Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 6:05

[1] তাঁরা জেরুশালেমের নিকটবর্তী হয়ে জলপাই পর্বতের গায়ে, বেথফাগের ও বেথানির সামনে উপস্থিত হলেন। যীশু তাঁর দুজন শিষ্যকে এই বলে পাঠালেন,

[2] “তোমরা সামনের ওই গ্রামটিতে যাও। সেখানে প্রবেশ করা মাত্র তোমরা দেখবে, একটি গর্দভ-শাবক বাঁধা আছে, যার উপরে কেউ কখনও বসেনি। সেটিকে খুলে এখানে নিয়ে এসো।

[3] কেউ যদি তোমাদের জিজ্ঞাসা করে, ‘তোমরা কেন এরকম করছ?’ তাকে বোলো, ‘প্রভুর প্রয়োজন আছে, শীঘ্রই তিনি এটি ফেরত পাঠিয়ে দেবেন।’ ”

[4] তাঁরা গিয়ে দেখলেন, একটি দ্বারের কাছে, বাইরের রাস্তায় একটি গর্দভ-শাবক বাঁধা আছে। তাঁরা সেটি খোলা মাত্র,

[5] সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন লোক জিজ্ঞাসা করল, “তোমরা কী করছ? শাবকটির বাঁধন খুলছ কেন?”

[6] এতে যীশু যেমন বলেছিলেন, তাঁরা সেভাবেই উত্তর দিলেন। সেই লোকেরা সেটি নিয়ে যেতে দিল।

[7] তাঁরা গর্দভ-শাবকটি যীশুর কাছে নিয়ে এসে তার উপর তাঁদের পোশাক বিছিয়ে দিলেন। তিনি তার উপরে বসলেন।

[8] বহু মানুষ পথের উপরে তাদের পোশাক বিছিয়ে দিল, অন্যেরা মাঠ থেকে গাছের ডালপালা কেটে এনে রাস্তার উপরে ছড়িয়ে দিল।

[9] যারা সামনে যাচ্ছিল ও যারা পেছনে ছিল, তারা চিৎকার করে বলতে লাগল, “হোশান্না!” “ধন্য তিনি, যিনি প্রভুর নামে আসছেন!”

[10] “ধন্য আমাদের পিতা দাউদের সন্নিকট রাজ্য!” “ঊর্ধ্বতমলোকে হোশান্না!”

[11] যীশু জেরুশালেমে প্রবেশ করে মন্দিরে গেলেন। তিনি চারপাশের সবকিছু লক্ষ্য করতে লাগলেন। কিন্তু ইতিমধ্যে অনেক দেরি হওয়াতে, তিনি সেই বারোজনের সঙ্গে বেথানিতে চলে গেলেন।

[12] পরদিন, তাঁরা বেথানি পরিত্যাগ করে যাওয়ার সময়, যীশু ক্ষুধার্ত হলেন।

[13] দূরে একটি পত্রবহুল ডুমুর গাছ দেখে, তাতে কোনো ফল আছে কি না, তিনি খুঁজতে গেলেন। তিনি গাছটির কাছে গিয়ে পাতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলেন না, কারণ তখন ডুমুরের মরশুম ছিল না।

[14] তখন তিনি সেই গাছটিকে বললেন, “তোমার ফল কেউ যেন আর কখনও না খায়।” শিষ্যেরা তাঁকে একথা বলতে শুনলেন।

[15] জেরুশালেমে পৌঁছে যীশু মন্দির-চত্বরে প্রবেশ করলেন এবং যারা সেখানে কেনাবেচা করছিল, তাদের তাড়িয়ে দিতে লাগলেন। তিনি মুদ্রা-বিনিময়কারীদের টেবিল ও পায়রা-বিক্রেতাদের বেঞ্চি উল্টে দিলেন।

[16] মন্দির-প্রাঙ্গণ দিয়ে তিনি কাউকে কোনো পসরা নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেন না।

[17] তিনি তাদের বললেন, “একথা কি লেখা নেই, ‘আমার গৃহ সর্বজাতির প্রার্থনা-গৃহরূপে আখ্যাত হবে’? কিন্তু তোমরা একে ‘দস্যুদের গহ্বরে পরিণত করেছ।’”

[18] প্রধান যাজকেরা ও শাস্ত্রবিদরা একথা শুনতে পেয়ে, তাঁকে হত্যা করার পথ খুঁজতে লাগলেন। কিন্তু তারা তাঁকে ভয় পেলেন, কারণ লোকসকল তার উপদেশে চমৎকৃত হয়েছিল।

[19] সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে, যীশু ও তাঁর শিষ্যরা নগরের বাইরে চলে গেলেন।

[20] সকালবেলা, পথে যাওয়ার সময় তাঁরা দেখলেন, সেই ডুমুর গাছটি সমূলে শুকিয়ে গেছে।

[21] পিতরের পূর্বকথা স্মরণে এলে, তিনি যীশুকে বললেন, “রব্বি দেখুন, যে ডুমুর গাছটিকে আপনি অভিশাপ দিয়েছিলেন, সেটি শুকিয়ে গেছে।”

[22] যীশু উত্তর দিলেন, “ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখো।

[23] আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, কেউ যদি এই পর্বতটিকে বলে, ‘যাও, উপড়ে গিয়ে সমুদ্রে পড়ো,’ কিন্তু তার মনে কোনো সন্দেহ পোষণ না করে বিশ্বাস করে যে, সে যা বলেছে, তা ঘটবে, তার জন্য সেইরকমই করা হবে।

[24] সেই কারণে আমি তোমাদের বলছি, তোমরা প্রার্থনায় যা কিছু চাও, বিশ্বাস করো যে তোমরা তা পেয়ে গিয়েছ, তোমাদের জন্য সেইরকমই হবে।

[25] আর তোমরা যখন প্রার্থনা করার জন্য দাঁড়াও, যদি কারও বিরুদ্ধে তোমাদের কোনও ক্ষোভ থাকে, তাকে ক্ষমা করো,

[26] যেন তোমাদের স্বর্গস্থ পিতাও তোমাদের সকল পাপ ক্ষমা করেন।”

[27] তাঁরা পুনরায় জেরুশালেমে এলেন। যীশু যখন মন্দির-প্রাঙ্গণে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন প্রধান যাজকেরা, শাস্ত্রবিদরা ও প্রাচীনবর্গ তাঁর কাছে এলেন।

[28] তাঁরা প্রশ্ন করলেন, “তুমি কোন অধিকারে এসব কাজ করছ? আর এসব করার অধিকারই বা কে তোমাকে দিল?”

[29] যীশু উত্তর দিলেন, “আমিও আপনাদের একটি প্রশ্ন করব। আমাকে উত্তর দিন, তাহলে আমিও বলব, কোন অধিকারে আমি এসব কাজ করছি।

[30] আমাকে বলুন, যোহনের বাপ্তিষ্ম স্বর্গ থেকে হয়েছিল, না মানুষের কাছ থেকে?”

[31] তাঁরা নিজেদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করে বললেন, “যদি আমরা বলি, ‘স্বর্গ থেকে,’ ও জিজ্ঞাসা করবে, ‘তাহলে আপনারা তাঁকে বিশ্বাস করেননি কেন?’

[32] কিন্তু যদি আমরা বলি, ‘মানুষদের কাছ থেকে’ ” (তাঁরা জনসাধারণকে ভয় পাচ্ছিলেন, কারণ প্রত্যেকে যোহনকে প্রকৃতই ভাববাদী বলে মনে করত)

[33] তাই তাঁরা যীশুকে উত্তর দিলেন, “আমরা জানি না।” যীশু বললেন, “আমিও কোন অধিকারে এসব কাজ করছি, আপনাদের বলব না।”

মার্ক — Chapters