Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 13:28

[1] নিস্তারপর্ব ও খামিরবিহীন রুটির পর্ব শুরু হতে আর মাত্র দুদিন বাকি ছিল। প্রধান যাজকেরা ও শাস্ত্রবিদরা সুকৌশলে যীশুকে গ্রেপ্তার ও হত্যা করার জন্য সুযোগ খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন।

[2] তাঁরা বললেন, “কিন্তু পর্বের সময়ে নয়, তাহলে লোকদের মধ্যে দাঙ্গা বেধে যেতে পারে।”

[3] যীশু যখন বেথানিতে “কুষ্ঠরোগী শিমোন” নামে পরিচিত এক ব্যক্তির বাড়িতে আসনে হেলান দিয়ে আহার করতে বসেছিলেন, এমন সময় একজন নারী, একটি শ্বেতস্ফটিকের পাত্রে বিশুদ্ধ জটামাংসীর নির্যাসে তৈরি বহুমূল্য সুগন্ধি-দ্রব্য নিয়ে এল। সে পাত্রটি ভেঙে তাঁর মাথায় ওই সুগন্ধি-দ্রব্য ঢেলে দিল।

[4] উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ বিরক্তির স্বরে বললেন, “সুগন্ধি-দ্রব্যের এই অপচয় কেন?

[5] এটি বিক্রি করে তো তিনশো দিনারেরও বেশি অর্থ পাওয়া যেত ও দরিদ্রদের দান করা যেত।” তাঁরা রূঢ়ভাবে তাকে তিরস্কার করলেন।

[6] যীশু বললেন, “ওকে ছেড়ে দাও। তোমরা কেন ওকে উত্যক্ত করছ? ও আমার প্রতি এক অপূর্ব কাজ করেছে।

[7] দরিদ্রদের তোমরা সবসময়ই সঙ্গে পাবে, আর তোমরা চাইলে যে কোনো সময় তাদের সাহায্য করতে পারো। কিন্তু আমাকে তোমরা সবসময় পাবে না।

[8] সে ওর সাধ্যমতোই কাজ করেছে। আমার সমাধির প্রস্তুতিরূপে ও আমার শরীরে পূর্ব থেকেই সুগন্ধি-দ্রব্য ঢেলে দিয়েছে।

[9] আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, সমস্ত জগতে, যেখানেই এই সুসমাচার প্রচারিত হবে, সেখানেই এর স্মরণার্থে ও যা করেছে, সেই কথা বলা হবে।”

[10] তখন সেই বারোজনের একজন, যিহূদা ইষ্কারিয়োৎ যীশুকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রধান যাজকদের কাছে গেল।

[11] তাঁরা একথা শুনে আনন্দিত হয়ে তাকে অর্থদানের প্রতিশ্রুতি দিলেন। তাই সে তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এক সুযোগ খুঁজতে লাগল।

[12] খামিরবিহীন রুটির পর্বের প্রথম দিনে, যখন নিস্তারপর্বের মেষশাবক বলিদান করার প্রথা ছিল, যীশুর শিষ্যেরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার ইচ্ছা কী, আমরা কোথায় গিয়ে আপনার জন্য নিস্তারপর্বের ভোজ প্রস্তুত করব?”

[13] তাই তিনি তাঁর দুজন শিষ্যকে এই বলে পাঠালেন, “তোমরা ওই নগরে যাও। সেখানে দেখবে, একজন এক কলশি জল নিয়ে যাচ্ছে। তোমরা তাকে অনুসরণ কোরো।

[14] যে গৃহে সে প্রবেশ করে, সেই গৃহকর্তাকে তোমরা বোলো, ‘গুরুমহাশয় জিজ্ঞাসা করলেন, সেই অতিথিশালা কোথায়, যেখানে আমি আমার শিষ্যদের সঙ্গে নিস্তারপর্বের ভোজ গ্রহণ করতে পারি’?

[15] তিনি তোমাদের উপরতলায় একটি বড় কামরা দেখাবেন। তা সুসজ্জিত ও প্রস্তুত অবস্থায় আছে। আমাদের জন্য সেখানেই ভোজ প্রস্তুত কোরো।”

[16] সেই শিষ্যেরা বেরিয়ে পড়লেন। নগরে প্রবেশ করে যীশু তাঁদের যেমন বলেছিলেন, ঠিক তেমনই তাঁরা সবকিছু দেখতে পেলেন। তাই তাঁরা সেখানেই নিস্তারপর্বের ভোজ প্রস্তুত করলেন।

[17] সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে, যীশু সেই বারোজনের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত হলেন।

[18] আসনে হেলান দিয়ে তাঁরা যখন আহার করছিলেন, তিনি বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমাদের মধ্যে একজন আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে—সে আমারই সঙ্গে আহার করছে।”

[19] তাঁরা দুঃখিত হলেন এবং এক এক করে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সে নিশ্চয়ই আমি নই?”

[20] তিনি উত্তর দিলেন, “সে এই বারোজনের মধ্যেই একজন, যে আমার সঙ্গে ভোজনপাত্রে রুটি ডুবিয়ে নিচ্ছে।

[21] মনুষ্যপুত্রের সম্পর্কে যেমন লিখিত আছে, তিনি তেমনই চলে যাচ্ছেন। কিন্তু ধিক্ সেই ব্যক্তিকে, যে মনুষ্যপুত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। জন্মগ্রহণ না-করলেই বরং তার পক্ষে ভালো হত।”

[22] তাঁরা যখন আহার করছিলেন, যীশু রুটি নিলেন, ধন্যবাদ দিলেন ও তা ভাঙ্গলেন এবং তা শিষ্যদের দিয়ে বললেন, “তোমরা এটি নাও, এ আমার শরীর।”

[23] তারপর তিনি পানপাত্রটি নিলেন, ধন্যবাদ দিলেন ও তাঁদের সেটি দিলেন। তাঁরা সবাই তা থেকে পান করলেন।

[24] তিনি তাঁদের বললেন, “এ আমার রক্ত, নতুন নিয়মের রক্ত, যা অনেকের জন্য পাতিত হয়েছে।

[25] আমি তোমাদের সত্যি বলছি, ঈশ্বরের রাজ্যে আমি নতুন করে পান না করা পর্যন্ত দ্রাক্ষারস আর কখনও পান করব না।”

[26] পরে তাঁরা একটি গান করে সেখান থেকে বের হয়ে জলপাই পর্বতে গেলেন।

[27] যীশু তাঁদের বললেন, “তোমরা সবাই আমাকে ছেড়ে যাবে, কারণ এরকম লিখিত আছে: “ ‘আমি মেষপালককে আঘাত করব, এতে মেষেরা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়বে।’

[28] কিন্তু কবর থেকে উত্থিত হলে পর, আমি তোমাদের আগেই গালীলে যাব।”

[29] পিতর তাঁকে বললেন, “সবাই আপনাকে ছেড়ে গেলেও, আমি যাব না।”

[30] যীশু উত্তরে বললেন, “আমি তোমাকে সত্যিই বলছি, আজই—হ্যাঁ, আজ রাত্রিবেলায়—দুবার মোরগ ডাকার পূর্বেই, তুমি আমাকে তিনবার অস্বীকার করবে।”

[31] কিন্তু পিতর আরও জোরের সঙ্গে বললেন, “আপনার সঙ্গে যদি আমাকে মৃত্যুবরণও করতে হয়, তাহলেও আমি আপনাকে কখনোই অস্বীকার করব না।”

[32] পরে তাঁরা গেৎশিমানি নামে পরিচিত একটি স্থানে গেলেন। আর যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, “আমি যখন প্রার্থনা করি, তোমরা এখানে বসে থাকো।”

[33] তিনি পিতর, যাকোব ও যোহনকে তাঁর সঙ্গে নিলেন এবং গভীর মর্মবেদনাগ্রস্ত ও উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়লেন।

[34] তিনি তাদের বললেন, “আমার প্রাণ মৃত্যুলগ্নের উদ্দেশে অত্যন্ত দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়েছে। তোমরা এখানেই থাকো ও আমার সঙ্গে জেগে থাকো।”

[35] আরও কিছু দূর এগিয়ে গিয়ে, তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রার্থনা করলেন, যেন সম্ভব হলে সেই লগ্ন তাঁর কাছ থেকে দূরীভূত হয়।

[36] তিনি বললেন, “আব্বা, পিতা, তোমার পক্ষে সবকিছুই করা সম্ভব। এই পানপাত্র আমার কাছ থেকে সরিয়ে নাও। তবুও আমার ইচ্ছা অনুযায়ী নয়, কিন্তু তোমারই ইচ্ছা অনুসারে হোক।”

[37] তারপর তিনি শিষ্যদের কাছে ফিরে এসে দেখলেন, তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছেন। তিনি পিতরকে বললেন, “শিমোন, তুমি কি ঘুমিয়ে পড়েছ?

[38] তোমরা জেগে থাকো ও প্রার্থনা করো, যেন প্রলোভনে না পড়ো। আত্মা ইচ্ছুক, কিন্তু শরীর দুর্বল।”

[39] আর একবার তিনি দূরে গিয়ে সেই একই প্রার্থনা করলেন।

[40] যখন তিনি ফিরে এলেন, তিনি আবার তাঁদের ঘুমাতে দেখলেন, কারণ তাঁদের চোখের পাতা ভারী হয়ে উঠেছিল। তাঁরা তাঁকে কী বলবেন, বুঝতে পারলেন না।

[41] তৃতীয়বার তিনি ফিরে এসে তাঁদের বললেন, “তোমরা কি এখনও ঘুমিয়ে আছো ও বিশ্রাম করছ? যথেষ্ট হয়েছে! সময় এসে গেছে। দেখো, মনুষ্যপুত্রকে পাপীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

[42] ওঠো! চলো আমরা যাই! আমার সঙ্গে যে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, সে এসে পড়েছে।”

[43] তিনি তখনও কথা বলছেন, সেই সময় বারোজনের অন্যতম যিহূদা এসে উপস্থিত হল। তাঁর সঙ্গে ছিল একদল সশস্ত্র লোক, তাদের হাতে ছিল তরোয়াল ও লাঠি। প্রধান যাজকেরা, শাস্ত্রবিদরা ও প্রাচীনেরা তাদের পাঠিয়েছিলেন।

[44] সেই বিশ্বাসঘাতক তাদের এক সংকেত দিয়েছিল, “আমি যাঁকে চুম্বন করব, তিনিই সেই ব্যক্তি। তোমরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে সতর্ক পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে।”

[45] সেই মুহূর্তে যিহূদা যীশুর কাছে গিয়ে বলল, “রব্বি!” আর তাঁকে চুম্বন করল।

[46] সেই লোকেরা যীশুকে ধরল ও তাঁকে গ্রেপ্তার করল।

[47] তখন যাঁরা কাছে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন তাঁর তরোয়াল নিষ্কোশিত করে মহাযাজকের দাসকে আঘাত করলেন ও তার একটি কান কেটে ফেললেন।

[48] যীশু বললেন, “আমি কি কোনও বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিচ্ছি যে, তোমরা তরোয়াল ও লাঠি নিয়ে আমাকে ধরতে এসেছ?

[49] প্রতিদিনই আমি তোমাদের সঙ্গে থেকে মন্দিরপ্রাঙ্গণে শিক্ষা দিয়েছি, তখন তো তোমরা আমাকে গ্রেপ্তার করোনি। কিন্তু শাস্ত্রবাণী অবশ্যই পূর্ণ হতে হবে।”

[50] তখন প্রত্যেকে তাঁকে ত্যাগ করে পালিয়ে গেলেন।

[51] আর একজন যুবক, কোনো কিছু না-পরে, কেবলমাত্র একটি মসিনার কাপড় গায়ে দিয়ে জড়িয়ে যীশুকে অনুসরণ করছিল।

[52] তারা তাকে ধরলে, সে তার পোশাক ফেলে নগ্ন অবস্থাতেই পালিয়ে গেল।

[53] তারা যীশুকে মহাযাজকের কাছে নিয়ে গেল। আর প্রধান যাজকেরা, প্রাচীনবর্গ ও শাস্ত্রবিদরা একসঙ্গে এসে উপস্থিত হলেন।

[54] পিতর দূর থেকে তাঁকে অনুসরণ করে মহাযাজকের প্রাঙ্গণ পর্যন্ত চলে গেলেন। সেখানে তিনি প্রহরীদের সঙ্গে বসে আগুন পোহাতে লাগলেন।

[55] প্রধান যাজকেরা ও মহাসভার সকলেই যীশুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ খুঁজছিলেন, কিন্তু তাঁরা সেরকম কিছুই পেলেন না।

[56] অনেকে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিল ঠিকই, কিন্তু তাদের সাক্ষ্যের মধ্যে মিল ছিল না।

[57] তখন কয়েকজন উঠে দাঁড়িয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এই মিথ্যা সাক্ষ্য দিল:

[58] “আমরা একে বলতে শুনেছি, ‘মানুষের তৈরি এই মন্দির আমি ধ্বংস করতে ও তিনদিনের মধ্যে আর একটি মন্দির নির্মাণ করতে পারি, যা মানুষের তৈরি নয়।’ ”

[59] তবুও, এই সাক্ষ্যের মধ্যেও কোনো মিল খুঁজে পাওয়া গেল না।

[60] তখন মহাযাজক তাদের সামনে উঠে দাঁড়ালেন ও যীশুকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি উত্তর দেবে না? তোমার বিরুদ্ধে এরা যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ এনেছে, সেগুলি কী?”

[61] যীশু নীরব রইলেন, কোনও উত্তর দিলেন না। মহাযাজক তাঁকে আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমিই কি সেই খ্রীষ্ট, যিনি পরমধন্য, তাঁর পুত্র?”

[62] যীশু বললেন, “আমিই তিনি। আর আপনারা মনুষ্যপুত্রকে সেই পরাক্রমী জনের ডানদিকে বসে থাকতে ও আকাশের মেঘসহ আসতে দেখবেন।”

[63] তখন মহাযাজক তাঁর পোশাক ছিঁড়ে ফেললেন। তিনি বললেন, “আমাদের আর সাক্ষ্য-প্রমাণের কী প্রয়োজন?

[64] আপনারা তো ঈশ্বরনিন্দা শুনলেন। আপনাদের অভিমত কী?” তাঁরা সবাই যীশুকে অপরাধী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার যোগ্য বলে রায় দিলেন।

[65] তখন কেউ কেউ তাঁর গায়ে থুতু দিল, তারা তাঁর চোখ বেঁধে তাঁকে ঘুসি মারল ও বলল, “ভবিষ্যদ্‌বাণী কর না!” আর প্রহরীরা তাঁকে নিয়ে গিয়ে প্রহার করতে লাগল।

[66] পিতর যখন নিচে প্রাঙ্গণে ছিলেন, মহাযাজকের একজন দাসী তাঁর কাছে এল।

[67] পিতরকে আগুন পোহাতে দেখে সে তাঁকে মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগল। সে বলল, “তুমিও ওই নাসরতীয় যীশুর সঙ্গে ছিলে।”

[68] কিন্তু তিনি সেই কথা অস্বীকার করলেন। তিনি বললেন, “তুমি কী বলছ, তা আমি জানি না, বুঝতেও পারছি না।” এরপর তিনি প্রবেশদ্বারের দিকে চলে গেলেন, আর তক্ষুনি মোরগ ডেকে উঠল।

[69] দাসীটি তাঁকে সেখানে দেখে তাঁর চারপাশের লোকদের আবার বলল, “এই লোকটিও ওদেরই একজন!”

[70] তিনি আবার তা অস্বীকার করলেন। এর কিছুক্ষণ পরে, যারা পিতরের কাছে দাঁড়িয়েছিল, তারা বলল, “তুমি নিশ্চয় ওদেরই একজন, কারণ তুমি একজন গালীলীয়।”

[71] তিনি নিজেকে অভিশাপ দিতে লাগলেন ও তাদের কাছে শপথ করে বললেন, “যাঁর সম্পর্কে আপনারা বলছেন, তাঁকে আমি চিনি না।”

[72] সঙ্গে সঙ্গে মোরগ দ্বিতীয়বার ডেকে উঠল। তখন যীশু পিতরকে যে কথা বলেছিলেন, তাঁর তা মনে পড়ল: “মোরগ দুবার ডাকার পূর্বে তুমি তিনবার আমাকে অস্বীকার করবে।” তখন তিনি অত্যন্ত কান্নায় ভেঙে পড়লেন।

মার্ক — Chapters