[1] “তোমাদের হৃদয় যেন উদ্বিগ্ন না হয়। ঈশ্বরকে বিশ্বাস করো, আমাকেও বিশ্বাস করো।
[2] আমার পিতার গৃহে বহু কক্ষ আছে, যদি না থাকত, আমি তোমাদের বলতাম। তোমাদের জন্য আমি সেখানে স্থান প্রস্তুত করতে যাচ্ছি।
[3] আর যখন আমি সেখানে যাই ও তোমাদের জন্য স্থানের ব্যবস্থা করি, আমি আবার ফিরে আসব এবং আমি যেখানে থাকি, সেখানে আমার সঙ্গে থাকার জন্য তোমাদের নিয়ে যাব।
[4] আমি যেখানে যাচ্ছি, সেখানে যাওয়ার পথ তোমরা জানো।”
[5] থোমা তাঁকে বললেন, “প্রভু, আপনি কোথায় যাচ্ছেন, আমরা জানি না, তাহলে সেই পথ আমরা জানব কী করে?”
[6] যীশু উত্তর দিলেন, “আমিই পথ ও সত্য ও জীবন। আমার মাধ্যমে না এলে, কোনো মানুষই পিতার কাছে আসতে পারে না।
[7] তোমরা যদি আমাকে প্রকৃতই জানতে, তাহলে আমার পিতাকেও জানতে। এখন থেকে তোমরা তাঁকে জেনেছ এবং দেখেছ।”
[8] ফিলিপ বললেন, “প্রভু, পিতাকে আমাদের দেখান, তাই আমাদের পক্ষে যথেষ্ট হবে।”
[9] যীশু বললেন, “ফিলিপ, এত কাল আমি তোমাদের মধ্যে আছি, তবুও কি তুমি আমাকে চেনো না? যে আমাকে দর্শন করেছে, সে পিতাকে দর্শন করেছে। তাহলে ‘পিতাকে আমাদের দেখান,’ একথা তুমি কী করে বলছ?
[10] তোমরা কি বিশ্বাস করো না যে, আমি পিতার মধ্যে বিরাজ করি এবং পিতা আমার মধ্যে বিরাজ করেন? আমি তোমাদের যা কিছু বলি, তা শুধু আমার নিজের কথা নয়, বরং পিতা, যিনি আমার মধ্যে আছেন, তিনি তাঁর কার্য সম্পাদন করছেন।
[11] আমি যখন বলি, পিতার মধ্যে আমি বিরাজ করি এবং আমার মধ্যে পিতা বিরাজ করেন, তখন তোমরা আমাকে বিশ্বাস করো, অন্তত অলৌকিক কর্মগুলি দেখে বিশ্বাস করো।
[12] আমি তোমাদের সত্যি বলছি, আমার উপর যার বিশ্বাস আছে, আমি যে কাজ করছি, সে-ও অনুরূপ কাজ করবে, এমনকি, এর চেয়েও মহৎ সব কাজ করবে, কারণ আমি পিতার কাছে যাচ্ছি।
[13] আর আমার নামে তোমরা যা কিছু চাইবে, আমি তাই পূরণ করব, যেন পুত্র পিতাকে মহিমান্বিত করেন।
[14] আমার নামে তোমরা যা কিছু চাইবে, আমি তা পূরণ করব।
[15] “তোমরা যদি আমাকে ভালোবেসে থাকো, তাহলে আমার আদেশগুলি পালন করবে।
[16] আমি পিতার কাছে নিবেদন করব এবং তোমাদের সঙ্গে চিরকাল থাকার জন্য তিনি আর এক সহায় তোমাদের দান করবেন।
[17] তিনি সত্যের আত্মা। জগৎ তাঁকে গ্রহণ করতে পারে না। কারণ জগৎ তাঁকে দেখে না, তাঁকে জানেও না। কিন্তু তোমরা তাঁকে জানো, কারণ তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন এবং তিনি তোমাদেরই অন্তরে বিরাজ করবেন।
[18] আমি তোমাদের অনাথ রেখে যাব না, আমি তোমাদের কাছে আসব।
[19] অল্পকাল পরে জগৎ আর আমাকে দেখতে পাবে না, কিন্তু তোমরা আমাকে দেখতে পাবে। কারণ আমি জীবিত আছি, এই জন্য তোমরাও জীবিত থাকবে।
[20] সেদিন তোমরা উপলব্ধি করবে যে, আমি পিতার মধ্যে বিরাজ করি, তোমরা আমার মধ্যে এবং আমি তোমাদের মধ্যে বিরাজ করি।
[21] যে আমার আদেশ লাভ করে সেগুলি পালন করে, সেই আমাকে ভালোবাসে। আমাকে যে ভালোবাসে, আমার পিতাও তাকে ভালোবাসবেন, আর আমিও তাকে ভালোবাসব এবং নিজেকে তারই কাছে প্রকাশ করব।”
[22] তখন যিহূদা (যিহূদা ইষ্কারিয়োৎ নয়) বললেন, “কিন্তু প্রভু, আপনি জগতের কাছে নিজেকে প্রকাশ না করে, শুধুমাত্র আমাদের কাছে প্রকাশ করতে চান কেন?”
[23] যীশু উত্তর দিলেন, “কেউ যদি আমাকে ভালোবাসে, সে আমার বাক্য পালন করবে। আমার পিতা তাকে ভালোবাসবেন। আমরা তার কাছে আসব এবং তারই সঙ্গে বাস করব।
[24] যে আমাকে ভালোবাসে না, সে আমার শিক্ষাও পালন করে না। তোমরা আমার যেসব বাণী শুনছ, তা আমার নিজের নয়, সেগুলি পিতার, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।
[25] “তোমাদের মধ্যে অবস্থানকালে আমি এ সমস্ত কথা বললাম,
[26] কিন্তু সেই সহায়, সেই পবিত্র আত্মা, যাঁকে পিতা আমার নামে প্রেরণ করবেন, তিনি সমস্ত বিষয়ে তোমাদের শিক্ষা দেবেন এবং তোমাদের কাছে কথিত আমার সমস্ত বাক্য তোমাদের স্মরণ করিয়ে দেবেন।
[27] আমি তোমাদের মধ্যে শান্তি রেখে যাচ্ছি, আমারই শান্তি তোমাদের প্রদান করছি। জগৎ যেভাবে দেয়, আমি সেভাবে তোমাদের দান করি না। তোমাদের হৃদয় যেন উদ্বিগ্ন না হয় এবং তোমরা ভীত হোয়ো না।
[28] “তোমরা আমার কাছে শুনেছ, ‘আমি চলে যাচ্ছি, কিন্তু তোমাদের কাছে আবার ফিরে আসছি।’ তোমরা যদি আমাকে ভালোবাসতে, আমি পিতার কাছে যাচ্ছি বলে তোমরা উল্লসিত হতে, কারণ পিতা আমার চেয়ে মহান।
[29] এসব ঘটবার আগেই আমি এখন তোমাদের সেসব বলে দিলাম, যেন তা ঘটলে তোমরা বিশ্বাস করতে পারো।
[30] আমি তোমাদের সঙ্গে আর বেশিক্ষণ কথা বলব না, কারণ এই জগতের অধিকর্তা আসছে। আমার উপর তার কোনো অধিকার নেই।
[31] কিন্তু জগৎ যেন শিক্ষাগ্রহণ করে যে, আমি পিতাকে ভালোবাসি এবং পিতা আমাকে যা আদেশ করেন, আমি ঠিক তাই পালন করি। “এখন চলো, আমরা প্রস্থান করি।