Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 9:08

[1] অতএব, এখন যারা খ্রীষ্ট যীশুতে আছে, তাদের প্রতি কোনও দণ্ডাদেশ নেই,

[2] কারণ খ্রীষ্ট যীশুর মাধ্যমে জীবনের আত্মার যে বিধান, তা আমাকে পাপ ও মৃত্যুর বিধান থেকে মুক্ত করেছে।

[3] বিধান রক্তমাংসের দ্বারা দুর্বল হওয়াতে যা করতে অক্ষম হয়েছে, ঈশ্বর পাপময় মানুষের সাদৃশ্যে তাঁর নিজ পুত্রকে পাপ-বলিরূপে উত্সর্গীকৃত হওয়ার জন্য প্রেরণ করে, তা-ই সম্পাদন করেছেন। এভাবে তিনি পাপময় মানুষের মধ্যে পাপের দণ্ডবিধান করলেন,

[4] যেন বিধানের ধর্মময় দাবিগুলি আমাদের মধ্যে, যারা পাপময় প্রকৃতি অনুযায়ী জীবনযাপন করি না, কিন্তু আত্মার বশ্যতাধীন হয়ে করি, তাদের মধ্যে পূর্ণরূপে সার্থক হয়ে ওঠে।

[5] যারা পাপময় প্রকৃতি অনুযায়ী জীবনযাপন করে, সেই প্রকৃতি যা চায়, তার উপর তারা তাদের মনোনিবেশ করে। কিন্তু যারা পবিত্র আত্মার বশে জীবনযাপন করে, তাদের মন পবিত্র আত্মা যা চান, তার প্রতিই নিবিষ্ট থাকে।

[6] রক্তমাংসের উপরে নিবদ্ধ মানসিকতার পরিণাম হল মৃত্যু, কিন্তু পবিত্র আত্মার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মানিসকতা হল জীবন ও শান্তি।

[7] রক্তমাংসের মানসিকতা হল ঈশ্বরের বিরুদ্ধে শত্রুতা। এ ঈশ্বরের বিধানের প্রতি বশীভূত থাকে না, আর তেমন থাকতেও পারে না।

[8] যারা রক্তমাংসের স্বভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তারা ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারে না।

[9] তোমরা অবশ্য রক্তমাংসের দ্বারা নয়, কিন্তু পবিত্র আত্মা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যদি ঈশ্বরের আত্মা তোমাদের মধ্যে বসবাস করেন। আর যার মধ্যে খ্রীষ্টের আত্মা নেই, সে খ্রীষ্টের নয়।

[10] কিন্তু খ্রীষ্ট যদি তোমাদের মধ্যে থাকেন, পাপের কারণে তোমাদের শরীর মৃত হলেও ধার্মিকতার কারণে তোমাদের আত্মা জীবিত।

[11] যিনি যীশুকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছেন, তাঁর আত্মা যদি তোমাদের মধ্যে বসবাস করেন, তাহলে যিনি খ্রীষ্টকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করেছেন, তিনি তোমাদের নশ্বর শরীরকেও তাঁর আত্মার মাধ্যমে সঞ্জীবিত করবেন, যিনি তোমাদের অন্তরে বসবাস করেন।

[12] অতএব ভাইবোনেরা, আমাদের আইনগত এক বাধ্যবাধকতা আছে—তা কিন্তু রক্তমাংসের বশে জীবনযাপন করার জন্য নয়।

[13] কারণ তোমরা যদি রক্তমাংসের বশ্যতাধীনে জীবনযাপন করো, তোমাদের মৃত্যু হবে; কিন্তু পবিত্র আত্মার দ্বারা যদি শরীরের অপকর্মগুলি মৃত্যুসাৎ করো, তোমরা জীবিত থাকবে।

[14] কারণ যত মানুষ ঈশ্বরের আত্মা দ্বারা চালিত হয়, তারাই ঈশ্বরের পুত্র।

[15] প্রকৃতপক্ষে, তোমরা আবার ক্রীতদাস হওয়ার জন্য কোনো আত্মাকে গ্রহণ করোনি, যে ভয় করবে, কিন্তু তোমরা লাভ করছে দত্তকপুত্রত্বের আত্মা। তাঁরই দ্বারা আমরা ডেকে উঠি “আব্বা! পিতা” বলে।

[16] পবিত্র আত্মা স্বয়ং আমাদের আত্মার সঙ্গে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আমরা ঈশ্বরের সন্তান।

[17] এখন, যদি আমরা সন্তান হই, তাহলে আমরা উত্তরাধিকারীও—ঈশ্বরের উত্তরাধিকারী ও খ্রীষ্টের সঙ্গে সহ-উত্তরাধিকারী, যদি আমরা প্রকৃতই তাঁর কষ্টভোগের অংশীদার হই, যেন আমরা তাঁর মহিমারও অংশীদার হতে পারি।

[18] আমি এরকম মনে করি যে, আমাদের মধ্যে যে মহিমার প্রকাশ ঘটবে, আমাদের বর্তমানকালের কষ্টভোগ তার কোনো তুলনা হতে পারে না।

[19] ঈশ্বরের পুত্রদের প্রকাশের প্রতীক্ষায় সমস্ত সৃষ্টি সাগ্রহে অপেক্ষা করে আছে।

[20] কারণ সৃষ্টি ব্যর্থতায় কবলিত হয়েছিল, তার নিজের ইচ্ছায় নয়, কিন্তু যিনি তাকে কবলিত করেছিলেন, তাঁর ইচ্ছায়;

[21] প্রত্যাশা ছিল এই যে, সৃষ্টি স্বয়ং অবক্ষয়ের বন্ধন থেকে মুক্ত হবে এবং ঈশ্বরের সন্তানদের গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতায় আনীত হবে।

[22] আমরা জানি যে, সমস্ত সৃষ্টি বর্তমানকাল পর্যন্ত সন্তান-প্রসবের যন্ত্রণার মতো আর্তনাদ করছে।

[23] শুধু তাই নয়, কিন্তু আমরা নিজেরাও, যারা আত্মার প্রথম ফল লাভ করেছি, আমাদের দত্তকপুত্রত্বের স্বীকৃতি পাওয়ার উদগ্র প্রতীক্ষায় ও শরীরের মুক্তির জন্য অন্তরে আর্তস্বর করছি।

[24] কারণ এই প্রত্যাশাতেই আমরা পরিত্রাণ লাভ করেছি। কিন্তু যে প্রত্যাশা দৃষ্টিগোচর, তা আদৌ কোনো প্রত্যাশা নয়। যার ইতিমধ্যে কিছু আছে, তার জন্য কেন সে প্রত্যাশা করবে?

[25] কিন্তু যা আমাদের নেই, তার জন্য যদি আমরা প্রত্যাশা করি, তাহলে তার জন্য ধৈর্যসহ প্রতীক্ষা করি।

[26] একইভাবে পবিত্র আত্মা আমাদের দুর্বলতায় আমাদের সাহায্য করেন। যথোচিতভাবে কী প্রার্থনা করতে হয়, তা আমরা জানি না, কিন্তু পবিত্র আত্মা স্বয়ং আমাদের পক্ষে আর্তস্বরে প্রার্থনা করেন, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

[27] যিনি আমাদের সকলের হৃদয় অনুসন্ধান করেন, তিনি পবিত্র আত্মার মানসিকতা জানেন, কারণ পবিত্র আত্মা ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ীই সন্তজনেদের জন্য মিনতি করেন।

[28] আর আমরা জানি যে, যারা ঈশ্বরকে ভালোবাসে, যারা তাঁর অভিপ্রায় অনুসারে আহূত, তিনি সর্ববিষয়ে তাদের মঙ্গলসাধনের জন্য কাজ করেন।

[29] কারণ ঈশ্বর যাদের পূর্ব থেকে জানতেন, তিনি তাদের তাঁর পুত্রের সদৃশ হওয়ার জন্য পূর্ব থেকে নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন, যেন তিনি বহু ভাইয়ের মধ্যে প্রথমজাত হন।

[30] আবার যাদের তিনি পূর্ব থেকে নির্দিষ্ট করেছিলেন, তাদের তিনি আহ্বানও করলেন, যাদের আহ্বান করলেন, তিনি তাদের নির্দোষ প্রতিপন্ন করলেন, যাদের নির্দোষ প্রতিপন্ন করলেন, তাদের মহিমান্বিতও করলেন।

[31] এসবের প্রত্যুত্তরে তাহলে আমরা কী বলব? ঈশ্বর যদি আমাদের পক্ষে থাকেন, তাহলে কে আমাদের বিরোধী হতে পারে?

[32] যিনি তাঁর নিজ পুত্রকেও নিষ্কৃতি দেননি, কিন্তু আমাদের সকলের জন্য তাঁকে সমর্পণ করেছেন—তিনি কি তাঁর সঙ্গে সবকিছুই কৃপাপূর্বক আমাদের দান করবেন না?

[33] ঈশ্বর যাদের মনোনীত করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কে অভিযোগ উত্থাপন করবে? ঈশ্বরই নির্দোষ প্রতিপন্ন করেন।

[34] কে তাহলে দোষী সাব্যস্ত করবে? খ্রীষ্ট যীশু, যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন—তার চেয়েও বড় কথা, যাঁকে জীবনে উত্থাপিত করা হয়েছিল—তিনি ঈশ্বরের দক্ষিণে উপস্থিত আছেন এবং আমাদের জন্য অনুরোধও করছেন।

[35] খ্রীষ্টের প্রেম থেকে কে আমাদের বিচ্ছিন্ন করবে? তা কি কষ্ট-সংকট, না দুর্দশা, না নির্যাতন, না দুর্ভিক্ষ, না নগ্নতা, না বিপদ, না তরোয়াল?

[36] যেমন লিখিত আছে, “তোমার কারণে আমরা সমস্ত দিনই মৃত্যুর সম্মুখীন হই, আমরা বধ্য মেষের মতো বিবেচিত হয়েছি।”

[37] না, যিনি আমাদের প্রেম করেছেন, তাঁরই মাধ্যমে আমরা এসব বিষয়ে বিজয়ী থেকেও বেশি বিজয়ী হয়েছি।

[38] কারণ আমি নিশ্চিতরূপে জানতে পেরেছি যে, মৃত্যু বা জীবন, স্বর্গদূতেরা বা ভূতেরা, বর্তমান বা ভাবীকালের কোনো বিষয়, না কোনও পরাক্রম,

[39] ঊর্ধ্বলোক বা অধোলোক বা সমস্ত সৃষ্টির অন্য কোনও বিষয়, কোনো কিছুই আমাদের প্রভু, খ্রীষ্ট যীশুতে অবস্থিত ঈশ্বরের প্রেম থেকে আমাদের বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হবে না।

রোমীয় — Chapters