[1] তখন জেরুশালেম থেকে কয়েকজন ফরিশী ও শাস্ত্রবিদ যীশুর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন,
[2] “আপনার শিষ্যেরা কেন প্রাচীনদের পরম্পরাগত নিয়ম ভঙ্গ করে? তারা খাবার পূর্বে কেন তাদের হাত ধোয় না?”
[3] যীশু উত্তর দিলেন, “আর আপনারা কেন আপনাদের পরম্পরাগত নিয়মের দোহাই দিয়ে ঈশ্বরের আদেশ ভঙ্গ করেন?
[4] কারণ ঈশ্বর বলেছেন, ‘তোমার পিতাকে ও মাতাকে সম্মান কোরো’ এবং ‘যে কেউ তার পিতাকে বা মাতাকে অভিশাপ দেয়, তাকে অবশ্যই প্রাণদণ্ড দিতে হবে।’
[5] কিন্তু আপনারা বলেন, কেউ যদি তার পিতা বা মাতাকে বলে, ‘আমার কাছ থেকে তোমরা যে সাহায্য পেতে তা ঈশ্বরের কাছে উপহার স্বরূপ দেওয়া হয়েছে,’
[6] তাহলে সে তার পিতাকে বা মাতাকে আর তা দিয়ে সম্মান করবে না। এভাবে আপনারা পরম্পরাগত ঐতিহ্যের নামে ঈশ্বরের বাক্যকে অমান্য করে থাকেন।
[7] ভণ্ডের দল! যিশাইয় আপনাদের সম্পর্কে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন:
[8] “ ‘এই লোকেরা ওষ্ঠাধরে আমাকে সম্মান করে, কিন্তু তাদের হৃদয় থাকে আমার থেকে বহুদূরে।
[9] বৃথাই তারা আমার উপাসনা করে; তাদের শেখানো নিয়ম নীতিগুলি তত্ত্বশিক্ষা বলে শিক্ষা দেয়।’ ”
[10] যীশু সকলকে কাছে ডেকে বললেন, “তোমরা শোনো ও বোঝো।
[11] মানুষের মুখ দিয়ে যা প্রবেশ করে তা তাকে অশুচি করে না, কিন্তু যা তার মুখ দিয়ে বের হয়ে আসে তাই তাকে ‘অশুচি’ করে।”
[12] তখন শিষ্যেরা তাঁর কাছে এসে বললেন, “আপনি কি জানেন, ফরিশীরা একথা শুনে মনে আঘাত পেয়েছে?”
[13] তিনি উত্তর দিলেন, “যে চারাগাছ আমার স্বর্গস্থ পিতা রোপণ করেননি, তা উপড়ে ফেলা হবে।
[14] ওদের ছেড়ে দাও, ওরা অন্ধ পথপ্রদর্শক। কোনো অন্ধ ব্যক্তি যদি অপর ব্যক্তিকে পথ প্রদর্শন করে তবে উভয়েই গর্তে পড়বে।”
[15] পিতর বললেন, “এই রূপকটি আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করুন।”
[16] যীশু তাঁদের প্রশ্ন করলেন, “তোমরা কি এখনও এত অবুঝ রয়েছ?
[17] তোমরা কি দেখতে পাও না যা কিছু মুখের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে তা পাকস্থলীতে যায় ও তারপর শরীর থেকে বের হয়ে যায়?
[18] কিন্তু যেসব বিষয় মুখ থেকে বার হয়ে আসে, তা হৃদয় থেকে আসে এবং সেগুলিই কোনো মানুষকে অশুচি করে তোলে।
[19] কারণ মানুষের হৃদয় থেকে উৎপন্ন হয় কুচিন্তা, নরহত্যা, ব্যভিচার, বিবাহ-বহির্ভূত যৌনাচার, চৌর্য, মিথ্যা সাক্ষ্য, পরনিন্দা।
[20] এগুলিই কোনো মানুষকে অশুচি করে,
[21] কিন্তু হাত না ধুয়ে খাবার খেলে সে ‘অশুচি’ হয় না।” সেই স্থান ত্যাগ করে, যীশু টায়ার ও সীদোন অঞ্চলে চলে গেলেন।
[22] তারই কাছাকাছি কোনো স্থান থেকে এক কনানীয় নারী তাঁর কাছে এসে চিৎকার করতে লাগল, “প্রভু, দাউদের সন্তান, আমার প্রতি দয়া করুন! আমার কন্যাটি ভূতগ্রস্ত হয়ে ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে।”
[23] যীশু তাকে কোনও উত্তর দিলেন না। তাই তাঁর শিষ্যেরা তাঁর কাছে এসে তাঁকে অনুরোধ জানালেন, “ওকে বিদায় দিন কারণ ও চিৎকার করতে করতে আমাদের পেছনে আসছে।”
[24] তিনি উত্তর দিলেন, “আমাকে কেবলমাত্র ইস্রায়েলের হারানো মেষদের কাছে পাঠানো হয়েছে।”
[25] সেই নারী এসে তাঁর কাছে নতজানু হয়ে বলল, “প্রভু, আমার উপকার করুন!”
[26] তিনি উত্তর দিলেন, “ছেলেমেয়েদের খাদ্য নিয়ে কুকুরদের দেওয়া সঙ্গত নয়।”
[27] সে বলল, “হ্যাঁ প্রভু, কিন্তু কুকুরও তো মনিবের টেবিল থেকে খাবারের যেসব টুকরা পড়ে তা খায়!”
[28] তখন যীশু উত্তর দিলেন, “নারী, তোমার বড়োই বিশ্বাস! তোমার অনুরোধ রক্ষা করা হল।” সেই মুহূর্ত থেকে তার কন্যা সুস্থ হয়ে গেল।
[29] যীশু সেই স্থান ত্যাগ করে গালীল সমুদ্রের তীরে উপস্থিত হলেন। তারপর তিনি এক পাহাড়ের উপরে উঠে বসলেন।
[30] অসংখ্য লোক খঞ্জ, অন্ধ, পঙ্গু, বোবা ও অন্য অনেক অসুস্থ মানুষকে নিয়ে এসে তাঁর পায়ের কাছে ফেলে রাখল। তিনি তাদের সুস্থ করলেন।
[31] লোকেরা যখন দেখল, বোবারা কথা বলছে, পঙ্গুরা সুস্থ হচ্ছে, খঞ্জেরা চলতে পারছে ও অন্ধেরা দেখতে পাচ্ছে, তারা বিস্ময়ে হতবাক হল। আর তারা ইস্রায়েলের ঈশ্বরের প্রশংসা করতে লাগল।
[32] যীশু তাঁর শিষ্যদের কাছে ডেকে বললেন, “এই লোকদের প্রতি আমার করুণা হচ্ছে; এরা তিনদিন ধরে আমার কাছে আছে এবং এদের কাছে কোনও খাবার নেই। আমি এদের ক্ষুধার্ত ফেরত পাঠাতে চাই না, হয়তো এরা পথে অজ্ঞান হয়ে পড়বে।”
[33] তাঁর শিষ্যেরা উত্তর দিলেন, “এত লোককে খাওয়ানোর জন্য এই প্রত্যন্ত স্থানে আমরা কোথায় যথেষ্ট খাবার পাব?”
[34] যীশু জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের কাছে কটি রুটি আছে?” তাঁরা উত্তর দিলেন, “সাতটি, আর কয়েকটি ছোট মাছ।”
[35] তিনি সবাইকে মাটির উপর বসে পড়তে বললেন।
[36] তারপর তিনি সেই সাতটি রুটি ও মাছগুলি নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। তারপর সেগুলি ভেঙে শিষ্যদের দিলেন ও তাঁরা লোকদের দিলেন।
[37] সবাই খেয়ে পরিতৃপ্ত হল। পরে শিষ্যেরা অবশিষ্ট রুটির টুকরোগুলি সংগ্রহ করে সাতটি ঝুড়ি পূর্ণ করল।
[38] যারা খাবার খেয়েছিল, নারী ও শিশু ছাড়া তাদের সংখ্যা ছিল চার হাজার।
[39] যীশু সকলকে বিদায় করার পর নৌকাতে উঠলেন ও মগদনের সীমানায় চলে গেলেন।