[1] তিনি যখন মন্দির ছেড়ে যাচ্ছেন, তাঁর শিষ্যদের মধ্যে একজন তাঁকে বললেন, “গুরুমহাশয়, দেখুন! পাথরগুলি কেমন বিশাল! কেমন অপরূপ সব ভবন!”
[2] উত্তরে যীশু বললেন, “তোমরা কি বিশাল এসব ভবন দেখছ? এদের একটি পাথরও অন্যটির উপরে থাকবে না, সব কয় টিকেই ভূমিসাৎ করা হবে।”
[3] মন্দিরের বিপরীত দিকে যীশু যখন জলপাই পর্বতে বসেছিলেন, পিতর, যাকোব, যোহন ও আন্দ্রিয় তাঁকে একান্তে জিজ্ঞাসা করলেন,
[4] “কখন এই সমস্ত ঘটনা ঘটবে, আমাদের বলুন। আর এগুলি পূর্ণ হওয়ার চিহ্নই বা কী হবে?”
[5] যীশু তাঁদের বললেন, “সতর্ক থেকো, কেউ যেন তোমাদের সঙ্গে প্রতারণা না করে।
[6] অনেকে আমার নাম নিয়ে আসবে, দাবি করবে, ‘আমিই তিনি,’ আর এভাবে অনেক মানুষকে প্রতারিত করবে।
[7] তোমরা যখন যুদ্ধের কথা ও যুদ্ধের জনরব শুনবে, তখন আতঙ্কগ্রস্ত হোয়ো না। এধরনের ঘটনা অবশ্যই ঘটবে, কিন্তু কালের অন্তিম-লগ্ন তখনও উপস্থিত হবে না।
[8] জাতির বিপক্ষে জাতি ও রাষ্ট্রের বিপক্ষে রাষ্ট্র উঠবে। বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প হবে ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। এগুলি প্রসব যন্ত্রণার সূচনা মাত্র।
[9] “তোমরা অবশ্যই নিজেদের সম্পর্কে সতর্ক থাকবে। তোমাদেরকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হবে ও সমাজভবনগুলিতে কশাঘাত করা হবে। আমার কারণে তোমাদের বিভিন্ন প্রদেশপাল ও রাজাদের কাছে দাঁড়াতে হবে, তাঁদের কাছে তোমরা আমার সাক্ষীস্বরূপ হবে।
[10] আর প্রথমে সমস্ত জাতির কাছে সুসমাচার প্রচারিত হবে।
[11] যখনই তোমাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের জন্য নিয়ে আসা হবে, কী বলবে, তা নিয়ে আগে থেকেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হোয়ো না। সেই সময়ে তোমাদের যা দেওয়া হবে, কেবলমাত্র তাই বোলো, কারণ তোমরা যে কথা বলবে, এমন নয়, কিন্তু পবিত্র আত্মাই বলবেন।
[12] “ভাই ভাইয়ের সঙ্গে, পিতা সন্তানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে মৃত্যুতে সমর্পণ করবে। ছেলেমেয়েরা নিজেদের পিতামাতার বিরুদ্ধাচারী হয়ে তাদের মৃত্যু ঘটাবে।
[13] আমার কারণে মানুষেরা তোমাদের ঘৃণা করবে, কিন্তু যে কেউ শেষ পর্যন্ত স্থির থাকবে, সেই পরিত্রাণ লাভ করবে।
[14] “যখন তোমরা দেখবে, ‘ধ্বংসের কারণস্বরূপ সেই ঘৃণ্য বস্তু’ যেখানে দাঁড়াবার অধিকার নেই, সেখানে দাঁড়িয়ে আছে পাঠক এর অর্থ বুঝে নিন, তখন যারা যিহূদিয়ায় থাকে, তারা পার্বত্য অঞ্চলে পলায়ন করুক।
[15] তখন ছাদের উপরে যে থাকবে, সে যেন কোনো জিনিস নেওয়ার জন্য নিচে নেমে না আসে, বা ঘরে প্রবেশ না করে।
[16] মাঠে যারা থাকবে, তাদের কেউ যেন জামাকাপড় নেওয়ার জন্য ঘরে ফিরে না যায়।
[17] সেই সমস্ত দিনে সন্তান-সম্ভবা নারী ও স্তন্যদাত্রী মায়েদের অবস্থা কতই না ভয়ংকর হবে!
[18] প্রার্থনা কোরো, যেন এই ঘটনা শীতকালে না ঘটে।
[19] কারণ সেইসব দিনের দুঃসহ যন্ত্রণার কোনও তুলনা হবে না, ঈশ্বরের জগৎ সৃষ্টির সময় থেকে সেরকম কখনও হয়নি, বা আর কখনও হবেও না।
[20] “সেই দিনগুলির সংখ্যা প্রভু কমিয়ে না দিলে, কোনো মানুষই রক্ষা পেত না। কিন্তু যাদের তিনি নির্বাচন করেছেন, সেই মনোনীতদের জন্য তিনি সেইসব দিনের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন।
[21] সেই সময় কেউ যদি তোমাদের বলে, ‘দেখো, খ্রীষ্ট এখানে,’ বা ‘দেখো, তিনি ওখানে,’ সেকথা তোমরা বিশ্বাস কোরো না।
[22] কারণ অনেক ভণ্ড খ্রীষ্টের ও ভণ্ড ভাববাদীদের আবির্ভাব হবে; তারা বিভিন্ন চিহ্ন ও অলৌকিক সব কর্ম করবে, যেন সম্ভব হলে মনোনীতদেরও প্রতারিত করতে পারে।
[23] তাই, সতর্ক থেকো, সময়ের পূর্বেই আমি তোমাদের সবকিছু জানালাম।
[24] “কিন্তু সেই সমস্ত দিনে, সেই বিপর্যয়ের শেষে, “ ‘সূর্য অন্ধকার হয়ে যাবে, চন্দ্র তার আলো দেবে না;
[25] আকাশ থেকে নক্ষত্রদের পতন হবে, আর জ্যোতিষ্কমণ্ডলী প্রকম্পিত হবে।’
[26] “সেই সময় লোকেরা মনুষ্যপুত্রকে মহাপরাক্রমে ও মহিমায় মেঘযোগে আসতে দেখবে।
[27] তিনি তাঁর দূতদের প্রেরণ করে পৃথিবীর প্রান্তসীমাগুলি থেকে আকাশের সব প্রান্তসীমা পর্যন্ত চতুর্দিক থেকে তাঁর মনোনীতদের সংগ্রহ করবেন।
[28] “এখন ডুমুর গাছ থেকে এই শিক্ষাগ্রহণ করো। এর শাখা কোমল হয়ে যখন কচি পাতা বের হয়ে আসে, তোমরা জানতে পারো যে, গ্রীষ্মকাল সন্নিকট।
[29] সেভাবে, তোমরা যখন এ সমস্ত ঘটতে দেখবে, তখন জেনো, সেই কাল আগত, এমনকি, দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত।
[30] আমি তোমাদের সত্যি বলছি, এই সমস্ত না-ঘটলে এই প্রজন্মের লোকদের অবলুপ্তি হবে না।
[31] আকাশ ও পৃথিবী লুপ্ত হবে, কিন্তু আমার বাক্যের কখনই লুপ্ত হবে না।
[32] “সেদিন বা ক্ষণের কথা কেউ জানে না, স্বর্গদূতেরা জানেন না, পুত্রও জানেন না, কেবলমাত্র পিতা জানেন।
[33] সতর্ক হও! তোমরা সজাগ থেকো! কারণ তোমরা জানো না সেই সময় কখন আসবে।
[34] এ যেন কোনো ব্যক্তি বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছেন; তিনি তাঁর গৃহ ত্যাগ করে তাঁর দাসদের উপরে দায়িত্ব দিলেন। তিনি প্রত্যেককে তাঁর নির্দিষ্ট কাজ দিলেন এবং দ্বাররক্ষীকে সতর্ক পাহারা দিতে বললেন।
[35] “সেই কারণে, সজাগ থেকো, কারণ তোমরা জানো না, গৃহকর্তা কখন ফিরে আসবেন, সন্ধ্যায়, না মধ্যরাত্রে, কি মোরগ ডাকার সময়, না-কি সকালবেলায়।
[36] তিনি যদি হঠাৎ এসে উপস্থিত হন, তোমাদের নিদ্রিত অবস্থায় যেন দেখতে না পান।
[37] আমি তোমাদের যা কিছু বলি, তা সবাইকেই বলি, ‘তোমরা সজাগ থেকো।’ ”