[1] যীশু আবার হ্রদের তীরে গিয়ে শিক্ষা দেওয়া শুরু করলেন। সেখানে তাঁর চারপাশে অনেক লোক এসে ভিড় করল যে, তিনি হ্রদের উপরে একটি নৌকায় উঠে বসলেন, লোকেরা রইল হ্রদের তীরে, জলের কিনারায়।
[2] তিনি রূপকের মাধ্যমে বহু বিষয়ে তাদের শিক্ষা দিলেন। তাঁর উপদেশে তিনি বললেন,
[3] “শোনো! এক কৃষক তার বীজবপন করতে গেল।
[4] সে যখন বীজ ছড়াচ্ছিল, কিছু বীজ রাস্তার ধারে পড়ল। আর পাখিরা এসে তা খেয়ে ফেলল।
[5] কিছু বীজ পড়ল পাথুরে জমিতে। সেখানে যথেষ্ট মাটি ছিল না। তা দ্রুত অঙ্কুরিত হল, যেহেতু মাটি ছিল অগভীর।
[6] কিন্তু সূর্য উঠলে পর চারাগুলি ঝলসে গেল এবং শিকড় না থাকাতে সেগুলি শুকিয়ে গেল।
[7] অন্য কিছু বীজ পড়ল কাঁটাঝোপের মধ্যে। এতে কাঁটাঝোপ বেড়ে উঠে চারাগুলিকে চেপে রাখল, ফলে সেগুলিতে কোনও দানা হল না।
[8] আরও অন্য কিছু বীজ পড়ল উৎকৃষ্ট জমিতে। সেগুলির অঙ্কুরোদ্গম হল, বৃদ্ধি পেল এবং ত্রিশগুণ, ষাটগুণ, এমনকি, শতগুণ পর্যন্ত শস্য উৎপন্ন হল।”
[9] এরপর যীশু বললেন, “যার শোনবার মতো কান আছে, সে শুনুক।”
[10] যীশু যখন একা ছিলেন, তখন সেই বারোজনের সঙ্গে তাঁর চারপাশে থাকা মানুষেরা এই রূপকটি সম্বন্ধে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন।
[11] তিনি তাঁদের বললেন, “ঈশ্বরের রাজ্যের নিগুঢ়তত্ত্বগুলি তোমাদের জানতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা বাইরের মানুষ, তাদের কাছে সবকিছুই রূপকের আশ্রয়ে বলা হবে,
[12] যেন, “ ‘তারা ক্রমেই দেখে যায়, কিন্তু কিছুই বুঝতে পারে না, আর সবসময় শুনতে থাকে, কিন্তু কখনও উপলব্ধি করে না, অন্যথায় তারা হয়তো ফিরে আসত ও পাপের ক্ষমা লাভ করত।’ ”
[13] তারপর যীশু তাঁদের বললেন, “তোমরা কি এই রূপকটি বুঝতে পারছ না? তাহলে অন্য কোনো রূপক তোমরা কীভাবে বুঝবে?
[14] কৃষক বাক্য-বীজ বপন করে।
[15] কিছু মানুষ পথের ধারে থাকা লোকের মতো, যেখানে বীজবপন করা হয়েছিল। তারা তা শ্রবণ করা মাত্র, শয়তান এসে তাদের মধ্যে বপিত বাক্য হরণ করে নেয়।
[16] অন্য কিছু লোক পাথুরে জমিতে ছড়ানো বীজের মতো। তারা বাক্য শুনে তক্ষুনি তা আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করে।
[17] কিন্তু যেহেতু সেগুলির মধ্যে শিকড় নেই, সেগুলি ক্ষণস্থায়ী হয়। বাক্যের কারণে যখন কষ্টসমস্যা বা নির্যাতন ঘটে, তারা দ্রুত পতিত হয়।
[18] আরও অন্য কিছু লোক, কাঁটাঝোপে ছড়ানো বীজের মতো। তারা বাক্য শ্রবণ করে,
[19] কিন্তু এই জীবনের বিভিন্ন দুশ্চিন্তা, ধনসম্পত্তি, ছলনা ও অন্য সব বিষয়ের কামনা-বাসনা এসে উপস্থিত হলে, তা সেই বাক্যকে চেপে রাখে, ফলে তা ফলহীন হয়।
[20] আর, যারা উৎকৃষ্ট জমিতে উপ্ত বীজের মতো, তারা বাক্য শুনে তা গ্রহণ করে এবং যা বপিত হয়েছিল, তার ত্রিশগুণ, ষাটগুণ, এমনকি, শতগুণ পর্যন্ত ফল উৎপন্ন করে।”
[21] তিনি তাদের বললেন, “তোমরা কি কোনো প্রদীপ এনে, তা কোনও পাত্রের নিচে, বা খাটিয়ার নিচে রাখো? বরং তোমরা কি তা দীপাধারের উপরেই রাখো না?
[22] এতে যা কিছু গুপ্ত থাকে, তা প্রকাশ পায় এবং যা কিছু লুকোনো থাকে, তা প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হয়।
[23] যদি কারও শোনবার মতো কান থাকে, সে শুনুক।”
[24] তিনি বলে চললেন, “তোমরা যা শুনছ, তা সতর্কভাবে বিবেচনা করে দেখো। যে মানদণ্ড তোমরা ব্যবহার করো, একই মানদণ্ডে, কিংবা আরও কঠোর মানদণ্ডে তোমাদের পরিমাপ করা হবে।
[25] যার আছে, তাকে আরও বেশি দেওয়া হবে, যার নেই, তার যেটুকু আছে, সেটুকুও তার কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হবে।”
[26] তিনি আরও বললেন, “ঈশ্বরের রাজ্য এরকম। কোনো মানুষ জমিতে বীজ ছড়ায়।
[27] দিন-রাত সে জেগে বা ঘুমিয়ে কাটালেও, বীজের অঙ্কুরোদ্গম হয় ও তা বেড়ে ওঠে। অথচ, কেমন করে তা হল, তার সে কিছুই বুঝতে পারে না।
[28] মাটি নিজে থেকেই শস্য উৎপন্ন করে—প্রথমে অঙ্কুর, পরে শিষ, তারপর শিষের মধ্যে পরিণত দানা।
[29] দানা পরিপক্ব হলে, সে তক্ষুনি তাতে কাস্তে চালায়, কারণ শস্য কাটার সময় উপস্থিত হয়েছে।”
[30] তিনি আবার বললেন, “আমরা কী বলব, ঈশ্বরের রাজ্য কীসের মতো? অথবা তা বর্ণনা করার জন্য আমরা কোন রূপক ব্যবহার করব?
[31] এ যেন এক সর্ষে বীজের মতো; তোমরা যতরকম বীজ জমিতে বোনো, তা সেগুলির মধ্যে ক্ষুদ্রতম।
[32] তবুও বোনা হলে তা বৃদ্ধি পায় ও বাগানের অন্য সব গাছপালা থেকে বড় হয়ে ওঠে। এর শাখাগুলি এত বিশাল হয় যে, আকাশের পাখিরা এসে এর ছায়ায় বাসা বাঁধতে পারে।”
[33] এ ধরনের আরও অনেক রূপকের মাধ্যমে, যীশু তাদের বুঝবার সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের কাছে বাক্য প্রচার করলেন।
[34] রূপকের আশ্রয় না নিয়ে তিনি তাদের কাছে কোনো কথাই বললেন না। কিন্তু তিনি তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে একান্তে থাকার সময়, তাঁদের কাছে সবকিছুই ব্যাখ্যা করতেন।
[35] সেদিন সন্ধ্যা হলে যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, “চলো আমরা ওপারে যাই।”
[36] সকলকে পিছনে রেখে, যীশু যেভাবে নৌকায় ছিলেন, সেভাবেই তাঁকে নিয়ে শিষ্যেরা নৌকায় যাত্রা করলেন। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকটি নৌকা ছিল।
[37] ভয়ংকর এক ঝড় এসে উপস্থিত হল। ঢেউগুলি নৌকার উপরে এমনভাবে আছড়ে পড়তে লাগল যে, নৌকা জলে প্রায় পূর্ণ হতে লাগল।
[38] যীশু নৌকার পিছন দিকে একটি বালিশে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। শিষ্যেরা তাঁকে জাগিয়ে তুলে বললেন, “গুরুমহাশয়, আমরা ডুবে যাচ্ছি, আপনার কি কোনও চিন্তা নেই?”
[39] তিনি উঠে ঝড়কে থেমে যাওয়ার আদেশ দিলেন ও ঢেউগুলিকে বললেন, “শান্ত হও! স্থির হও!” তখন ঝড় থেমে গেল ও সবকিছু সম্পূর্ণ শান্ত হল।
[40] তিনি তাঁর শিষ্যদের বললেন, “তোমরা এত ভয় পেলে কেন? তোমাদের কি এখনও কোনো বিশ্বাস নেই?”
[41] আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে তাঁরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন, “ইনি তাহলে কে? ঝড় ও ঢেউ যে এঁর আদেশ পালন করে!”