Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 9:03

[1] যীশু মন্দির ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, এমন সময়ে তাঁর শিষ্যেরা তাঁর কাছে এসে মন্দিরের গঠনের প্রতি তাঁর মনোযোগ আকৃষ্ট করলেন।

[2] তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কি এসব জিনিস দেখছ? আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এসব পাথরের একটি অন্যটির উপরে থাকবে না, সমস্তই নিজেদের থেকে নিক্ষিপ্ত হবে।”

[3] যীশু যখন জলপাই পর্বতের উপরে বসেছিলেন, শিষ্যেরা এক প্রকার গোপনে তাঁর কাছে এসে বললেন, “আমাদের বলুন, কখন এসব ঘটনা ঘটবে এবং আপনার আগমনের, বা যুগান্তের চিহ্নই বা কী কী হবে?”

[4] যীশু উত্তর দিলেন, “সতর্ক থেকো, কেউ যেন তোমাদের সঙ্গে প্রতারণা না করে।

[5] কারণ অনেকে এসে আমার নামে দাবি করবে, ‘আমিই সেই খ্রীষ্ট’ ও বহু মানুষকে ঠকাবে।

[6] তোমরা যুদ্ধের কথা ও যুদ্ধের সব রটনা শুনবে। কিন্তু দেখো, তোমরা যেন ব্যাকুল না হও। এ সমস্ত বিষয় অবশ্যই ঘটবে, কিন্তু তখনও অন্তিমলগ্ন উপস্থিত হয়নি।

[7] এক জাতি অন্য জাতির বিপক্ষে, এক রাজ্য অন্য রাজ্যের বিপক্ষে উঠবে। বিভিন্ন স্থানে দুর্ভিক্ষ ও ভূমিকম্প হবে।

[8] এ-সবই যেন প্রসব যন্ত্রণার প্রারম্ভ মাত্র।

[9] “তখন তোমাদেরকে অত্যাচার করার ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য সমর্পণ করা হবে। আমার কারণে সমস্ত জাতির মানুষেরা তোমাদের ঘৃণা করবে।

[10] সেই সময়ে অনেকেই বিশ্বাস হারাবে, বিশ্বাসঘাতকতা করবে ও পরস্পরকে ঘৃণা করবে।

[11] বহু ভণ্ড ভাববাদী উপস্থিত হয়ে বহু মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করবে।

[12] আর দুষ্টতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অধিকাংশ মানুষেরই প্রেম শীতল হয়ে যাবে,

[13] কিন্তু যে কেউ শেষ পর্যন্ত অবিচল থাকবে, সেই পরিত্রাণ পাবে।

[14] আর সর্বজাতির কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য স্বর্গ রাজ্যের এই সুসমাচার সমস্ত জগতে প্রচারিত হবে, আর তখনই অন্তিমলগ্ন উপস্থিত হবে।

[15] “আর তাই, যখন তোমরা দেখবে, ‘ধ্বংস-আনয়নকারী সেই ঘৃণ্য বস্তু’ পবিত্রস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, যা ভাববাদী দানিয়েল উল্লেখ করেছেন—পাঠক বুঝে নিক—

[16] তখন যারা যিহূদিয়া প্রদেশে বসবাস করে, তারা পার্বত্য অঞ্চলে পলায়ন করুক।

[17] আর ছাদের উপরে যে থাকে, সে কোনও দ্রব্যসামগ্রী নেওয়ার জন্য নিচে তার গৃহে নেমে না আসুক।

[18] ক্ষেত্রে কর্মরত কেউই তার পোশাক-পরিচ্ছদ নেওয়ার জন্য ফিরে না যাক।

[19] সেই সময় গর্ভবতী নারীদের ও স্তন্যদাত্রী মায়েদের কতই না ভয়ংকর কষ্ট হবে!

[20] প্রার্থনা কোরো, যেন তোমাদের পলায়ন শীতকালে বা বিশ্রামদিনে না হয়।

[21] কারণ সেই সময় এমন চরম বিপর্যয় এসে উপস্থিত হবে, যা পৃথিবী সৃষ্টির সময় থেকে এ পর্যন্ত কখনও হয়নি, আর কখনও হবেও না।

[22] “সেই সমস্ত দিনের সংখ্যা যদি কমিয়ে না দেওয়া হত, তাহলে কোনো মানুষই রক্ষা পেত না, কিন্তু মনোনীত-জনেদের কারণে, সেইসব দিনের সংখ্যা সংক্ষিপ্ত করা হবে।

[23] সেই সময়, কেউ যদি তোমাদের বলে, ‘দেখো, খ্রীষ্ট এখানে!’ অথবা, ‘তিনি ওখানে!’ তোমরা বিশ্বাস কোরো না।

[24] কারণ ভণ্ড খ্রীষ্টেরা ও ভণ্ড ভাববাদীরা উপস্থিত হয়ে বহু বড় বড় চিহ্ন ও অলৌকিক কর্ম করে দেখাবে, যেন সম্ভব হলে মনোনীতদেরও প্রতারিত করতে পারে।

[25] দেখো, ঘটনা ঘটবার পূর্বেই আমি তোমাদের একথা বলে দিলাম।

[26] “তাই, কেউ যদি তোমাদের বলে, ‘দেখো, তিনি মরুপ্রান্তরে আছেন,’ তোমরা বেরিয়ে যেয়ো না; কিংবা, ‘তিনি এখানে ভেতরের ঘরে আছেন,’ তা বিশ্বাস কোরো না।

[27] কারণ বিদ্যুতের ঝলক যেমন পূর্বদিক থেকে পশ্চিমদিক পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়, মনুষ্যপুত্রের আগমনও সেইরূপ হবে।

[28] যেখানেই মৃতদেহ সেখানেই শকুনেরা এসে জুটবে।

[29] “আর সেই সময়কালীন বিপর্যয়ের অব্যবহিত পরেই, “ ‘সূর্য অন্ধকারে ঢেকে যাবে, চন্দ্র তার জ্যোত্স্না প্রতিফলিত করবে না, আকাশ থেকে নক্ষত্রসমূহের পতন হবে, আর জ্যোতিষ্কমণ্ডলী প্রকম্পিত হবে।’

[30] “সে সময়ে মনুষ্যপুত্রের আগমনের চিহ্ন আকাশে ফুটে উঠবে, আর পৃথিবীর সমস্ত জাতি শোক-বিলাপ করবে। তারা মনুষ্যপুত্রকে আকাশের মেঘপুঞ্জে আসতে দেখবে, তিনি পরাক্রমে ও মহামহিমায় আবির্ভূত হবেন।

[31] তিনি তাঁর দূতদের মহা তূরীধ্বনির সঙ্গে প্রেরণ করবেন। তাঁরা আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত চারদিক থেকে তাঁর মনোনীতদের সংগ্রহ করবেন।

[32] “এখন ডুমুর গাছ থেকে এই শিক্ষাগ্রহণ করো: যখনই এর শাখায় কোমল পল্লব ও পাতা বের হয়ে আসে, তোমরা বুঝতে পারো যে, গ্রীষ্মকাল কাছে এসেছে।

[33] একইভাবে, তোমরা যখন এসব বিষয় ঘটতে দেখবে, তোমরা জানবে যে, সময় হয়ে এসেছে, এমনকি, তিনি দ্বারে উপস্থিত হয়েছেন।

[34] আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, এই সমস্ত ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত বর্তমান প্রজন্ম লুপ্ত হবে না।

[35] আকাশ ও পৃথিবী লুপ্ত হবে, কিন্তু আমার বাক্য কখনও লুপ্ত হবে না।

[36] “কিন্তু সেদিন বা ক্ষণের কথা কেউই জানে না, এমনকি স্বর্গদূতেরা বা পুত্রও জানেন না, কেবলমাত্র পিতা জানেন।

[37] নোহের সময়ে যে রকম হয়েছিল, মনুষ্যপুত্রের আগমনকালেও তেমনই হবে।

[38] কারণ জলপ্লাবনের পূর্বকালে, লোকেরা পান করত, বিবাহ করত ও তাদের বিবাহ দেওয়া হত, নোহ জাহাজে প্রবেশ না করা পর্যন্ত।

[39] কী ঘটতে চলেছে, তারা তার কিছুই বুঝতে পারেনি, যতক্ষণ না বন্যা এসে তাদের সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। মনুষ্যপুত্রের আগমনকালেও ঠিক একই ঘটনা ঘটবে।

[40] দুজন মানুষ মাঠে কর্মরত থাকবে; একজনকে গ্রহণ করা হবে, অন্যজন পরিত্যক্ত হবে।

[41] দুজন মহিলা একটি জাঁতা পেষণ করবে; একজনকে গ্রহণ করা হবে, অন্যজন পরিত্যক্ত হবে।

[42] “সেই কারণে সতর্ক থেকো, কারণ তোমরা জানো না, কোন দিন তোমাদের প্রভু এসে পড়বেন।

[43] কিন্তু এ বিষয় বুঝে নাও; গৃহের কর্তা যদি জানতে পারত, রাতের কোন প্রহরে চোর আসছে, তাহলে সে সজাগ থাকত এবং তার গৃহে সিঁধ কাটতে দিত না।

[44] তাই তোমরাও প্রস্তুত থেকো, কারণ যখন তোমরা প্রত্যাশা করবে না, সেই মুহূর্তেই মনুষ্যপুত্র আসবেন।

[45] “তাহলে সেই বিশ্বস্ত ও বিজ্ঞ সেবক কে, যাকে মনিব তাঁর পরিজনবর্গের উপরে নিযুক্ত করেছেন, যেন সে তাঁর দাসদের যথাসময়ে খাদ্য পরিবেশন করে?

[46] সেই মনিব এসে তাকে সেই কাজ করতে দেখলে সেই সেবকের পক্ষে তা মঙ্গলজনক হবে।

[47] আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তিনি তাকে তাঁর বিষয়-সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক করবেন।

[48] কিন্তু মনে করো, সেই দুর্জন দাস যদি মনে মনে বলে, ‘দীর্ঘদিন আমার মনিব দূরে বাস করছেন,’

[49] আর সে তার সহদাসদের মারধর করতে ও মদ্যপদের সঙ্গে পানাহার করতে থাকে,

[50] সেই দাসের মনিব এমন এক সময়ে ফিরে আসবেন, যখন সে তাঁর আগমনের প্রত্যাশা করেনি, বা এমন এক ক্ষণে, যা সে জানতেও পারেনি।

[51] তিনি তাকে খণ্ডবিখণ্ড করবেন এবং ভণ্ডদের মধ্যে তাকে স্থান দেবেন, যেখানে কেবলমাত্র ক্রন্দন ও দন্তঘর্ষণ হবে।

মথি — Chapters