Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 6:03

[1] কয়েক দিন পরে যীশু যখন আবার কফরনাহূমে প্রবেশ করলেন, তখন সেখানকার লোকজনেরা জানতে পারল যে, তিনি বাড়িতে এসেছেন।

[2] ফলে সেই বাড়িতে অসংখ্য লোক জড়ো হল; এমনকি, দরজার বাইরেও তিল ধারণের স্থান রইল না।

[3] যীশু যখন তাদের কাছে ঈশ্বরের বাণী প্রচার করছেন, সেই সময় একদল লোক চারজন বাহকের সাহায্যে এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে যীশুর কাছে নিয়ে আসতে চাইছিল।

[4] কিন্তু ভিড়ের জন্য তারা কিছুতেই যীশুর কাছে পৌঁছাতে পারছিল না; ফলে, যীশুর ঠিক মাথার উপরের ছাদ খুলে তারা পক্ষাঘাতগ্রস্ত লোকটিকে তার হালকা বিছানাসমেত ঘরের মধ্যে নামিয়ে দিল।

[5] তাদের এই ধরনের বিশ্বাস দেখে যীশু পক্ষাঘাতগ্রস্ত লোকটিকে বললেন, “বৎস, তোমার সব পাপ ক্ষমা করা হল।”

[6] এদিকে সেখানে বসেছিলেন ইহুদি সমাজের কয়েকজন শাস্ত্রবিদ। তাঁরা মনে মনে ভাবলেন,

[7] “লোকটা এভাবে কেন কথা বলছে? এ তো ঈশ্বরনিন্দা! কেবলমাত্র ঈশ্বর ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করতে পারে?”

[8] তাঁদের মনের এই কথা যীশু তক্ষুনি তাঁর অন্তরে বুঝতে পেরে তাঁদের বললেন, “আপনারা এসব কথা ভাবছেন কেন?

[9] পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীকে কোন কথাটা বলা সহজ, ‘তোমার পাপ ক্ষমা করা হল’ বলা, না-কি ‘ওঠো, তোমার বিছানা তুলে নিয়ে ঘরে চলে যাও’ বলা?

[10] আপনাদের কিন্তু জানা দরকার যে, পৃথিবীতে পাপ ক্ষমা করার অধিকার মনুষ্যপুত্রের আছে।” এই বলে তিনি ওই পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে বললেন,

[11] “আমি তোমাকে বলছি, ওঠো, তোমার বিছানাপত্র গুটিয়ে নিয়ে বাড়ি চলে যাও।”

[12] লোকটি সঙ্গে সঙ্গে উঠে তার বিছানা গুটিয়ে নিয়ে সকলের চোখের সামনে দিয়ে ঘরের বাইরে হেঁটে চলে গেল। এই দৃশ্য দেখে সবাই বিস্ময়ে অভিভূত হল এবং তারা ঈশ্বরের প্রশংসা করে বলতে লাগল, “এরকম ঘটনা আমরা কখনও দেখিনি।”

[13] যীশু আবার গালীল হ্রদের তীরে চলে গেলেন। সেখানে অনেক লোক তাঁর কাছে এসে উপস্থিত হল এবং তিনি তাদের শিক্ষা দিতে লাগলেন।

[14] এরপর সেখান থেকে ফেরার পথে যীশু দেখলেন, আলফেয়ের পুত্র লেবি কর আদায়ের অস্থায়ী চালাঘরে বসে আছেন। যীশু তাঁকে বললেন, “আমার অনুসারী হও।” তখন লেবি উঠে পড়লেন ও তাঁকে অনুসরণ করতে লাগলেন।

[15] পরে যীশু যখন লেবির ঘরে নৈশ-আহারে বসেছিলেন, তখন বহু কর আদায়কারী ও সমাজের চোখে ঘৃণ্য ও পাপী মানুষেরাও তাঁর ও তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে বসে আহার করছিল। কারণ তাদের মধ্যে অনেকেই যীশুর অনুগামী ছিল।

[16] পাপী ও কর আদায়কারীদের সঙ্গে ওইভাবে পাশাপাশি বসে যীশুকে আহার করতে দেখে, কয়েকজন শাস্ত্রজ্ঞ ফরিশী যীশুর শিষ্যদের জিজ্ঞাসা করল, “এইসব ‘পাপী’ ও কর আদায়কারীদের সঙ্গে বসে যীশু কেন আহার করছেন?”

[17] একথা শুনে যীশু তাদের বললেন, “সুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসকের কোনো প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন অসুস্থ-পীড়িতদেরই। আমি ধার্মিকদের ডাকতে আসিনি, এসেছি পাপীদের আহ্বান করতে।”

[18] একদিন বাপ্তিষ্মদাতা যোহনের শিষ্যেরা ও ফরিশীরা উপবাস করছিল। তখন কয়েকজন ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করল, “যোহন আর ফরিশীদের শিষ্যেরা উপবাস করে, কিন্তু আপনার শিষ্যেরা করে না, এ কেমন কথা?”

[19] যীশু উত্তর দিলেন, “বর যতক্ষণ তার বন্ধুদের সঙ্গে থাকে ততক্ষণ তারা উপবাস করতে পারে না।

[20] কিন্তু এমন একটি সময় আসবে, যেদিন বরকে তাদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেদিনই তারা উপবাস করবে।

[21] “পুরোনো পোশাকে কেউ নতুন কাপড়ের তালি লাগায় না। তা করলে নতুন কাপড়ের টুকরোটি পুরোনো পোশাক থেকে ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে; ফলে পোশাকটির অবস্থা হয়ে উঠবে আরও শোচনীয়।

[22] তেমনই পুরোনো চামড়ার সুরাধারে কেউ নতুন সুরা রাখে না। তা করলে সুরাধারের চামড়া ফেটে যাবে। তাতে সুরা এবং সুরাধার দুটিই নষ্ট হবে—তাই নতুন সুরা নতুন সুরাধারেই রাখতে হবে।”

[23] এক বিশ্রামবারে যীশু শস্যক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর শিষ্যেরা শস্যের শিষ ছিঁড়তে লাগলেন।

[24] তা দেখে ফরিশীরা যীশুকে বললেন, “আচ্ছা, বিশ্রামবারে এরকম করা বিধান-বিরুদ্ধ কাজ। আপনার শিষ্যেরা তা করছে কেন?”

[25] তিনি উত্তর দিলেন, “দাউদ ও তাঁর সঙ্গীরা ক্ষুধার্ত হয়ে খাদ্যের প্রয়োজনে কী করেছিলেন, তা কি আপনারা কখনও পাঠ করেননি?

[26] মহাযাজক অবিয়াথরের সময়ে তিনি ঈশ্বরের গৃহে প্রবেশ করেছিলেন এবং যে পবিত্র রুটি আহার করা একমাত্র যাজকদেরই ন্যায়সঙ্গত অধিকার ছিল, তা তিনি নিজে আহার করেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গীদেরও দিয়েছিলেন।”

[27] তারপর তিনি তাদের বললেন, “বিশ্রামবার সৃষ্ট হয়েছে মানুষের জন্য, মানুষ বিশ্রামবারের জন্য সৃষ্ট হয়নি।

[28] অতএব, মনুষ্যপুত্র বিশ্রামবারেরও প্রভু।”

মার্ক — Chapters