[1] কালক্রমে, অম্মোনীয়দের রাজা নাহশ মারা গেলেন, ও রাজা রূপে তাঁর ছেলেই তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
[2] দাউদ ভেবেছিলেন, “আমি নাহশের ছেলে হানূনের প্রতি সহানুভূতি দেখাব, কারণ তাঁর বাবা আমার প্রতি দয়া দেখিয়েছিলেন।” অতএব দাউদ হানূনের বাবার প্রতি তাঁর সহানুভূতি প্রকাশ করার জন্য একদল লোককে তাঁর প্রতিনিধি করে পাঠালেন। দাউদের পাঠানো লোকেরা হানূনের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করার জন্য যখন অম্মোনীয়দের দেশে তাঁর কাছে গেল,
[3] তখন অম্মোনীয়দের সেনাপতিরা হানূনকে বললেন, “আপনার কি মনে হয় যে সহানুভূতি প্রকাশ করার জন্য আপনার কাছে প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে দাউদ আপনার বাবাকে সম্মান জানাচ্ছেন? তার প্রতিনিধিরা কি শুধু গুপ্তচরবৃত্তি করে দেশটিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান চালিয়ে এটি উচ্ছেদ করার জন্যই আপনার কাছে আসেনি?”
[4] অতএব হানূন দাউদের পাঠানো প্রতিনিধিদের ধরে তাদের চুল-দাড়ি কামিয়ে, নিতম্বদেশ পর্যন্ত তাদের জামাকাপড় কেটে দিয়ে তাদের ফেরত পাঠিয়ে দিলেন।
[5] কেউ একজন যখন দাউদের কাছে এসে সেই লোকদের কথা বলল, তখন তাদের সাথে দেখা করার জন্য তিনি কয়েকজন দূত পাঠালেন, কারণ তারা চরম অপদস্থ হল। রাজামশাই বললেন, “যতদিন না তোমাদের চুল-দাড়ি বড় হচ্ছে, ততদিন তোমরা যিরীহোতেই থাকো, পরে তোমরা এখানে ফিরে এসো।”
[6] অম্মোনীয়েরা যখন বুঝতে পেরেছিল যে তারা দাউদের কাছে আপত্তিকর হয়ে গিয়েছে, তখন হানূন ও অম্মোনীয়েরা আরাম-নহরয়িম, আরাম-মাখা ও সোবা থেকে রথ ও সারথি ভাড়া করে আনার জন্য 1,000 তালন্ত রুপো পাঠিয়ে দিয়েছিল।
[7] 32,000 রথ ও সারথি, তথা সৈন্যসামন্ত সমেত মাখার সেই রাজাকেও তারা ভাড়া করে এনেছিল, যিনি এসে মেদ্বার কাছে সৈন্যশিবির স্থাপন করলেন, ইত্যবসরে অম্মোনীয়েরা আবার তাদের নগরগুলিতে জমায়েত হয়ে যুদ্ধ করার জন্য এগিয়ে গেল।
[8] একথা শুনে দাউদ যোদ্ধা সম্বলিত সমগ্র সৈন্যদল সমেত যোয়াবকে সেখানে পাঠিয়ে দিলেন।
[9] অম্মোনীয়রা বেরিয়ে এসে তাদের নগরের প্রবেশদ্বারে সৈন্যদল সাজিয়ে রেখেছিল, অন্যদিকে, যেসব রাজা সেখানে এলেন, তাঁরা নিজেরা খোলা মাঠে থেকে গেলেন।
[10] যোয়াব দেখেছিলেন যে তাঁর সামনে ও পিছনে, দুই দিকেই সৈন্যদল সাজানো আছে; তাই ইস্রায়েলের সেরা সৈন্যদের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে বেছে নিয়ে তিনি আরামীয়দের বিরুদ্ধে তাদের মোতায়েন করে দিলেন।
[11] বাকি সৈন্যদের তিনি তাঁর ভাই অবীশয়ের কর্তৃত্বাধীন করে রেখেছিলেন, এবং তারা অম্মোনীয়দের বিরুদ্ধে মোতায়েন হল।
[12] যোয়াব বললেন, “আরামীয়রা যদি আমার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়, তবে তুমি আমাকে উদ্ধার কোরো; কিন্তু অম্মোনীয়রা যদি তোমার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়, তবে আমিই তোমাকে উদ্ধার করব।
[13] শক্তিশালী হও, আর এসো আমাদের লোকজনের ও আমাদের ঈশ্বরের নগরগুলির জন্য আমরা বীরের মতো লড়াই করি। সদাপ্রভুর দৃষ্টিতে যা ভালো, তিনি তা-ই করবেন।”
[14] পরে যোয়াব তাঁর সাথে থাকা সৈন্যদল নিয়ে আরামীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এগিয়ে গেলেন, এবং তারা তাঁর সামনে থেকে পালিয়ে গেল।
[15] অম্মোনীয়রা যখন বুঝতে পেরেছিল যে আরামীয়রা পালিয়ে যাচ্ছে, তখন তারাও তাঁর ভাই অবীশয়ের সামনে থেকে পালিয়ে গিয়ে নগরের ভিতরে ঢুকে পড়েছিল। তাই যোয়াব জেরুশালেমে ফিরে গেলেন।
[16] আরামীয়রা যখন দেখেছিল যে তারা ইস্রায়েলীদের দ্বারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে, তখন তারা দূত পাঠিয়ে ইউফ্রেটিস নদীর ওপার থেকে সেই আরামীয়দের ডেকে পাঠিয়েছিল, যাদের পরিচালনায় ছিলেন হদদেষরের সেনাবাহিনীর সেনাপতি শোফক।
[17] দাউদকে যখন একথা বলা হল, তখন তিনি সমগ্র ইস্রায়েলকে একত্রিত করে জর্ডন নদী পার করে গেলেন; তিনি তাদের বিরুদ্ধে এগিয়ে গেলেন ও তাদের উল্টোদিকে তাঁর সৈন্যদল মোতায়েন করলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে আরামীয়দের সম্মুখীন হওয়ার জন্য দাউদ তাঁর সৈন্যদল সাজিয়েছিলেন, এবং তারা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল।
[18] কিন্তু তারা ইস্রায়েলের সামনে থেকে পালিয়ে গেল, এবং দাউদ তাদের সারথিদের মধ্যে 7,000 জনকে ও তাদের পদাতিক সৈন্যদের মধ্যে 40,000 জনকে হত্যা করলেন। তাদের সেনাবাহিনীর সেনাপতি শোফককেও তিনি হত্যা করলেন।
[19] হদদেষরের কেনা গোলামেরা যখন দেখেছিল যে তারা ইস্রায়েলীদের দ্বারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে, তখন তারা দাউদের সাথে সন্ধি করল ও তাঁর শাসনাধীন হয়ে গেল। অতএব আরামীয়েরা আর কখনও অম্মোনীয়দের সাহায্য করতে রাজি হয়নি।