[1] লাসার নামে এক ব্যক্তি পীড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন বেথানি গ্রামের অধিবাসী, যেখানে মরিয়ম ও তাঁর বোন মার্থা বসবাস করতেন।
[2] এই মরিয়মই প্রভুর উপরে সুগন্ধিদ্রব্য ঢেলে তাঁর চুল দিয়ে প্রভুর পা-দুটি মুছিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁরই ভাই লাসার সেই সময় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
[3] দুই বোন তাই যীশুর কাছে সংবাদ পাঠালেন, “প্রভু আপনি যাকে ভালোবাসেন, সে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”
[4] একথা শুনে যীশু বললেন, “এই অসুস্থতা মৃত্যুর জন্য হয়নি, কিন্তু ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশের জন্য এরকম হয়েছে, যেন ঈশ্বরের পুত্র এর মাধ্যমে গৌরবান্বিত হন।”
[5] মার্থা, তাঁর বোন ও লাসারকে যীশু ভালোবাসতেন।
[6] তবুও লাসারের অসুস্থতার কথা শুনে তিনি যেখানে ছিলেন, সেখানেই আরও দুদিন রইলেন।
[7] এরপর তিনি তাঁর শিষ্যদের বললেন, “চলো, আমরা যিহূদিয়ায় ফিরে যাই।”
[8] তাঁর শিষ্যেরা বললেন, “কিন্তু রব্বি, কিছু সময় পূর্বেই তো ইহুদিরা আপনাকে পাথর মারার চেষ্টা করেছিল, তবুও আপনি সেখানে ফিরে যেতে চাইছেন?”
[9] যীশু উত্তর দিলেন, “দিনের আলোর স্থায়িত্ব কি বারো ঘণ্টা নয়? যে মানুষ দিনের আলোয় পথ চলে, সে হোঁচট খাবে না। কারণ এই জগতের আলোতেই সে দেখতে পায়।
[10] কিন্তু রাতে যখন সে পথ চলে, তখন সে হোঁচট খায়, কারণ তার কাছে আলো থাকে না।”
[11] একথা বলার পর তিনি তাঁদের বললেন, “আমাদের বন্ধু লাসার নিদ্রাগত হয়েছে। কিন্তু তাকে জাগিয়ে তুলতে আমি সেখানে যাচ্ছি।”
[12] তাঁর শিষ্যেরা বললেন, “প্রভু, সে যদি নিদ্রাগত হয়ে থাকে, তাহলে সে সুস্থ হয়ে উঠবে।”
[13] যীশু তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে বলছিলেন, কিন্তু তাঁর শিষ্যেরা ভাবলেন, তিনি স্বাভাবিক নিদ্রার কথা বলছেন।
[14] তাই তিনি তাঁদের স্পষ্টভাবে বললেন, “লাসারের মৃত্যু হয়েছে।
[15] তোমাদের কথা ভেবে আমি আনন্দিত যে, আমি তখন সেখানে ছিলাম না, যেন তোমরা বিশ্বাস করতে পারো। চলো, আমরা তার কাছে যাই।”
[16] তখন থোমা, যিনি দিদুমঃ (যমজ) নামে আখ্যাত, অন্যান্য শিষ্যদের বললেন, “চলো, আমরাও যাই, যেন তাঁর সঙ্গে মৃত্যুবরণ করতে পারি।”
[17] সেখানে এসে যীশু দেখলেন যে, চারদিন যাবৎ লাসার সমাধির মধ্যে আছেন।
[18] বেথানি থেকে জেরুশালেমের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার।
[19] আর মার্থা ও মরিয়মের ভ্রাতৃবিয়োগের দরুন সান্ত্বনা দানের জন্য জেরুশালেম থেকে বহু ইহুদি তাঁদের কাছে এসেছিল।
[20] যীশুর আগমন সংবাদ পেয়ে মার্থা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলেন, কিন্তু মরিয়ম ঘরেই রইলেন।
[21] মার্থা যীশুকে বললেন, “প্রভু, আপনি এখানে উপস্থিত থাকলে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হত না।
[22] কিন্তু আমি জানি, আপনি ঈশ্বরের কাছে যা চাইবেন, তিনি আপনাকে এখনও তাই দেবেন।”
[23] যীশু তাঁকে বললেন, “তোমার ভাই আবার জীবিত হবে।”
[24] মার্থা উত্তর দিলেন, “আমি জানি, শেষের দিনে, পুনরুত্থানের সময়, সে আবার জীবিত হবে।”
[25] যীশু তাঁকে বললেন, “আমিই পুনরুত্থান ও জীবন। যে আমাকে বিশ্বাস করে, তার মৃত্যু হলেও সে জীবিত থাকবে।
[26] আর যে জীবিত এবং আমাকে বিশ্বাস করে, তার মৃত্যু কখনও হবে না। তুমি কি একথা বিশ্বাস করো?”
[27] তিনি তাঁকে বললেন, “হ্যাঁ প্রভু, আমি বিশ্বাস করি যে, জগতে যাঁর আগমন সন্নিকট ছিল, আপনিই সেই মশীহ, ঈশ্বরের পুত্র।”
[28] একথা বলে তিনি ফিরে গিয়ে তাঁর বোন মরিয়মকে একান্তে ডেকে বললেন, “গুরুমহাশয় এখানে এসেছেন, তিনি তোমাকে ডাকছেন।”
[29] একথা শুনে মরিয়ম তাড়াতাড়ি উঠে তাঁর কাছে গেলেন।
[30] যীশু তখনও গ্রামে প্রবেশ করেননি, মার্থার সঙ্গে তাঁর যেখানে সাক্ষাৎ হয়েছিল, তিনি তখনও সেখানেই ছিলেন।
[31] যে ইহুদিরা মরিয়মকে তাঁর বাড়িতে এসে সান্ত্বনা দিচ্ছিল, তাঁকে তাড়াতাড়ি উঠে বাইরে যেতে দেখে তারা মনে করল, তিনি বোধ হয় সমাধিস্থানে দুঃখে কাঁদতে যাচ্ছেন। তাই তাঁরা তাকে অনুসরণ করল।
[32] যীশু যেখানে ছিলেন, মরিয়ম সেখানে পৌঁছে তাঁকে দেখতে পেলেন। তিনি তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়ে বললেন, “প্রভু, আপনি এখানে উপস্থিত থাকলে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হত না।”
[33] মরিয়মকে এবং তাঁর অনুসরণকারী ইহুদিদের কাঁদতে দেখে, যীশু আত্মায় গভীরভাবে বিচলিত ও উদ্বিগ্ন হলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন,
[34] “তোমরা তাকে কোথায় রেখেছ?” তারা উত্তর দিল, “প্রভু, দেখবেন আসুন।”
[35] যীশু কাঁদলেন।
[36] তখন ইহুদিরা বলল, “দেখো, তিনি তাকে কত ভালোবাসতেন!”
[37] কিন্তু তাদের মধ্যে কয়েকজন বলল, “যিনি সেই অন্ধ ব্যক্তির চোখ খুলে দিয়েছিলেন, তিনি কি এই লোকটিকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে পারতেন না?”
[38] যীশু আবার গভীরভাবে বিচলিত হয়ে সমাধির কাছে উপস্থিত হলেন। সেটি ছিল একটি গুহা, তার প্রবেশপথে একটি পাথর রাখা ছিল।
[39] তিনি বললেন, “পাথরটি সরিয়ে দাও।” মৃত ব্যক্তির বোন মার্থা বললেন, “কিন্তু প্রভু, চারদিন হল সে সেখানে আছে। এখন সেখানে দুর্গন্ধ হবে।”
[40] যীশু তখন বললেন, “আমি কি তোমাকে বলিনি যে, যদি তুমি বিশ্বাস করো, তাহলে ঈশ্বরের মহিমা দেখতে পাবে?”
[41] তারা তখন পাথরটি সরিয়ে দিল। যীশু তারপর ঊর্ধ্বদৃষ্টি করে বললেন, “পিতা, আমার প্রার্থনা শুনেছ বলে তোমায় ধন্যবাদ দিই।
[42] আমি জানতাম, তুমি নিয়ত আমার কথা শোনো, কিন্তু এখানে যারা দাঁড়িয়ে আছে, তাদের উপকারের জন্য একথা বলছি। তারা যেন বিশ্বাস করে যে তুমি আমাকে পাঠিয়েছ,”
[43] একথা বলে যীশু উচ্চকণ্ঠে ডাক দিলেন, “লাসার, বেরিয়ে এসো!”
[44] মৃত লোকটি বেরিয়ে এলেন। তাঁর হাত ও পা ক্ষৌমবস্ত্রের ফালিতে জড়ানো ছিল, তার মুখ ছিল কাপড়ে আবৃত। যীশু তাদের বললেন, “ওর বাঁধন খুলে ওকে যেতে দাও।”
[45] তখন যে ইহুদিরা মরিয়মের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিল, তারা যীশুকে এই কাজ করতে দেখে তাঁকে বিশ্বাস করল।
[46] কিন্তু তাদের মধ্যে কয়েকজন ব্যক্তি ফরিশীদের কাছে গিয়ে যীশুর এই অলৌকিক কর্মের কথা জানাল।
[47] তখন প্রধান যাজকবর্গ ও ফরিশীরা মহাসভার এক অধিবেশন আহ্বান করলেন। তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন, “আমরা কী করছি? এই লোকটি তো বহু চিহ্নকর্ম দেখাচ্ছে।
[48] আমরা যদি ওকে এভাবে চলতে দিই, তাহলে প্রত্যেকেই ওকে বিশ্বাস করবে। তখন রোমীয়রা এসে আমাদের স্থান ও জাতি উভয়ই ধ্বংস করবে।”
[49] তখন তাঁদের মধ্যে কায়াফা নামে এক ব্যক্তি, যিনি সে বছরের মহাযাজক ছিলেন, বললেন, “তোমরা কিছুই জানো না,
[50] তোমরা বুঝতে পারছ না যে, সমগ্র জনসাধারণ যেন বিনষ্ট না হয়, সেজন্য প্রজাদের মধ্যে একজন মানুষের মৃত্যু শ্রেয়।”
[51] তিনি নিজের থেকে একথা বলেননি, কিন্তু সে বছরের মহাযাজকরূপে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে, ইহুদি জাতির জন্য যীশু মৃত্যুবরণ করবেন
[52] এবং শুধুমাত্র সেই জাতির জন্য নয়, কিন্তু ঈশ্বরের যেসব সন্তান ছিন্নভিন্ন হয়েছিল, তাদের সংগ্রহ করে এক করার জন্যও তিনি মৃত্যুবরণ করবেন।
[53] তাই সেদিন থেকে তাঁরা যীশুর প্রাণনাশের জন্য ষড়যন্ত্র করলেন।
[54] সেই কারণে যীশু এরপর ইহুদিদের মধ্যে আর প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেন না। পরিবর্তে, তিনি মরু-অঞ্চলের নিকটবর্তী ইফ্রয়িম নামে এক গ্রামে চলে গেলেন। সেখানে তিনি তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে অবস্থিতি করলেন।
[55] ইহুদিদের নিস্তারপর্বের সময় প্রায় এসে গেলে, নিস্তারপর্বের পূর্বে আনুষ্ঠানিক শুদ্ধিকরণের জন্য বহু লোক গ্রামাঞ্চল থেকে জেরুশালেমে গেল।
[56] তারা যীশুর সন্ধান করতে লাগল এবং মন্দির-চত্বরে দাঁড়িয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করতে লাগল, “তোমাদের কী মনে হয়, তিনি কি পর্বে আসবেন না?”
[57] কিন্তু প্রধান যাজকবর্গ ও ফরিশীরা আদেশ জারি করেছিলেন যে, কেউ যদি কোথাও যীশুর সন্ধান পায়, তাহলে যেন সেই সংবাদ জানায়, যেন তাঁরা যীশুকে গ্রেপ্তার করতে পারেন।