Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 7:40

[1] পথ চলতে চলতে যীশু এক জন্মান্ধ ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন।

[2] তাঁর শিষ্যেরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “রব্বি, কার পাপের কারণে এ অন্ধ হয়ে জন্মেছে, নিজের না এর পিতামাতার?”

[3] যীশু বললেন, “এই লোকটি বা এর পিতামাতা যে পাপ করেছে, তা নয়, কিন্তু এর জীবনে যেন ঈশ্বরের কর্ম প্রদর্শিত হয়, তাই এরকম ঘটেছে।

[4] যতক্ষণ দিনের আলো আছে, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন আমাদের তাঁরই কাজ করতে হবে। রাত্রি ঘনিয়ে আসছে, তখন কেউ আর কাজ করতে পারে না।

[5] যতক্ষণ আমি জগতে আছি, আমিই এই জগতের জ্যোতি হয়ে আছি।”

[6] একথা বলে, তিনি ভূমিতে থুতু ফেললেন এবং সেই লালা দিয়ে কাদা তৈরি করে তিনি সেই লোকটির চোখে লেপন করলেন।

[7] তারপর তিনি তাকে বললেন, “যাও, সিলোয়াম সরোবরে গিয়ে ধুয়ে ফেলো।” (সিলোয়াম শব্দের অর্থ, প্রেরিত) অতএব, লোকটি সেখানে গিয়ে (চোখ) ধুয়ে ফেলল এবং দৃষ্টিশক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরে গেল।

[8] তার প্রতিবেশীরা এবং যারা তাকে আগে ভিক্ষা করতে দেখেছিল, তারা বলল, “যে লোকটি বসে ভিক্ষা করত, এ কি সেই একই লোক নয়?”

[9] কেউ কেউ বলল যে, সে সেই লোকই। অন্যেরা বলল, “না, সে তার মতো দেখতে।” সে বলল, “আমিই সেই লোক।”

[10] তারা জানতে চাইল, “তাহলে তোমার চোখ কীভাবে খুলে গেল?”

[11] উত্তরে সে বলল, “লোকে যাকে যীশু বলে, তিনি কিছু কাদা তৈরি করে আমার দু-চোখে লেপন করলেন এবং আমাকে বললেন, ‘যাও, সিলোয়াম সরোবরে গিয়ে ধুয়ে ফেলো।’ তাঁর নির্দেশমতো গিয়ে আমি তাই ধুয়ে ফেললাম, আর তারপর থেকে দেখতে পাচ্ছি।”

[12] তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল, “সেই ব্যক্তি কোথায়?” সে বলল, “আমি জানি না।”

[13] যে অন্ধ ছিল, সেই লোকটিকে তারা ফরিশীদের কাছে নিয়ে গেল।

[14] যেদিন যীশু কাদা তৈরি করে লোকটির চোখ খুলে দিয়েছিলেন, সেদিনটি ছিল বিশ্রামদিন।

[15] তাই ফরিশীরাও তাকে জিজ্ঞাসা করল, কীভাবে সে দৃষ্টিশক্তি লাভ করেছে। লোকটি উত্তর দিল, “তিনি আমার চোখ-দুটিতে কাদা লেপন করলেন। আমি ধুয়ে ফেললাম, আর এখন আমি দেখতে পাচ্ছি।”

[16] ফরিশীদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, “এই মানুষটির আগমন ঈশ্বরের কাছ থেকে হয়নি, কারণ সে বিশ্রামদিন পালন করে না।” অন্যেরা বলল, “যে পাপী, সে কী করে এমন চিহ্নকর্ম করতে পারে?” এইভাবে তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল।

[17] অবশেষে তারা অন্ধ লোকটির দিকে ফিরে তাকে আবার জিজ্ঞাসা করল, “তার বিষয়ে তোমার কী বলার আছে যে তোমার চোখ খুলে দিয়েছে।” লোকটি উত্তর দিল, “তিনি একজন ভাববাদী।”

[18] তার পিতামাতাকে ডেকে না আনা পর্যন্ত ইহুদিরা বিশ্বাসই করতে পারল না যে, সে অন্ধ ছিল এবং সে দৃষ্টিশক্তি লাভ করেছে।

[19] তারা জিজ্ঞাসা করল, “এ কি তোমাদেরই ছেলে? এর বিষয়েই কি তোমরা বলো যে, এ অন্ধ হয়েই জন্মগ্রহণ করেছিল? তাহলে এখন কী করে ও দেখতে পাচ্ছে?”

[20] তার পিতামাতা উত্তর দিল, “আমরা জানি ও আমাদের ছেলে, আর আমরা এও জানি যে, ও অন্ধ হয়েই জন্মগ্রহণ করেছিল।

[21] কিন্তু এখন ও কীভাবে দেখতে পাচ্ছে বা কে ওর চোখ খুলে দিয়েছেন, আমরা তা জানি না। আপনারা ওকেই জিজ্ঞাসা করুন। ও সাবালক, তাই ওর কথা ও নিজেই বলবে।”

[22] তার পিতামাতা ইহুদিদের ভয়ে একথা বলল, কারণ ইহুদিরা ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যীশুকে যে খ্রীষ্ট বলে স্বীকার করবে, সমাজভবন থেকে তাকে বহিষ্কৃত করা হবে।

[23] সেইজন্য তার পিতামাতা বলল, “ও সাবালক, তাই ওকেই জিজ্ঞাসা করুন।”

[24] যে পূর্বে অন্ধ ছিল, সেই লোকটিকে তারা দ্বিতীয়বার ডেকে এনে বলল, “ঈশ্বরকে গৌরব প্রদান করো। আমরা জানি, ওই লোকটি একজন পাপী।”

[25] সে উত্তর দিল, “তিনি পাপী, কি পাপী নন, তা আমি জানি না। আমি একটি বিষয় জানি, আমি আগে অন্ধ ছিলাম, কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি।”

[26] তারা তখন তাকে জিজ্ঞাসা করল, “সে তোমার প্রতি কী করেছিল? সে কী করে তোমার চোখ খুলে দিল?”

[27] সে উত্তর দিল, “আমি এর আগেই সেকথা আপনাদের বলেছি, কিন্তু আপনারা তা শোনেননি। আপনারা আবার তা শুনতে চান কেন? আপনারাও কি তাঁর শিষ্য হতে চান?”

[28] তারা তাকে গালাগাল দিয়ে অপমান করে বলল, “তুই ওই লোকটির শিষ্য! আমরা মোশির শিষ্য।

[29] আমরা জানি, ঈশ্বর মোশির সঙ্গে কথা বলেছিলেন, কিন্তু এই লোকটির আগমন কোথা থেকে হল তা আমরা জানি না।”

[30] লোকটি উত্তর দিল, “সেটিই তো আশ্চর্যের কথা! আপনারা জানেন না তিনি কোথা থেকে এলেন, অথচ তিনিই আমার দু-চোখ খুলে দিলেন।

[31] আমরা জানি, ঈশ্বর পাপীদের কথা শোনেন না। যারা ঈশ্বরভক্ত ও তাঁর ইচ্ছা পালন করে, তিনি তাদেরই কথা শোনেন।

[32] জন্মান্ধের চোখ কেউ খুলে দিয়েছে, একথা কেউ কখনও শোনেনি।

[33] এই ব্যক্তির আগমন ঈশ্বরের কাছ থেকে না হলে, কোনো কিছুই ইনি করতে পারতেন না।”

[34] একথা শুনে তারা বলল, “তোর জন্ম পাপেই হয়েছে, তুই কী করে আমাদের শিক্ষা দেওয়ার সাহস পেলি?” আর তারা তাকে সমাজ থেকে বহিষ্কার করে দিল।

[35] যীশু শুনতে পেলেন তারা লোকটিকে বহিষ্কার করেছে। তিনি তাকে যখন দেখতে পেলেন, তিনি বললেন, “তুমি কি মনুষ্যপুত্রে বিশ্বাস করো?”

[36] লোকটি জিজ্ঞাসা করল, “প্রভু তিনি কে? আমাকে বলুন, আমি যেন তাঁকে বিশ্বাস করতে পারি।”

[37] যীশু বললেন, “তুমি তাঁকে দেখেছ। প্রকৃতপক্ষে, তিনিই তোমার সঙ্গে কথা বলছেন।”

[38] “প্রভু, আমি বিশ্বাস করি,” একথা বলে লোকটি তাঁকে প্রণাম করল।

[39] যীশু বললেন, “বিচার করতেই আমি এ জগতে এসেছি, যেন দৃষ্টিহীনরা দেখতে পায় এবং যারা দেখতে পায়, তারা দৃষ্টিহীন হয়।”

[40] তাঁর সঙ্গী কয়েকজন ফরিশী তাঁকে একথা বলতে শুনে জিজ্ঞাসা করল, “কী হল? আমরাও অন্ধ না-কি?”

[41] যীশু বললেন, “তোমরা অন্ধ হলে তোমাদের পাপের জন্য অপরাধী হতে না; কিন্তু তোমরা নিজেদের দেখতে পাও বলে দাবি করছ, তাই তোমাদের অপরাধ রয়ে গেল।”

যোহন — Chapters