[1] তোমরা ভালোবাসার পথ অনুসরণ করো এবং আগ্রহের সঙ্গে আত্মিক বরদানগুলি কামনা করো, বিশেষত ভাববাণী বলার বরদানের জন্য।
[2] কারণ কেউ যদি কোনো বিশেষ ভাষায় কথা বলে, সে মানুষদের উদ্দেশে নয়, কিন্তু ঈশ্বরের উদ্দেশে কথা বলে। প্রকৃতপক্ষে, কেউ তার কথা বুঝতে পারে না; সে তার আত্মায় গুপ্তরহস্য উচ্চারণ করে।
[3] কিন্তু যে ব্যক্তি ভাববাণী বলে, সে মানুষদের উদ্দেশে বলে, তাদের শক্তিশালী, প্রেরণা ও আশ্বাস-দান করার জন্যই বলে।
[4] যে বিশেষ ভাষায় কথা বলে, সে নিজেকে গেঁথে তোলে, কিন্তু যে ভাববাণী বলে, সে মণ্ডলীকে গেঁথে তোলে।
[5] আমি ইচ্ছা করি, তোমরা প্রত্যেকেই যেন বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলতে পারো। কিন্তু আমি বেশি করে চাইব, তোমরা যেন ভাববাণী বলো। যে ভাববাণী বলে সে, যে বিশেষ সব ভাষায় কথা বলে, তার চেয়ে মহান, যদি না সে মণ্ডলীকে গেঁথে তোলার জন্য সেই ভাষার অর্থ ব্যাখ্যা করে দেয়।
[6] এখন ভাইবোনেরা, আমি যদি তোমাদের কাছে এসে বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলি, অথচ প্রত্যাদেশ, জ্ঞান বা ভাববাণী বা শিক্ষামূলক কোনো কথা না-বলি, আমি তোমাদের কোন উপকারে লাগব?
[7] এমনকি, বাঁশি বা বীণার মতো যেসব নিষ্প্রাণ বস্তু শব্দ সৃষ্টি করে, সেগুলির স্বরের মধ্যে তফাৎ সৃষ্টি না হলে, কেমন করে লোকে জানবে যে, কী-সুর বাজানো হচ্ছে?
[8] আবার তূরীধ্বনির আহ্বান যদি স্পষ্ট না হয়, তাহলে যুদ্ধের জন্য কে প্রস্তুত হবে?
[9] তোমাদের সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। তোমাদের জিভের দ্বারা যদি বুদ্ধিদীপ্ত বাণী উচ্চারণ না করো, তাহলে তোমরা কী বলছ, কেউ কীভাবে জানতে পারবে? তোমরা যেন বাতাসের সঙ্গে কথা বলবে।
[10] নিঃসন্দেহে, জগতে সব ধরনের ভাষা আছে, তবুও সেগুলির কোনোটিই অর্থহীন নয়।
[11] তাহলে কারও কথার অর্থ আমি যদি উপলব্ধি করতে না পারি, তাহলে সেই বক্তার কাছে আমি হব বিদেশি, আর সে-ও আমার কাছে হবে বিদেশির মতো।
[12] তোমাদের ক্ষেত্রেও একই কথা সত্যি। তোমরা যেহেতু আত্মিক বরদান লাভের জন্য আগ্রহী, সেইসব বরদানের চেষ্টা করো, যেগুলি মণ্ডলীকে গেঁথে তোলে।
[13] এই কারণে, যে ব্যক্তি কোনো বিশেষ ভাষায় কথা বলে, তার প্রার্থনা করা উচিত, যেন সে যা বলে, তা ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিতে পারে।
[14] কারণ আমি যদি বিশেষ ভাষায় প্রার্থনা করি, তাহলে আমার আত্মা প্রার্থনা করে, কিন্তু আমার বুদ্ধি নিষ্ফলা থাকে।
[15] তাহলে আমি কী করব? আমি আমার আত্মাতে প্রার্থনা করব, কিন্তু আমি আমার বুদ্ধি-সহযোগেও প্রার্থনা করব। আমি আমার আত্মাতে গান গাইব, কিন্তু আমার বুদ্ধির দ্বারাও গান গাইব।
[16] নয়তো, তুমি যখন তোমার আত্মায় ঈশ্বরের প্রশংসা করো, তাহলে যে শ্রোতা তা বুঝতে পারে না, তোমার ধন্যবাদ-জ্ঞাপনে সে কী করে “আমেন” বলবে? কারণ তুমি কী বলছ, সে তো তা বুঝবেই না!
[17] তুমি হয়তো বেশ ভালোভাবেই ধন্যবাদ দিচ্ছ, কিন্তু অপর মানুষটিকে গঠন করা হল না।
[18] আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই যে, তোমাদের সকলের চেয়ে আমি অনেক বেশি ভাষায় কথা বলতে পারি।
[19] কিন্তু মণ্ডলীর মধ্যে বিশেষ ভাষায় দশ হাজার শব্দ উচ্চারণ করার চেয়ে, আমি বরং পাঁচটি সহজবোধ্য কথা বলব।
[20] ভাইবোনেরা, তোমরা শিশুসুলভ চিন্তাভাবনা করা থেকে ক্ষান্ত হও। মন্দ বিষয়ে তোমরা দুগ্ধপোষ্য শিশুর মতো হও, কিন্তু ভাবনাচিন্তায় পরিণতমনস্ক হও।
[21] বিধানশাস্ত্রে একথা লেখা আছে: “ভিনদেশী ভাষাভাষী লোকদের এবং বিদেশিদের ওষ্ঠাধরের মাধ্যমে, আমি এই জাতির উদ্দেশে কথা বলব, কিন্তু তবুও, তারা আমার কথায় কর্ণপাত করবে না,” একথা প্রভু বলেন।
[22] তাহলে, বিশেষ সব ভাষা বিশ্বাসীদের জন্য নয়, কিন্তু অবিশ্বাসীদের জন্য চিহ্নস্বরূপ; কিন্তু ভাববাণী বিশ্বাসীদের জন্য, অবিশ্বাসীদের জন্য নয়।
[23] তাই যদি সমস্ত মণ্ডলী একত্র মিলিত হয় ও প্রত্যেকেই বিশেষ বিশেষ ভাষায় কথা বলে এবং কোনো ব্যক্তি, যে তা বোঝে না, বা কিছু সংখ্যক অবিশ্বাসী ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়, তাহলে তারা কি বলবে না যে, তোমরা পাগল?
[24] কিন্তু যদি কোনো অবিশ্বাসী বা অবোধ ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়, যখন সকলেই ভাববাণী বলে, সে তাদের সকলের দ্বারা বুঝতে পারবে যে, সে একজন পাপী এবং সকলের দ্বারা সে বিচারিত হবে।
[25] তখন তার হৃদয়ের গুপ্ত বিষয়গুলি প্রকাশ হয়ে যাবে। তাই সে ভূলুণ্ঠিত হয়ে ঈশ্বরের আরাধনা করবে এবং পরম বিস্ময়ে বলে উঠবে, “সত্যিই, ঈশ্বর আপনাদের মধ্যে বিরাজমান!”
[26] ভাইবোনেরা, তাহলে আমরা কী বলব? তোমরা যখন একত্র মিলিত হও, তখন প্রত্যেকজনের আছে কোনো গীত বা উপদেশবাণী, কোনো প্রত্যাদেশ, কোনো বিশেষ ভাষা বা কোনও অর্থ ব্যাখ্যা। এ-সব অবশ্যই মণ্ডলীকে শক্তিশালী করার জন্য করতে হবে।
[27] কেউ যদি কোনো বিশেষ ভাষায় কথা বলে, দুজন বা অধিকপক্ষে তিনজন তা বলবে; এক একবারে একজন করে বলবে এবং একজন কেউ অবশ্যই অর্থ ব্যাখ্যা করে দেবে।
[28] সেখানে যদি কোনও অর্থব্যাখ্যাকারী না থাকে, সেই ব্যক্তি মণ্ডলীতে নীরব থাকবে এবং নিজের ও ঈশ্বরের উদ্দেশে কথা বলবে।
[29] ভাববাদীরা দুজন বা তিনজন কথা বলবে এবং অন্যরা সযত্নে বক্তব্যের গুরুত্ব বিবেচনা করবে।
[30] আর উপবিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ যদি প্রত্যাদেশ লাভ করে, তাহলে প্রথম বক্তা ক্ষান্ত হবে।
[31] কারণ তোমরা সকলে পর্যায়ক্রমে ভাববাণী বলতে পারো, যেন প্রত্যেকেই শিক্ষা ও প্রেরণা লাভ করতে পারে।
[32] ভাববাদীদের আত্মা ভাববাদীদের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে।
[33] কারণ ঈশ্বর বিশৃঙ্খলার ঈশ্বর নন, কিন্তু শান্তির। সন্তজনেদের সমস্ত মণ্ডলীতে যেমন হয়ে থাকে,
[34] মণ্ডলীগুলিতে মহিলারা নীরব থাকবে। তাদের কথা বলার অনুমতি দেওয়া যায় না, বরং শাস্ত্রীয় বিধান-ও যেমন বলে, তারা অবশ্যই বশ্যতাধীন থাকবে।
[35] তারা যদি কোনও বিষয়ে কিছু জানতে চায়, তারা বাড়িতে নিজের নিজের স্বামীর কাছে তা জিজ্ঞাসা করুক, কারণ মণ্ডলীতে কোনো মহিলার কথা বলা লজ্জাকর ব্যাপার।
[36] ঈশ্বরের বাক্য কি তোমাদের মধ্য থেকেই উদ্ভূত হয়েছিল? অথবা, তা কি কেবলমাত্র তোমাদেরই কাছে উপস্থিত হয়েছে?
[37] কেউ যদি নিজেকে ভাববাদী বা আত্মিকভাবে বরদানপ্রাপ্ত বলে মনে করে, তাহলে সে স্বীকার করবে যে, তোমাদের কাছে আমি যা লিখছি, তা প্রভুরই আদেশ।
[38] সে যদি তা উপেক্ষা করে, তাহলে সে নিজেই উপেক্ষিত হবে।
[39] অতএব, আমার ভাইবোনেরা, তোমরা ভাববাণী বলার জন্য আগ্রহী হও এবং বিশেষ সব ভাষায় কথা বলতে নিষেধ কোরো না।
[40] কিন্তু সবকিছুই যথাযথ ও সুশৃঙ্খলরূপে হওয়া উচিত।