[1] এরপর যীশু একটি নৌকায় উঠে হ্রদ পার করে তাঁর নিজের নগরে এলেন।
[2] কয়েকজন মানুষ একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে খাটিয়ায় শুইয়ে তাঁর কাছে নিয়ে এল। তাদের বিশ্বাস দেখে যীশু সেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে বললেন, “বৎস, সাহস করো, তোমার সমস্ত পাপ ক্ষমা করা হল।”
[3] এতে কয়েকজন শাস্ত্রবিদ মনে মনে বললেন, “এই লোকটি তো ঈশ্বরনিন্দা করছে!”
[4] যীশু তাঁদের মনের কথা বুঝতে পেরে বললেন, “আপনারা কেন মনে মনে মন্দ চিন্তা করছেন?
[5] কোনটি বলা সহজ: ‘তোমার পাপসকল ক্ষমা হল’ বলা, না ‘তুমি উঠে হেঁটে বেড়াও’ বলা?
[6] কিন্তু আমি চাই যেন আপনারা জানতে পারেন যে মনুষ্যপুত্রের পৃথিবীতে পাপ ক্ষমা করার অধিকার আছে” এই বলে তিনি সেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে বললেন, “ওঠো, তোমার খাটিয়া তুলে বাড়ি চলে যাও।”
[7] তখন লোকটি উঠে বাড়ি চলে গেল।
[8] এই দেখে সমস্ত লোক ভীত হয়ে উঠল এবং ঈশ্বর মানুষকে এমন ক্ষমতা দিয়েছেন বলে তারা ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগল।
[9] সেই স্থান ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় যীশু দেখলেন, মথি নামে এক ব্যক্তি কর আদায়কারীর চালাঘরে বসে আছে। তিনি তাঁকে বললেন, “আমাকে অনুসরণ করো!” মথি তখনই উঠে যীশুকে অনুসরণ করতে লাগলেন।
[10] মথির গৃহে যীশু যখন রাত্রিভোজন করছিলেন, বহু কর আদায়কারী ও পাপী মানুষ এসে যীশু ও তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে আহার করল।
[11] ফরিশীরা তা লক্ষ্য করে তাঁর শিষ্যদের জিজ্ঞাসা করল, “কর আদায়কারী ও ‘পাপীদের’ সঙ্গে তোমাদের গুরুমহাশয় কেন ভোজন করেন?”
[12] একথা শুনে যীশু বললেন, “সুস্থ লোকের চিকিৎসকের প্রয়োজন নেই বরং অসুস্থ লোকেদেরই চিকিৎসকের প্রয়োজন।
[13] কিন্তু তোমরা যাও এবং এই বাক্যের মর্ম কি তা শিক্ষা নাও: ‘আমি দয়া চাই, বলিদান নয়।’ কারণ আমি ধার্মিকদের নয়, কিন্তু পাপীদের আহ্বান করতে এসেছি।”
[14] এরপর যোহনের শিষ্যেরা এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, “এ কী রকম যে, ফরিশীরা ও আমরা উপবাস করি, কিন্তু আপনার শিষ্যেরা উপবাস করে না?”
[15] যীশু উত্তর দিলেন, “বর সঙ্গে থাকতে তার অতিথিরা কীভাবে উপবাস করতে পারে? সময় আসবে, যখন বরকে তাদের মধ্য থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে; তখন তারা উপবাস করবে।
[16] “পুরোনো পোশাকে কেউ নতুন কাপড়ের তালি দেয় না, কারণ তালি সেই পোশাকে টান দিতে থাকবে ও সেই ছিদ্র আরও বড় হবে।
[17] আবার পুরোনো চামড়ার সুরাধারে কেউই টাটকা আঙুরের রস ঢালে না। যদি ঢালে, তাহলে চামড়ার সুরাধার ফেটে যাবে, আঙুরের রস গড়িয়ে পড়বে এবং সুরাধারটিও নষ্ট হবে। না, তারা নতুন আঙুরের রস নতুন সুরাধারেই রাখে, এতে উভয়ই সংরক্ষিত থাকে।”
[18] যীশু যখন এই কথাগুলি বলছিলেন, এমন সময়ে একজন সমাজভবনের অধ্যক্ষ এসে তাঁর সামনে নতজানু হয়ে বললেন, “আমার কন্যাটি সবেমাত্র মারা গেছে। কিন্তু আপনি এসে তার উপরে হাত রাখুন, তাহলে সে বেঁচে উঠবে।”
[19] যীশু উঠে তাঁর সঙ্গ নিলেন, তাঁর শিষ্যেরাও তাই করলেন।
[20] ঠিক সেই মুহূর্তে, বারো বছর যাবৎ রক্তক্ষরণজনিত রোগে আক্রান্ত এক নারী তাঁর পিছন দিক থেকে এসে তাঁর পোশাকের আঁচল স্পর্শ করল।
[21] সে মনে মনে ভেবেছিল, “কেবলমাত্র ওঁর পোশাকটুকু যদি আমি স্পর্শ করতে পারি, তাহলেই আমি সুস্থ হব।”
[22] যীশু পিছন ফিরে তাকে দেখতে পেয়ে বললেন, “সাহস করো, তোমার বিশ্বাস তোমাকে সুস্থ করেছে।” সেই মুহূর্ত থেকেই সেই নারী সুস্থ হল।
[23] যীশু যখন সেই সমাজভবনের অধ্যক্ষের গৃহে প্রবেশ করে দেখলেন বাঁশি-বাদকেরা রয়েছে ও লোকেরা শোরগোল করছে।
[24] তিনি বললেন, “তোমরা চলে যাও। কন্যাটি মারা যায়নি, সে ঘুমিয়ে আছে।” তারা কিন্তু তাঁকে উপহাস করতে লাগল।
[25] লোকের ভিড় এক পাশে সরিয়ে দেওয়ার পর, যীশু ভেতরে গিয়ে কন্যাটির হাত ধরলেন। এতে সে উঠে বসল।
[26] এই ঘটনার সংবাদ সেই সমস্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ল।
[27] যীশু সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় দুজন অন্ধ মানুষ তাঁকে অনুসরণ করে চিৎকার করতে লাগল, “দাউদ-সন্তান, আমাদের প্রতি দয়া করুন।”
[28] তিনি গৃহমধ্যে প্রবেশ করলে সেই দুজন অন্ধ মানুষ তাঁর কাছে এল। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কি বিশ্বাস করো যে, আমি এ কাজ করতে পারি?” তারা উত্তর দিল, “হ্যাঁ, প্রভু।”
[29] তখন তিনি তাদের চোখ স্পর্শ করলেন ও বললেন, “তোমাদের বিশ্বাস অনুযায়ীই তোমাদের প্রতি তাই হোক।”
[30] আর তারা দৃষ্টিশক্তি পুনরায় ফিরে পেল। যীশু তাদের কঠোরভাবে সাবধান করে দিয়ে বললেন, “দেখো, কেউ যেন একথা জানতে না পারে।”
[31] কিন্তু তারা বাইরে গিয়ে সেই অঞ্চলের সর্বত্র তাঁর সংবাদ ছড়িয়ে দিল।
[32] সেই দুজন যখন বেরিয়ে চলে যাচ্ছিল, তখন একজন ভূতগ্রস্ত মানুষকে যীশুর কাছে নিয়ে আসা হল। সেকথা বলতে পারত না।
[33] যখন সেই ভূতকে তাড়ানো হলো তখন বোবা মানুষটি কথা বলতে লাগল। সকলে বিস্ময়ে আশ্চর্য হয়ে বলল, “ইস্রায়েলে এ ধরনের ঘটনা আর কখনও দেখা যায়নি।”
[34] কিন্তু ফরিশীরা বলল, “ও তো ভূতদের অধিপতির দ্বারাই ভূত ছাড়ায়।”
[35] যীশু বিভিন্ন নগর ও গ্রাম পরিক্রমা করতে লাগলেন। তিনি তাদের সমাজভবনগুলিতে শিক্ষা দিতে ও স্বর্গরাজ্যের সুসমাচার প্রচার করতে লাগলেন। তিনি সব ধরনের রোগ ও ব্যাধি দূর করলেন।
[36] যখন তিনি লোকের ভিড় দেখলেন তিনি তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেন, কারণ তারা পালকহীন মেষপালের মতো বিপর্যস্ত ও দিশেহারা ছিল।
[37] তখন তিনি তাঁর শিষ্যদের বললেন, “ফসল প্রচুর, কিন্তু কর্মী সংখ্যা অল্প।
[38] তোমরা ফসলের মালিকের কাছে প্রার্থনা করো, যেন তিনি তাঁর শস্যক্ষেত্রে কর্মচারীদের পাঠান।”