Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 4:48

[1] আর আমি দেখলাম, একটি পশু সমুদ্রের মধ্য থেকে উঠে আসছে। তার ছিল দশটি শিং ও সাতটি মাথা এবং তার শিংগুলির উপরে দশটি মুকুট। আর প্রত্যেকটি মাথায় ছিল একটি করে ঈশ্বর নিন্দাসূচক নাম।

[2] যে পশুটি আমি দেখলাম, সেটি দেখতে চিতাবাঘের মতো, কিন্তু পাগুলি ছিল ভালুকের মতো এবং মুখটা ছিল সিংহের মতো। সেই নাগ দানব পশুটিকে তার পরাক্রম ও তার সিংহাসন ও মহা কর্তৃত্ব প্রদান করল।

[3] সেই পশুর একটি মাথা মনে হল যেন মারাত্মক আঘাতে আহত, কিন্তু সেই মারাত্মক আঘাতের নিরাময় করা হল। এতে সমস্ত জগৎ বিস্মিত হয়ে সেই পশুকে অনুসরণ করল।

[4] লোকেরা সেই নাগ-দানবের পূজা করল, কারণ সে সেই পশুকে কর্তৃত্ব প্রদান করেছিল। আর তারা সেই পশুটিরও পূজা করে বলতে লাগল, “এই পশুর সমতুল্য কে? কে এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে?”

[5] সেই পশুটিকে এমন এক মুখ দেওয়া হল, যা বহু দম্ভের কথা ও ঈশ্বরনিন্দার উক্তি করবে এবং বিয়াল্লিশ মাস যাবৎ তার কর্তৃত্ব প্রয়োগ করবে।

[6] সে তার মুখ খুলে ঈশ্বরের নিন্দা এবং তাঁর নাম ও তাঁর আবাস-স্থল ও স্বর্গবাসী সকলের নিন্দা করতে লাগল।

[7] তাকে সন্তজনেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ও তাদের পরাস্ত করার ক্ষমতা প্রদত্ত হল। আর সমস্ত গোষ্ঠী, জাতি, ভাষাভাষী ও দেশের উপরে তাকে কর্তৃত্ব দেওয়া হল।

[8] এতে পৃথিবীর সমস্ত অধিবাসী সেই পশুর পূজা করবে, যাদের নাম জগৎ সৃষ্টির লগ্ন থেকে নিহত মেষশাবকের জীবনপুস্তকে লিখিত নেই।

[9] যার কান আছে, সে শুনুক।

[10] যদি কেউ বন্দিত্বের জন্য নির্ধারিত, সে বন্দিত্বে যাবে। যদি কেউ তরোয়ালের দ্বারা হত হওয়ার জন্য নির্ধারিত, সে তরোয়ালের দ্বারা হত হবে। এর অর্থ, পবিত্রজনেরা অবশ্য ধৈর্যের সঙ্গে নিপীড়ন সহ্য করবে ও বিশ্বস্ত থাকবে।

[11] তারপর আমি অন্য একটি পশু দেখলাম, সে ভূগর্ভ থেকে উঠে এল। তার ছিল মেষশাবকের মতো দুটি শিং, কিন্তু সে দানবের মতো কথা বলত।

[12] সে ওই প্রথম পশুটির পক্ষে তার সমস্ত কর্তৃত্ব প্রয়োগ করল এবং যার মারাত্মক ক্ষত নিরাময় করা হয়েছিল, সেই প্রথম পশুটির পূজা করতে পৃথিবী ও তার অধিবাসীদের বাধ্য করল।

[13] আর সে মহা অলৌকিক চিহ্নকর্ম করতে লাগল, এমনকি, লোকদের দৃষ্টিগোচরে মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে আগুনও নামিয়ে আনল।

[14] এভাবে প্রথম সপক্ষে যেসব চিহ্নকার্য করার ক্ষমতা তাকে দেওয়া হয়েছিল তা দিয়ে সে পৃথিবীবাসীদের প্রতারণা করল। সে সেই পশুর সম্মানে তাদের একটি প্রতিমা স্থাপন করার আদেশ দিল, যাকে তরোয়ালের দ্বারা আঘাত করলেও সে জীবিত ছিল।

[15] তাকে ক্ষমতা দেওয়া হল যেন সে প্রথম পশুটির প্রতিমায় প্রাণবায়ু সঞ্চার করতে পারে ও সেই প্রতিমা কথা বলতে পারে এবং এমন করতে পারে, যেন যারা ওই প্রতিমার পূজা না করে, তাদের হত্যা করা হয়।

[16] এর সঙ্গে সে সামান্য ও মহান, ধনী ও দরিদ্র, স্বাধীন ও ক্রীতদাস নির্বিশেষে সকলকে বাধ্য করল, যেন তারা তাদের ডান হাতে বা কপালে একটি ছাপ গ্রহণ করে,

[17] যেন ওই ছাপ না থাকলে, কেউ কেনাবেচা করতে না পারে। সেই ছাপ ছিল ওই পশুর নাম বা তার নামের সংখ্যা।

[18] এতে প্রজ্ঞার প্রয়োজন হয়। যদি কারও অন্তর্দৃষ্টি থাকে, সে ওই পশুর সংখ্যা গণনা করুক, কারণ তা মানুষের সংখ্যা। সেই সংখ্যাটি হল 666।

প্রকাশিত বাক্য — Chapters