[1] তাঁরা হ্রদটি আড়াআড়ি পার হয়ে গেরাসেনী অঞ্চলে পৌঁছালেন।
[2] যীশু নৌকা থেকে নেমে এলে এক মন্দ-আত্মাগ্রস্ত মানুষ কবরস্থান থেকে বের হয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এল।
[3] এই মানুষটি কবরস্থানে বাস করত। কেউ তাকে আর বেঁধে রাখতে পারত না, এমনকি, শিকল দিয়েও নয়।
[4] কারণ তার হাত পা প্রায়ই শিকল দিয়ে বাঁধা হত, কিন্তু সে ওই শিকল ছিঁড়ে ফেলত এবং পায়ের লোহার বেড়িও ভেঙে ফেলত। তাকে বশ করার মতো শক্তি কারও ছিল না।
[5] সে দিন-রাত কবরস্থানে ও পাহাড়ে পাহাড়ে চিৎকার করে বেড়াত এবং পাথর দিয়ে নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করত।
[6] সে দূর থেকে যীশুকে দেখতে পেয়ে দৌড়ে এসে তাঁর সামনে নতজানু হল।
[7] সে উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলে উঠল, “পরাৎপর ঈশ্বরের পুত্র যীশু, আমাকে নিয়ে আপনি কী করতে চান? ঈশ্বরের কাছে শপথ করুন যে, আপনি আমাকে যন্ত্রণা দেবেন না।”
[8] কারণ যীশু তাকে বলেছিলেন, “ওহে মন্দ-আত্মা, এই মানুষটির ভেতর থেকে বেরিয়ে এসো!”
[9] তারপর যীশু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার নাম কী?” সে উত্তর দিল, “আমার নাম বাহিনী, কারণ আমাদের সংখ্যা অনেক।”
[10] আর সে বারবার যীশুর কাছে অনুনয়-বিনয় করতে লাগল, যেন সেই এলাকা থেকে তিনি তাদের বিতাড়িত না করেন।
[11] অদূরে পাহাড়ের ঢালে বিশাল একপাল শূকর চরে বেড়াচ্ছিল।
[12] ওই ভূতেরা যীশুর কাছে মিনতি করতে লাগল, “আমাদের ওই শূকরদের মধ্যে পাঠিয়ে দিন; ওদের ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি আমাদের দিন।”
[13] তিনি তাদের যাওয়ার অনুমতি দিলেন। তখন মন্দ-আত্মারা বের হয়ে সেই শূকরদের মধ্যে প্রবেশ করল। পালে প্রায় দুই হাজার শূকর ছিল। সেগুলি হ্রদের ঢালু পাড় বেয়ে ছুটে গেল এবং হ্রদে ডুবে মরল।
[14] যারা ওই শূকরদের চরাচ্ছিল, তারা দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে নগরে ও গ্রামে-গঞ্জে এই বিষয়ের সংবাদ দিল। আর কী ঘটেছে, তা দেখার জন্য লোকেরা বেরিয়ে এল।
[15] তারা যীশুর কাছে এসে দেখল, যে মানুষটির উপরে ভূত বাহিনী ভর করেছিল, সে পোশাক পরে সুবোধ হয়ে সেখানে বসে আছে। তারা সবাই ভয় পেয়ে গেল।
[16] প্রত্যক্ষদর্শীরা সেই ভূতগ্রস্ত মানুষটির ও সেই শূকরপালের পরিণতিরও কথা লোকদের বলে শোনালো।
[17] তখন সেই লোকেরা তাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য যীশুকে মিনতি করল।
[18] যীশু নৌকায় উঠতে যাচ্ছিলেন, এমন সময় সেই মানুষটি, যে ভূতগ্রস্ত হয়েছিল, তাঁর সঙ্গে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করল।
[19] যীশু তাকে সেই অনুমতি দিলেন না, কিন্তু বললেন, “তুমি গৃহে তোমার পরিবারের কাছে যাও ও তাদের বলো, প্রভু তোমার জন্য কত কিছু করেছেন এবং কেমন করে তিনি তোমার প্রতি দয়া প্রদর্শন করেছেন।”
[20] তখন সে চলে গেল এবং যীশু তার জন্য যা করেছেন, সেকথা ডেকাপলিতে প্রচার করতে লাগল। আর সব মানুষই এতে চমৎকৃত হল।
[21] যীশু যখন আবার নৌকায় উঠে আড়াআড়ি হ্রদের অপর পারে গেলেন, হ্রদের তীরে তখন তাঁর চারপাশে অনেক লোকের সমাবেশ হল।
[22] সেই সময় যায়ীর নামে সমাজঘরের একজন অধ্যক্ষ সেখানে এলেন। যীশুকে দেখে তিনি তাঁর চরণে পতিত হলেন।
[23] তিনি আকুলভাবে তাঁর কাছে অনুনয় করলেন, “আমার ছোট মেয়েটি মরণাপন্ন। আপনি দয়া করে আসুন ও তার উপরে হাত রাখুন, যেন সে আরোগ্য লাভ করে বাঁচতে পারে।”
[24] তাই যীশু তাঁর সঙ্গে চললেন। অনেক লোক তাঁকে অনুসরণ করছিল ও তারা চারপাশ থেকে তাঁর উপরে চেপে পড়তে লাগল।
[25] সেখানে এক নারী ছিল, বারো বছর যাবৎ তার রক্তস্রাবের ব্যাধি ছিল।
[26] বহু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেকে সে অনেক কষ্টভোগ করেছিল। সে তার সর্বস্ব ব্যয় করেছিল, কিন্তু আরও ভালো হওয়ার পরিবর্তে তার অবস্থা ক্রমেই নিকৃষ্টতর হচ্ছিল।
[27] যীশুর কথা শুনে ভিড়ের মধ্যে সে পেছনদিকে এল এবং তাঁর পোশাক স্পর্শ করল।
[28] কারণ সে ভেবেছিল, “আমি যদি কেবলমাত্র তাঁর পোশাকটি স্পর্শ করতে পারি, তাহলেই আমি সুস্থ হয়ে যাব।”
[29] তক্ষুনি তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে গেল এবং সে শরীরে অনুভব করল যে, সে তার কষ্ট থেকে মুক্তি পেয়েছে।
[30] সেই মুহূর্তে যীশু উপলব্ধি করলেন যে, তাঁর মধ্য থেকে শক্তি নির্গত হয়েছে। তিনি পিছনে লোকদের দিকে ঘুরে বললেন, “কে আমার পোশাক স্পর্শ করেছে?”
[31] তাঁর শিষ্যেরা উত্তর দিলেন, “আপনি দেখতে পাচ্ছেন, লোকেরা আপনার উপর চাপাচাপি করে পড়ছে, তবুও আপনি জিজ্ঞাসা করছেন, ‘কে আমাকে স্পর্শ করল’?”
[32] কিন্তু যীশু চারদিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলেন, কে এই কাজ করেছে।
[33] তখন সেই নারী, তার প্রতি কী ঘটেছে জেনে, যীশুর কাছে এসে তাঁর চরণে পতিত হল। সে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সমস্ত সত্য তাঁকে জানাল।
[34] তিনি তাকে বললেন, “কন্যা, তোমার বিশ্বাসই তোমাকে সুস্থ করেছে। তুমি শান্তিতে চলে যাও ও তোমার কষ্ট থেকে মুক্ত থাকো।”
[35] যীশু তখনও কথা বলছেন, এমন সময় সেই সমাজঘরের অধ্যক্ষ যায়ীরের বাড়ি থেকে কয়েকজন লোক এল। তারা বলল, “আপনার কন্যার মৃত্যু হয়েছে। আর কেন গুরুমহাশয় কে বিব্রত করবেন?”
[36] তাদের কথা অগ্রাহ্য করে যীশু সেই অধ্যক্ষকে বললেন, “ভয় পাবেন না, শুধু বিশ্বাস করুন।”
[37] তিনি পিতর, যাকোব ও যাকোবের ভাই যোহন, এই তিনজন ছাড়া আর কাউকে তাঁর সঙ্গে যেতে দিলেন না।
[38] তাঁরা সেই অধ্যক্ষের গৃহে এলে যীশু দেখলেন, সেখানে প্রচণ্ড হৈ হট্টগোল হচ্ছে, লোকেরা কাঁদছে ও তারস্বরে বিলাপ করছে।
[39] তিনি ভিতরে প্রবেশ করে তাদের বললেন, “তোমরা এত হৈ হট্টগোল ও বিলাপ করছ কেন? বালিকাটি মরেনি, ও ঘুমিয়ে আছে।”
[40] তারা কিন্তু তাঁকে উপহাস করল। তাদের সবাইকে বের করে দিয়ে তিনি বালিকাটির পিতামাতা ও তাঁর সঙ্গী শিষ্যদের সঙ্গে নিয়ে মেয়েটি ভিতরে যেখানে ছিল, সেখানে গেলেন।
[41] তিনি তার হাত ধরে তাকে বললেন, “টালিথা কওম্!” (এর অর্থ, “খুকুমণি, আমি তোমাকে বলছি, ওঠো”)
[42] সঙ্গে সঙ্গে খুকুমণি উঠে দাঁড়াল ও চারদিকে ঘুরে বেড়াতে লাগল। (তার বয়স ছিল বারো বছর) এতে তারা সম্পূর্ণরূপে বিস্ময়-বিহ্বল হয়ে পড়ল।
[43] তিনি তাদের দৃঢ় আদেশ দিলেন, কেউ যেন এ বিষয়ে জানতে না পারে। তারপর তিনি বালিকাটিকে কিছু খাবার খেতে দিতে বললেন।