Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 9:30

[1] যীশু কিছু দিন পর ইহুদিদের একটি পর্ব উপলক্ষে জেরুশালেমে গেলেন।

[2] সেখানে মেষ-দ্বারের কাছে একটি পুষ্করিণী আছে। হিব্রু ভাষায় একে বলা হয় বেথেসদা। পাঁচটি আচ্ছাদিত ঘাট পুষ্করিণীটিকে বেষ্টন করেছিল।

[3] সেখানে বহু প্রতিবন্ধী—অন্ধ, খঞ্জ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত লোকেরা শুয়ে থাকত।

[4] সময়ে সময়ে প্রভুর এক দূত সেখানে নেমে আসতেন এবং জল কাঁপাতেন। সেই সময় প্রথম যে ব্যক্তি পুষ্করিণীতে নামতো, সে যে কোনো রকমের রোগ থেকে মুক্ত হত।

[5] সেখানে আটত্রিশ বছরের এক পঙ্গু ব্যক্তি ছিল।

[6] যীশু তাকে সেখানে শুয়ে থাকতে দেখে এবং দীর্ঘদিন ধরেই তার এরকম অবস্থা জেনে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি সুস্থ হতে চাও?”

[7] পঙ্গু লোকটি উত্তর দিল, “মহাশয়, জল কেঁপে ওঠার সময় পুষ্করিণীতে নামতে আমাকে সাহায্য করার মতো কেউ নেই। আমি জলে নামার চেষ্টা করতে করতেই অন্য কেউ আমার আগে নেমে পড়ে।”

[8] যীশু তখন তাকে বললেন, “ওঠো, তোমার বিছানা তুলে নিয়ে চলে যাও।”

[9] লোকটি সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ হয়ে গেল। সে তার বিছানা তুলে নিয়ে হাঁটতে লাগল। যেদিন এই ঘটনা ঘটে, সেদিন ছিল বিশ্রামবার।

[10] তাই, যে লোকটি রোগমুক্ত হয়েছিল, ইহুদিরা তাকে বলল, “আজ বিশ্রামদিন। বিধান অনুসারে আজ শয্যা বয়ে নেওয়া তোমার পক্ষে অনুচিত।”

[11] কিন্তু সে উত্তর দিল, “যে ব্যক্তি আমাকে সুস্থ করেছেন, তিনিই আমাকে বললেন, ‘তোমার বিছানা তুলে নিয়ে চলে যাও।’ ”

[12] অতএব, তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল, “যে তোমাকে বিছানা তুলে নিয়ে চলে যেতে বলেছে, সে কে?”

[13] যে লোকটি সুস্থ হয়েছিল, যীশুর বিষয়ে তার কোনো ধারণাই ছিল না, কারণ যীশু সেখানে উপস্থিত সকলের মধ্যে মিশে গিয়েছিলেন।

[14] পরে যীশু তাকে মন্দিরে দেখতে পেয়ে বললেন, “দেখো, তুমি এবার সুস্থ হয়ে উঠেছ। আর পাপ কোরো না, না হলে তোমার জীবনে এর থেকেও বেশি অমঙ্গল ঘটতে পারে।”

[15] লোকটি ফিরে গিয়ে ইহুদিদের বলল যে, যীশু তাকে সুস্থ করেছেন।

[16] যীশু বিশ্রামদিনে এই সমস্ত কাজ করছিলেন বলে ইহুদিরা তাঁকে তাড়না করল এবং হত্যা করারও চেষ্টা করল।

[17] যীশু তাদের বললেন, “আমার পিতা নিরন্তর কাজ করে চলেছেন, আর আমিও কাজ করে চলেছি।”

[18] এই কারণে ইহুদিরা তাঁকে হত্যা করার আপ্রাণ চেষ্টা করল, কারণ তিনি যে শুধু বিশ্রামবার লঙ্ঘন করছিলেন, তা-ই নয়, তিনি ঈশ্বরকে তাঁর পিতারূপে সম্বোধন করে নিজেকে ঈশ্বরের সমতুল্য করেছিলেন।

[19] যীশু তাদের এই উত্তর দিলেন: “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, পুত্র নিজে থেকে কিছুই করেন না, কিন্তু পিতাকে যা করতে দেখেন, তিনি কেবল তাই করতে পারেন, কারণ পিতা যা করেন, পুত্রও তাই করেন।

[20] পিতা পুত্রকে ভালোবাসেন এবং তিনি যা করেন, তা পুত্রকে দেখান। হ্যাঁ, তোমরা অবাক বিস্ময়ে দেখবে, তিনি এর চেয়েও মহৎ মহৎ বিষয় তাঁকে দেখাচ্ছেন।

[21] পিতা যেমন মৃতদের উত্থাপিত করে জীবন দান করেন, পুত্রও তেমনই যাদের ইচ্ছা তাদের জীবন দান করেন।

[22] আর পিতা কারও বিচার করেন না, কিন্তু সমস্ত বিচারের ভার পুত্রের উপর দিয়েছেন,

[23] যেন তারা যেমন পিতাকে সম্মান করে, তেমনই সকলে পুত্রকেও সম্মান করে। যে ব্যক্তি পুত্রকে সম্মান করে না, সে সেই পিতাকেও সম্মান করে না, যিনি তাঁকে প্রেরণ করেছেন।

[24] “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, যে আমার বাণী শোনে এবং যিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন, তাঁকে বিশ্বাস করে, সে অনন্ত জীবন লাভ করেছে। সে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হবে না, কারণ সে মৃত্যু থেকেও জীবনে পার হয়েছে।

[25] আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, সময় আসছে, বরং তা এসে গেছে, যখন মৃতেরা ঈশ্বর পুত্রের রব শুনতে পাবে; আর যারা শুনবে, তারা জীবিত থাকবে।

[26] কারণ পিতার মধ্যে যেমন জীবন আছে, তেমনই তিনি পুত্রকেও তাঁর মধ্যে জীবন রাখার অধিকার দিয়েছেন।

[27] পিতা পুত্রকে বিচার করার অধিকার দিয়েছেন, কারণ তিনি মনুষ্যপুত্র।

[28] “তোমরা একথায় বিস্মিত হোয়ো না, কারণ এমন এক সময় আসছে, যখন সমাহিত লোকেরা সকলে কবর থেকে তাঁর কণ্ঠস্বর শুনবে এবং

[29] যারা সৎকর্ম করেছে, তারা জীবনের পুনরুত্থানের জন্য, আর যারা দুষ্কর্ম করেছে, তারা বিচারের পুনরুত্থানের জন্য বের হয়ে আসবে।

[30] আমি আমার ইচ্ছেমতো কিছুই করতে পারি না। আমি যেমন শুনি, কেবল তেমনই বিচার করি। আর আমার বিচার ন্যায্য কারণ আমি নিজের নয়, কিন্তু যিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন, তাঁরই ইচ্ছা পালনের চেষ্টা করি।

[31] “আমি যদি নিজের বিষয়ে সাক্ষ্য দিই, তাহলে আমার এই সাক্ষ্য সত্য নয়।

[32] আর একজন আছেন, যিনি আমার সপক্ষে সাক্ষ্য দেন। আমি জানি, আমার বিষয়ে তাঁর সাক্ষ্য সত্য।

[33] “তোমরা যোহনের কাছে লোক প্রেরণ করেছিলে। তিনি সত্যের পক্ষেই সাক্ষ্য দিয়েছেন।

[34] আমি যে মানুষের সাক্ষ্য গ্রহণ করি তা নয়, কিন্তু তোমরা যেন পরিত্রাণ লাভ করতে পারো, সেজন্য এর উল্লেখ করছি।

[35] যোহন ছিলেন এক প্রদীপ যিনি জ্যোতি প্রদান করেছিলেন এবং কিছু সময় তোমরা তাঁর জ্যোতি উপভোগ করতে চেয়েছিলে।

[36] “সেই যোহনের সাক্ষ্যের চেয়েও এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য আমার আছে। পিতা আমাকে যে কর্ম সম্পাদন করতে দিয়েছেন এবং যে কর্ম সাধনে আমি নিয়োজিত, সেই কর্মই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, পিতা আমাকে প্রেরণ করেছেন।

[37] পিতা, যিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন, তিনি স্বয়ং আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তোমরা কখনও তাঁর স্বর শোনোনি, তাঁর রূপও দেখোনি।

[38] তোমাদের মধ্যে তাঁর বাক্য বিরাজ করে না। কারণ তিনি যাঁকে প্রেরণ করেছেন, তোমরা তাঁকে বিশ্বাস করো না।

[39] তোমরা মনোযোগ সহকারে শাস্ত্র অধ্যয়ন করে থাকো, কারণ তোমরা মনে করো যে, তার মাধ্যমেই তোমরা অনন্ত জীবন লাভ করেছ। সেই শাস্ত্রই আমার সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছে।

[40] তবু তোমরা জীবন লাভের জন্য আমার কাছে আসতে চাও না।

[41] “মানুষের প্রশংসা আমি গ্রহণ করি না।

[42] কিন্তু আমি তোমাদের চিনি। আমি জানি, তোমাদের হদয়ে ঈশ্বরের প্রেম নেই।

[43] আমি আমার পিতার নামে এসেছি, কিন্তু তোমরা আমাকে গ্রহণ করো না। অন্য কেউ যদি তার নিজের নামে আসে, তোমরা তাকে গ্রহণ করবে।

[44] তোমরা যদি পরস্পরের কাছ থেকে গৌরবলাভের জন্য সচেষ্ট হও অথচ যে গৌরব কেবলমাত্র ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া যায়, তা অর্জনের জন্য যদি কোনো প্রয়াস না করো, তাহলে কীভাবে তোমরা বিশ্বাস করতে পারো?

[45] “তোমরা মনে কোরো না যে, পিতার সামনে আমি তোমাদের অভিযুক্ত করব। যাঁর উপর তোমাদের প্রত্যাশা, সেই মোশিই তোমাদের অভিযুক্ত করবেন।

[46] তোমরা যদি মোশিকে বিশ্বাস করতে, তাহলে আমাকেও বিশ্বাস করতে, কারণ তিনি আমারই বিষয়ে লিখেছেন।

[47] তাঁর লিখিত বাণী তোমরা বিশ্বাস না করলে, আমার মুখের কথা তোমরা কীভাবে বিশ্বাস করবে?”

যোহন — Chapters