Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 9:41

[1] যীশু তখন বিভিন্ন রূপকের আশ্রয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন: “কোনো ব্যক্তি একটি দ্রাক্ষাক্ষেত স্থাপন করলেন। তিনি তার চারপাশে এক প্রাচীর নির্মাণ করলেন; দ্রাক্ষা পেষণের জন্য গর্ত খুঁড়লেন এবং একটি নজরমিনার নির্মাণ করলেন। তারপর কয়েকজন কৃষককে দ্রাক্ষাক্ষেতটি ইজারা দিয়ে তিনি এক যাত্রাপথে চলে গেলেন।

[2] পরে ফল কাটার সময় উপস্থিত হলে, তিনি তাঁর এক দাসকে ফলের অংশ সংগ্রহের জন্য দ্রাক্ষাক্ষেতে ইজারাদারদের কাছে পাঠালেন।

[3] কিন্তু তারা তাকে ধরে প্রহার করল ও শূন্য হাতে তাকে ফিরিয়ে দিল।

[4] তারপর তিনি অন্য এক দাসকে তাদের কাছে পাঠালেন; তারা এই লোকটির মাথায় আঘাত করল ও তার সঙ্গে নির্লজ্জ আচরণ করল।

[5] তিনি তবুও আর একজনকে পাঠালেন, তারা তাকে হত্যা করল। তিনি আরও অনেকজনকে পাঠালেন, তাদের কাউকে কাউকে তারা প্রহার করল, অন্যদের হত্যা করল।

[6] “তখন তার কাছে অবশিষ্ট ছিলেন আর একজন মাত্র ব্যক্তি, তিনি তাঁর প্রিয়তম পুত্র। সকলের শেষে তিনি একথা বলে তাঁকেই পাঠালেন, ‘তাঁরা আমার পুত্রকে সম্মান করবে।’

[7] “কিন্তু ইজারাদাররা পরস্পরকে বলল, ‘এই হচ্ছে উত্তরাধিকারী! এসো, একে আমরা হত্যা করি, তাহলে মালিকানা আমাদের হবে।’

[8] তাই তারা তাঁকে ধরে হত্যা করল ও দ্রাক্ষাক্ষেতের বাইরে ফেলে দিল।

[9] “দ্রাক্ষাক্ষেতের মালিক তখন কী করবেন? তিনি এসে ওইসব ইজারাদারদের হত্যা করবেন ও দ্রাক্ষাক্ষেতটি অন্যদের দেবেন।

[10] আপনারা কি শাস্ত্রে পাঠ করেননি, “ ‘যে প্রস্তর গাঁথকেরা অগ্রাহ্য করেছিল, তাই হয়ে উঠল শীর্ষপ্রস্তর;

[11] প্রভুই তা সাধন করেছেন, আমাদের দৃষ্টিতে তা বিস্ময়কর।’ ”

[12] তখন তাঁরা যীশুকে গ্রেপ্তার করার কোনো উপায় খুঁজতে লাগলেন, কারণ তাঁরা জানতেন, রূপকটি তিনি তাঁদের বিরুদ্ধেই বলেছেন। কিন্তু তাঁরা লোকেদের ভয় পেলেন; তাই তাঁরা তাঁকে ছেড়ে চলে গেলেন।

[13] এরপর তাঁরা কয়েকজন ফরিশী ও হেরোদীয়কে যীশুর কাছে পাঠালেন, যেন তাঁর কথাতেই তাঁরা তাঁকে ধরার সূত্র খুঁজে পান।

[14] তাঁরা তাঁর কাছে এসে বলল, “গুরুমহাশয়, আমরা জানি, আপনি একজন সৎ মানুষ। কোনো মানুষের দ্বারা আপনি প্রভাবিত হন না, কারণ তারা কে, সে সম্পর্কে আপনি কোনও ভ্রূক্ষেপ করেন না। বরং আপনি সত্য অনুযায়ী ঈশ্বরের পথের বিষয়ে শিক্ষা দেন। কৈসরকে কর দেওয়া উচিত কি না! আমরা কর দেব, কি দেব না?”

[15] যীশু কিন্তু তাদের ভণ্ডামির কথা বুঝতে পারলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কেন আমাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছ? তোমরা আমার কাছে একটি দিনার নিয়ে এসো ও আমাকে তা দেখতে দাও।”

[16] তারা সেই মুদ্রা নিয়ে এল। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “এটি কার প্রতিকৃতি? খোদাই করা এই নাম কার?” তারা উত্তর দিল, “কৈসরের।”

[17] তখন যীশু তাদের বললেন, “কৈসরের যা, তা কৈসরকে দাও, আর ঈশ্বরের যা, তা ঈশ্বরকে দাও।” এতে তারা তাঁর সম্পর্কে অত্যন্ত বিস্মিত হল।

[18] তখন সদ্দূকীরা, যারা বলে পুনরুত্থান নেই, একটি প্রশ্ন নিয়ে তাঁর কাছে এল।

[19] তারা বলল, “গুরুমহাশয়, মোশি আমাদের জন্য লিখে গিয়েছেন, কারও অগ্রজ যদি তার স্ত্রী-কে নিঃসন্তান অবস্থায় রেখে মারা যায়, তাহলে তার ভাই সেই বিধবাকে বিবাহ করবে ও তার অগ্রজের বংশরক্ষা করবে।

[20] বেশ, সাতজন ভাই ছিল। প্রথমজন বিবাহ করল ও নিঃসন্তান অবস্থায় তার স্ত্রীকে রেখে মারা গেল।

[21] দ্বিতীয়জন সেই বিধবাকে বিবাহ করল, কিন্তু সে-ও নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেল। তৃতীয় জনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটল।

[22] প্রকৃতপক্ষে, সেই সাতজনের কেউই কোনো সন্তান রেখে যেতে পারল না। অবশেষে সেই নারীটিরও মৃত্যু হল।

[23] তাহলে, পুনরুত্থানে সে কার স্ত্রী হবে, কারণ সাতজনই তো তাকে বিবাহ করেছিল?”

[24] যীশু উত্তর দিলেন, “এই কি তোমাদের ভ্রান্তির কারণ নয়, যে তোমরা না-জানো শাস্ত্র, না-জানো ঈশ্বরের পরাক্রম?

[25] মৃতেরা যখন উত্থিত হয়, তখন তারা বিবাহ করে না, বা তাদের বিবাহ দেওয়াও হয় না। তারা স্বর্গলোকের দূতদের মতো থাকে।

[26] এখন মৃতদের উত্থান সম্পর্কে মোশির গ্রন্থে জ্বলন্ত ঝোপের বৃত্তান্তে কী লেখা আছে, তা কি তোমরা পাঠ করোনি? ঈশ্বর কীভাবে তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি অব্রাহামের ঈশ্বর, ইস্‌হাকের ঈশ্বর ও যাকোবের ঈশ্বর?’

[27] তিনি মৃতদের ঈশ্বর নন, কিন্তু জীবিতদের। তোমরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে আছো।”

[28] শাস্ত্রবিদদের মধ্যে একজন এসে তাঁদের তর্কবিতর্ক করতে শুনলেন। যীশু তাদের ভালো উত্তর দিয়েছেন লক্ষ্য করে তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সব আজ্ঞার মধ্যে কোনটি সর্বাপেক্ষা মহৎ?”

[29] যীশু উত্তর দিলেন, “সব থেকে মহৎ আজ্ঞাটি হল এই, ‘হে ইস্রায়েল শোনো, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, একই প্রভু।

[30] তুমি তোমার সমস্ত হৃদয়, তোমার সমস্ত প্রাণ, তোমার সমস্ত মন ও তোমার সমস্ত শক্তি দিয়ে তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভালোবাসবে।’

[31] দ্বিতীয়টি হল, ‘তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতোই ভালোবাসবে।’ এগুলির থেকে মহত্তর আজ্ঞা আর নেই।”

[32] “গুরুমহাশয়, আপনি বেশ বলেছেন,” শাস্ত্রবিদ উত্তর দিলেন। “আপনি যথার্থই বলেছেন যে, ঈশ্বর একই প্রভু এবং তিনি ছাড়া আর অন্য কোনো ঈশ্বর নেই।

[33] সমস্ত হৃদয়, সমস্ত উপলব্ধি ও সমস্ত শক্তি দিয়ে ঈশ্বরকে ভালোবাসা এবং প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসা, সমস্ত হোম ও বলিদানের চেয়েও বেশি মহত্ত্বপূর্ণ।”

[34] যীশু দেখলেন, তিনি বিজ্ঞতার সঙ্গে উত্তর দিয়েছেন, তাই তিনি তাঁকে বললেন, “ঈশ্বরের রাজ্য থেকে আপনি দূরে নন।” সেই সময় থেকে কেউ তাঁকে আর কোনো প্রশ্ন করতে সাহস পেল না।

[35] মন্দির-প্রাঙ্গণে শিক্ষা দেওয়ার সময় যীশু জিজ্ঞাসা করলেন, “শাস্ত্রবিদরা কী করে বলেন যে, খ্রীষ্ট দাউদের পুত্র?

[36] দাউদ স্বয়ং পবিত্র আত্মার আবেশে একথা ঘোষণা করেছেন, “ ‘প্রভু আমার প্রভুকে বললেন, “তুমি আমার ডানদিকে বসো, যতক্ষণ না তোমার শত্রুদের আমি তোমার পদানত করি।” ’

[37] দাউদ স্বয়ং তাঁকে ‘প্রভু’ বলে অভিহিত করেছেন, তাহলে তিনি কীভাবে তাঁর পুত্র হতে পারেন?” বিস্তর লোক আনন্দের সঙ্গে তাঁর কথা শুনছিল।

[38] শিক্ষাদানকালে যীশু তাঁদের বললেন, “শাস্ত্রবিদদের সম্পর্কে সতর্ক থেকো। তারা লম্বা লম্বা পোশাক পরে ঘুরে বেড়াতে ও হাটে-বাজারে সম্ভাষিত হতে ভালোবাসে।

[39] তারা সমাজভবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলি পেতে ও ভোজসভায় সব থেকে সম্মানজনক আসন লাভ করতে ভালোবাসে।

[40] তারা বিধবাদের বাড়িশুদ্ধ গ্রাস করে এবং লোক-দেখানো লম্বা লম্বা প্রার্থনা করে। এই ধরনের লোকেরা কঠোর শাস্তি ভোগ করবে।”

[41] যেখানে দান সংগ্রহ করা হচ্ছিল, যীশু তার উল্টোদিকে বসে দেখছিলেন, লোকেরা কীভাবে মন্দিরের ভাণ্ডারে অর্থদান করছে। বহু ধনী ব্যক্তি প্রচুর সব মুদ্রা সেখানে রাখছিল।

[42] কিন্তু একজন দরিদ্র বিধবা এসে তার মধ্যে দুটি ছোট তামার পয়সা রাখল, যার মূল্য এক পয়সার এক-চতুর্থাংশের সমান।

[43] যীশু তাঁর শিষ্যদের কাছে ডেকে বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এই দরিদ্র বিধবা, অন্য সবার চেয়ে ভাণ্ডারে বেশি অর্থ দিয়েছে।

[44] তারা সবাই তাদের প্রাচুর্য থেকে দান করেছে, কিন্তু এ তার দারিদ্র্যতা সত্ত্বেও, তার বেঁচে থাকার জন্য যা কিছু ছিল, তা থেকে সর্বস্ব দিয়ে দিয়েছে।”

মার্ক — Chapters