Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 4:36

[1] অতএব, ভাইবোনেরা, ঈশ্বরের বহুবিধ করুণার পরিপ্রেক্ষিতে, আমি তোমাদের কাছে মিনতি করছি, তোমরা তোমাদের শরীরকে জীবন্ত বলিরূপে, পবিত্র ও ঈশ্বরের গ্রহণযোগ্যরূপে উত্সর্গ করো—তাই হবে তোমাদের যুক্তিসংগত আরাধনা।

[2] আর তোমরা এই জগতের রীতি অনুযায়ী চলো না, কিন্তু তোমাদের মনের নবীকরণ দ্বারা স্বরূপান্তরিত হও। তখন তোমরা ঈশ্বরের ইচ্ছাকে যাচাই ও অনুমোদন করতে পারবে, যা উৎকৃষ্ট, প্রীতিজনক ও সিদ্ধ।

[3] কারণ যে অনুগ্রহ আমাকে দত্ত হয়েছে, তার গুণে আমি তোমাদের প্রত্যেকজনকে বলছি: তোমরা নিজেদের সম্বন্ধে যেমন উপযুক্ত, তার থেকে আরও উচ্চ ধারণা পোষণ কোরো না, কিন্তু ঈশ্বর তোমাকে যে পরিমাণ বিশ্বাস দান করেছেন, সেই অনুযায়ী, সংযমী বিচার দ্বারা নিজের বিষয়ে চিন্তা কোরো।

[4] যেমন আমাদের প্রত্যেকজনের একই শরীরে বহু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আছে, আর এসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কর্মপ্রণালী এক নয়,

[5] তেমনই খ্রীষ্টে অনেকে যে আমরা, আমরা এক শরীর গঠন করি এবং প্রত্যেক সদস্য অপর সদস্যদের অধিকারস্বরূপ হয়ে থাকি।

[6] আমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ দত্ত হয়েছে, সেই অনুযায়ী আমাদের বিভিন্ন বরদান আছে। যদি কোনো মানুষের বরদান হয় ভাববাণী বলা, তাহলে সে তার বিশ্বাসের মাত্রা অনুযায়ী তা ব্যবহার করুক।

[7] যদি তা হয় সেবাকর্ম করার, তাহলে সে সেবা করুক; যদি তা হয় শিক্ষাদানের, তাহলে সে শিক্ষাদান করুক;

[8] যদি তা হয় উৎসাহদানের, তবে উৎসাহ দান করুক। তা যদি হয় অন্যের প্রয়োজনে দান করার, সে উদারভাবে দান করুক; যদি তা হয় নেতৃত্বদানের, সে নিষ্ঠার সঙ্গে শাসন করুক; তা যদি হয় করুণা-প্রদর্শনের, সে আনন্দের সঙ্গেই তা করুক।

[9] ভালোবাসা অকপট হোক। যা মন্দ, তা ঘৃণা করো, যা ভালো, তার প্রতি আসক্ত হও।

[10] ভ্রাতৃসম প্রেমে তোমরা পরস্পরের প্রতি অনুরক্ত হও। নিজেদের থেকেও বেশি একজন অপরজনকে সম্মান করো।

[11] কর্ম উদ্যোগে শিথিল হোয়ো না, কিন্তু আত্মায় উদ্দীপিত থেকো ও প্রভুর সেবা করো।

[12] প্রত্যাশায় আনন্দ করো, কষ্ট-সংকটে সহিষ্ণু হও, প্রার্থনায় বিশ্বস্ত থেকো।

[13] অভাবগ্রস্ত ঈশ্বরের লোকদের সাহায্য করো। আতিথেয়তার চর্চা করো।

[14] যারা তোমাদের নির্যাতন করে, তাদের আশীর্বাদ করো; আশীর্বাদ করো, অভিশাপ দিয়ো না।

[15] যারা আনন্দ করে, তাদের সঙ্গে আনন্দ করো; যারা শোক করে, তাদের সঙ্গে শোক করো।

[16] পরস্পরের প্রতি তোমরা সমমনা হও। দাম্ভিক হোয়ো না, কিন্তু অনুন্নত শ্রেণীর মানুষদের সঙ্গে সহযোগিতা করায় ইচ্ছুক হও। নিজেকে বিজ্ঞ বলে মনে কোরো না।

[17] মন্দের পরিশোধে কারও মন্দ কোরো না। সকলের দৃষ্টিতে যা ন্যায়সঙ্গত, তা করতে যত্নবান হও।

[18] যদি সম্ভব হয়, তোমার পক্ষে যতদূর সাধ্য, সকলের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করো।

[19] হে আমার প্রিয় বন্ধুগণ, তোমরা প্রতিশোধ গ্র্রহণ কোরো না, কিন্তু ঈশ্বরের ক্রোধের জন্য স্থান ছেড়ে দাও, কারণ একথা লিখিত আছে: “প্রতিশোধ গ্রহণ করা আমার কর্ম, আমি-ই প্রতিফল দেব,” একথা প্রভু বলেন।

[20] বরং, “তোমার শত্রু যদি ক্ষুধিত হয়, তাকে খেতে দাও; যদি সে তৃষ্ণার্ত হয়, তাকে পান করার কিছু দাও। এরকম করলে, তুমি তার মাথায় জ্বলন্ত অঙ্গার স্তূপীকৃত করে রাখবে।”

[21] তুমি মন্দের দ্বারা পরাজিত হোয়ো না, বরং উত্তমের দ্বারা মন্দকে পরাস্ত করো।

রোমীয় — Chapters