[1] ভাইবোনেরা, এখন আত্মিক বরদানগুলির ব্যাপারে তোমরা যে অজ্ঞ থাকো, তা আমি চাই না।
[2] তোমরা জানো যে, যখন তোমরা পৌত্তলিক ছিলে, যে কোনো ভাবে হোক, তোমরা প্রভাবিত হয়ে নির্বাক প্রতিমাদের দিকে চালিত হয়েছিলে।
[3] সেই কারণে, আমি তোমাদের বলছি যে, ঈশ্বরের আত্মার দ্বারা কথা বললে, “যীশু অভিশপ্ত হোক,” কেউ বলতে পারে না এবং পবিত্র আত্মার আবেশ ছাড়া কেউ বলতে পারে না যে, “যীশুই প্রভু।”
[4] বিভিন্ন ধরনের বরদান আছে, কিন্তু আত্মা সেই একই।
[5] বিভিন্ন ধরনের সেবাকর্ম আছে, কিন্তু প্রভু সেই একই।
[6] বিভিন্ন ধরনের কর্ম আছে, কিন্তু সেই একই ঈশ্বর সব মানুষের মধ্যে সেই সকল কর্ম করেন।
[7] এখন সাধারণভাবে মঙ্গলের জন্য প্রত্যেকের কাছে আত্মার প্রকাশ দত্ত হয়েছে।
[8] একজনকে আত্মার মাধ্যমে দত্ত হয়েছে প্রজ্ঞার বাণী, অপর একজনকে সেই একই আত্মার দ্বারা জ্ঞানের বাণী,
[9] অপর একজনকে সেই আত্মার দ্বারা বিশ্বাস, অপর একজনকে সেই একই আত্মার দ্বারা রোগনিরাময়ের বরদান,
[10] অপর একজনকে অলৌকিক কর্মসাধনের পরাক্রম, অপর একজনকে ভাববাণী, আর একজনকে আত্মাদের পার্থক্য নির্ণয়ের শক্তি, অপর একজনকে ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলার শক্তি এবং আরও অপরজনকে বিশেষ বিশেষ ভাষার তর্জমা করার শক্তি দত্ত হয়েছে।
[11] এ-সবই সেই এক ও অদ্বিতীয় আত্মার কর্ম, তিনি প্রত্যেকের জন্য যেমন নির্ধারণ করেন, তেমনই বরদান দিয়ে থাকেন।
[12] শরীর একটি একক, যদিও তা বহু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে গঠিত; আর যদিও এর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনেক, সেগুলি এক শরীর গঠন করে। খ্রীষ্টের ক্ষেত্রেও সেই কথা।
[13] কারণ আমরা সবাই—ইহুদি বা গ্রিক, ক্রীতদাস বা স্বাধীন—এক আত্মার দ্বারা একই শরীরে বাপ্তাইজিত হয়েছি, আবার আমাদের সবাইকে একই আত্মা পান করতে দেওয়া হয়েছিল।
[14] এখন শরীর কেবলমাত্র একটি অঙ্গ দিয়ে নয়, কিন্তু বহু অঙ্গের দ্বারা গঠিত।
[15] পা যদি বলে, “যেহেতু আমি হাত নই, তাই দেহের অংশ নই,” সেই কারণেই যে সে দেহের অংশ হবে না, তা নয়।
[16] আবার, কান যদি বলে, “আমি যেহেতু চোখ নই, তাই আমি দেহের অংশ নই,” এই কারণের জন্য তা যে দেহের অংশ হবে না, তা নয়।
[17] সমস্ত শরীর-ই যদি চোখ হত, তাহলে শ্রবণেন্দ্রিয় কোথায় থাকত? সমস্ত শরীর-ই যদি কান হত, তাহলে ঘ্রাণেন্দ্রিয় কোথায় থাকত?
[18] কিন্তু ঈশ্বর প্রকৃতপক্ষে শরীরে অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলির প্রত্যেকটিকে বিন্যস্ত করেছেন, তিনি যেমন চেয়েছেন সেগুলি থাকুক, সেভাবে।
[19] সেগুলি সমস্তই যদি একটি অঙ্গ হত, তাহলে শরীর কোথায় থাকত?
[20] আসলে, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনেক, কিন্তু শরীর একটিই।
[21] চোখ হাতকে বলতে পারে না, “তোমাকে আমার প্রয়োজন নেই!” আবার মাথা পা-কে বলতে পারে না, “তোমাকে আমার প্রয়োজন নেই!”
[22] এর বিপরীতে, শরীরের যেসব অঙ্গকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল মনে হয়, সেগুলিই অপরিহার্য
[23] এবং যে অঙ্গগুলিকে আমরা কম মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করি, সেগুলিকে আমরা বিশেষ মর্যাদা দিয়ে থাকি। এছাড়া যেসব অঙ্গ অসুন্দর, সেগুলি বিশেষ শালীনতার সঙ্গে যত্ন নিয়ে থাকি,
[24] অথচ আমাদের সুশ্রী অঙ্গগুলির বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু ঈশ্বর শরীরের অঙ্গগুলিকে একত্র সন্নিবেশিত করেছেন এবং যে-অঙ্গগুলি শ্রীহীন, সেগুলিকে বেশি মর্যাদা দিয়েছেন,
[25] যেন শরীরের মধ্যে কোনও বিভেদ সৃষ্টি না হয়, কিন্তু এর অঙ্গগুলি পরস্পরের প্রতি সমান যত্নবান হয়।
[26] যদি একটি অঙ্গ কষ্টভোগ করে, তাহলে তার সঙ্গে প্রত্যেকটি অঙ্গই কষ্টভোগ করে। একটি অঙ্গ মর্যাদা লাভ করলে, তার সঙ্গে প্রত্যেক অঙ্গই আনন্দ করে।
[27] এখন তোমরা হলে খ্রীষ্টের শরীর এবং এক একজন সেই শরীরের এক-একটি অঙ্গ।
[28] আর ঈশ্বর মণ্ডলীতে নিয়োগ করেছেন, প্রথমত প্রেরিতশিষ্যদের, দ্বিতীয়ত ভাববাদীদের, তৃতীয়ত শিক্ষকদের, তারপর অলৌকিক কর্ম-সম্পাদনকারীদের, আবার আরোগ্য-সাধনকারীদের, অপর ব্যক্তিদের সাহায্যকারীদের, যাদের প্রশাসনিক বরদান আছে, তাদের এবং যারা বিভিন্ন ধরনের ভাষায় কথা বলে, তাদের।
[29] সবাই কি প্রেরিতশিষ্য? সবাই কি ভাববাদী? সবাই কি শিক্ষক? সবাই কি অলৌকিক কর্ম সম্পাদন করে?
[30] সবারই কি আরোগ্যসাধক বরদান আছে? সবাই কি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলে? সবাই কি অর্থ ব্যাখ্যা করে?
[31] তোমরা বরং মহত্তর বরদানগুলি পাওয়ার জন্য আগ্রহভরে কামনা করো। তবুও, আমি তোমাদের এবারে সর্বোত্কৃষ্ট পথটি দেখাব।