Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 10:39

[1] এখন যেসব বিষয়ে তোমরা লিখেছ: বিবাহ না করা পুরুষের পক্ষে মঙ্গলজনক।

[2] কিন্তু নীতিভ্রষ্টতা এত বেশি যে, প্রত্যেক পুরুষের তার নিজের স্ত্রী ও প্রত্যেক নারীর তার নিজের স্বামী থাকা উচিত।

[3] স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য পালন করুক ও একইভাবে স্ত্রী-ও তার স্বামীর প্রতি তা করুক।

[4] স্ত্রীর শরীর কেবলমাত্র তার নিজের অধিকারভুক্ত নয়, কিন্তু তার স্বামীরও। একইভাবে, স্বামীর শরীর কেবলমাত্র তার অধিকারভুক্ত নয়, কিন্তু তার স্ত্রীরও।

[5] পরস্পরের সম্মতি ছাড়া কেউ কাউকে বঞ্চিত কোরো না, কিন্তু প্রার্থনায় নিজেদের নিয়োজিত করার জন্য কিছু সময় পৃথক থাকতে পারো। তারপর পুনরায় একত্র মিলিত হবে, যেন তোমাদের আত্মসংযমের অভাবে শয়তান তোমাদের প্রলোভনে ফেলতে না পারে।

[6] আমি একথা আদেশরূপে নয়, কিন্তু কিছু সুবিধা দেওয়ার জন্য বলছি।

[7] আমার ইচ্ছা, যদি সব মানুষই আমার মতো থাকতে পারত! কিন্তু প্রত্যেকজন ঈশ্বরের কাছ থেকে তার নিজস্ব বরদান লাভ করেছে, একজনের এক ধরনের বরদান, অপরজনের অন্য ধরনের।

[8] এখন অবিবাহিত ও বিধবাদের সম্পর্কে আমি বলি, তারা যদি আমার মতো অবিবাহিত থাকে, তাহলে তাদেরই পক্ষে মঙ্গল।

[9] কিন্তু যদি তারা নিজেদের সংযত রাখতে না পারে, তারা বিবাহ করুক, কারণ কামনার আগুনে দগ্ধ হওয়ার চেয়ে বরং বিবাহ করা ভালো।

[10] বিবাহিতদের প্রতি আমি এই আদেশ দিই, আমি নই, বরং প্রভুই দিচ্ছেন, কোনো স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন না হোক।

[11] কিন্তু যদি সে তা করে, সে অবশ্যই অবিবাহিত থাকবে, নয়তো সে তার স্বামীর সঙ্গে পুনর্মিলিত হবে। আবার কোনো স্বামীও তার স্ত্রীকে অবশ্যই ত্যাগ করবে না।

[12] অবশিষ্টদের সম্পর্কে আমি একথা বলি (আমি, প্রভু নন), কোনো ভাইয়ের যদি অবিশ্বাসী স্ত্রী থাকে ও সে তার সঙ্গে বসবাস করতে চায়, সেই ভাই তাকে অবশ্যই ত্যাগ করবে না।

[13] আবার কোনো নারীর যদি অবিশ্বাসী স্বামী থাকে ও সে তার সঙ্গে বসবাস করতে চায়, সেই নারী তাকে অবশ্যই ত্যাগ করবে না।

[14] কারণ সেই অবিশ্বাসী স্বামী, তার স্ত্রীর মাধ্যমে শুচিশুদ্ধ হয়েছে এবং সেই অবিশ্বাসী স্ত্রী, তার বিশ্বাসী স্বামীর মাধ্যমে শুচিশুদ্ধ হয়েছে। তা না হলে তোমাদের ছেলেমেয়েরা অশুচি বলে গণ্য হত, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা পবিত্র।

[15] কিন্তু অবিশ্বাসী যদি চলে যায়, তাকে তাই করতে দাও। কোনো বিশ্বাসী ভাই বা বোন, এধরনের পরিস্থিতিতে বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ নয়। ঈশ্বর আমাদের শান্তিতে বসবাস করার জন্য আহ্বান করেছেন।

[16] স্ত্রী, তুমি তোমার স্বামীর পরিত্রাণ করবে কি না, তুমি কীভাবে জানবে? বা স্বামী, তুমিই বা কী করে জানবে, তোমার স্ত্রীর পরিত্রাণ করতে পারবে কি না?

[17] তা সত্ত্বেও, প্রভু যার প্রতি যেমন কর্তব্যভার নির্দিষ্ট করেছেন ও যার জন্য ঈশ্বর তাকে আহ্বান দিয়েছেন, প্রত্যেকে জীবনে সেই স্থান ধরে রাখুক। সমস্ত মণ্ডলীতে আমি এই নিয়মই স্থাপন করে থাকি।

[18] আহূত হওয়ার সময়ে কোনো মানুষের কি সুন্নত হয়েছিল? সে সুন্নতহীন যেন না হয়। কোনো মানুষ আহূত হওয়ার সময় কি সুন্নতহীন অবস্থায় ছিল? সে যেন সুন্নত না করে।

[19] সুন্নত কিছু নয় এবং অত্বকছেদও কিছু না, ঈশ্বরের আদেশপালনই হল ধর্তব্য বিষয়।

[20] ঈশ্বরের আহ্বান প্রাপ্তির সময়ে কোনো ব্যক্তি যে অবস্থায় ছিল, সে সেই অবস্থাতেই থাকুক।

[21] তোমাকে যখন আহ্বান করা হয়, তখন তুমি কি ক্রীতদাস ছিলে? তা তোমাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না করুক। অবশ্য যদি তোমার স্বাধীনতা অর্জন করতে পারো, তুমি তাই করো।

[22] কারণ প্রভুর আহ্বান লাভের সময় যে ব্যক্তি ক্রীতদাস ছিল, সে প্রভুরই মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি। একইভাবে, আহূত হওয়ার সময় যে ব্যক্তি স্বাধীন ছিল, সে খ্রীষ্টের ক্রীতদাস।

[23] মূল্যের বিনিময়ে তোমাদের ক্রয় করা হয়েছে, তোমরা মানুষদের ক্রীতদাস হয়ো না।

[24] ভাইবোনেরা, প্রত্যেক মানুষ ঈশ্বরের প্রতি তার দায়বদ্ধতা অনুসারে, ঈশ্বর তাকে যে অবস্থায় আহ্বান করেছেন, সে সেই অবস্থাতেই থাকুক।

[25] এবারে কুমারীদের প্রসঙ্গে বলি: আমি প্রভুর কাছ থেকে তাদের সম্পর্কে কোনও আদেশ পাইনি, কিন্তু আমি এমন ব্যক্তির মতো অভিমত ব্যক্ত করছি, যে প্রভুর করুণায় এক বিশ্বস্ত ব্যক্তি।

[26] বর্তমান সংকটের কারণে, আমি মনে করি, তোমরা যেমন আছো, তেমনই থাকা তোমাদের পক্ষে ভালো।

[27] তুমি কি বিবাহিত? তাহলে বিবাহ-বিচ্ছেদ চেয়ো-না। তুমি কি অবিবাহিত? তাহলে স্ত্রীর চেষ্টা কোরো না।

[28] কিন্তু তুমি যদি বিবাহ করো, তাহলে তোমার পাপ হয় না। আর কোনো কুমারী-কন্যা যদি বিবাহ করে, তারও পাপ হয় না; কিন্তু যারা বিবাহ করে, তারা জীবনে বহু কষ্ট-সংকটের সম্মুখীন হবে, কিন্তু আমি এ থেকে তোমাদের নিষ্কৃতি দিতে চাই।

[29] ভাইবোনেরা, আমি যা বোঝাতে চাই, তা হল, সময় সংক্ষিপ্ত। এখন থেকে যাদের স্ত্রী আছে, তারা এমনভাবে জীবনযাপন করুক, যেন তাদের স্ত্রী নেই।

[30] যারা শোক করে, তারা যেন শোক করছে না; যারা সুখী, তারা যেন সুখী নয়; যারা কিছু ক্রয় করে, যেন তাদের তা রাখার জন্য নয়;

[31] যারা সাংসারিক বিষয়গুলি ভোগ করছে, যেন সেগুলিতে বিভোর হয়ে থাকছে না। কারণ এই জগৎ তার বর্তমান প্রকৃতি অনুযায়ী অতিক্রান্ত হচ্ছে।

[32] আমি চাই, তোমরা যেন দুশ্চিন্তামুক্ত থাকো। কোনো অবিবাহিত পুরুষ প্রভুরই বিষয়ে চিন্তা করে কেমনভাবে সে প্রভুকে সন্তুষ্ট করবে।

[33] কিন্তু একজন বিবাহিত পুরুষ এই জগতের সব বিষয়ে জড়িত থাকে, কীভাবে সে তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করবে,

[34] তার স্বার্থ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। একজন অবিবাহিত নারী বা কুমারী-কন্যা, প্রভুর বিষয়ে মনোযোগী হয়। তার লক্ষ্য থাকে শরীরে ও আত্মায় প্রভুর প্রতি সমর্পিত থাকা। কিন্তু একজন বিবাহিত নারী সাংসারিক বিষয়ে মনোযোগী থাকে—কীভাবে সে তার স্বামীকে সন্তুষ্ট করবে।

[35] আমি তোমাদেরই মঙ্গলের জন্য একথা বলছি, তোমাদের বাধা সৃষ্টি করার জন্য নয়, কিন্তু যেন তোমরা প্রভুর প্রতি অখণ্ড আনুগত্য নিয়ে সঠিক পথে কালযাপন করতে পারো।

[36] যদি কেউ মনে করে, সে তার বাগদত্ত কুমারী কন্যার প্রতি সঠিক আচরণ করছে না এবং যদি তার বয়স বেড়ে যেতে থাকে এবং সে মনে করে তার বিবাহ হওয়া উচিত, তাহলে সে যেমন চায়, তেমনই করুক। সে পাপ করছে না। তাদের বিবাহ হওয়া উচিত।

[37] কিন্তু যে ব্যক্তি এ বিষয়ে তার মনে দৃঢ়সংকল্প করেছে, যে সে কোনো বাধ্যবাধকতার মধ্যে নেই, কিন্তু যার নিজের ইচ্ছার উপরে নিয়ন্ত্রণ আছে এবং যে মনে স্থির করেছে সেই কুমারী কন্যাকে বিবাহ করবে না, এই মানুষটিও যথার্থ কাজই করে।

[38] তাহলে যে কোনো কুমারীকে বিবাহ করে, সে যথার্থ কাজই করে, কিন্তু যে তাকে বিবাহ না করে, সে আরও ভালো কাজ করে।

[39] একজন নারী, যতদিন তার স্বামী বেঁচে থাকে ততদিন পর্যন্ত তার কাছে বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। কিন্তু যদি তার স্বামীর মৃত্যু হয়, সে তার ইচ্ছেমতো যে-কাউকে বিবাহ করতে পারে। কিন্তু সেই পুরুষ প্রভুর অনুগত হবে।

[40] আমার বিচারে, সে যদি বিবাহ না করে থাকে, সে আরও বেশি সুখী থাকবে—আর আমি মনে করি যে, আমারও মধ্যে ঈশ্বরের আত্মা আছেন।

1 করিন্থীয় — Chapters