[1] তাহলে, একজন ইহুদি হওয়ার সুবিধা কী বা সুন্নত হলেই বা কী লাভ?
[2] সবদিক দিয়েই তা প্রচুর! ঈশ্বরের সমস্ত বাক্য সর্বপ্রথম, তাদের কাছেই অর্পণ করা হয়েছিল।
[3] কেউ কেউ যদি অবিশ্বাসী হয়, তো কী হয়েছে? তাদের অবিশ্বাস কি ঈশ্বরের বিশ্বস্ততাকে নাকচ করে দেবে?
[4] আদৌ তা নয়! ঈশ্বরই সত্যময় থাকুন, প্রত্যেক মানুষ হোক মিথ্যাবাদী। যেমন লিখিত আছে: “যেন, তুমি যখন কথা বলো, তুমি যেন সত্যময় প্রতিপন্ন হও ও বিচারকালে তুমি বিজয়ী হও।”
[5] কিন্তু যদি আমাদের অধার্মিকতা ঈশ্বরের ধার্মিকতাকে আরও স্পষ্টরূপে প্রকাশ করে, তাহলে আমরা কী বলব? ঈশ্বর আমাদের উপরে তাঁর ক্রোধ আনয়ন করে অন্যায় করেছেন? (আমি মানবিক যুক্তি প্রয়োগ করছি)
[6] নিশ্চিতরূপে তা নয়! যদি তাই হত, ঈশ্বর কীভাবে জগতের বিচার করতেন?
[7] কেউ হয়তো তর্ক করতে পারে, “আমার মিথ্যাচার যদি ঈশ্বরের সত্যতা বৃদ্ধি করে ও এভাবে তাঁর মহিমা বর্ধিত হয়, তাহলে আমি এখনও কেন পাপীরূপে অভিযুক্ত হচ্ছি?”
[8] কেন আমরা বলব না, যেমন আমাদের নিন্দা করে বলা হয় ও কেউ কেউ দাবি করে যে আমরা এরকম বলি, “এসো, আমরা অপকর্ম করি, যেন পরিণামে মঙ্গল হয়?” তাদের দণ্ডাদেশ যথাযোগ্য।
[9] তাহলে আমাদের শেষ কথা কী হবে? আমরা কি কোনও ভাবে উত্কৃষ্টতর? অবশ্যই নয়! আমরা ইতিপূর্বে অভিযোগ করেছি যে, ইহুদি, অইহুদি নির্বিশেষে সকলেই পাপের অধীন।
[10] যেমন লিখিত আছে: “ধার্মিক কেউই নেই, একজনও নেই;
[11] বোঝে, এমন কেউই নেই, কেউই ঈশ্বরের অন্বেষণ করে না।
[12] সকলেই বিপথগামী হয়েছে, তারা একসঙ্গে অকর্মণ্য হয়ে পড়েছে, সৎকর্ম করে এমন কেউই নেই, একজনও নেই।”
[13] “তাদের কণ্ঠগুলি উন্মুক্ত কবরস্বরূপ; তাদের জিহ্বাসকল প্রতারণার অনুশীলন করে।” “তাদের ওষ্ঠাধরে থাকে কালসাপের বিষ।”
[14] “তাদের মুখগুলি অভিশাপে ও কটুকাটব্যে পূর্ণ।”
[15] “তাদের চরণ রক্তপাতের জন্য দ্রুত দৌড়ায়;
[16] বিনাশ ও দুর্গতি তাদের পথসকল চিহ্নিত করে,
[17] আর তারা জানে না শান্তির উপায়,”
[18] “তাদের চোখে ঈশ্বরভয় নেই।”
[19] এখন আমরা জানি যে, বিধান যা কিছু বলে, এ তাদেরই বলে, যারা বিধানের অধীনে আছে, যেন প্রত্যেকের মুখ বদ্ধ হয় ও সমস্ত জগৎ ঈশ্বরের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য হয়।
[20] সুতরাং, বিধান পালন করে কোনো মানুষই তাঁর দৃষ্টিতে ধার্মিক ঘোষিত হবে না, বরং, বিধানের মাধ্যমে আমরা পাপ সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠি।
[21] কিন্তু এখন, বিধান ছাড়াই ঈশ্বর থেকে এক ধার্মিকতা জ্ঞাত করা গেছে, যে বিষয়ে সেই বিধান ও ভাববাদীরা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
[22] এই ধার্মিকতা, যারা বিশ্বাস করে, সেই সকলের প্রতি যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসের মাধ্যমে ঈশ্বরের কাছ থেকে আসে। এখানে কোনও পার্থক্য-বিভেদ নেই,
[23] কারণ সকলেই পাপ করেছে এবং ঈশ্বরের গৌরব-বিহীন হয়েছে।
[24] তারা বিনামূল্যে, তাঁরই অনুগ্রহে, খ্রীষ্ট যীশুতে প্রাপ্ত মুক্তির দ্বারা নির্দোষ গণিত হয়।
[25] তাঁর রক্তে বিশ্বাসের মাধ্যমে, ঈশ্বর তাঁকেই প্রায়শ্চিত্ত-বলিরূপে উপস্থাপিত করেছেন। তিনি তাঁর ন্যায়পরায়ণতা প্রদর্শনের জন্য এরকম করেছেন, কারণ তাঁর সহনশীলতার গুণে তিনি পূর্বে কৃত পাপসমূহের দণ্ডদান করেননি।
[26] বর্তমান যুগে তাঁর ন্যায়পরায়ণতা প্রদর্শনের জন্য তিনি এরকম করেছিলেন, যেন তিনি ন্যায়পরায়ণ থাকেন এবং যারা যীশুতে বিশ্বাস করে, তাদের নির্দোষ গণিত করেন।
[27] তাহলে গর্বের স্থান কোথায়? তা বর্জন করা হয়েছে। কোন নীতির দ্বারা? তা কি বিধান পালনের জন্য? না, কিন্তু বিশ্বাসের কারণে।
[28] কারণ আমাদের সিদ্ধাস্ত এই যে, একজন মানুষ বিধান পালন করা ছাড়াই বিশ্বাসের দ্বারা নির্দোষ গণিত হয়।
[29] ঈশ্বর কি কেবলমাত্র ইহুদিদেরই ঈশ্বর? তিনি কি অইহুদিদেরও ঈশ্বর নন? হ্যাঁ, তিনি অইহুদিদেরও ঈশ্বর
[30] যেহেতু ঈশ্বর একজনই, যিনি সুন্নত হওয়া লোকদের বিশ্বাসের দ্বারা ও সুন্নতবিহীন লোকদের সেই একই বিশ্বাসের মাধ্যমে নির্দোষ গণিত করবেন।
[31] তাহলে আমরা কি এই বিশ্বাসের দ্বারা বিধানকে বাতিল করি? না, আদৌ তা নয়! বরং, আমরা বিধানকে তুলে ধরছি।