Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 5:50

[1] এরপরে আমি স্বর্গে এক বিপুল জনসমষ্টির গর্জনের মতো শব্দ শুনতে পেলাম। তারা বলছিল: “হাল্লেলুইয়া! পরিত্রাণ ও মহিমা ও পরাক্রম আমাদের ঈশ্বরেরই,

[2] কারণ তাঁর বিচারাদেশ সব যথার্থ ও ন্যায়সঙ্গত। যে মহাগণিকা অবৈধ সহবাসের দ্বারা পৃথিবীকে কলুষিত করেছিল, তিনি তার দণ্ডবিধান করেছেন। তিনি তাঁর দাসেদের রক্তের প্রতিশোধ তার কাছ থেকে নিয়েছেন।”

[3] তারা আবার চিৎকার করে উঠল: “হাল্লেলুইয়া! তার দহনের ধোঁয়া যুগে যুগে চিরকাল উপরে উঠে যাবে।”

[4] সেই চব্বিশজন প্রাচীন ও চারজন জীবন্ত প্রাণী প্রণত হয়ে সিংহাসনে উপবিষ্ট ঈশ্বরের উপাসনা করলেন। তাঁরা উচ্চকণ্ঠে বললেন, “আমেন, হাল্লেলুইয়া!”

[5] তখন সিংহাসন থেকে এক কণ্ঠস্বর শোনা গেল, “ঈশ্বরের দাসেরা, তোমরা যারা ঈশ্বরকে ভয় করো, তোমরা সামান্য কি মহান নির্বিশেষে আমাদের ঈশ্বরের স্তবগান করো।”

[6] তারপর আমি এক বিপুল জনসমষ্টির রব, প্রবহমান জলরাশির কল্লোল ও প্রবল বজ্রনাদের মতো শব্দ শুনতে পেলাম। তারা চিৎকার করছিল: “হাল্লেলুইয়া! কারণ আমাদের সর্বশক্তিমান, প্রভু ঈশ্বর, রাজত্ব করছেন।

[7] এসো আমরা উল্লসিত হই, আনন্দ করি এবং তাঁকে মহিমা প্রদান করি! কারণ মেষশাবকের বিবাহ-লগ্ন উপস্থিত এবং তাঁর কনে নিজেকে প্রস্তুত করেছে।

[8] উজ্জ্বল ও পরিষ্কার, মিহি মসিনার পোশাক তাকে দেওয়া হয়েছিল সজ্জিত হতে।” (মিহি মসিনার পোশাক সন্তজনেদের ধর্মাচরণের প্রতীক)

[9] তখন সেই স্বর্গদূত আমাকে বললেন, “তুমি লেখ, ‘ধন্য তারা, যারা মেষশাবকের বিবাহভোজে আমন্ত্রিত।’ ” তিনি আরও যোগ করলেন, “এগুলি প্রকৃতই ঈশ্বরের বাক্য।”

[10] একথা শুনে উপাসনা করার জন্য আমি তাঁর চরণে পতিত হলাম। কিন্তু তিনি আমাকে বললেন, “তুমি এরকম কোরো না! আমি তোমার ও তোমার ভাইবোনেদের সহদাস, যারা যীশুর সাক্ষ্য ধারণ করে। ঈশ্বরেরই উপাসনা করো! কারণ যীশুর সাক্ষ্যই হল ভাববাণীর প্রেরণা।”

[11] আমি দেখলাম, স্বর্গ খুলে গেল এবং সেখানে আমার সামনে ছিল একটি শ্বেত অশ্ব। এর আরোহী বিশ্বস্ত ও সত্যময় নামে আখ্যাত। ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে তিনি বিচার ও যুদ্ধ করেন।

[12] তাঁর দুই চোখ লেলিহান আগুনের শিখার মতো এবং তাঁর মাথায় আছে বহু মুকুট। তাঁর উপরে একটি লিখিত নাম আছে, যা স্বয়ং তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না।

[13] তিনি রক্তে নিমজ্জিত পোশাক পরিহিত ও তাঁর নাম ঈশ্বরের বাক্য।

[14] স্বর্গের সৈন্যরা শ্বেত অশ্বে আরোহী হয়ে ও শ্বেতশুভ্র পরিষ্কার মিহি মসিনার পোশাক পরে তাঁর অনুসরণ করছিল।

[15] তাঁর মুখ থেকে নির্গত হচ্ছিল এক ধারালো তরোয়াল, যা দিয়ে তিনি জাতিবৃন্দকে ধরাশায়ী করেন। “তিনি লোহার রাজদণ্ড নিয়ে তাদের শাসন করবেন।” তিনি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের প্রচণ্ড ক্রোধের পেষণকুণ্ডের দ্রাক্ষা দলন করেন।

[16] তাঁর পোশাকে ও তাঁর ঊরুতে তাঁর এই নাম লিখিত আছে: রাজাদের রাজা ও প্রভুদের প্রভু।

[17] আর আমি দেখলাম, একজন স্বর্গদূত সূর্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি মধ্যাকাশে উড়ন্ত সব পাখিকে মহারবে ডেকে বললেন, “তোমরা এসো, ঈশ্বরের মহাভোজে সকলে একত্র হও,

[18] যেন তোমরা রাজাদের মাংস, সৈন্যাধ্যক্ষদের মাংস, শক্তিশালী লোকেদের মাংস, অশ্ব ও তাদের আরোহীর মাংস এবং স্বাধীন বা ক্রীতদাস, সামান্য কি মহান নির্বিশেষে সকলের মাংস ভক্ষণ করতে পারো।”

[19] তারপর আমি দেখলাম, ওই শ্বেত অশ্বারোহীর ও তাঁর সৈন্যদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য সেই পশু ও পৃথিবীর রাজারা ও তাদের সৈন্যবাহিনী একত্রিত হল।

[20] কিন্তু সেই পশু ধৃত হল ও তার সঙ্গে যে ভণ্ড ভাববাদী তার পক্ষে অলৌকিক সব চিহ্নকর্ম করেছিল, সে-ও ধরা পড়ল। এসব চিহ্নকর্মের দ্বারা, যারা সেই পশুর ছাপ ধারণ ও তার মূর্তির পূজা করেছিল, সে তাদের বিভ্রান্ত করেছিল। সেই দুজনকে জীবন্ত অবস্থায় প্রজ্বলিত গন্ধকের অগ্নিহ্রদে নিক্ষেপ করা হল।

[21] অবশিষ্ট সকলে সেই শ্বেত অশ্বারোহীর মুখ থেকে নির্গত তরোয়ালের দ্বারা নিহত হল এবং সব পাখি তাদের মাংস ভক্ষণ করে তৃপ্ত হল।

প্রকাশিত বাক্য — Chapters