[1] একথা বলে যীশু স্বর্গের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করলেন, “পিতা, সময় উপস্থিত হয়েছে, তোমার পুত্রকে মহিমান্বিত করো, যেন তোমার পুত্র তোমাকে মহিমান্বিত করতে পারেন।
[2] কারণ সব মানুষের উপর তুমি তাঁকে কর্তৃত্ব দান করেছ, যেন তাঁর হাতে তুমি যাদের অর্পণ করেছ, তিনি তাদের অনন্ত জীবন দিতে পারেন।
[3] আর এই হল অনন্ত জীবন যে, তাঁরা তোমাকে, একমাত্র সত্যময় ঈশ্বরকে, এবং তুমি যাঁকে পাঠিয়েছ, সেই যীশু খ্রীষ্টকে জানতে পারে।
[4] তোমার প্রদত্ত কর্ম সম্পাদন করে, আমি পৃথিবীতে তোমাকে মহিমান্বিত করেছি।
[5] তাই এখন পিতা, জগৎ সৃষ্টির পূর্বে তোমার কাছে আমার যে মহিমা ছিল, তোমার সান্নিধ্যে আমাকে সেই মহিমায় ভূষিত করো।
[6] “এই জগতের মধ্য থেকে তুমি যাদের আমাকে দিয়েছিলে, তাদের কাছে আমি তোমাকে প্রকাশ করেছি। তারা তোমারই ছিল, তুমি তাদের আমাকে দিয়েছ। তারা তোমার বাক্য পালন করেছে।
[7] এখন তারা জানে, যা কিছু তুমি আমাকে দিয়েছ, তা তোমারই দেওয়া।
[8] আমাকে দেওয়া তোমার সব বাণী আমি তাদের দান করেছি। তারা তা গ্রহণ করেছে। তারা সত্যিই জানে যে, আমি তোমারই কাছ থেকে এসেছি, আর তারা বিশ্বাস করেছে যে, তুমি আমাকে পাঠিয়েছ।
[9] তাদেরই জন্য আমি নিবেদন করছি। আমি জগতের জন্য নিবেদন করছি না, কিন্তু যাদের তুমি আমাকে দিয়েছ, তাদেরই জন্য করছি, কারণ তারা তোমারই।
[10] আমার যা কিছু আছে সবই তোমার, আর তোমার সবকিছুই আমার। তাদেরই মধ্যে আমি মহিমান্বিত হয়েছি।
[11] আমি জগতে আর থাকব না, কিন্তু ওরা এখনও জগতে আছে। আমি তোমার কাছে যাচ্ছি। পবিত্র পিতা, যে নাম তুমি আমাকে দিয়েছ, তোমার সেই নামের শক্তিতে তাদের রক্ষা করো। আমরা যেমন এক, তারাও যেন তেমনই এক হতে পারে।
[12] তাদের সঙ্গে থাকার সময় যে নাম তুমি আমাকে দিয়েছ, সেই নামে আমি তাদের রক্ষা করে নিরাপদে রেখেছি। সেই বিনাশ-সন্তান ছাড়া তাদের মধ্যে আর কেউ বিনষ্ট হয়নি, যেন শাস্ত্রবাক্য পূর্ণ হয়।
[13] “আমি এখন তোমার কাছে আসছি, কিন্তু জগতে অবস্থানকালেই আমি এ সমস্ত বিষয়ে বলছি, যেন আমার আনন্দ তাদের অন্তরে পূর্ণমাত্রায় প্রাপ্ত হয়।
[14] তোমার বাণী তাদের কাছে আমি প্রকাশ করেছি, কিন্তু জগৎ তাদের ঘৃণা করেছে, কারণ তারা আর জগতের নয়, যেমন আমিও জগতের নই।
[15] আমি এই নিবেদন করছি না যে তুমি তাদের জগৎ থেকে নিয়ে নাও কিন্তু সেই পাপাত্মা থেকে তাদের রক্ষা করো।
[16] তারা জগতের নয়, যেমন আমিও জগতের নই।
[17] সত্যের দ্বারা তুমি তাদের পবিত্র করো, তোমার বাক্যই সত্য।
[18] তুমি যেমন আমাকে জগতে পাঠিয়েছ, আমিও তেমনই তাদের জগতে পাঠাচ্ছি।
[19] তাদেরই জন্য আমি নিজেকে পবিত্র করি, যেন তারাও সত্যের দ্বারা পবিত্র হতে পারে।
[20] “শুধু তাদেরই জন্য আমি নিবেদন করছি না। তাদের বাক্য প্রচারের মাধ্যমে যারা আমাকে বিশ্বাস করবে, আমি তাদের জন্যও নিবেদন করছি, যেন তারা সকলে এক হয়।
[21] যেমন পিতা, তুমি আমার মধ্যে এবং আমি তোমার মধ্যে বিরাজমান, যেন তারাও আমাদের মধ্যে এক হয়, যেন জগৎ বিশ্বাস করে যে, তুমি আমাকে পাঠিয়েছ।
[22] তুমি আমাকে যে মহিমা দান করেছিলে, তাদের আমি তা দিয়েছি, যেন তারা এক হয়, যেমন আমরা এক।
[23] আমি তাদের মধ্যে এবং তুমি আমার মধ্যে বিরাজিত। তারা যেন সম্পূর্ণ এক হয় এবং জগৎ যেন জানতে পারে যে, তুমিই আমাকে পাঠিয়েছ এবং তুমি যেমন আমাকে ভালোবেসেছ, তেমনই তাদেরও ভালোবেসেছ।
[24] “পিতা, তুমি যাদের আমাকে দিয়েছ, আমি চাই, আমি যেখানে থাকি, তারাও যেন সেখানে আমার সঙ্গে থাকে এবং তুমি আমাকে যে মহিমা দান করেছ, তারা সেই মহিমা দর্শন করে, কারণ জগৎ সৃষ্টির পূর্ব থেকে তুমি আমাকে ভালোবেসেছ।
[25] “ধর্মময় পিতা, জগৎ তোমাকে না জানলেও আমি তোমাকে জানি, আর তারা জানে যে, তুমিই আমাকে পাঠিয়েছ।
[26] তোমাকে আমি তাদের কাছে প্রকাশ করেছি এবং তা প্রকাশ করতেই থাকব, যেন আমার প্রতি তোমার যে প্রেম, তা তাদের মধ্যে থাকে এবং আমি স্বয়ং যেন তাদের মধ্যে থাকি।”