[1] আমি তাই জিজ্ঞাসা করি: ঈশ্বর কি তাঁর প্রজাদের অগ্রাহ্য করেছেন? কোনোভাবেই নয়! আমি স্বয়ং একজন ইস্রায়েলী, বিন্যামীন গোষ্ঠীভুক্ত, অব্রাহামের এক বংশধর।
[2] ঈশ্বর যাদের পূর্ব থেকেই জানতেন, তাঁর সেই প্রজাদের তিনি অগ্রাহ্য করেননি। এলিয়ের ইতিহাসে শাস্ত্র কী বলে, তা কি তোমরা জানো না কীভাবে তিনি ইস্রায়েল জাতির বিরুদ্ধে আবেদন করেছিলেন:
[3] “প্রভু, তারা তোমার ভাববাদীদের হত্যা করেছে ও তোমার যজ্ঞবেদিগুলি চূর্ণবিচূর্ণ করেছে, কেবলমাত্র আমি একা বেঁচে আছি, আর তারা আমাকেও হত্যা করতে চেষ্টা করছে?”
[4] কিন্তু ঈশ্বর তাঁকে কী উত্তর দিয়েছিলেন? “বায়াল-দেবতার সামনে যারা নতজানু হয়নি, এমন 7,000 মানুষকে আমি আমার জন্য সংরক্ষিত রেখেছি।”
[5] একইভাবে, বর্তমান সময়েও অনুগ্রহের দ্বারা মনোনীত এক অবশিষ্টাংশ রয়েছে।
[6] আর যদি অনুগ্রহের দ্বারা হয়, তাহলে তা আর কর্মের পরিণামে নয়; তা যদি হত, তাহলে অনুগ্রহ আর অনুগ্রহ থাকত না।
[7] তাহলে ব্যাপারটি দাঁড়াল কী? ইস্রায়েল যা এত আগ্রহভরে অন্বেষণ করল, তা তারা পেল না, কিন্তু নির্বাচিতেরা তা পেল। অপর সকলে কঠোরমনা হয়েছিল,
[8] যেমন লিখিত আছে: “ঈশ্বর তাদের এক অচেতন আত্মা দিয়েছেন, চোখ দিয়েছেন, যেন তারা দেখতে না পায় ও কান, যেন তারা শুনতে না পায়, আজও পর্যন্ত।”
[9] আর দাউদ বলেন, “তাদের টেবিলের খাবার হোক জাল ও ফাঁদস্বরূপ, তাদের পক্ষে এক প্রতিবন্ধক ও প্রতিফলস্বরূপ।
[10] তাদের চোখ-দুটি অন্ধকারে পূর্ণ হোক, যেন তারা দেখতে না পায় ও চিরদিনের জন্য তাদের পৃষ্ঠদেশ কুব্জ হোক।”
[11] আমি আবার জিজ্ঞাসা করি, তারা কি এজন্যই হোঁচট খেয়েছে, যেন পতিত হয় ও আর কখনও উঠে দাঁড়াতে না পারে? আদৌ তা নয়! বরং, তাদের অপরাধের কারণেই অইহুদিরা পরিত্রাণ লাভ করেছে, যেন ইস্রায়েলীরা ঈর্ষাকাতর হয়ে ওঠে।
[12] কিন্তু যদি তাদের অপরাধের ফলে জগতের শ্রীবৃদ্ধি হয় এবং তাদের ক্ষতি যদি অইহুদিদের সমৃদ্ধির কারণ হয়, তাহলে তাদের পূর্ণতা আরও কত না মহত্তর সমৃদ্ধি বহন করে আনবে!
[13] হে অইহুদি লোকেরা, আমি তোমাদের বলছি, আমি অইহুদিদের কাছে প্রেরিতশিষ্যস্বরূপ। তাই ঈশ্বর ও অন্যদের প্রতি আমি যে কাজ করি তাতে আমি গর্ববোধ করছি।
[14] আশা করি আমি যে কোনো উপায়ে যেন আমার স্বজাতীয়দের মধ্যে ঈর্ষা উৎপন্ন করতে পারি ও তাদের কয়েকজনের পরিত্রাণ সাধন করতে পারি।
[15] কারণ তাদের প্রত্যাখ্যানের ফলে যদি জগতের পুনর্মিলন হয়েছে, তাহলে তাদের গ্রহণ করার ফলে কী হবে, মৃত্যু থেকে জীবন লাভ কি নয়?
[16] ময়দার তালের প্রথম অংশ, যা নৈবেদ্যরূপে উত্সর্গীকৃত হয়, তা যদি পবিত্র হয়, তাহলে সমস্ত তাল-ই পবিত্র; যদি বৃক্ষমূল পবিত্র হয়, তাহলে তার শাখাগুলিও পবিত্র।
[17] যদি কতগুলি শাখাপ্রশাখা ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং তুমি বন্য জলপাই গাছের শাখা হলেও অন্যদের মধ্যে তোমাকে জোড়-কলমরূপে লাগানো হয়েছে এবং এখন তুমি জলপাই গাছের মূলের পুষ্টিকর রসের অংশীদার হয়েছ,
[18] তাহলে ওইসব শাখার বিরুদ্ধে গর্ব কোরো না। যদি তুমি করো, এ বিষয়ে বিবেচনা কোরো: তুমি মূলকে ধরে রাখছ না, বরং মূল-ই তোমাকে ধরে রেখেছে।
[19] তুমি তখন বলবে, “শাখাগুলিকে ভেঙে ফেলা হয়েছিল, যেন আমাকে জোড়-কলমরূপে লাগানো হয়।”
[20] বেশ কথা! তুমি বিশ্বাসের উপরে দাঁড়িয়ে আছো, কিন্তু অবিশ্বাসের কারণে তাদের ভেঙে ফেলা হয়েছিল। তাই, উদ্ধত হয়ো না, কিন্তু ভীত হও।
[21] কারণ ঈশ্বর যদি প্রকৃত শাখাগুলিকে রেহাই না দিয়ে থাকেন, তিনি তোমাকেও দেবেন না!
[22] সেই কারণে, ঈশ্বরের সদয়তা ও কঠোরতা, উভয়ই বিবেচনা করো: যারা পতিত হয়, তাদের প্রতি তিনি কঠোর, কিন্তু তোমার প্রতি সদয়, যদি তুমি তাঁর সদয়তার শরণাপন্ন থাকো। নতুবা, তোমাকেও কেটে ফেলা হবে।
[23] আবার, তারা যদি অবিশ্বাসে অবিচল না থাকে, তাদেরও জোড়-কলমরূপে লাগানো যাবে, কারণ ঈশ্বর পুনরায় তাদের জোড়-কলমরূপে লাগাতে সমর্থ।
[24] সর্বোপরি, তোমাকে যদি প্রকৃতিগতভাবে কোনো বন্য জলপাই গাছ থেকে কেটে, প্রকৃতির বিপরীতে রোপণ করা জলপাই গাছে জোড়-কলম করা হয়েছে, তাহলে আরও কত না অনায়াসে প্রকৃত শাখাগুলিকে তাদের নিজস্ব জলপাই গাছের সঙ্গে জোড়-কলম করা যাবে?
[25] ভাইবোনেরা, আমি চাই না যে এই গুপ্তরহস্য সম্পর্কে তোমরা অজ্ঞাত থাকো, যেন তোমরা আত্ম-অহংকারী না হও: ইস্রায়েল জাতি আংশিক পরিমাণে কঠোর হয়েছে, যতক্ষণ না অইহুদিরা পূর্ণ সংখ্যায় মণ্ডলীতে প্রবেশলাভ করে।
[26] আর এভাবেই সমস্ত ইস্রায়েল পরিত্রাণ লাভ করবে, যেমন লিখিত আছে, “সিয়োন থেকে মুক্তিদাতা আসবেন; তিনি যাকোব কুল থেকে ভক্তিহীনতা দূর করবেন।
[27] আর এই হবে তাদের সঙ্গে আমার নিয়ম, যখন তাদের পাপসকল আমি হরণ করি।”
[28] সুসমাচার সম্পর্কে বলতে গেলে তারা তোমাদের কারণে ঈশ্বরের শত্রু, কিন্তু মনোনয়নের সম্পর্কে, তারা পিতৃপুরুষদের কারণে প্রিয়পাত্র।
[29] কারণ ঈশ্বরের অনুগ্রহ-দানসকল ও তাঁর আহ্বান অনড়।
[30] যেমন তোমরা এক সময় ঈশ্বরের অবাধ্য ছিলে, কিন্তু এখন তাদের অবাধ্যতার কারণে করুণা লাভ করেছ,
[31] তেমনই তারাও এখন অবাধ্য হয়েছে, যেন তোমাদের প্রতি ঈশ্বরের করুণার জন্য তারাও এখন করুণা লাভ করে।
[32] কারণ ঈশ্বর সব মানুষকে অবাধ্যতার কাছে রুদ্ধ করেছেন, যেন তিনি তাদের সকলেরই প্রতি করুণা করতে পারেন।
[33] আহা, ঈশ্বরের প্রজ্ঞার ঐশ্বর্য ও জ্ঞান কত গভীর! তাঁর বিচারসকল কেমন অন্বেষণের অতীত, তাঁর পথসকল অনুসন্ধান করা যায় না!
[34] “প্রভুর মন কে জানতে পেরেছে? কিংবা কে তাঁর উপদেষ্টা হয়েছে?”
[35] “কে কখন ঈশ্বরকে কিছু দিয়েছে, যে ঈশ্বর তা পরিশোধ করবেন?”
[36] কারণ সকল বস্তুর উদ্ভব তাঁর থেকে, তাঁর মাধ্যমে ও তাঁরই জন্য, তাঁরই মহিমা হোক চিরকাল! আমেন।