[1] জেরুশালেম থেকে ফরিশীরা ও কয়েকজন শাস্ত্রবিদ এসে যীশুর চারপাশে জড়ো হলেন।
[2] তাঁরা দেখলেন, তাঁর কয়েকজন শিষ্য অশুচি হাতে, অর্থাৎ হাত না ধুয়ে আহার গ্রহণ করছে।
[3] (ফরিশীরা ও সমগ্র ইহুদি-সমাজ প্রাচীনদের নিয়ম অনুসারে সংস্কারগতভাবে হাত না ধুয়ে আহার গ্রহণ করে না।
[4] হাটবাজার থেকে ফিরে এসে তারা স্নান না করে খাবার খেত না। আরও বহু প্রথা তারা পালন করে, যেমন ঘটি, কলশি ও বিভিন্ন পাত্র পরিষ্কার করা)
[5] সেই কারণে ফরিশীরা ও শাস্ত্রবিদরা যীশুকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার শিষ্যেরা প্রাচীনদের প্রথা অনুসরণ না করে অশুচি হাতেই আহার করছে কেন?”
[6] তিনি উত্তর দিলেন, “আপনাদের মতো ভণ্ডদের উদ্দেশে ভাববাদী যিশাইয় যথার্থই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। যেমন শাস্ত্রে লিখিত আছে: “ ‘এই লোকেরা তাদের ওষ্ঠাধরে আমার সম্মান করে, কিন্তু তাদের হৃদয় আমার থেকে বহুদূরে আছে।
[7] তারা বৃথাই আমার উপাসনা করে, তাদের শিক্ষামালা বিভিন্ন মানুষের শেখানো নিয়ম-বিধি মাত্র।’
[8] আপনারা ঈশ্বরের আদেশ উপেক্ষা করে মানুষদের প্রথা আঁকড়ে আছেন।”
[9] তিনি তাঁদের আরও বললেন, “ঈশ্বরের আদেশগুলি এক পাশে সরিয়ে রেখে যেন আপনাদের নিজস্ব প্রথাগুলি পালন করতে হয়, তার জন্য আপনাদের এক সুন্দর উপায় আছে।
[10] মোশি বলেছেন, ‘তোমার পিতা ও তোমার মাতাকে সম্মান কোরো,’ এবং ‘কেউ যদি তার পিতাকে বা মাতাকে অভিশাপ দেয়, তার প্রাণদণ্ড অবশ্যই হবে।’
[11] কিন্তু আপনারা বলেন, কেউ যদি তার পিতাকে বা মাতাকে বলে, ‘আমার কাছ থেকে যে সাহায্য তোমরা পেতে পারতে, তা কর্বান,’ (অর্থাৎ ঈশ্বরকে দত্ত হয়েছে)
[12] তাহলে তাকে তার পিতার বা মাতার জন্য আপনারা আর কিছুই করতে দেন না।
[13] এইভাবে প্রথা অনুসরণ করতে গিয়ে আপনারা ঈশ্বরের বাক্য নিষ্ফল করছেন। এই ধরনের আরও অনেক কাজ আপনারা করে থাকেন।”
[14] যীশু আবার সব লোককে তাঁর কাছে ডেকে বললেন, “তোমরা সকলে শোনো আর একথা বুঝে নাও,
[15] বাইরে থেকে কোনো জিনিস মানুষের ভেতরে প্রবেশ করে তাকে অশুচি করতে পারে না।
[16] বরং মানুষের ভেতর থেকে যা বের হয়ে আসে, তাই তাকে অশুচি করে। যদি কারোর শোনার কান থাকে, তবে সে শুনুক।”
[17] লোকদের ছেড়ে দিয়ে যীশু এসে গৃহে প্রবেশ করলে তাঁর শিষ্যেরা তাঁকে এই রূপকটি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন।
[18] তিনি প্রশ্ন করলেন, “তোমরা কি এতই অবোধ? তোমরা কি বোঝো না যে, বাইরে থেকে যা মানুষের ভেতরে প্রবেশ করে, তা তাকে অশুচি করতে পারে না?
[19] কারণ তা তার অন্তরে প্রবেশ করে না, কিন্তু পাকস্থলীতে প্রবেশ করে, তারপর তার শরীর থেকে বের হয়ে যায়।” (একথা বলে যীশু সব খাদ্যদ্রব্যকেই শুচিশুদ্ধ বললেন)
[20] তিনি আরও বললেন, “মানুষের ভেতর থেকে যা বের হয়ে আসে, তাই তাকে অশুচি করে।
[21] কারণ ভেতর থেকে, সব মানুষের হৃদয় থেকে নির্গত হয় কুচিন্তা, বিবাহ-বহির্ভূত যৌনাচার, চুরি, নরহত্যা, ব্যভিচার,
[22] লোভ-লালসা, অপরের অনিষ্ট কামনা, প্রতারণা, অশ্লীলতা, ঈর্ষা, কুত্সা-রটনা, ঔদ্ধত্য ও কাণ্ডজ্ঞানহীনতা।
[23] এই সমস্ত মন্দতা ভেতর থেকে আসে ও কোনো মানুষকে অশুচি করে।”
[24] যীশু সেই অঞ্চল ত্যাগ করে টায়ার ও সীদোনের কাছাকাছি স্থানে গেলেন। তিনি একটি গৃহে প্রবেশ করলেন, কিন্তু চাইলেন, কেউ যেন সেকথা জানতে না পারে। তবুও তিনি তাঁর উপস্থিতি গোপন রাখতে পারলেন না।
[25] প্রকৃতপক্ষে একজন নারী, যেই তাঁর কথা শুনতে পেল, এসে তাঁর চরণে লুটিয়ে পড়ল। তার ছোট কন্যাটি অশুচি-আত্মাগ্রস্ত হয়েছিল।
[26] নারীটি ছিল গ্রিক, তার জন্ম সাইরো-ফিনিশিয়ায়। সে তার কন্যার ভেতর থেকে ভূত বের করার জন্য যীশুর কাছে মিনতি করল।
[27] তিনি তাকে বললেন, “প্রথমে সন্তানেরা পরিতৃপ্ত হোক, কারণ সন্তানের খাদ্য নিয়ে কুকুরদের কাছে ফেলে দেওয়া ঠিক নয়।”
[28] সে উত্তর দিল, “হ্যাঁ প্রভু, কিন্তু কুকুরেরাও তো টেবিলের নিচে থেকে ছেলেমেয়েদের রুটির টুকরো খেতে পায়!”
[29] তখন তিনি তাকে বললেন, “এধরনের উত্তর দিয়েছ বলে, তুমি চলে যাও, ভূত তোমার কন্যাকে ছেড়ে চলে গেছে।”
[30] সে বাড়ি গিয়ে দেখল, তার কন্যা বিছানায় শুয়ে আছে ও সেই ভূত চলে গেছে।
[31] এরপর যীশু টায়ারের সন্নিহিত সেই অঞ্চল ত্যাগ করে সীদোনের মধ্য দিয়ে গালীল হ্রদের কাছে গেলেন। যাওয়ার সময় তিনি ডেকাপলি হয়েই গেলেন।
[32] সেখানে কয়েকজন লোক এক বধিরকে তাঁর কাছে নিয়ে এল। সে ভাল করে কথা বলতে পারত না। তারা তার উপর হাত রেখে প্রার্থনা করার জন্য যীশুকে মিনতি করল।
[33] তখন তিনি সকলের মধ্য থেকে লোকটিকে এক পাশে নিয়ে গেলেন। তিনি তার দুই কানে আঙুল রাখলেন, থুতু ফেললেন ও তার জিভ স্পর্শ করলেন।
[34] আর তিনি স্বর্গের দিকে ঊর্ধ্বদৃষ্টি করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “ইপফাথা!” (যার অর্থ, “খুলে যাক”)
[35] এতে সেই লোকটির দুই কান খুলে গেল, তার জিভ বন্ধনমুক্ত হল এবং সে স্পষ্টভাবে কথা বলতে লাগল।
[36] যীশু তাদের আদেশ দিলেন, সেকথা কাউকে না বলার জন্য। কিন্তু তিনি যতই নিষেধ করলেন, তারা ততই সেকথা প্রচার করতে লাগল।
[37] লোকে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে বলতে লাগল, “তিনি সবকিছুই সুন্দররূপে সম্পন্ন করেছেন, এমনকি, বধিরকে শোনার শক্তি ও মূককে কথা বলার শক্তি দান করেছেন।”