Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 7:40

[1] সুতরাং, আমরা এরকম এক বিশাল সাক্ষীবাহিনী দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়ায়, এসো বাধাদায়ক সমস্ত বিষয় ও যেসব পাপ সহজেই আমাদের জড়িয়ে ধরে, সেগুলি ছুঁড়ে ফেলি। আর যে দৌড় আমাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, এসো ধৈর্যের সঙ্গে সেই অভিমুখে ছুটে চলি।

[2] এসো, আমাদের বিশ্বাসের আদি-উৎস ও সিদ্ধিদাতা যীশুর উপরে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করি, যিনি তাঁর সামনে স্থিত আনন্দের জন্য ক্রুশ সহ্য করলেন, সেই লজ্জাকে উপেক্ষা করলেন ও ঈশ্বরের সিংহাসনের ডানদিকে উপবেশন করলেন।

[3] পাপী মানুষের এত বিরোধিতা যিনি সহ্য করলেন, তাঁর কথা বিবেচনা করো, তাহলে তোমরাও ক্লান্তিতে অবসন্ন ও নিরুৎসাহ হবে না।

[4] পাপের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য তোমাদের রক্তপাত করতে হয়েছে, এধরনের প্রতিরোধ তোমরা এখনও করোনি।

[5] আর উৎসাহ প্রদানকারী সেই বাণী তোমরা ভুলে গিয়েছ, যা তোমাদের পুত্র বলে সম্বোধন করে: “পুত্র আমার, তুমি প্রভুর শাসন তুচ্ছ মনে কোরো না, তিনি তিরস্কার করলে নিরুৎসাহ হোয়ো না।

[6] কারণ প্রভু যাদের ভালোবাসেন, তাদের শাসনও করেন, যাকে পুত্ররূপে গ্রহণ করেন, তাকে শাস্তি প্রদানও করেন।”

[7] কষ্ট-দুর্দশাকে শাসন বলে সহ্য করো; ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে সন্তানের মতো আচরণ করেন। কারণ এমন পুত্র কেউ আছে, যাকে পিতা শাসন করেন না?

[8] যদি তোমাদের শাসন করা না হয় আর প্রত্যেক ব্যক্তিকেই শাসনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, তাহলে তোমরা অবৈধ সন্তান, প্রকৃত পুত্রকন্যা নও।

[9] এছাড়া, আমাদের প্রত্যেকেরই মানব-পিতা আছেন, যাঁরা আমাদের শাসন করেছেন এবং সেজন্য আমরা তাঁদের শ্রদ্ধাও করি। তাহলে যিনি আমাদের আত্মাসকলের পিতা, তাঁর কাছে আমরা কত না আত্ম-সমর্পণ করব ও বেঁচে থাকব?

[10] আমাদের পিতারা সর্বোত্তম যেমন মনে করেছেন, তেমনই অল্পকালের জন্য আমাদের শাসন করেছেন। কিন্তু ঈশ্বর আমাদের মঙ্গলের জন্য শাসন করেন, যেন আমরা তাঁর পবিত্রতার অংশীদার হতে পারি।

[11] কোনো শাসনই তাৎক্ষণিক আনন্দদায়ক মনে হয় না, বরং যন্ত্রণাদায়ক মনে হয়। যাই হোক, পরবর্তীকালে, যারা এর মধ্য দিয়ে শিক্ষা লাভ করেছে, তা তাদের জন্য ধার্মিকতার ও শান্তির ফসল উৎপন্ন করে।

[12] অতএব, তোমরা তোমাদের অশক্ত বাহু ও দুর্বল জানু সবল করো।

[13] “তোমাদের চলার পথ সরল করো,” যেন খঞ্জ ব্যক্তি পঙ্গু না হয়, বরং সুস্থ হতে পারে।

[14] সব মানুষের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে ও পবিত্র হওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করো। পবিত্রতা ব্যতিরেকে কেউ প্রভুর দর্শন পাবে না।

[15] সতর্ক থেকো, কেউ যেন ঈশ্বরের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত না হয় এবং তিক্ততার কোনো মূল অঙ্কুরিত হয়ে সমস্যার সৃষ্টি করে ও অনেককে কলুষিত করে।

[16] সাবধান, কেউ যেন অবৈধ-সংসর্গকারী, অথবা এষৌর মতো ভক্তিহীন না হয়, যে একবারের খাবারের জন্য জ্যেষ্ঠাধিকার বিক্রি করে দিয়েছিল।

[17] তোমরা জানো, পরে এই আশীর্বাদের অধিকারী হতে চাইলেও, সে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। যদিও সে অশ্রুপাতের সঙ্গে সেই আশীর্বাদের অন্বেষী হয়েছিল, কিন্তু সে মনের কোনও পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি।

[18] তোমরা এমন কোনো পর্বতের সম্মুখীন হওনি, যা স্পর্শ করা যায় এবং যা অগ্নিতে জাজ্বল্যমান; আর অন্ধকার, ভীতি, ঝড়ঝঞ্ঝা,

[19] তূরীধ্বনি, অথবা কথা বলা এক কণ্ঠস্বরের মুখোমুখি হওনি, যা শুনে শ্রোতারা তাদের কাছে আর কোনো কথা না বলার মিনতি জানিয়েছিল।

[20] কারণ, “যদি একটি পশু-ও পর্বত স্পর্শ করে, তাহলে সে অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে নিহত হবে,” এই আজ্ঞাটি তারা সহ্য করতে পারেনি।

[21] সেই দৃশ্য এতই ভয়ংকর ছিল যে, মোশি বলেছিলেন, “আমি ভয়ে কাঁপছি।”

[22] কিন্তু তোমরা উপস্থিত হয়েছ সিয়োন পর্বতে, সেই স্বর্গীয় জেরুশালেমে, জীবন্ত ঈশ্বরের নগরে। তোমরা উপস্থিত হয়েছ সহস্র গুণ সহস্র স্বর্গদূতের আনন্দমুখর সমাবেশে,

[23] প্রথমজাতদের মণ্ডলীতে, যাদের নাম স্বর্গে লিখিত আছে। তোমরা সর্বমানবের বিচারক ঈশ্বরের, সিদ্ধিপ্রাপ্ত ধার্মিকদের আত্মার ও

[24] এক নতুন নিয়মের মধ্যস্থ যীশুর এবং তাঁর সিঞ্চিত রক্তের সম্মুখীন হয়েছ, যা হেবলের রক্তের চেয়েও উত্কৃষ্টতর কথা বলে।

[25] দেখো, যিনি কথা বলেন, তাকে যেন তোমরা অগ্রাহ্য না করো। যিনি পৃথিবীতে তাদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন, তাঁকে অগ্রাহ্য করে তারা যদি অব্যাহতি না পেয়ে থাকে, তাহলে যিনি স্বর্গ থেকে আমাদের সতর্ক করেন, তাঁর প্রতি যদি আমরা বিমুখ হই, তাহলে আমরা আরও কত অল্পই না নিষ্কৃতি পাব!

[26] সেই সময় তাঁর কণ্ঠস্বর পৃথিবীকে কম্পিত করেছিল, কিন্তু এখন তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, “আর একবার, আমি শুধুমাত্র পৃথিবীকে নয়, কিন্তু আকাশমণ্ডলকেও প্রকম্পিত করব।”

[27] “আর একবার” উক্তিটির তাৎপর্য হল, যেসব সৃষ্টবস্তু প্রকম্পিত করা যায়, সেগুলি অপসৃত হবে, কিন্তু যা প্রকম্পিত করা যায় না, সেগুলি স্থায়ী হবে।

[28] অতএব, আমরা যে রাজ্য গ্রহণ করতে চলেছি, তা প্রকম্পিত হবে না; তাই এসো আমরা কৃতজ্ঞ হই এবং শ্রদ্ধায় ও সম্ভ্রমে ঈশ্বরের প্রীতিজনক আরাধনা করি।

[29] কারণ আমাদের “ঈশ্বর গ্রাসকারী আগুনের মতো।”

ইব্রীয় — Chapters