দ্বীপও তাদের স্বস্থান থেকে উৎপাটিত হল।

[15] তখন পৃথিবীর সব রাজা, রাজপুত্র রাজকন্যারা, সৈন্যাধ্যক্ষেরা, ধনী ও পরাক্রমীরা, ক্রীতদাসেরা ও সব মুক্ত মানুষ বিভিন্ন গুহায় ও পর্বতশৈলে নিজেদের লুকিয়ে রাখল।

[16] তারা পর্বতসকল ও মহাশিলাকে ডেকে বলতে লাগল, “আমাদের উপরে পতিত হও এবং যিনি সিংহাসনে সমাসীন, তাঁর সামনে থেকে ও মেষশাবকের কোপ থেকে আমাদের লুকিয়ে রাখো।

[17] কারণ তাঁদের ক্রোধ প্রকাশের মহাদিন এসে পড়েছে, আর কে তাঁর সামনে দাঁড়াতে পারে?”

প্রকাশিত বাক্য — Chapters