Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 9:34

[1] যীশু এরপর সেই স্থান ত্যাগ করে যিহূদিয়া অঞ্চলে ও জর্ডন নদীর অপর পারে গেলেন। আবার তাঁর কাছে লোকেরা ভিড় করতে লাগল, আর তিনি তাঁর রীতি অনুযায়ী তাদের শিক্ষা দিলেন।

[2] কয়েকজন ফরিশী এসে তাঁকে পরীক্ষা করার উদ্দেশে প্রশ্ন করল, “কোনো পুরুষের পক্ষে তার স্ত্রী পরিত্যাগ করা কি ন্যায়সঙ্গত?”

[3] তিনি উত্তর দিলেন, “মোশি আপনাদের কি আদেশ দিয়েছেন?”

[4] তারা বলল, “মোশি পুরুষকে একটি ত্যাগপত্র লিখে দিয়ে তার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করার অনুমতি দিয়েছেন।”

[5] যীশু উত্তর দিলেন, “আপনাদের হৃদয় কঠোর বলেই মোশি এই বিধানের কথা লিখে গিয়েছেন।

[6] কিন্তু সৃষ্টির সূচনায় ঈশ্বর তাদের পুরুষ ও নারীরূপেই রচনা করেছিলেন।

[7] আর এই কারণে পুরুষ তার পিতা ও মাতাকে ছেড়ে দিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে সংযুক্ত হবে।

[8] তারা দুজনে মিলে হবে একাঙ্গ। তারা তখন আর দুজন নয়, কিন্তু এক।

[9] অতএব, ঈশ্বর যা সংযুক্ত করেছেন, মানুষ তা বিচ্ছিন্ন না করুক।”

[10] তাঁরা আবার গৃহমধ্যে প্রবেশ করলে তাঁর শিষ্যেরা যীশুকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।

[11] তিনি উত্তর দিলেন, “যে তার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে অন্য নারীকে বিবাহ করে, সে তার বিরুদ্ধে ব্যভিচার করে।

[12] আর নারী যদি তার স্বামীকে পরিত্যাগ করে অন্য পুরুষকে বিবাহ করে, সে-ও ব্যভিচার করে।”

[13] লোকেরা ছোট শিশুদের যীশুর কাছে নিয়ে আসছিল, যেন তিনি তাদের স্পর্শ করেন। কিন্তু শিষ্যেরা তাদের ধমক দিলেন।

[14] যীশু তা দেখে রুষ্ট হলেন। তিনি তাঁদের বললেন, “ছোট শিশুদের আমার কাছে আসতে দাও, ওদের বাধা দিয়ো না। কারণ ঈশ্বরের রাজ্য এদের মতো মানুষদেরই।

[15] আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, ছোট শিশুর মতো যে ঈশ্বরের রাজ্যকে গ্রহণ করতে পারে না, সে কখনও তাতে প্রবেশ করতে পারবে না।”

[16] পরে তিনি সেই শিশুদের তাঁর কোলে নিয়ে তাদের উপরে হাত রাখলেন ও তাদের আশীর্বাদ করলেন।

[17] যীশু তাঁর পথ চলা শুরু করলে, একজন যুবক দৌড়ে তাঁর কাছে এল। সে তাঁর সামনে নতজানু হয়ে জিজ্ঞাসা করল, “সৎ গুরু, অনন্ত জীবনের অধিকারী হওয়ার জন্য আমাকে কী করতে হবে?”

[18] যীশু উত্তর দিলেন, “তুমি আমাকে সৎ বলছ কেন? একমাত্র ঈশ্বর ছাড়া আর কেউ সৎ নয়।

[19] তুমি তো আজ্ঞাগুলি জানো, ‘নরহত্যা কোরো না, ব্যভিচার কোরো না, চুরি কোরো না, মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ো না, প্রতারণা কোরো না, তোমার পিতামাতাকে সম্মান কোরো।’ ”

[20] সে ঘোষণা করল, “গুরুমহাশয়, এসবই আমি বাল্যকাল থেকে পালন করে আসছি।”

[21] যীশু তার দিকে তাকিয়ে তাকে ভালোবাসলেন। তিনি বললেন, “একটি বিষয়ে তোমার ঘাটতি আছে। তুমি যাও, গিয়ে তোমার যা কিছু আছে, সর্বস্ব বিক্রি করে দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দাও, তাহলে তুমি স্বর্গে ধনসম্পত্তি লাভ করবে। তারপর এসে আমাকে অনুসরণ করো।”

[22] এতে সেই লোকটির মুখ ম্লান হয়ে গেল। সে দুঃখিত মনে চলে গেল, কারণ তার বিপুল ধনসম্পত্তি ছিল।

[23] যীশু চারদিকে তাকিয়ে তাঁর শিষ্যদের বললেন, “ধনী মানুষের পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করা কত কঠিন!”

[24] শিষ্যেরা তাঁর কথা শুনে বিস্মিত হলেন। কিন্তু যীশু আবার বললেন, “বৎসেরা, যারা ধনসম্পদে নির্ভর করে, তাদের পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করা কেমন কঠিন?

[25] ধনী মানুষের পক্ষে ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করার চেয়ে বরং সুচের ছিদ্রপথে উটের পার হওয়া সহজ।”

[26] শিষ্যেরা তখন আরও বেশি বিস্মিত হয়ে পরস্পরকে বললেন, “তাহলে কার পরিত্রাণ হতে পারে?”

[27] যীশু তাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “মানুষের পক্ষে এ অসম্ভব, কিন্তু ঈশ্বরের কাছে নয়। ঈশ্বরের পক্ষে সবকিছুই সম্ভব।”

[28] পিতর তাঁকে বললেন, “আপনার অনুগামী হওয়ার জন্য আমরা সর্বস্ব ত্যাগ করেছি।”

[29] যীশু উত্তর দিলেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এমন কেউ নেই, যে আমার ও সুসমাচারের জন্য নিজের বাড়িঘর, ভাইবোন, মা-বাবা, সন্তানসন্ততি, কি জমিজায়গা ত্যাগ করেছে, অথচ বর্তমান কালে তার শতগুণ ফিরে পাবে না।

[30] সে ইহজীবনেই বাড়ি-ঘর, ভাইবোন, মা-বাবা, সন্তানসন্ততি ও জমিজায়গা লাভ করবে ও সেই সঙ্গে নির্যাতন ভোগ করবে। কিন্তু ভাবীকালে অনন্ত জীবন লাভ করবে।

[31] কিন্তু অনেকেই, যারা প্রথমে আছে, তারা শেষে থাকবে, আর যারা পেছনে আছে, তারা প্রথমে থাকবে।”

[32] তাঁরা জেরুশালেমের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। যীশু ছিলেন সবার সামনে। শিষ্যেরা এতে বিস্মিত হলেন ও যাঁরা অনুসরণ করছিলেন, তাঁরা ভয় পেলেন। তিনি আবার সেই বারোজনকে এক পাশে ডেকে নিয়ে, তাঁর প্রতি কী ঘটতে চলেছে তা বললেন।

[33] তিনি বললেন, “আমরা জেরুশালেম পর্যন্ত যাচ্ছি। আর মনুষ্যপুত্রকে প্রধান যাজকদের ও শাস্ত্রবিদদের হাতে সমর্পণ করা হবে। তারা তাঁর মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে অইহুদিদের হাতে তুলে দেবে।

[34] তারা তাঁকে বিদ্রুপ করবে, তাঁর গায়ে থুতু দেবে, কশাঘাত করবে ও তাঁকে হত্যা করবে। তিনদিন পরে, তিনি আবার মৃত্যু থেকে উত্থিত হবেন।”

[35] তারপর, সিবদিয়ের পুত্র যাকোব ও যোহন তাঁর কাছে এলেন। তাঁরা বললেন, “গুরুমহাশয়, আমরা যা চাই, আপনি আমাদের জন্য তা করুন।”

[36] তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কি চাও? আমি তোমাদের জন্য কী করব?”

[37] তাঁরা উত্তর দিলেন, “আপনি মহিমা লাভ করলে আমাদের একজনকে আপনার ডানদিকে, আর একজনকে আপনার বাঁদিকে বসতে দেবেন।”

[38] যীশু বললেন, “তোমরা কী চাইছ, তা তোমরা জানো না। আমি যে পেয়ালায় পান করি, তাতে তোমরা কি পান করতে পারো? অথবা যে বাপ্তিষ্মে আমি বাপ্তিষ্মলাভ করি, তাতে তোমরা কি বাপ্তিষ্ম নিতে পারো?”

[39] তাঁরা উত্তর দিলেন, “আমরা পারি।” যীশু তাঁদের বললেন, “আমি যে পেয়ালায় পান করি, তাতে তোমরা পান করবে এবং আমি যে বাপ্তিষ্মে বাপ্তিষ্মলাভ করি, তোমরাও সেই বাপ্তিষ্মে বাপ্তিষ্মলাভ করবে।

[40] কিন্তু, আমার ডানদিকে বা বাঁদিকে বসতে দেওয়ার অধিকার আমার নেই। এই স্থানগুলি তাদের জন্য, যাদের জন্য সেগুলি প্রস্তুত করা হয়েছে।”

[41] অন্য দশজন একথা শুনে যাকোব ও যোহনের প্রতি রুষ্ট হলেন।

[42] যীশু তাঁদের কাছে ডেকে বললেন, “তোমরা জানো যে, যারা অন্য জাতির শাসক বলে পরিচিত, তারা সেই জাতির লোকদের উপরে প্রভুত্ব করে। আবার তাদের উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা সেই শাসকদের উপরে কর্তৃত্ব করে।

[43] তোমাদের ক্ষেত্রে সেরকম হবে না। বরং, তোমাদের মধ্যে যে মহান হতে চায়, সে তোমাদের দাস হবে।

[44] আর যে প্রধান হতে চায়, সে অবশ্যই সকলের ক্রীতদাস হবে।

[45] কারণ, এমনকি, মনুষ্যপুত্রও সেবা পেতে আসেননি, কিন্তু সেবা করতে ও অনেকের পরিবর্তে নিজের প্রাণ মুক্তিপণরূপে দিতে এসেছেন।”

[46] এরপর তাঁরা যিরীহোতে এলেন। যীশু ও তাঁর শিষ্যেরা যখন অনেক লোকের সঙ্গে নগর ত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন, তখন বরতীময় নামে এক ব্যক্তি পথের ধারে বসে ভিক্ষা করছিল। সে ছিল তীময়ের পুত্র।

[47] যখন সে শুনতে পেল, তিনি নাসরতের যীশু, সে চিৎকার করে বলতে লাগল, “দাউদ-সন্তান যীশু, আমার প্রতি কৃপা করুন।”

[48] অনেকে তাকে ধমক দিল ও চুপ করতে বলল, কিন্তু সে আরও বেশি চিৎকার করে বলতে লাগল, “দাউদের সন্তান, আমার প্রতি কৃপা করুন।”

[49] যীশু থেমে বললেন, “ওকে ডাকো।” তাই তারা সেই অন্ধ লোকটিকে ডেকে বলল, “ওহে, সাহস করো, ওঠো, তিনি তোমাকে ডাকছেন!”

[50] সে তার বাইরের পোশাক একদিকে সরিয়ে, তার পায়ে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়াল ও যীশুর কাছে এল।

[51] যীশু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কী চাও, আমি তোমার জন্য কী করব?” অন্ধ লোকটি বলল, “রব্বি, আমি যেন দেখতে পাই।”

[52] যীশু বললেন, “যাও, তোমার বিশ্বাসই তোমাকে সুস্থ করেছে।” তখনই সে তার দৃষ্টিশক্তি লাভ করল ও সেই পথে যীশুর অনুসরণ করল।

মার্ক — Chapters