Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 10:11

[1] এখন বিশ্বাস হল, যা আমরা আশা করি, সে বিষয়ের নিশ্চয়তা এবং যা আমরা দেখতে পাই না, তার অস্তিত্ব সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়া।

[2] এই কারণেই প্রাচীনকালের লোকেরা প্রশংসিত হয়েছিলেন।

[3] বিশ্বাসে আমরা বুঝতে পারি যে, নিখিল বিশ্ব ঈশ্বরের আদেশে রচিত হয়েছিল; যার ফলে, যা কিছু এখন আমরা দেখি, তা কোনো দৃশ্য বস্তু থেকে নির্মিত হয়নি।

[4] বিশ্বাসে হেবল কয়িনের চেয়ে উৎকৃষ্ট বলি ঈশ্বরের কাছে উত্সর্গ করেছিলেন। বিশ্বাসেই তিনি ধার্মিক বলে প্রশংসিত হয়েছিলেন, যখন ঈশ্বর তাঁর বলিদানের সপক্ষে কথা বলেছিলেন। যদিও তিনি মৃত, তবু আজও বিশ্বাসের দ্বারা তিনি কথা বলে চলেছেন।

[5] বিশ্বাসেই হনোককে এই জীবন থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, এই কারণে তিনি মৃত্যুর অভিজ্ঞতা লাভ করেননি। তাঁর সন্ধান পাওয়া গেল না, কারণ ঈশ্বর তাঁকে তুলে নিয়েছিলেন। ঊর্ধ্বে নীত হওয়ার পূর্বে, ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করেছিলেন বলে তিনি প্রশংসিত হয়েছিলেন।

[6] আবার বিশ্বাস ছাড়া ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করা অসম্ভব। কারণ যে ব্যক্তি তাঁর সান্নিধ্যে আসে, তাকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, তিনি আছেন এবং যারা আন্তরিকভাবে তাঁর অন্বেষণ করে, তিনি তাদের পুরস্কার দেন।

[7] বিশ্বাসে নোহ, যেসব বিষয় তখনও প্রত্যক্ষ হয়নি, সেগুলি সম্পর্কে সতর্কবাণী লাভ করে তাঁর পরিবারকে রক্ষা করার জন্য ভক্তিযুক্ত ভয়ে তাঁর বিশ্বাসের দ্বারা একটি জাহাজ নির্মাণ করলেন। বিশ্বাসের দ্বারা তিনি জগৎকে অপরাধী সাব্যস্ত করলেন এবং বিশ্বাসের দ্বারা যে ধার্মিকতা লাভ করা যায়, তিনি তার উত্তরাধিকারী হলেন।

[8] বিশ্বাসেই অব্রাহাম, যে স্থান তিনি ভাবীকালে উত্তরাধিকার হিসেবে লাভ করবেন, সেই স্থানে যাওয়ার আহ্বান পেয়ে গন্তব্যস্থান না জেনেই, বাধ্যতার সঙ্গে সেই স্থানে গেলেন।

[9] বিশ্বাসে তিনি প্রতিশ্রুত দেশে, বিদেশে আগন্তুকের মতো বসবাস করলেন। তিনি ইস্‌হাক ও যাকোবের মতো তাঁবুতে বাস করলেন, যাঁরা তাঁর সঙ্গে একই প্রতিশ্রুতির উত্তরাধিকারী ছিলেন।

[10] কারণ তিনি ভিত্তিযুক্ত সেই নগরের প্রতীক্ষায় ছিলেন, ঈশ্বরই যার স্থপতি ও নির্মাতা।

[11] বিশ্বাসে অব্রাহাম, যদিও বয়োবৃদ্ধ হয়েছিলেন—এবং সারা, যিনি বন্ধ্যা ছিলেন—তিনি পিতা হওয়ার সক্ষমতা লাভ করেছিলেন, কারণ যিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি তাঁকে বিশ্বস্ত মনে করেছিলেন।

[12] আর তাই এই একজন মানুষ, এক মৃতপ্রায় মানুষ থেকে আকাশের তারকারাশির মতো বহুসংখ্যক এবং সমুদ্রতটের বালুকণার মতো অগণিত বংশধর উৎপন্ন হল।

[13] এই সমস্ত লোক মৃত্যুবরণ করলেও, তাঁদের কাছে দেওয়া ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতিতে তাঁরা বিশ্বাস করেছিলেন। প্রতিশ্রুত দান তাঁরা লাভ করেননি; তাঁরা শুধু সেগুলি দর্শন করেছিলেন এবং দূর থেকে সেগুলিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তাঁরা স্বীকার করেছিলেন, এই পৃথিবীতে তাঁরা বহিরাগত ও আগন্তুক মাত্র।

[14] যাঁরা এসব কথা বলেন, তাঁরা স্পষ্ট ব্যক্ত করেন যে, তাঁরা নিজেদের জন্য একটি দেশের অনুসন্ধান করছেন।

[15] তাঁরা যদি তাঁদের ফেলে-আসা দেশের কথা ভাবতেন, তাহলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তাঁরা পেতেন।

[16] বরং, তাঁরা এর চেয়েও উৎকৃষ্ট, এক স্বর্গীয় দেশের আকাঙ্ক্ষা করছিলেন। তাই ঈশ্বর, তাঁদের ঈশ্বররূপে অভিহিত হতে লজ্জাবোধ করেননি, কারণ তাঁদের জন্য তিনি এক নগর প্রস্তুত করে রেখেছিলেন।

[17] বিশ্বাসে অব্রাহাম, ঈশ্বর যখন তাঁকে পরীক্ষা করলেন, তিনি ইস্‌হাককে বলিরূপে উত্সর্গ করলেন। যিনি ইতিপূর্বে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি লাভ করেছিলেন, তিনি তাঁর একমাত্র ও অনন্য পুত্রকে বলি দিতে উদ্যত হয়েছিলেন,

[18] যদিও ঈশ্বর তাঁকে বলেছিলেন, “ইস্‌হাকের মাধ্যমেই তোমার বংশ আখ্যাত হবে।”

[19] অব্রাহাম যুক্তি-বিবেচনা করেছিলেন যে, ঈশ্বর মৃত মানুষকেও উত্থাপিত করতে পারেন, তাই আলংকারিকরূপে বলা যেতে পারে, তিনি মৃত্যু থেকে ইসহাককে ফিরে পেয়েছিলেন।

[20] বিশ্বাসে ইস্‌হাক, যাকোব ও এষৌকে, তাঁদের ভাবীকাল সম্পর্কে আশীর্বাদ করেছিলেন।

[21] বিশ্বাসে যাকোব, মৃত্যুকালে যোষেফের উভয় পুত্রকে আশীর্বাদ করেছিলেন এবং তাঁর লাঠির উপর নির্ভর করে ঈশ্বরের উপাসনা করেছিলেন।

[22] বিশ্বাসে যোষেফ, যখন তাঁর অন্তিমকাল ঘনিয়ে এল, তিনি মিশর থেকে ইস্রায়েলীদের নির্গমনের কথা বলেছিলেন এবং তাঁর অস্থিগুলির বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

[23] বিশ্বাসে মোশির পিতামাতা, জন্মের পরে তিন মাস তাঁকে লুকিয়ে রেখেছিলেন, কারণ তাঁরা লক্ষ্য করেছিলেন, তিনি কোনও সাধারণ শিশু ছিলেন না। তাঁরা রাজার হুকুমনামায় ভীত হননি।

[24] বিশ্বাসে মোশি বড় হয়ে উঠলে, ফরৌণের কন্যার পুত্ররূপে পরিচিত হতে অস্বীকার করলেন।

[25] তিনি পাপের ক্ষণস্থায়ী সুখ উপভোগ করার বদলে, ঈশ্বরের প্রজাবৃন্দের সঙ্গে নির্যাতন ভোগ করাই শ্রেয় বলে মনোনীত করলেন।

[26] মিশরের ঐশ্বর্যের চেয়ে খ্রীষ্টের জন্য অপমান ভোগ করাকে তিনি আরও বেশি মূল্যবান বলে মনে করলেন, কারণ তিনি তাঁর দৃষ্টি ভাবী পুরস্কারের প্রতিই নিবদ্ধ করেছিলেন।

[27] রাজরোষকে ভয় না করে, তিনি বিশ্বাসে মিশর ত্যাগ করলেন। যিনি দৃষ্টির অগোচর, তিনি তাঁকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন বলে অবিচলিত ছিলেন।

[28] বিশ্বাসে তিনি নিস্তারপর্ব পালন ও রক্তসিঞ্চন করলেন, যেন প্রথমজাতদের ধ্বংসকারী দূত ইস্রায়েলের প্রথমজাতদের স্পর্শ না করেন।

[29] বিশ্বাসে ইস্রায়েলী লোকেরা শুষ্ক ভূমির মতো লোহিত-সমুদ্র পার হয়ে গেল, কিন্তু মিশরীয়রা তা করতে গিয়ে নিমজ্জিত হল।

[30] বিশ্বাসে যিরীহোর প্রাচীরগুলি পড়ে গেল, যখন ইস্রায়েলী লোকেরা সেগুলির চারদিকে সাতদিন ধরে প্রদক্ষিণ করল।

[31] বিশ্বাসে পতিতা রাহব, গুপ্তচরদের স্বাগত জানিয়েছিল বলে, যারা অবাধ্য হয়েছিল, তাদের সঙ্গে সে নিহত হয়নি।

[32] আমি আর কত বলব? গিদিয়োন, বারক, শিমশোন, যিপ্তহ, দাউদ, শমূয়েল ও ভাববাদীদের সম্পর্কে বলার মতো সময় আমার নেই।

[33] বিশ্বাসের মাধ্যমে তাঁরা বিভিন্ন রাজ্য জয় করেছিলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং প্রতিশ্রুত বিষয় লাভ করেছিলেন; তাঁরা সিংহের মুখ বন্ধ করেছিলেন,

[34] লেলিহান আগুনের শিখাকে নির্বাপিত করেছিলেন এবং ধারালো তরোয়াল থেকে নিস্তার পেয়েছিলেন; তাঁদের দুর্বলতা শক্তিতে পরিণত হয়েছিল; তাঁরা যুদ্ধে পরাক্রমী হয়েছিলেন ও বিজাতীয় সৈন্যবাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করেছিলেন।

[35] নারীরা তাদের মৃতজনেদের ফিরে পেয়েছিল, তাদের পুনরায় জীবন দান করা হয়েছিল। অন্যেরা যন্ত্রণাভোগ করেছিলেন এবং মুক্ত হতে অস্বীকার করেছিলেন, যেন তাঁরা এক উত্কৃষ্টতর পুনরুত্থানের অংশীদার হতে পারেন।

[36] কেউ কেউ বিদ্রুপ ও বেত্রাঘাত সহ্য করেছিলেন, অন্যেরা শৃঙ্খলিত ও কারারুদ্ধ হয়েছিলেন।

[37] তাঁদের প্রস্তরাঘাত করা হয়েছিল; করাত দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছিল; তরোয়ালের আঘাতে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁরা মেষের ছাল ও ছাগলের ছাল পরে ঘুরে বেড়াতেন; তাঁরা দীনদরিদ্রের মতো এবং অত্যাচারিত ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতেন।

[38] এই জগৎ তাঁদের জন্য যোগ্য স্থান ছিল না; তাঁরা বিভিন্ন মরুভূমিতে, পাহাড়-পর্বতে, গুহায় ও মাটির গর্তে আশ্রয় নিতেন।

[39] এঁরা সবাই বিশ্বাসের জন্য প্রশংসা লাভ করেছিলেন, তবুও এঁরা কেউই প্রতিশ্রুত বিষয় লাভ করেননি।

[40] ঈশ্বর উত্কৃষ্টতর কিছু আমাদের জন্য পরিকল্পনা করেছিলেন, যেন আমাদেরই সঙ্গে মিলিতভাবে তাঁদের সিদ্ধতা দান করা হয়।

ইব্রীয় — Chapters