Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 6:35

[1] সেই দিনগুলিতে আবার অনেক লোকের ভিড় হল। তাদের কাছে কোনও আহার্য-দ্রব্য ছিল না। যীশু তাই তাঁর শিষ্যদের কাছে ডেকে বললেন,

[2] “এই মানুষগুলির প্রতি আমার করুণা হচ্ছে; এরা তিনদিন ধরে আমার সঙ্গে আছে এবং এদের কাছে খাওয়ার জন্য কিছুই নেই।

[3] আমি যদি এদের ক্ষুধার্ত অবস্থায় বাড়ি পাঠিয়ে দিই, তাহলে এরা পথেই মূর্ছিত হয়ে পড়বে। কারণ এদের মধ্যে কেউ কেউ বহুদূর থেকে এসেছে।”

[4] তাঁর শিষ্যেরা উত্তর দিলেন, “কিন্তু এই জনহীন প্রান্তরে ওদের তৃপ্ত করার মতো কে এত রুটি জোগাড় করবে?”

[5] যীশু জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের কাছে কতগুলি রুটি আছে?” তাঁরা উত্তর দিলেন, “সাতটি।”

[6] তিনি লোকদের মাটির উপরে বসার আদেশ দিলেন। তিনি সেই সাতটি রুটি নিলেন ও ধন্যবাদ দিলেন। পরে সেগুলি ভেঙে ভেঙে লোকদের পরিবেশন করার জন্য শিষ্যদের দিতে লাগলেন। তারা তাই করলেন।

[7] তাঁদের কাছে কয়েকটি ছোট মাছও ছিল। তিনি সেগুলির জন্যও ধন্যবাদ দিয়ে পরিবেশন করার জন্য শিষ্যদের বললেন।

[8] লোকেরা আহার করে তৃপ্ত হল। তারপর শিষ্যেরা খাদ্যের অবশেষ তুলে সাতটি ঝুড়ি ভর্তি করল।

[9] সেখানে উপস্থিত পুরুষদের সংখ্যা ছিল প্রায় চার হাজার। তিনি তাদের বিদায় দিলেন।

[10] পরে তিনি তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে নৌকায় বসলেন ও দলমনুথা প্রদেশে চলে গেলেন।

[11] ফরিশীরা এসে যীশুকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে লাগল। তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য তারা এক স্বর্গীয় নিদর্শন দেখতে চাইল।

[12] তিনি দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে বললেন, “এই প্রজন্মের লোকেরা কেন অলৌকিক নিদর্শন দেখতে চায়? আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, ওদের কোনো নিদর্শন দেখানো হবে না।”

[13] তারপর তিনি তাদের ত্যাগ করে নৌকায় উঠলেন ও অপর পারে চলে গেলেন।

[14] শিষ্যেরা রুটি নিতে ভুলে গিয়েছিলেন। নৌকায় তাদের সঙ্গে কেবলমাত্র একটি ছাড়া আর কোনো রুটি ছিল না।

[15] যীশু তাঁদের সতর্ক করে দিলেন, “সাবধান, হেরোদ ও ফরিশীদের খামির থেকে সতর্ক থেকো।”

[16] এ বিষয়ে তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করে বললেন, “এর কারণ হল, আমাদের কাছে কোনো রুটি নেই।”

[17] তাঁদের আলোচনার বিষয় অবহিত ছিলেন বলে যীশু তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “রুটি নেই বলে তোমরা তর্ক-বিবাদ করছ কেন? তোমরা কি এখনও কিছু দেখতে বা বুঝতে পারছ না? তোমাদের মন কি কঠোর হয়ে গেছে?

[18] তোমরা কি চোখ থাকতেও দেখতে পাচ্ছ না, কান থাকতেও শুনতে পাচ্ছ না?

[19] আমি যখন পাঁচ হাজার লোকের জন্য পাঁচটি রুটি ভেঙেছিলাম, তোমরা কত ঝুড়ি রুটির টুকরো তুলে নিয়েছিলে?” তাঁরা উত্তর দিলেন, “বারো ঝুড়ি।”

[20] “আর যখন আমি চার হাজার লোকের জন্য সাতটি রুটি ভেঙেছিলাম, তোমরা কত ঝুড়ি রুটির টুকরো তুলে নিয়েছিলে?” উত্তরে তাঁরা বললেন, “সাত ঝুড়ি।”

[21] তিনি তাঁদের বললেন, “তোমরা কি এখনও বুঝতে পারছ না?”

[22] তাঁরা বেথসৈদায় উপস্থিত হলে কয়েকজন লোক এক দৃষ্টিহীন ব্যক্তিকে নিয়ে এল ও তাকে স্পর্শ করার জন্য যীশুকে অনুরোধ করল।

[23] তিনি সেই দৃষ্টিহীন ব্যক্তির হাত ধরে তাকে গ্রামের বাইরে নিয়ে গেলেন। যীশু তার দুই চোখে থুতু দিয়ে তার উপর হাত রাখলেন। যীশু জিজ্ঞাসা করলেন,

[24] “তুমি কিছু দেখতে পাচ্ছ কি?” সে চোখ তুলে চাইল ও বলল, “আমি মানুষ দেখতে পাচ্ছি, তারা দেখতে গাছের মতো, ঘুরে বেড়াচ্ছে।”

[25] যীশু আর একবার তার চোখে হাত রাখলেন। তখন তার দৃষ্টি স্থির হল। আরোগ্য লাভ করে সেসবকিছু স্পষ্ট দেখতে লাগল।

[26] যীশু তাকে একথা বলে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন, “তুমি এই গ্রামে যেয়ো না।”

[27] যীশু ও তাঁর শিষ্যেরা কৈসরিয়া-ফিলিপী অঞ্চলের গ্রামে গ্রামে পরিভ্রমণ করতে লাগলেন। পথে তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি কে, লোকেরা এ সম্পর্কে কী বলে?”

[28] তাঁরা উত্তর দিলেন, “কেউ কেউ বলে আপনি বাপ্তিষ্মদাতা যোহন, অন্যেরা বলে এলিয়, আর কেউ কেউ বলে, আপনি ভাববাদীদের মধ্যে কোনও একজন।”

[29] তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, “কিন্তু তোমরা কী বলো, আমি কে?” পিতর উত্তর দিলেন, “আপনি সেই খ্রীষ্ট।”

[30] যীশু তাঁর সম্পর্কে কাউকে কিছু না বলার জন্য তাঁদের সতর্ক করে দিলেন।

[31] তারপর তিনি তাঁদের শিক্ষা দিতে গিয়ে একথা বললেন যে, মনুষ্যপুত্রকে অনেক বিষয়ে কষ্টভোগ করতে হবে। তিনি প্রাচীনদের, প্রধান যাজকদের ও শাস্ত্রবিদদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হবেন। তাঁকে অবশ্যই নিহত হতে হবে এবং তিনদিন পরে তিনি আবার উত্থিত হবেন।

[32] তিনি এ বিষয়ে স্পষ্টরূপে কথা বললেন, কিন্তু পিতর তাঁকে এক পাশে সরিয়ে নিয়ে অনুযোগ করতে লাগলেন।

[33] কিন্তু যীশু যখন ফিরে শিষ্যদের দিকে তাকালেন, তিনি পিতরকে তিরস্কার করলেন। তিনি বললেন, “আমার কাছ থেকে দূর হও শয়তান! তোমার মনে ঈশ্বরের বিষয়গুলি নেই, আছে মানুষদের সব বিষয়।”

[34] তারপর তিনি শিষ্যদের সঙ্গে অন্যান্য লোকদেরও তাঁর কাছে ডাকলেন ও বললেন, “কেউ যদি আমার অনুগামী হতে চায়, সে অবশ্যই নিজেকে অস্বীকার করবে, তার ক্রুশ তুলে নেবে ও আমাকে অনুসরণ করবে।

[35] কারণ যে তার জীবন রক্ষা করতে চায়, সে তা হারাবে, কিন্তু যে তার জীবন আমার ও সুসমাচারের জন্য হারায়, সে তা রক্ষা করবে।

[36] বস্তুত, কোনো মানুষ যদি সমস্ত জগতের অধিকার লাভ করে ও তার প্রাণ হারায়, তাহলে তার কী লাভ হবে?

[37] কিংবা, নিজের প্রাণের পরিবর্তে মানুষ আর কী দিতে পারে?

[38] এই ব্যভিচারী ও পাপিষ্ঠ প্রজন্মের মধ্যে কেউ যদি আমাকে ও আমার বাক্যকে লজ্জার বিষয় বলে মনে করে, মনুষ্যপুত্রও যখন পবিত্র দূতবাহিনীর সঙ্গে তাঁর পিতার মহিমায় আসবেন, তখন তিনিও তাকে লজ্জার পাত্র বলে মনে করবেন।”

মার্ক — Chapters