Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 6:18

[1] এই মল্কীষেদক ছিলেন শালেমের রাজা ও পরাৎপর ঈশ্বরের যাজক। অব্রাহাম যখন রাজন্যবর্গকে পরাস্ত করে ফিরে আসছিলেন, সেই সময় তিনি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে আশীর্বাদ করেছিলেন

[2] এবং অব্রাহাম তাঁর সর্বস্বের এক-দশমাংশ তাঁকে দান করেছিলেন। প্রথমত, তাঁর নামের অর্থ, “ধার্মিকতার রাজা,” আর পরে, “শালেমের রাজা,” এর অর্থ, “শান্তিরাজ।”

[3] পিতামাতা ছাড়া ও বংশপরিচয় ছাড়া, জীবনের সূচনা বা সমাপ্তি ছাড়াই, ঈশ্বরের পুত্রের মতো তিনি চিরকালের জন্য যাজক থাকেন।

[4] শুধু ভেবে দেখো, তিনি কত মহান ছিলেন: এমনকি কুলপিতা অব্রাহাম তাঁকে লুন্ঠিত দ্রব্যসামগ্রীর এক-দশমাংশ দান করেছিলেন।

[5] এখন বিধান অনুসারে, লেবির বংশধরেরা, যারা যাজক হয়, তারা প্রজাসাধারণের, অর্থাৎ তাদের ভ্রাতৃসম্প্রদায়ের কাছ থেকে দশমাংশ সংগ্রহ করার বিধি লাভ করেছে, যদিও তাদের ভ্রাতৃসম্প্রদায়ের লোকেরা ছিলেন অব্রাহামেরই বংশধর।

[6] যাই হোক, এই ব্যক্তি লেবির বংশধররূপে নির্দিষ্ট না হলেও, তিনি অব্রাহামের কাছ থেকে সমস্ত কিছুর এক-দশমাংশ সংগ্রহ করেছিলেন এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত সেই ব্যক্তিকে আশীর্বাদ করেছিলেন।

[7] নিঃসন্দেহে, সাধারণ ব্যক্তি মহৎ ব্যক্তির কাছ থেকে আশীর্বাদ লাভ করে।

[8] একটি ক্ষেত্রে মরণশীল মানুষের দ্বারা দশমাংশ সংগৃহীত হয়; কিন্তু অন্য একটি ক্ষেত্রে, যিনি জীবিত আছেন বলে ঘোষিত হয়েছিলেন, তাঁর দ্বারাই হয়েছে।

[9] কেউ এমন কথাও বলতে পারে যে, লেবি, যিনি দশমাংশ সংগ্রহ করেন, তিনি অব্রাহামের মাধ্যমেই দশমাংশ দিয়েছিলেন,

[10] কারণ মল্কীষেদক যখন অব্রাহামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তখন লেবি তাঁর পিতৃপুরুষের কটিতে বিদ্যমান ছিলেন।

[11] লেবীয় যাজকত্বের মাধ্যমে যদি পূর্ণতা অর্জন করা যেত, কারণ এরই ভিত্তিতে লোকদের কাছে বিধিবিধান দেওয়া হয়েছিল, তাহলে হারোণের রীতি অনুযায়ী নয়, কিন্তু মল্কীষেদকের রীতি অনুযায়ী কেন আর একজন যাজকের প্রয়োজন হল?

[12] কারণ যাজকত্বের পরিবর্তন হলে বিধিবিধানেরও পরিবর্তন হওয়া আবশ্যক।

[13] যাঁর সম্পর্কে এসব বিষয় উক্ত হয়েছে, তিনি ভিন্ন গোষ্ঠীভুক্ত এবং সেই গোষ্ঠীর কেউ কখনও যজ্ঞবেদির পরিচর্যা করেনি।

[14] একথা সুস্পষ্ট যে, আমাদের প্রভু যিহূদা বংশোদ্ভূত এবং সেই বংশের যাজকত্ব সম্পর্কে মোশি কিছুই বলেননি।

[15] মল্কীষেদকের মতো অন্য একজন যাজকের আবির্ভাব হলে আমাদের বক্তব্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে,

[16] যিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের মতো বিধিবিধানের উপরে ভিত্তি করে নয়, কিন্তু এক অবিনশ্বর জীবনের শক্তিতে যাজক হয়েছিলেন।

[17] কারণ ঘোষিত হয়েছে: “মল্কীষেদকের রীতি অনুযায়ী তুমিই চিরকালীন যাজক।”

[18] যেহেতু পূর্বেকার বিধিবিধান নিষ্ফল ও অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ায়, তা অগ্রাহ্য করা হয়েছে

[19] (কারণ বিধিবিধানের দ্বারা কিছুই পূর্ণতা লাভ করেনি), বরং এক মহত্তর প্রত্যাশা উপস্থাপিত হয়েছে, যার দ্বারা আমরা ঈশ্বরের সান্নিধ্যে আসতে পারি।

[20] আবার শপথ ছাড়া এরকম হয়নি। অন্যেরা কোনো শপথ ছাড়াই যাজক হয়েছেন,

[21] তিনি কিন্তু শপথ সহ যাজক হয়েছিলেন, যখন ঈশ্বর তাঁকে বলেছিলেন, “প্রভু এই শপথ করেছেন, তাঁর সংকল্পের পরিবর্তন হবে না; ‘তুমিই চিরকালীন যাজক।’ ”

[22] এই শপথের জন্য যীশু এক উত্কৃষ্টতর নিয়মের প্রতিভূ হয়েছেন।

[23] পুরোনো প্রথায় এরকম বহু যাজকই ছিলেন, যাঁরা মৃত্যুর জন্য তাঁদের পদে চিরকাল থেকে যেতে পারেননি,

[24] কিন্তু যীশু চিরজীবী বলে তাঁর যাজকত্বও চিরস্থায়ী।

[25] তাই তাঁর মাধ্যমে যারা ঈশ্বরের কাছে আসে, তাদের তিনি সম্পূর্ণভাবে পরিত্রাণ করতে সমর্থ, কারণ তাদের পক্ষে মিনতি করার জন্য তিনি সবসময়ই জীবিত আছেন।

[26] এই প্রকার একজন মহাযাজক আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করেন, যিনি পবিত্র, অনিন্দনীয়, বিশুদ্ধ, পাপীদের থেকে পৃথকীকৃত এবং সমস্ত স্বর্গলোকের ঊর্ধ্বে উন্নীত।

[27] অন্যান্য মহাযাজকের মতো, প্রথমত নিজের জন্য ও পরে সব মানুষের পাপসমূহের জন্য, দিনের পর দিন তাঁর বিভিন্ন বলি উত্সর্গের প্রয়োজন নেই, কারণ তাদের সব পাপের জন্য তিনি নিজেকে একবারই বলিরূপে উত্সর্গ করেছেন।

[28] কারণ বিধান যাদের মহাযাজকরূপে নিযুক্ত করে, তারা দুর্বল। কিন্তু বিধান প্রদানের পরবর্তীকালীন সেই শপথ নিযুক্ত করেছে পুত্রকে, যিনি চিরকালের জন্য পূর্ণতা লাভ করেছেন।

ইব্রীয় — Chapters