Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 7:24

[1] খ্রীষ্টে আমি সত্যি কথাই বলছি—মিথ্যা বলছি না, পবিত্র আত্মায় আমার বিবেক তা সমর্থন করছে যে—

[2] আমার গভীর দুঃখ আছে ও হৃদয়ে আমি নিরবচ্ছিন্ন মর্মযন্ত্রণা অনুভব করছি।

[3] কারণ, যারা আমার স্বজাতি, আমার সেই ভাইবোনেদের জন্য যদি আমিই খ্রীষ্টের সঙ্গে সম্পর্কছিন্ন হয়ে অভিশপ্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করতে পারতাম!

[4] তারা হল ইস্রায়েল জাতি। দত্তকপুত্রের অধিকার তাদেরই, স্বর্গীয় মহিমাও তাদের, বিভিন্ন নিয়ম, বিধান-লাভ, মন্দির-কেন্দ্রিক উপাসনা ও প্রতিশ্রুতিসমূহ তাদেরই।

[5] পিতৃপুরুষেরা তাদের এবং খ্রীষ্টের মানবীয় বংশপরিচয় তাদের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায়, যিনি সর্বোপরি বিরাজমান ঈশ্বর, চির প্রশংসনীয়! আমেন।

[6] এরকম নয় যে, ঈশ্বরের বাক্য যেন ব্যর্থ হয়েছে। কারণ ইস্রায়েল বংশজাত সকলেই ইস্রায়েলী নয়।

[7] আবার অব্রাহামের বংশধর বলে তারা সকলেই যে তাঁর সন্তান, তাও নয়। এর প্রতিকূলে বলা হয়েছিল, “ইস্‌হাকের মাধ্যমেই তোমার বংশ পরিচিত হবে।”

[8] অন্যভাবে বলা যায়, স্বাভাবিকভাবে জাত সন্তানেরা ঈশ্বরের সন্তান নয়, কিন্তু প্রতিশ্রুতির সন্তানেরাই অব্রাহামের বংশধররূপে বিবেচিত হয়।

[9] কারণ এভাবে প্রতিশ্রুতি উক্ত হয়েছিল: “পূর্ব-নির্ধারিত সময়েই আমি ফিরে আসব, তখন সারা-র এক পুত্র হবে।”

[10] শুধু তাই নয়, রেবেকার সন্তানদেরও একমাত্র ও একই পিতা ছিলেন, তিনি আমাদের পিতৃপুরুষ ইস্‌হাক।

[11] তবুও, সেই দুজন যমজের জন্ম হওয়ার পূর্বে ও তাদের ভালো-মন্দ কোনো কাজ করার পূর্বেই মনোনয়নের ব্যাপারে ঈশ্বরের অভিপ্রায় যেন স্থির থাকে,

[12] কর্মের দ্বারা নয়, কিন্তু আহ্বানকারীর ইচ্ছার দ্বারা—তাঁকে বলা হয়েছিল, “জ্যেষ্ঠজন কনিষ্ঠজনের দাসত্ব করবে।”

[13] যেমন লিখিত আছে: “যাকোবকে আমি ভালোবেসেছি, কিন্তু এষৌকে আমি ঘৃণা করেছি।”

[14] তাহলে, এখন আমরা কী বলব? ঈশ্বর কি অন্যায় আচরণকারী? তা কখনোই নয়!

[15] কারণ তিনি মোশিকে বলেন, “যার প্রতি আমি দয়া করি, তার প্রতি দয়াই করব, আর যার প্রতি আমি সহানুভূতিশীল হই, তার প্রতি আমি সহানুভূতি দেখাব।”

[16] সেই কারণে, এ মানুষের ইচ্ছা বা চেষ্টার উপরে নির্ভর করে না, কিন্তু করে ঈশ্বরের করুণারই উপর।

[17] কারণ সমস্ত শাস্ত্র ফরৌণ-কে বলে, “আমি এই বিশেষ উদ্দেশ্যেই তোমাকে তুলে ধরেছি, যেন আমি আমার পরাক্রম তোমার উপরে প্রদর্শন করি এবং যেন আমার নাম সমস্ত পৃথিবীতে ঘোষিত হয়।”

[18] সেই কারণে, ঈশ্বর যার প্রতি দয়া করতে চান, তার প্রতি তাঁর দয়া আছে, কিন্তু যাকে কঠিন করতে চান, তাকে কঠিন করেন।

[19] এতে, তোমাদের মধ্যে কেউ আমাকে বলতে পারে, “তাহলে কেন ঈশ্বর এসব সত্ত্বেও আমাদের প্রতি দোষারোপ করেন? কারণ, কে তাঁর ইচ্ছার প্রতিরোধ করতে পারে?”

[20] কিন্তু ওহে মানব, তুমি কে যে ঈশ্বরের প্রতিবাদ করো? “সৃষ্টবস্তু কি তার নির্মাতাকে একথা বলতে পারে, ‘তুমি কেন আমাকে এরকম গঠন করেছ?’ ”

[21] একই মাটির তাল থেকে অভিজাত উদ্দেশে ব্যবহারের জন্য কিছু পাত্র এবং সাধারণ ব্যবহারের জন্য কিছু পাত্র নির্মাণ করার অধিকার কি কুমোরের নেই?

[22] কী হবে, যদি ঈশ্বর তাঁর ক্রোধ প্রকাশ করার ও তাঁর ক্ষমতাকে অবহিত করার জন্য ধ্বংসের উদ্দেশে নির্দিষ্ট তাঁর ক্রোধের পাত্রদের অসীম ধৈর্য সহকারে সহ্য করেন?

[23] আর এতেই বা কী, তিনি যদি তাঁর করুণার পাত্রদের, যাদের মহিমাপ্রাপ্তির জন্য তিনি পূর্ব থেকেই প্রস্তুত করেছিলেন, তাদের কাছে তাঁর মহিমার ঐশ্বর্য প্রকাশ করেন—

[24] এমনকি, আমাদের কাছেও, যাদের তিনি কেবলমাত্র ইহুদি জাতির মধ্য থেকে নয়, কিন্তু অইহুদিদের মধ্য থেকেও আহ্বান করেছেন?

[25] হোশেয়ের গ্রন্থে যেমন তিনি বলেছেন: “যারা আমার প্রজা নয়, তাদের ‘আমার প্রজা’ আমি বলব; আর যে আমার প্রেমের পাত্রী নয়, তাকে আমি ‘আমার প্রিয়তমা’ বলে ডাকব।”

[26] আবার, “এরকম ঘটবে, যে স্থানে তাদের বলা হতো, ‘তোমরা আমার প্রজা নও,’ তাদের বলা হবে, ‘জীবন্ত ঈশ্বরের পুত্র।’ ”

[27] যিশাইয় ইস্রায়েল সম্পর্কে উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেন, “ইস্রায়েলীদের জনসংখ্যা যদি সমুদ্রতীরের বালুকারাশির মতোও হয়, কেবলমাত্র অবশিষ্টাংশই পরিত্রাণ পাবে।

[28] কারণ প্রভু দ্রুতগতিতে ও চরমভাবে পৃথিবীতে তাঁর দণ্ডাদেশ কার্যকর করবেন।”

[29] যিশাইয় যেমন পূর্বেই একথা বলেছিলেন: “সর্বশক্তিমান প্রভু যদি কয়েকজন বংশধর অবশিষ্ট না রাখতেন, আমাদের অবস্থা হত সদোমের মতো, আমরা হতাম ঘমোরার সদৃশ।”

[30] তাহলে আমরা কী বলব? অইহুদিরা, যারা ধার্মিকতা লাভের জন্য চেষ্টা করেনি, তা তারা প্রাপ্ত হয়েছে, তা এমন ধার্মিকতা, যা বিশ্বাসের দ্বারা লব্ধ হয়েছে।

[31] কিন্তু ইস্রায়েল, যারা ধার্মিকতার বিধান অনুসরণ করেছে, তা তারা অর্জন করতে পারেনি।

[32] কেন পারেনি? কারণ তারা বিশ্বাসের দ্বারা তার অনুসরণ না করে, যেন বিভিন্ন কর্মের দ্বারা তা করেছিল। তারা সেই “প্রতিবন্ধকতার প্রস্তরে” হোঁচট খেয়েছে।

[33] যেমন লিখিত আছে, “দেখো, আমি সিয়োনে এক প্রস্তর রেখেছি, যার মধ্যে মানুষেরা হোঁচট খাবে, আর একটি শিলা স্থাপন করেছি, যার কারণে তারা পতিত হবে, আর যে কেউ তাঁর উপরে বিশ্বাস করবে, সে কখনও লজ্জিত হবে না।”

রোমীয় — Chapters