Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 6:40

[1] অতএব, তুমি যে অন্য কারও বিচার করে থাকো, তোমার অজুহাত দেওয়ার মতো কিছু নেই, কারণ যে বিষয়ে তুমি অন্য মানুষের বিচার করো, তুমি নিজেকেই সে বিষয়ে অপরাধী করে তুলছ, কারণ তোমরা যারা বিচার করো, তোমরাও একই কর্ম করে থাকো।

[2] এখন, আমরা জানি যে, যারা এই ধরনের আচরণে লিপ্ত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে ঈশ্বরের বিচারদণ্ড সত্যের উপরে ভিত্তি করে হয়।

[3] তাহলে, তোমরা যখন নিছক মানুষ হয়ে তাদের উপরে দণ্ডাদেশ ঘোষণা করো, অথচ নিজেরাও একই কর্ম করো, তোমরা কি মনে করো যে তোমরা ঈশ্বরের ন্যায়বিচার এড়াতে পারবে?

[4] অথবা তোমরা কি তাঁর সদয়তা, সহিষ্ণুতা ও ধৈর্যরূপ ঐশ্বর্যের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করছ, একথা না-বুঝে যে, ঈশ্বরের সদয়তা তোমাদের অনুতাপের পথে চালিত করে?

[5] কিন্তু তোমাদের অনমনীয় ও অনুতাপহীন হৃদয়ের কারণে, তোমরা নিজেদেরই উপরে ঈশ্বরের সেই ক্রোধবর্ষণের দিনের জন্য ঈশ্বরের ক্রোধ পুঞ্জীভূত করছ, যেদিন তাঁর ধর্মময় ন্যায়বিচার প্রকাশিত হবে।

[6] ঈশ্বর “প্রত্যেক মানুষকে তার কর্ম অনুয়ায়ী প্রতিফল দেবেন।”

[7] যারা নিরবচ্ছিন্ন সৎকর্মের দ্বারা মহিমা, সমাদর ও অবিনশ্বরতার অন্বেষী হয়, তিনি তাদের দেবেন অনন্ত জীবন।

[8] কিন্তু যারা স্বার্থচেষ্টা করে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং মন্দের অনুসারী হয়, তাদের উপরে ক্রোধ ও রোষ বর্ষিত হবে।

[9] যারা দুষ্কর্ম করে, সেই প্রত্যেকজন মানুষের কষ্ট-সংকট ও দুঃখ-যন্ত্রণা হবে: প্রথমে ইহুদিদের, পরে অইহুদিদের;

[10] কিন্তু যারাই সৎকর্ম করে, তাদের প্রত্যেকজন লাভ করবে গৌরব, সম্মান ও শান্তি: প্রথমে ইহুদিরা, পরে অইহুদিরাও।

[11] কারণ ঈশ্বরের কাছে কোনও পক্ষপাতিত্ব নেই।

[12] বিধান ছাড়া যত মানুষ পাপ করে, বিধান ছাড়াই তারা ধ্বংস হবে। আবার বিধানের অধীনে থেকে যারা পাপ করে, তারা বিধানের দ্বারাই বিচারিত হবে।

[13] কারণ, যারা বিধান শ্রবণ করে, তারা যে ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ধার্মিক পরিগণিত হয়, তা নয়, কিন্তু যারা বিধান পালন করে, তারাই ধার্মিক বলে ঘোষিত হবে।

[14] (বাস্তবিক, অইহুদিদের কাছে বিধান না-থাকলেও, তারা যখন স্বাভাবিকভাবেই বিধানসম্মত আচরণ করে, তখন তাদের কাছে বিধান না-থাকলেও, তারা নিজেরাই নিজেদের বিধান হয়ে ওঠে,

[15] কারণ তারা দেখায় যে, বিধানের চাহিদাগুলি তাদের হৃদয়ে লিখিত আছে, তাদের বিবেকও সেই সাক্ষ্য বহন করে এবং তাদের চিন্তাভাবনাগুলি এখন হয় তাদের অভিযুক্ত করে, নয়তো তাদের পক্ষসমর্থন করে)

[16] তা সেদিন সংঘটিত হবে, যখন ঈশ্বর যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে মানুষের গুপ্ত বিষয়গুলির বিচার করবেন, যেমন আমার সুসমাচার ঘোষণা করে।

[17] এখন তুমি, যদি নিজেকে ইহুদি বলে অভিহিত করে থাকো, তুমি যদি বিধানের উপরে আস্থা রেখে থাকো এবং ঈশ্বরের সঙ্গে তোমার সম্পর্কের কারণে দম্ভপ্রকাশ করো,

[18] যদি তুমি তাঁর ইচ্ছা জেনে থাকো এবং যেহেতু বিধানের দ্বারা নির্দেশিত হয়েছ, তাই যে কিছু উৎকৃষ্ট, সেগুলির অনুমোদন করে থাকো,

[19] যদি তুমি নিশ্চিতরূপে উপলব্ধি করেছ যে, তুমিই অন্ধের একজন পথপ্রদর্শক, যারা অন্ধকারে আছে, তাদের পক্ষে এক জ্যোতিস্বরূপ,

[20] মূর্খদের জ্ঞানদাতা, শিশুদের শিক্ষাদাতা, কারণ জ্ঞান ও সত্যের মূর্তপ্রকাশ তুমি লাভ করছে বিধানের মধ্যে—

[21] তাহলে তুমি যে অপরকে শিক্ষা দাও, তুমি কি নিজেকে শিক্ষা দাও না? তুমি যে চুরি না করার শিক্ষা দাও, তুমি কি চুরি করো?

[22] তুমি বলে থাকো, লোকেরা যেন ব্যভিচার না করে, অথচ তুমি নিজে কি ব্যভিচার করছ? তুমি যে প্রতিমাদের ঘৃণা করো, তুমি কি মন্দির লুণ্ঠন করছ?

[23] তুমি বিধানের জন্য গর্ব করে থাকো, অথচ নিজে কি বিধান ভঙ্গ করে ঈশ্বরের অবমাননা করছ?

[24] যেমন লিখিত আছে, “তোমাদেরই কারণে অইহুদিদের মধ্যে ঈশ্বরের নাম নিন্দিত হচ্ছে।”

[25] তুমি যদি বিধান পালন করো, তাহলে সুন্নত হয়ে লাভ আছে। কিন্তু তুমি যদি বিধান লঙ্ঘন করো, তাহলে তুমি এমন মানুষ হয়েছ, যেন তোমার সুন্নতই হয়নি।

[26] যাদের সুন্নত হয়নি, তারা যদি বিধানের চাহিদাগুলি পালন করে, তাহলে তারা কি সুন্নতপ্রাপ্ত মানুষ বলে গণ্য হবে না?

[27] যে মানুষ শারীরিকরূপে সুন্নতপ্রাপ্ত নয়, তবুও বিধান পালন করে, সে তোমাকে অপরাধী সাব্যস্ত করবে, কারণ তোমার কাছে লিখিত বিধি থাকা ও সুন্নত হওয়া সত্ত্বেও তুমি বিধান লঙ্ঘন করেছ।

[28] কোনো মানুষ বাহ্যিকরূপে ইহুদি হলে সে ইহুদি নয়, আবার সুন্নতও নিছক বাহ্যিক ও শরীরে কৃত কোনও কর্ম নয়।

[29] না, কোনো মানুষ একজন ইহুদি হয়, যদি অন্তরে তা হয়ে থাকে; আবার সুন্নত হল হদয়ের সুন্নত, তা আত্মার দ্বারা হয়, লিখিত বিধির দ্বারা নয়। এধরনের মানুষের প্রশংসা মানুষের কাছ থেকে নয়, কিন্তু ঈশ্বর থেকে হয়।

রোমীয় — Chapters