[1] এরপরে আমি দেখলাম, আমার সামনে স্বর্গে একটি দুয়ার খোলা আর প্রথমে যে কণ্ঠস্বর তূরীধ্বনির মতো আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তিনি বললেন, “তুমি এখানে উঠে এসো, এরপরে যা অতি অবশ্যই ঘটবে, সেসব আমি তোমাকে দেখাব।”
[2] আমি সেই মুহূর্তেই পবিত্র আত্মায় আবিষ্ট হলাম এবং দেখলাম আমার সামনে স্বর্গের সিংহাসন রাখা আছে এবং এক ব্যক্তি তার উপরে উপবিষ্ট।
[3] এবং উপবিষ্ট সেই ব্যক্তির কান্তি সূর্যকান্ত ও সার্দীয় মণির মতো। সেই সিংহাসনকে ঘিরে ছিল পান্নার মতো এক মেঘধনু।
[4] সেই সিংহাসনের চারদিকে ছিল আরও চব্বিশটি সিংহাসন, সেগুলির উপরে উপবিষ্ট ছিলেন চব্বিশজন প্রাচীন ব্যক্তি। তাদের পরনে শুভ্র বসন ও তাঁদের মাথায় সোনার মুকুট।
[5] সেই সিংহাসন থেকে নির্গত হচ্ছিল বিদ্যুতের ঝলক, গুরুগম্ভীর ধ্বনি ও বজ্রনিনাদ। সিংহাসনের সামনে রাখা ছিল সাতটি প্রদীপ, যেগুলি ঈশ্বরের সপ্ত-আত্মা।
[6] এছাড়াও, সিংহাসনের সামনে ছিল স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ দেখতে, যেন কাচের একটি সমুদ্র। সিংহাসনের কেন্দ্রস্থলে চারদিকে ছিলেন চার জীবন্ত প্রাণী, এবং তাঁদের সামনের ও পেছনের দিক ছিল চোখে পরিপূর্ণ।
[7] প্রথম জীবন্ত প্রাণী ছিলেন সিংহের মতো, দ্বিতীয়জন ছিলেন বৃষের মতো, তৃতীয় জনের মুখমণ্ডল ছিল মানুষের মতো, চতুর্থজন ছিলেন উড়ন্ত ঈগলের মতো।
[8] এই চার জীবন্ত প্রাণীর প্রত্যেকের ছিল ছয়টি করে ডানা এবং তাদের দেহের সর্বত্র এমনকি ডানাগুলিও ছিল চোখে পরিপূর্ণ। দিন-রাত্রি, অবিরাম তাঁরা একথা বলেন: “পবিত্র, পবিত্র, পবিত্র, প্রভু ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, যিনি ছিলেন এবং যিনি আছেন এবং যিনি আসছেন।”
[9] যিনি সিংহাসনে উপবিষ্ট ও যিনি যুগে যুগে চিরকাল জীবন্ত, তাঁকে যখন জীবন্ত প্রাণীরা গৌরব, সম্মান ও ধন্যবাদ অর্পণ করেন,
[10] তখন সিংহাসনে উপবিষ্ট ব্যক্তির সামনে ওই চব্বিশজন প্রাচীন প্রণিপাত করেন ও যিনি যুগে যুগে চিরকাল জীবন্ত, তাঁর উপাসনা করেন। তাঁরা তাঁদের মুকুট সিংহাসনের সামনে রেখে দিয়ে বলেন,
[11] “আমাদের প্রভু ও ঈশ্বর, তুমি মহিমা, সম্মান ও পরাক্রম গ্রহণের যোগ্য; কেননা তুমি সবকিছু সৃষ্টি করেছ, এবং তোমার ইচ্ছামতোই সবকিছু সৃষ্ট হয়েছে ও তাদের অস্তিত্ব প্রকাশিত হয়েছে।”