Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 6:26

[1] পৌল, ঈশ্বরের ইচ্ছায় খ্রীষ্ট যীশুর আহূত প্রেরিতশিষ্য ও আমাদের ভাই সোস্থিনি,

[2] করিন্থে স্থিত ঈশ্বরের মণ্ডলী সমীপে, খ্রীষ্ট যীশুতে শুচিশুদ্ধকৃত ও পবিত্ররূপে আহূতদের সমীপে, সেই সঙ্গে যারা সর্বত্র আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে ডাকে, তাদের সর্বজন সমীপে—তিনি তাদের ও আমাদেরও প্রভু।

[3] আমাদের পিতা ঈশ্বর ও প্রভু যীশু খ্রীষ্ট থেকে অনুগ্রহ ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্তুক।

[4] খ্রীষ্ট যীশুতে যে অনুগ্রহ তোমাদের প্রতি দত্ত হয়েছে, সেজন্য আমি নিয়ত ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই।

[5] কারণ তাঁতেই তোমরা—তোমাদের সমস্ত কথাবার্তায় ও তোমাদের সমস্ত জ্ঞানে—সর্বতোভাবে সমৃদ্ধ হয়েছ।

[6] কারণ খ্রীষ্ট সম্পর্কে আমাদের সাক্ষ্য তোমাদের মধ্যে স্বীকৃত হয়েছে।

[7] এই কারণে যখন তোমরা আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের প্রকাশের জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করছ, তোমাদের মধ্যে কোনও আত্মিক বরদানের অভাব ঘটেনি।

[8] তিনিই শেষ পর্যন্ত তোমাদের সবল রাখবেন, যেন তোমরা আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের দিনে অনিন্দনীয় থাকতে পারো।

[9] ঈশ্বর, যিনি তাঁর পুত্র, আমাদের প্রভু, যীশু খ্রীষ্টের সহভাগিতায় তোমাদের আহ্বান করেছেন, তিনি বিশ্বাসযোগ্য।

[10] ভাইবোনেরা, আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে তোমাদের কাছে আবেদন করছি, তোমরা সকলে পরস্পর অভিন্নমত হও, যেন তোমাদের মধ্যে কোনোরকম দলাদলি না হয় এবং তোমরা যেন মনে ও চিন্তায় সম্পূর্ণরূপে ঐক্যবদ্ধ থাকো।

[11] আমার ভাইবোনরা, ক্লোয়ীর পরিজনদের মধ্যে কয়েকজন আমাকে এই সংবাদ দিয়েছে যে, তোমাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ আছে।

[12] আমি যা বলতে চাই, তা হল এই: তোমাদের মধ্যে একজন বলে, “আমি পৌলের অনুসারী,” অন্য একজন, “আমি আপল্লোর অনুসরণ করি,” আরও একজন, “আমি কৈফার অনুসারী”; এছাড়াও অন্য একজন, “আমি খ্রীষ্টের অনুসারী।”

[13] খ্রীষ্ট কি বিভাজিত হয়েছেন? পৌল কি তোমাদের জন্য ক্রুশবিদ্ধ হয়েছে? তোমরা কি পৌলের নামে বাপ্তাইজিত হয়েছ?

[14] আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ যে, ক্রীষ্প ও গায়ো ব্যতিরেকে তোমাদের মধ্যে আমি আর কাউকে বাপ্তিষ্ম দিইনি,

[15] তাই কেউই বলতে পারে না যে, তোমরা আমার নামে বাপ্তিষ্ম গ্রহণ করেছ।

[16] (হ্যাঁ, আমি স্তেফানার পরিজনদেরও বাপ্তিষ্ম দিয়েছি, এছাড়া আর কাউকে যে আমি বাপ্তিষ্ম দিয়েছি, তা আমার মনে পড়ে না)

[17] কারণ খ্রীষ্ট আমাকে বাপ্তিষ্ম প্রদানের জন্য প্রেরণ করেননি, কিন্তু সুসমাচার প্রচারের জন্য—কিন্তু তা মানবিক প্রজ্ঞার বাণী দ্বারা নয়, যেন খ্রীষ্টের ক্রুশের পরাক্রম ক্ষুণ্ণ না হয়।

[18] কারণ যারা ধ্বংস হচ্ছে সেই ক্রুশের বার্তা তাদের কাছে মূর্খতা, কিন্তু আমরা যারা পরিত্রাণ লাভ করছি, এ হল ঈশ্বরের পরাক্রমস্বরূপ।

[19] কারণ একথা লিখিত আছে: “আমি জ্ঞানীদের জ্ঞান নষ্ট করব, বুদ্ধিমানদের বুদ্ধি ব্যর্থ করব।”

[20] জ্ঞানবান মানুষ কোথায়? বিধানের শিক্ষকই বা কোথায়? এই যুগের দার্শনিক কোথায়? ঈশ্বর কি জগতের জ্ঞানকে মূর্খতায় পরিণত করেননি?

[21] কারণ, যেহেতু ঈশ্বরের জ্ঞান অনুসারে জগৎ তার জ্ঞানে তাঁকে জানতে পারেনি, ঈশ্বর, যা প্রচারিত হয়েছিল, সেই মূর্খতার মাধ্যমে, যারা বিশ্বাস করে তাদের পরিত্রাণ করতে প্রীত হলেন।

[22] ইহুদিরা অলৌকিক বিভিন্ন চিহ্ন দাবি করে এবং গ্রিকেরা জ্ঞানের অন্বেষণ করে,

[23] কিন্তু আমরা ক্রুশে হত খ্রীষ্টকে প্রচার করি; তিনি ইহুদিদের কাছে প্রতিবন্ধকতাস্বরূপ ও অইহুদিদের কাছে মূর্খতাস্বরূপ।

[24] কিন্তু ইহুদি ও গ্রিক নির্বিশেষে, ঈশ্বর যাদের আহ্বান করেছেন, তাদের কাছে খ্রীষ্টই হলেন ঈশ্বরের পরাক্রম ও ঈশ্বরের জ্ঞানস্বরূপ।

[25] কারণ ঈশ্বরের মূর্খতা মানুষের জ্ঞান থেকেও বেশি জ্ঞানসম্পন্ন এবং ঈশ্বরের দুর্বলতা মানুষের শক্তি থেকেও বেশি শক্তিশালী।

[26] ভাইবোনেরা, ভেবে দেখো, যখন তোমাদের আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা কী ছিলে? মানবিক মানদণ্ড অনুসারে, তোমরা অনেকেই জ্ঞানী ছিলে না; অনেকেই প্রভাবশালী ছিলে না; অনেকেই অভিজাত বংশীয় ছিলে না।

[27] কিন্তু ঈশ্বর জগতের মূর্খ বিষয়গুলি মনোনীত করলেন, যেন জ্ঞানীদের লজ্জা দেন; ঈশ্বর জগতের দুর্বল বিষয়গুলি মনোনীত করলেন, যেন শক্তিসম্পন্ন বিষয়গুলিকে লজ্জিত করেন।

[28] তিনি জগতের যা কিছু নিচুস্তরের, যা কিছু তুচ্ছ, আবার যেসব বিষয় কিছুই নয়, সেইসব বিষয় মনোনীত করলেন, যেন যা কিছু আছে, সেগুলিকে নাকচ করেন,

[29] যেন কোনো মানুষ তাঁর সাক্ষাতে গর্ব করতে না পারে।

[30] এ তাঁরই কারণে যে, তোমরা খ্রীষ্ট যীশুতে আছো, যিনি আমাদের জন্য ঈশ্বরের কাছ থেকে জ্ঞানস্বরূপ হয়েছেন—অর্থাৎ, আমাদের ধার্মিকতা, পবিত্রতা ও মুক্তিস্বরূপ।

[31] অতএব, যেমন লিখিত আছে, “যে গর্ব করে, সে প্রভুতেই গর্ব করুক।”

1 করিন্থীয় — Chapters