[1] ভাইবোনেরা, তোমরা কি জানো না—কারণ আমি সেই মানুষদের উদ্দেশে কথা বলছি, যারা বিধান জানে—যে, যতদিন কোনো মানুষ জীবিত থাকে, বিধান ততদিনই তার উপরে কর্তৃত্ব করে?
[2] উদাহরণস্বরূপ, বিধানের দ্বারা কোনো বিবাহিত নারী, তার স্বামী যতদিন জীবিত থাকে, তার সঙ্গে বন্ধনে আবদ্ধ থাকে; কিন্তু যদি তার স্বামী মারা যায়, সে বিবাহের বিধি থেকে মুক্ত হয়।
[3] সেই কারণে, তারা স্বামী জীবিত থাকাকালীন, সে যদি অপর পুরুষকে বিবাহ করে, সে ব্যভিচারিণীরূপে অভিহিত হবে। কিন্তু যদি তার স্বামী মারা যায়, সে বিধিবিধান থেকে মুক্ত হয়। ফলে সে অপর পুরুষকে বিবাহ করলেও আর ব্যভিচারিণী হয় না।
[4] অতএব, আমার ভাইবোনেরা, তোমরাও খ্রীষ্টের শরীরের মাধ্যমে বিধানের কাছে মৃত্যুবরণ করেছ, যেন তোমরা অন্যের হও। তাঁর হও, যাঁকে মৃতলোক থেকে উত্থাপিত করা হয়েছিল, যেন আমরা ঈশ্বরের উদ্দেশে ফল উৎপন্ন করতে পারি।
[5] কারণ, যখন আমরা পাপ-প্রকৃতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতাম, তখন আমাদের শরীরে পাপপূর্ণ বাসনাগুলি বিধানের দ্বারা জাগৃত হয়ে সক্রিয় হত, যেন আমরা মৃত্যুর উদ্দেশে ফল উৎপন্ন করি।
[6] কিন্তু এখন, এক সময় যে বন্ধনে আমরা আবদ্ধ ছিলাম, তাতে মৃত্যুবরণ করার পর, আমরা বিধি-বন্ধন থেকে মুক্ত হয়েছি, যেন আমরা লিখিত বিধিবিধানের পুরাতন পদ্ধতিতে নয়, কিন্তু আত্মার নতুনতর পথে দাসত্ব করি।
[7] তাহলে, আমরা কী বলব? বিধানই কি পাপ? নিশ্চিতরূপে তা নয়! প্রকৃতপক্ষে বিধান ব্যতিরেকে পাপ কী, আমি তা জানতেই পারতাম না, কারণ বিধান যদি না-বলত, “লোভ কোরো না,” তাহলে লোভ প্রকৃতপক্ষে কী, তা আমি জানতে পারতাম না।
[8] কিন্তু পাপ, এই বিধানের সুযোগ নিয়ে আমার মধ্যে সব ধরনের লোভের ইচ্ছাকে জাগিয়ে তুলল, কারণ বিধান ছাড়া পাপ মৃত।
[9] এক সময় আমি বিধান ছাড়াই জীবিত ছিলাম, কিন্তু অনুশাসন আসার পরে পাপ জীবিত হয়ে উঠল এবং আমার মৃত্যু হল।
[10] আমি দেখলাম, যে অনুশাসনের জীবন নিয়ে আসার কথা ছিল, প্রকৃতপক্ষে তা মৃত্যু নিয়ে এল।
[11] কারণ অনুশাসনের সুযোগ নিয়ে পাপ আমার সঙ্গে প্রতারণা করল এবং অনুশাসনের মাধ্যমে আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিল।
[12] তাহলে বিধান পবিত্র, সেই অনুশাসনও পবিত্র, ন্যায়সঙ্গত ও কল্যাণকর।
[13] তাহলে, যা কল্যাণকর, তাই কি আমার পক্ষে মৃত্যুজনক হয়ে উঠল? কোনোভাবেই নয়! কিন্তু পাপকে যেন পাপরূপেই চিনতে পারা যায়, তাই, যা ছিল কল্যাণকর, তারই মধ্য দিয়ে পাপ আমার মধ্যে মৃত্যু নিয়ে এল, যেন অনুশাসনের মাধ্যমে সেই পাপ চরম পাপময় হয়ে ওঠে।
[14] আমরা জানি যে বিধান আত্মিক, কিন্তু আমি অনাত্মিক, পাপের কাছে ক্রীতদাসরূপে বিক্রীত।
[15] আমি যা করি, তা আমি বুঝি না, কারণ আমি যা করতে চাই, তা আমি করি না, কিন্তু যা আমি ঘৃণা করি, আমি তাই করি।
[16] আবার আমি যা করতে চাই না, যদি তাই করি, আমি মেনে নিই যে, বিধান উৎকৃষ্ট।
[17] তাই যদি হয়, আমি আর নিজে থেকে এ কাজ করি না, কিন্তু আমার মধ্যে অবস্থানকারী পাপ-ই তা করে।
[18] আমি জানি যে আমার মধ্যে, অর্থাৎ আমার পাপময় প্রকৃতির মধ্যে উৎকৃষ্ট কিছুই অবস্থিতি করে না। কারণ যা কিছু কল্যাণকর, তা করার ইচ্ছা আমার আছে, কিন্তু আমি তা করে উঠতে পারি না।
[19] কারণ আমি যা করতে চাই, সেই ভালো কাজ আমি করি না, কিন্তু যে দুষ্কর্ম আমি করতে চাই না, তা ক্রমাগত করেই যাই।
[20] এখন, যা আমি করতে চাই না, তা যদি আমি করি, সে-কাজটি আর আমি নিজে করি না, কিন্তু আমার মধ্যে অবস্থানকারী পাপ-ই তা করে।
[21] তাই আমি এই নিয়ম সক্রিয় দেখতে পাচ্ছি: যখন আমি সৎকর্ম করতে চাই, তখনই মন্দ আমার সঙ্গী হয়।
[22] কারণ আমার আন্তরিক সত্তায় আমি ঈশ্বরের বিধান আনন্দ করি,
[23] কিন্তু আমার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে আমি অন্য এক বিধান কার্যশীল দেখতে পাই, তা আমার মনের বিধানের সঙ্গে সংগ্রাম করে চলে এবং আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে ক্রিয়ারত পাপের বিধান আমাকে বন্দি করে রাখে।
[24] কী-দুর্ভাগ্যপূর্ণ মানুষ আমি! মৃত্যুর এই শরীর থেকে কে আমাকে নিস্তার করবে?
[25] আমাদের প্রভু, খ্রীষ্ট যীশুর মাধ্যমে আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই। সুতরাং, মনে মনে আমি স্বয়ং ঐশ্বরিক বিধানের ক্রীতদাস, কিন্তু পাপময় প্রকৃতিতে পাপের নিয়মের দাসত্ব করি।