[1] পরে আমি দেখলাম, যিনি সিংহাসনে আসীন, তাঁর ডান হাতে রয়েছে একটি পুঁথি, যার ভেতরে ও বাইরে, দুদিকেই লেখা এবং তা সাতটি সিলমোহর দ্বারা মোহরাঙ্কিত।
[2] আবার আমি এক শক্তিশালী দূতকে দেখলাম, যিনি উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করছেন, “এই সিলমোহরগুলি ভেঙে পুঁথিটি উন্মুক্ত করার যোগ্য কে?”
[3] কিন্তু স্বর্গে কি পৃথিবীতে কি পাতালে, কেউই ওই পুঁথিটি উন্মুক্ত করতে বা তার ভেতরে দৃষ্টিপাত করতে সক্ষম হল না।
[4] আমি কেবলই কাঁদতে থাকলাম, কারণ ওই পুঁথি উন্মুক্ত করতে বা তার ভেতরে দৃষ্টিপাত করার যোগ্য কাউকেই পাওয়া গেল না।
[5] তখন প্রাচীনদের মধ্যে একজন আমাকে বললেন, “তুমি কেঁদো না! দেখো, যিনি যিহূদা গোষ্ঠীর সিংহ, দাউদ বংশের মূলস্বরূপ, তিনি বিজয়ী হয়েছেন। তিনিই ওই পুঁথি ও তার সাতটি সিলমোহর খুলতে সক্ষম।”
[6] এরপর আমি এক মেষশাবককে দেখতে পেলাম, দেখে মনে হল যেন তাঁকে যেন হনন করা হয়েছিল। তিনি সিংহাসনের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়েছিলেন ও তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ছিলেন সেই চার জীবন্ত প্রাণী ও প্রাচীনবর্গ। তাঁর ছিল সাতটি শিং ও সাতটি চোখ, যেগুলি হল সমস্ত পৃথিবীতে প্রেরিত ঈশ্বরের সপ্ত-আত্মা।
[7] তিনি এসে সিংহাসনে উপবিষ্ট ব্যক্তির ডান হাত থেকে সেই পুঁথিটি নিলেন।
[8] এবং তিনি পুস্তকটি নেওয়া মাত্র সেই চার জীবন্ত প্রাণী ও চব্বিশজন প্রাচীন মেষশাবকের সামনে অধোমুখে পতিত হলেন। তাঁদের প্রত্যেকজনের হাতে ছিল একটি করে বীণা ও তাদের হাতে ছিল সুগন্ধি ধূপে পরিপূর্ণ একটি সোনার পাত্র। এই ধূপ হল সন্তদের প্রার্থনাস্বরূপ।
[9] তাঁরা একটি নতুন গীত গাইল: “তুমি ওই পুঁথি গ্রহণ করার ও তার সিলমোহর খোলার যোগ্য, কারণ তোমাকে হনন করা হয়েছিল, আর তোমার রক্ত দ্বারা তুমি তুমি ঈশ্বরের জন্য সব গোষ্ঠী ও ভাষাভাষী ও জাতি ও দেশ থেকে মানুষদের ক্রয় করেছ।
[10] আমাদের ঈশ্বরের সেবা করার জন্য তুমি তাদের রাজ্যস্বরূপ ও যাজকসমাজ করেছ, আর তারা পৃথিবীতে রাজত্ব করবে।”
[11] তখন আমি দৃষ্টিপাত করে হাজার হাজার ও অযুত অযুত স্বর্গদূতের স্বর শুনতে পেলাম। তাঁরা সেই সিংহাসন ও জীবন্ত প্রাণীদের ও প্রাচীনদের ঘিরে ছিলেন।
[12] তাঁরা উচ্চকণ্ঠে গাইতে লাগলেন, “মেষশাবক, যিনি হত হয়েছিলেন, তিনিই পরাক্রম ও ঐশ্বর্য ও প্রজ্ঞা ও শক্তি ও সম্মান ও মহিমা ও প্রশংসা, গ্রহণ করার যোগ্য!”
[13] পরে আমি শুনতে পেলাম স্বর্গে ও পৃথিবীতে এবং পৃথিবীর নিচে সমুদ্রে এবং সেগুলির অভ্যন্তরস্থ প্রত্যেক প্রাণী গাইছে: “যিনি সিংহাসনে উপবিষ্ট, তাঁর ও মেষশাবকের প্রশংসা ও সম্মান, মহিমা ও পরাক্রম, চিরকাল যুগে যুগে হোক!”
[14] সেই চারজন সজীব প্রাণী বললেন, “আমেন,” আর প্রাচীনেরা ভূমিষ্ঠ হয়ে উপাসনা করলেন।