Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 11:04

[1] এখন ভাইবোনেরা, আমি যে সুসমাচার তোমাদের কাছে প্রচার করেছি, তা আমি তোমাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যা তোমরা গ্রহণ করেছিলে এবং যার উপরে তোমরা প্রতিষ্ঠিত আছো।

[2] এই সুসমাচারের দ্বারা তোমরা পরিত্রাণ পেয়েছ, যদি তোমরা তোমাদের কাছে আমার প্রচারিত বাক্য দৃঢ়ভাবে ধারণ করে থাকো। অন্যথায়, তোমরা বৃথাই বিশ্বাস করেছ।

[3] কারণ আমি যা প্রাপ্ত হয়েছি, তা গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রথমেই তোমাদের কাছে তা সমর্পণ করেছি যে, শাস্ত্র অনুসারে খ্রীষ্ট আমাদের পাপের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন,

[4] তিনি সমাধিপ্রাপ্ত হয়েছেন ও শাস্ত্র অনুসারেই তিনি তৃতীয় দিবসে উত্থাপিত হয়েছেন

[5] এবং পরে কৈফা ও সেই বারোজনকে দর্শন দিয়েছেন।

[6] এরপরে তিনি ভাইদের মধ্যে পাঁচশোরও বেশিজনকে একবারে দর্শন দেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজন নিদ্রাগত হলেও, অধিকাংশ জনই এখনও জীবিত আছেন।

[7] তারপর তিনি যাকোবকে ও পরে সমস্ত প্রেরিতশিষ্যকে দর্শন দেন;

[8] সবশেষে, আমার মতো অকালজাতের কাছেও তিনি দর্শন দেন।

[9] কারণ, আমি প্রেরিতশিষ্যদের মধ্যে নগণ্যতম, এমনকি, প্রেরিতশিষ্যরূপে অভিহিত হওয়ারও যোগ্য নই, কারণ আমি ঈশ্বরের মণ্ডলীকে নির্যাতন করতাম।

[10] কিন্তু ঈশ্বরের অনুগ্রহে আমি যা-আছি, তাই হয়েছি এবং আমার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ নিরর্থক হয়নি। বরং, আমি তাঁদের সকলের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করেছি—তবুও আমি নই, কিন্তু ঈশ্বরের অনুগ্রহ আমার সহবর্তী ছিল।

[11] অতএব, আমি হই বা তাঁরা হন, একথাই আমরা প্রচার করি এবং তোমরা একথাই বিশ্বাস করেছ।

[12] কিন্তু একথা যদি প্রচার করা হয়ে থাকে যে, খ্রীষ্টকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করা হয়েছে, তাহলে তোমাদের মধ্যে কেউ কীভাবে বলে যে, মৃতদের পুনরুত্থান নেই?

[13] যদি মৃতদের পুনরুত্থান নেই, তাহলে এমনকি খ্রীষ্টও উত্থাপিত হননি!

[14] আবার খ্রীষ্ট যদি উত্থাপিত না-হয়েছেন, আমাদের প্রচার করা ও তোমাদের বিশ্বাস করা, সব অর্থহীন হয়েছে।

[15] তার চেয়েও বড় কথা, আমরা তখন ঈশ্বর সম্পর্কে মিথ্যাসাক্ষী বলে প্রমাণিত হব, কারণ ঈশ্বর সম্পর্কে আমরা এই সাক্ষ্য দিয়েছি যে, তিনি খ্রীষ্টকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছেন।

[16] কারণ মৃতদের উত্থাপন যদি না হয়, তাহলে খ্রীষ্টকেও উত্থাপিত করা হয়নি।

[17] আর যদি খ্রীষ্ট উত্থাপিত না-হয়েছেন, তোমাদের বিশ্বাস নিরর্থক, তোমরা এখনও তোমাদের পাপের মধ্যে রয়েছ।

[18] সুতরাং, যারা খ্রীষ্টে নিদ্রাগত হয়েছে, তারাও বিনষ্ট হয়েছে।

[19] কেবলমাত্র এই জীবনের জন্য যদি আমাদের খ্রীষ্টে প্রত্যাশা থাকে, তাহলে সব মানুষের চেয়ে আমরাই বেশি দুর্ভাগ্যপূর্ণ।

[20] কিন্তু খ্রীষ্ট সত্যিই মৃতদের মধ্য থেকে উত্থাপিত হয়েছেন, যারা নিদ্রাগত হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনিই প্রথম ফলস্বরূপ।

[21] কারণ মৃত্যু যেহেতু একজন মানুষের মাধ্যমে এসেছিল, মৃতদের পুনরুত্থানও তেমনই একজন মানুষের মাধ্যমেই আসে।

[22] কারণ আদমে যেমন সকলের মৃত্যু হয়, তেমনই খ্রীষ্টে সকলেই পুনর্জীবিত হবে।

[23] কিন্তু প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ পর্যায়ক্রমে: প্রথম ফসল খ্রীষ্ট, পরে যখন তিনি আসবেন, তাঁর আপনজনেরা।

[24] তারপর আসবে সমাপ্তি, যখন তিনি সমস্ত শাসনভার, কর্তৃত্ব ও পরাক্রম ধ্বংস করার পর, পিতা ঈশ্বরের হাতে রাজ্যের ভার হস্তান্তর করবেন।

[25] কারণ যতক্ষণ না তিনি তাঁর সমস্ত শত্রুকে তাঁর পদানত করেন, তাঁকে রাজত্ব করতেই হবে।

[26] সর্বশেষ শত্রু যে মৃত্যু, তাও ধ্বংস করা হবে।

[27] কারণ, “তিনি সবকিছুই তাঁর পদানত করেছেন।” এখন, যখন বলা হচ্ছে, “সবকিছুই” তাঁর বশ্যতাধীন করা হয়েছে, এ বিষয় সুস্পষ্ট যে, এতে স্বয়ং ঈশ্বর অন্তর্ভুক্ত নন, যিনি সবকিছুই খ্রীষ্টের অধীন করেছেন।

[28] তিনি যখন এরকম করবেন, তখন পুত্রও স্বয়ং তাঁর বশ্যতাধীন হবেন, যিনি সবকিছুই তাঁর বশ্যতাধীন করেন, যেন ঈশ্বরই সর্বেসর্বা হন।

[29] এখন পুনরুত্থান যদি না থাকে, তাহলে যারা মৃতদের জন্য বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করে, তারা কী করবে? মৃতেরা যদি আদৌ উত্থাপিত না হয়, লোকেরা কেন তাদের জন্য বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করে?

[30] আর আমাদের প্রসঙ্গে বলতে হলে, আমরাই বা কেন প্রতি মুহূর্তে নিজেদের বিপদগ্রস্ত করে তুলি?

[31] আমি প্রতিদিন মৃত্যুবরণ করি—অর্থাৎ, আমি বলতে চাইছি, ভাইবোনেরা—যেমন নিশ্চিতরূপে আমি তোমাদের জন্য, আমাদের প্রভু, খ্রীষ্ট যীশুতে গৌরববোধ করি।

[32] শুধুমাত্র মানবিক কারণেই যদি আমি ইফিষে বন্যপশুদের সঙ্গে লড়াই করে থাকি, তাহলে আমি কী লাভ করেছি? মৃতেরা যদি উত্থাপিত না হয়, তাহলে, “এসো আমরা ভোজন ও পান করি, কারণ আগামীকাল আমরা মারা পড়ব।”

[33] তোমরা বিভ্রান্ত হয়ো না। “অসৎ সঙ্গ সচ্চরিত্র কলুষিত করে।”

[34] তোমাদের যেমন হওয়া উচিত, চেতনায় ফিরে এসো এবং পাপ করা থেকে ক্ষান্ত হও; কারণ এমন কিছু মানুষ আছে, যাদের ঈশ্বর-জ্ঞান নেই। তোমাদের লজ্জা দেওয়ার জন্য আমি একথা বলছি।

[35] কিন্তু, কেউ হয়তো প্রশ্ন করবে, “কীভাবে মৃতদের উত্থাপিত করা হয়? কোন প্রকারের শরীর নিয়ে তারা উপস্থিত হবে?”

[36] কী মূর্খতা! তোমরা যা বপন করো, তা না-মরলে জীবিত হয় না।

[37] যখন তোমরা কিছু বপন করো, যে গাছ উৎপন্ন হবে, তা কিন্তু তোমরা বপন করো না, কিন্তু একটি বীজমাত্র বপন করো; তা হয়তো গমের বা অন্য কিছুর।

[38] কিন্তু ঈশ্বর যেমন নির্ধারণ করেছেন, তেমনই তার দেহ দান করেন এবং প্রত্যেক প্রকারের বীজকে তার নিজ নিজ দেহ দান করেন।

[39] সব মাংসই এক প্রকারের নয়: মানুষের এক প্রকার মাংস আছে, পশুদের অন্য প্রকার; পাখিদের এক প্রকার এবং মাছের আর এক প্রকার;

[40] এছাড়াও আছে স্বর্গীয় দেহ এবং আছে পার্থিব দেহ; কিন্তু স্বর্গীয় দেহগুলির ঔজ্জ্বল্য এক প্রকার, পার্থিব দেহগুলির অন্য প্রকার।

[41] সূর্যের আছে এক ধরনের ঔজ্জ্বল্য, চাঁদের আর এক ধরনের ও তারকাগুলির আর এক ধরনের; আর ঔজ্জ্বল্যের দিক দিয়ে এক তারকা অন্য তারকা থেকে ভিন্ন।

[42] মৃতদের পুনরুত্থানের ক্ষেত্রেও এরকমই হবে। ক্ষয়ে বপন করা হয়, কিন্তু অক্ষয়তায় উত্থাপিত করা হবে;

[43] অনাদরে বপন করা হয়, মহিমায় তা উত্থাপিত করা হবে; দুর্বলতায় তা বপন করা হয়, পরাক্রমের সঙ্গে তা উত্থাপিত হবে;

[44] স্বাভাবিক দেহ বপন করা হয়, আত্মিক দেহ উত্থাপিত হবে। যদি স্বাভাবিক দেহ থাকে, তাহলে আত্মিক দেহও থাকো।

[45] তাই এরকম লিখিত আছে: “প্রথম মানব আদম হলেন এক জীবন্ত প্রাণী”; শেষ আদম হলেন এক জীবনদায়ী আত্মা।

[46] আত্মিক প্রথমে আসেনি, কিন্তু এসেছে স্বাভাবিক, তারপর আত্মিক।

[47] প্রথম মানব ছিলেন পৃথিবীর ধুলি থেকে, দ্বিতীয় মানব স্বর্গ থেকে।

[48] পার্থিব সব মানুষ সেই পার্থিব মানবের মতো এবং স্বর্গীয় সকলে সেই স্বর্গ থেকে আগত মানবের মতোই।

[49] আর যেমন আমরা পার্থিব মানবের স্বরূপ ধারণ করেছি, তেমনই আমরা স্বর্গ থেকে আগত মানবের রূপও ধারণ করব।

[50] ভাইবোনেরা, আমি তোমাদের কাছে ঘোষণা করছি যে, রক্তমাংসের শরীর ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকারী হতে পারে না, কিংবা বিনাশশীল শরীর অবিনাশ্যতার অধিকারী হয় না।

[51] শোনো, আমি তোমাদের এক গুপ্তরহস্য বলি: আমরা সকলে নিদ্রাগত হব না, কিন্তু আমরা সকলেই রূপান্তরিত হব—

[52] এক নিমেষে, চোখের পলকে, শেষ তূরীধ্বনির সঙ্গে তা ঘটবে। কারণ তূরীধ্বনি হবে, মৃতেরা অবিনাশীরূপে উত্থাপিত হবে এবং আমরা রূপান্তরিত হব,

[53] কারণ বিনাশশীলকে অবিনাশ্যতা এবং নশ্বরতাকে অবিনশ্বরতা অবশ্যই পরিহিত হতে হবে।

[54] যখন বিনাশশীল অবিনাশ্যতা ও নশ্বরতা অবিনশ্বরতা পরিহিত হবে, তখন এই যে কথা লিখিত আছে, তা সত্য প্রমাণিত হবে: “মৃত্যু জয়ে কবলিত হয়েছে।”

[55] “মৃত্যু, তোমার জয় কোথায়? মৃত্যু, তোমার হুল কোথায়?”

[56] মৃত্যুর হুল পাপ ও পাপের পরাক্রম হল বিধান।

[57] কিন্তু ঈশ্বরের ধন্যবাদ হোক! তিনি প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে আমাদের বিজয় দান করেন।

[58] তাই, আমার প্রিয় ভাইবোনেরা, সুস্থির থাকো। কোনো কিছুই তোমাদের বিচলিত না করুক। প্রভুর কাজে তোমরা সর্বদা নিজেদের সম্পূর্ণরূপে উত্সর্গ করো, কারণ তোমরা জেনো যে, প্রভুতে তোমাদের পরিশ্রম ব্যর্থ হবে না।

1 করিন্থীয় — Chapters