[1] দেখো, সদাপ্রভু পৃথিবীকে পরিত্যক্ত করে তা ধ্বংস করতে চলেছেন; তিনি ভূপৃষ্ঠ ধ্বংস করে এবং তার অধিবাসীদের ছিন্নভিন্ন করবেন,
[2] সবার অবস্থা একইরকম হবে যাজকদের ও সাধারণ লোকদের, মনিব ও দাসদের, কর্ত্রী ও দাসীর, বিক্রয়কারী ও ক্রেতার, ঋণগ্রহীতার ও ঋণদাতার, উত্তমর্ণ ও অধমর্ণ, সকলের।
[3] পৃথিবী সম্পূর্ণ জন পরিত্যক্ত হবে ও সম্পূর্ণরূপে লুন্ঠিত হবে। সদাপ্রভু এই কথা বলেছেন।
[4] পৃথিবী শুকিয়ে যাবে ও নিস্তেজ হবে, জগৎ অবসাদগ্রস্ত হয়ে নিস্তেজ হবে, পৃথিবীর মহিমান্বিত ব্যক্তিরা অবসন্ন হবে।
[5] পৃথিবী তার অধিবাসীদের দ্বারা কলুষিত হয়েছে; তারা বিধান অমান্য করেছে, তারা বিধিবিধান লঙ্ঘন করে চিরস্থায়ী চুক্তির অবমাননা করেছে।
[6] সেই কারণে, এক অভিশাপ পৃথিবীকে গ্রাস করেছে; এর লোকেরা অবশ্য তাদের অপরাধ বহন করবে। তাই পৃথিবীর অধিবাসীরা দগ্ধ হয়, অতি অল্প মানুষই বেঁচে থাকে।
[7] নতুন দ্রাক্ষারস শুকিয়ে যায় ও দ্রাক্ষালতা নিস্তেজ হয়; আমোদ-আহ্লাদকারী সকলে আর্তনাদ করে।
[8] খঞ্জনির উচ্চশব্দ শান্ত হয়ে গেছে, ফূর্তিবাজদের হৈ হট্টগোল স্তব্ধ হয়েছে, আনন্দমুখর বীণার রব শোনা যায় না।
[9] আর তারা গান গেয়ে সুরা পান করে না, পানকারীদের মুখে সুরা তেঁতো লাগে।
[10] ধ্বংসিত নগরটি জনশূন্য পড়ে আছে; প্রত্যেকটি গৃহের দুয়ারের প্রবেশপথে অর্গল লাগানো আছে।
[11] পথে পথে তারা সুরার জন্য চিৎকার করে; সমস্ত আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়, পৃথিবী থেকে সমস্ত হৈ-হল্লা দূর হয়ে গেছে।
[12] নগর ধ্বংসস্তূপ হয়ে পড়ে আছে, এর তোরণদ্বারগুলি টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে আছে।
[13] পৃথিবীতে ও জাতিসমূহের মধ্যে এরকমই ঘটনা ঘটবে, যেমন, যখন কোনো জলপাই গাছ ঝাড়ার পরে হয় কিংবা দ্রাক্ষাচয়নের পরে কিছু ফল অবশিষ্ট পড়ে থাকে।
[14] তারা তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চগ্রামে তোলে, তারা আনন্দে চিৎকার করে; পশ্চিমদিক থেকে তারা সদাপ্রভুর মহিমাকীর্তন করবে।
[15] সেই কারণে, পূর্বদিকের লোকেরা সদাপ্রভুর মহিমা করুক; সমুদ্রের দ্বীপগুলির মধ্যে, তারা সদাপ্রভুর, ইস্রায়েলের ঈশ্বরের নামের প্রশংসা করুক।
[16] পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে আমরা গানের শব্দ শুনছি: “সেই ধার্মিক ব্যক্তির মহিমা হোক।” কিন্তু আমি বললাম, “আমি ক্ষয়ে যাচ্ছি, আমি ক্ষয়ে যাচ্ছি, ধিক্ আমাকে! বিশ্বাসঘাতকেরা বিশ্বাসঘাতকতা করছে! হ্যাঁ, বিশ্বাসঘাতকেরা নিদারুণ বিশ্বাসঘাতকতা করছে!”
[17] ওহে পৃথিবীর জনগণ, সন্ত্রাস, গর্ত ও ফাঁদ তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
[18] সন্ত্রাসের চিৎকারে যে পলায়ন করবে, সে কোনো গর্তে পতিত হবে; আর যে কেউ গর্ত থেকে উঠে আসে, সে ফাঁদে ধৃত হবে। ঊর্ধ্বাকাশের জলধির উৎস সকল মুক্ত হয়েছে, পৃথিবীর ভিত্তিমূলগুলি কেঁপে উঠছে।
[19] পৃথিবী ভগ্ন হয়েছে, পৃথিবী ভেঙে টুকরো টুকরো হয়েছে, পৃথিবী সম্পূর্ণরূপে প্রকম্পিত হয়েছে।
[20] পৃথিবী যেন কোনো মাতালের মতো টলোমলো করছে, প্রবল বাতাসে যেমন কুঁড়ে ঘর, এ তেমনই দোদুল্যমান হচ্ছে; এর বিদ্রোহের মাত্রা এতই গুরুভার যে, এর পতন হবে আর কখনও উঠে দাঁড়াতে পারবে না।
[21] সেদিন সদাপ্রভু, ঊর্ধ্বস্থ আকাশমণ্ডলের সমস্ত পরাক্রমকে ও নিচে পৃথিবীর সমস্ত রাজাকে দণ্ড দেবেন।
[22] অন্ধকূপে যেমন বন্দিদের আবদ্ধ রাখা হয়, তাদেরও তেমনই একত্র করে রাখা হবে; তাদের কারাগারে রুদ্ধ করে রাখা হবে, আর অনেক দিন পরে তাদের মুক্ত করা হবে।
[23] তখন চাঁদ মলিন হবে, সূর্য লজ্জিত হবে; কারণ সর্বশক্তিমান সদাপ্রভু রাজত্ব করবেন সিয়োন পর্বতে ও জেরুশালেমে এবং তার প্রাচীনদের সাক্ষাতে—মহান মহিমার সঙ্গে।