[1] তাঁরা জেরুশালেমের কাছাকাছি এসে যখন জলপাই পর্বতের উপরে বেথফাগ গ্রামে উপস্থিত হলেন, যীশু তাঁর দুজন শিষ্যকে এই বলে পাঠালেন,
[2] “তোমরা সামনের ওই গ্রামে যাও। সেখানে গিয়েই তোমরা দেখতে পাবে একটি গর্দভী তার শাবকের সঙ্গে বাঁধা আছে। তাদের খুলে আমার কাছে নিয়ে এসো।
[3] কেউ যদি তোমাদের কিছু বলে, তাকে বোলো যে, প্রভুর তাদের প্রয়োজন আছে। এতে সে তখনই তাদের পাঠিয়ে দেবে।”
[4] এরকম ঘটল যেন ভাববাদীর দ্বারা কথিত বচন পূর্ণ হয়:
[5] “তোমরা সিয়োন-কন্যাকে বলো, ‘দেখো, তোমার রাজা তোমার কাছে আসছেন, তিনি নম্র কোমল প্রাণ, গর্দভের উপরে উপবিষ্ট, এক শাবকের, গর্দভ শাবকের উপরে উপবিষ্ট।’ ”
[6] শিষ্যেরা গেলেন ও যীশু যেমন নির্দেশ দিয়েছিলেন, তেমনই করলেন।
[7] তাঁরা গর্দভী ও সেই শাবকটিকে নিয়ে এসে, তাদের উপরে নিজেদের পোশাক পেতে দিলেন। যীশু সেই কাপড়গুলির উপরে বসলেন।
[8] আর ভিড়ের মধ্যে অনেক লোক নিজেদের পোশাক রাস্তায় বিছিয়ে দিল, অন্যেরা গাছ থেকে ডালপালা কেটে পথে ছড়িয়ে দিল।
[9] যেসব লোক তাঁর সামনে যাচ্ছিল ও পেছনে অনুসরণ করছিল, তারা চিৎকার করে বলতে লাগল, “হোশান্না, দাউদ-সন্তান!” “ধন্য তিনি, যিনি প্রভুর নামে আসছেন!” “ঊর্ধ্বতমলোকে হোশান্না!”
[10] যীশু যখন জেরুশালেমে প্রবেশ করলেন, সমস্ত নগরে আলোড়ন পড়ে গেল ও তারা জিজ্ঞাসা করল, “ইনি কে?”
[11] তাতে লোকেরা উত্তর দিল, “ইনি যীশু, গালীলের নাসরতের সেই ভাববাদী।”
[12] যীশু মন্দিরচত্বরে প্রবেশ করে তাদের তাড়িয়ে দিলেন যারা সেখানে ক্রয়-বিক্রয় করছিল। তিনি মুদ্রা-বিনিময়কারীদের টেবিলগুলি ও কপোত-বিক্রয়কারীদের আসনগুলি উল্টে দিলেন।
[13] তিনি তাদের বললেন, “এরকম লিখিত আছে, ‘আমার গৃহ প্রার্থনা-গৃহ বলে আখ্যাত হবে,’ কিন্তু তোমরা একে ‘দস্যুদের গহ্বরে’ পরিণত করেছ।”
[14] পরে অন্ধ ও খঞ্জেরা মন্দিরে তাঁর কাছে এলে তিনি তাদের সুস্থ করলেন।
[15] কিন্তু প্রধান যাজকবর্গ ও শাস্ত্রবিদরা যখন দেখলেন, তিনি আশ্চর্য সব কাজ করে চলেছেন ও ছেলেমেয়েরা মন্দিরচত্বরে “হোশান্না, দাউদ-সন্তান,” বলে চিৎকার করছে, তাঁরা রুষ্ট হলেন।
[16] তাঁরা তাঁকে বললেন, “এই ছেলেমেয়েরা কী সব বলছে, তা কি তুমি শুনতে পাচ্ছ?” যীশু উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, আপনারা কি কখনও পাঠ করেননি, “ ‘ছেলেমেয়েদের ও শিশুদের মুখ দিয়ে তুমি স্তব ও প্রশংসার ব্যবস্থা করেছ’?”
[17] পরে তিনি তাঁদের ছেড়ে দিয়ে নগরের বাইরে বেথানি গ্রামে চলে গেলেন। সেখানেই তিনি রাত্রিযাপন করলেন।
[18] খুব ভোরবেলায়, নগরে আসার পথে যীশুর খিদে পেল।
[19] পথের ধারে একটি ডুমুর গাছ দেখে, তিনি তার কাছে গেলেন, কিন্তু পাতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলেন না। তখন তিনি গাছটিকে বললেন, “তোমার মধ্যে আর কখনও যেন ফল না ধরে!” সঙ্গে সঙ্গে গাছটি শুকিয়ে গেল।
[20] শিষ্যেরা এই দেখে আশ্চর্য হয়ে গেলেন। তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন, “ডুমুর গাছটি এত তাড়াতাড়ি শুকিয়ে গেল কীভাবে?”
[21] যীশু উত্তর দিলেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমাদের যদি বিশ্বাস থাকে আর তোমরা সন্দেহ না করো, তাহলে এই ডুমুর গাছটির প্রতি যা করা হয়েছে, তোমরা যে কেবলমাত্র তাই করতে পারবে, তা নয়, কিন্তু যদি এই পর্বতটিকে বলো, ‘যাও, সমুদ্রে গিয়ে পড়ো,’ সেইরকমই হবে।
[22] আর তোমরা প্রার্থনায় যা কিছু চাইবে, বিশ্বাস করলে সে সমস্তই পাবে।”
[23] যীশু মন্দিরচত্বরে প্রবেশ করলেন। তিনি যখন শিক্ষা দিচ্ছিলেন, তখন প্রধান যাজকেরা ও লোকদের প্রাচীনবর্গ তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কোন ক্ষমতায় এসব করছ? আর কেই বা তোমাকে এই ক্ষমতা দিয়েছে?”
[24] যীশু উত্তর দিলেন, “আমিও আপনাদের একটি প্রশ্ন করব। আপনারা যদি উত্তর দেন, তাহলে আমিও আপনাদের বলব, আমি কোন ক্ষমতায় এসব করছি।
[25] যোহনের বাপ্তিষ্ম কোথা থেকে হয়েছিল? স্বর্গ থেকে, না মানুষের কাছ থেকে?” তাঁরা নিজেদের মধ্যে এ-বিষয়ে আলোচনা করে বললেন, “যদি আমরা বলি, ‘স্বর্গ থেকে,’ ও প্রশ্ন করবে, ‘তাহলে কেন আপনারা তাঁকে বিশ্বাস করেননি?’
[26] কিন্তু যদি আমরা বলি, ‘মানুষের কাছ থেকে,’ আমরা জনসাধারণকে ভয় করি, কারণ তারা সবাই যোহনকে ভাববাদী বলে মানে।”
[27] তাই তাঁরা যীশুকে উত্তর দিলেন, “আমরা জানি না।” তখন তিনি বললেন, “আমিও আপনাদের বলব না যে কোন ক্ষমতায় আমি এসব করছি।
[28] “আপনারা কী মনে করেন? এক ব্যক্তির দুই পুত্র ছিল। তিনি প্রথমজনের কাছে গিয়ে বললেন, ‘বৎস, তুমি গিয়ে দ্রাক্ষাক্ষেতে কাজ করো।’
[29] “সে উত্তর দিল, ‘আমি যাব না,’ কিন্তু পরে সে মত পরিবর্তন করে কাজ করতে গেল।
[30] “পরে সেই পিতা অপর পুত্রের কাছে গেলেন এবং একই কথা তাকেও বললেন। সে উত্তর দিল, ‘হ্যাঁ মহাশয়, যাচ্ছি,’ কিন্তু সে গেল না।
[31] “এই দুজনের মধ্যে কে তার পিতার ইচ্ছা পালন করল?” তাঁরা উত্তর দিলেন, “প্রথমজন।” যীশু তাঁদের বললেন, “আমি আপনাদের সত্যিই বলছি, কর আদায়কারী ও বেশ্যারা আপনাদের আগেই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করছে।
[32] কারণ যোহন আপনাদের কাছে এসে ধার্মিকতার পথ দেখালেন আর আপনারা তাঁকে বিশ্বাস করলেন না, কিন্তু কর আদায়কারী ও বেশ্যারা বিশ্বাস করল। আর আপনারা তা দেখা সত্ত্বেও অনুতাপ করলেন না এবং বিশ্বাস করলেন না।
[33] “অন্য একটি রূপক শুনুন: একজন গৃহকর্তা এক দ্রাক্ষাক্ষেত প্রস্তুত করলেন। তিনি তার চারপাশে বেড়া দিলেন, তার মধ্যে এক দ্রাক্ষাকুণ্ড খনন করলেন ও এক নজরমিনার নির্মাণ করলেন। তারপর তিনি সেই দ্রাক্ষাক্ষেত কয়েকজন কৃষককে ইজারা দিয়ে বিদেশ ভ্রমণে চলে গেলেন।
[34] ফল সংগ্রহের সময় হয়ে এলে তিনি তাঁর দাসদের ফল সংগ্রহের জন্য কৃষকদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
[35] “কৃষকেরা সেই দাসদের বন্দি করে একজনকে প্রহার করল, অন্যজনকে হত্যা করল, তৃতীয় জনকে পাথর ছুঁড়ে মারল।
[36] আবার তিনি তাদের কাছে অন্য দাসদের পাঠালেন, এদের সংখ্যা আগের চেয়েও বেশি ছিল। কৃষকেরা এদের প্রতিও সেই একইরকম ব্যবহার করল।
[37] সবশেষে তিনি তাদের কাছে তাঁর পুত্রকে পাঠালেন, বললেন, ‘তারা আমার পুত্রকে সমাদর করবে।’
[38] “কিন্তু কৃষকেরা যখন সেই পুত্রকে দেখল, তারা পরস্পরকে বলল, ‘এই হল উত্তরাধিকারী। এসো, আমরা একে হত্যা করে এর অধিকার হস্তগত করি।’
[39] এভাবে তারা তাঁকে ধরে দ্রাক্ষাক্ষেতের বাইরে নিক্ষেপ করল ও তাঁকে হত্যা করল।
[40] “অতএব, দ্রাক্ষাক্ষেতের মালিক যখন আসবেন, তিনি এই কৃষকদের নিয়ে কী করবেন?”
[41] তাঁরা উত্তর দিলেন, “তিনি ওই দুর্জনদের শোচনীয় পরিণতি ঘটাবেন ও সেই দ্রাক্ষাক্ষেত অন্য কৃষকদের ইজারা দেবেন, যারা ফল সংগ্রহের সময় তাঁকে তাঁর উপযুক্ত অংশ দেবে।”
[42] যীশু তাঁদের বললেন, “আপনারা কি শাস্ত্রে কখনও পাঠ করেননি: “ ‘যে প্রস্তর স্থপতিরা অগ্রাহ্য করেছিল, তাই শীর্ষপ্রস্তর হয়ে উঠল; প্রভুই এরকম করেছেন, আর এ আমাদের দৃষ্টিতে বিস্ময়কর’?
[43] “এই কারণে আমি আপনাদের বলছি যে, স্বর্গরাজ্য আপনাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে এমন এক জাতিকে দেওয়া হবে, যারা এর জন্য ফল উৎপন্ন করবে।
[44] যে এই প্রস্তরের উপরে পড়বে, সে খানখান হয়ে ভগ্ন হবে, কিন্তু যার উপরে এই প্রস্তর পড়বে, সে চূর্ণবিচূর্ণ হবে।”
[45] যখন প্রধান যাজকেরা ও ফরিশীরা যীশুর কথিত রূপকগুলি শুনলেন, তাঁরা বুঝতে পারলেন, তিনি তাঁদের সম্পর্কেই সেগুলি বলছেন।
[46] তাঁরা যীশুকে গ্রেপ্তার করার কোনো উপায় খুঁজলেন, কিন্তু তাঁরা জনসাধারণকে ভয় পেতেন কারণ তারা তাঁকে ভাববাদী বলে মানত।