Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 13:16

[1] এর কিছু দিন পর, যীশু গালীল সাগরের (অর্থাৎ, টাইবেরিয়াস সাগরের) দূরবর্তী তীরে, লম্বালম্বি পার হলেন।

[2] অসুস্থদের ক্ষেত্রে তিনি যে চিহ্নকর্ম সাধন করেছিলেন, তার পরিচয় পেয়ে অনেক লোক তাঁকে অনুসরণ করল।

[3] যীশু তখন শিষ্যদের নিয়ে এক পর্বতে উঠে সেখানে বসলেন।

[4] তখন ইহুদিদের নিস্তারপর্ব উৎসবের সময় এসে গিয়েছিল।

[5] যীশু চোখ তুলে অনেক লোককে তাঁর দিকে এগিয়ে আসতে দেখে ফিলিপকে বললেন, “এসব লোককে খাওয়াবার জন্য আমরা কোথা থেকে রুটি কিনব।”

[6] তিনি তাঁকে শুধু পরীক্ষা করার জন্যই একথা জিজ্ঞাসা করলেন, কারণ তাঁর পরবর্তী কর্মপন্থা সম্পর্কে তিনি ইতিমধ্যেই মনস্থির করে ফেলেছিলেন।

[7] ফিলিপ তাঁকে উত্তর দিলেন, “প্রত্যেকের মুখে কিছু আহার দেওয়ার জন্য আট মাসের বেতনের বিনিময়ে কেনা রুটিও পর্যাপ্ত হবে না।”

[8] তাঁর অপর একজন শিষ্য, শিমোন পিতরের ভাই আন্দ্রিয়কে বললেন,

[9] “এখানে একটি ছেলের কাছে যবের পাঁচটি ছোট রুটি ও দুটি ছোট মাছ আছে। কিন্তু এত লোকের মধ্যে ওতে কী হবে?”

[10] যীশু বললেন, “লোকদের বসিয়ে দাও।” সেখানে প্রচুর ঘাস ছিল এবং প্রায় পাঁচ হাজার পুরুষ বসে পড়ল।

[11] তখন যীশু রুটিগুলি নিয়ে ধন্যবাদ দিলেন এবং যারা বসেছিলেন তাদের মধ্যে চাহিদামতো ভাগ করে দিলেন। মাছগুলি নিয়েও তিনি তা-ই করলেন।

[12] সকলের তৃপ্তি করে খাওয়ার পর যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন, “অবশিষ্ট রুটির টুকরোগুলি এক জায়গায় জড়ো করো। কোনো কিছুই যেন নষ্ট না হয়।”

[13] তাই তাঁরা সেই পাঁচটি যবের রুটির অবশিষ্ট অংশ সংগ্রহ করলেন। লোকদের খাওয়ার পর বেঁচে যাওয়া রুটির টুকরোগুলি দিয়ে তাঁরা বারোটি ঝুড়ি পূর্ণ করলেন।

[14] যীশুর কৃত এই চিহ্নকর্ম দেখে লোকেরা বলতে লাগল, “পৃথিবীতে যাঁর আসার কথা, ইনি নিশ্চয়ই সেই ভাববাদী।”

[15] যীশু বুঝতে পারলেন যে লোকেরা তাঁকে জোর করে রাজা করতে চায়, তখন তিনি নিজে একটি পাহাড়ে চলে গেলেন।

[16] সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে তাঁর শিষ্যেরা হ্রদের তীরে নেমে গেলেন।

[17] সেখানে একটি নৌকায় উঠে তাঁরা হ্রদ পার হয়ে কফরনাহূমের উদ্দেশে যাত্রা করলেন। সেই সময় অন্ধকার নেমে এলেও যীশু তখনও তাঁদের কাছে ফিরে আসেননি।

[18] প্রবল বাতাস বইছিল এবং জলরাশি উত্তাল হয়ে উঠেছিল।

[19] তাঁরা নৌকা বেয়ে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার এগিয়ে যাওয়ার পর যীশুকে জলের উপর দিয়ে হেঁটে নৌকার দিকে আসতে দেখলেন। তাঁরা ভয় পেলেন।

[20] কিন্তু তিনি তাঁদের বললেন, “এ আমি, ভয় পেয়ো না।”

[21] তখন তাঁরা যীশুকে নৌকায় তুলতে আগ্রহী হলেন এবং তাঁরা যেখানে যাচ্ছিলেন নৌকা তাঁদের গন্তব্যস্থল সেই কূলে পৌঁছে গেল।

[22] পরদিন, হ্রদের অপর তীরে যারা থেকে গিয়েছিল, তারা বুঝতে পারল যে, আগের দিন সেখানে একটি নৌকা ছাড়া আর অন্য নৌকা ছিল না, এবং যীশু শিষ্যদের সঙ্গে সেই নৌকায় আরোহণ করেননি, শিষ্যেরা নিজেরাই চলে গিয়েছিলেন।

[23] প্রভুর ধন্যবাদ-দানের পর লোকেরা যেখানে রুটি ভোজন করেছিল, সেই টাইবেরিয়াস থেকে কতগুলি নৌকা তখন সেখানে এল।

[24] যীশু বা তাঁর শিষ্যদের কেউই সেখানে নেই বুঝতে পেরে সকলে নৌকায় উঠে যীশুর সন্ধানে কফরনাহূমে গেল।

[25] হ্রদের অপর পারে যীশুকে দেখতে পেয়ে তারা জিজ্ঞাসা করল, “রব্বি, আপনি কখন এখানে এলেন?”

[26] যীশু উত্তর দিলেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমরা চিহ্নকর্ম দেখেছিলে বলে যে আমার অন্বেষণ করছ, তা নয়, কিন্তু রুটি খেয়ে তৃপ্ত হয়েছিলে বলেই তোমরা আমার অন্বেষণ করছ।

[27] নশ্বর খাদ্যের জন্য নয়, বরং অনন্ত জীবনব্যাপী স্থায়ী খাদ্যের জন্য তোমরা পরিশ্রম করো। মনুষ্যপুত্রই তোমাদের সেই খাদ্য দান করবেন। পিতা ঈশ্বর তাঁকেই মুদ্রাঙ্কিত করেছেন।”

[28] তারা তখন জিজ্ঞাসা করল, “ঈশ্বরের কাজ করতে হলে আমাদের কী করতে হবে?”

[29] যীশু উত্তর দিলেন, “ঈশ্বরের কাজ হল এই: তিনি যাঁকে প্রেরণ করেছেন, তোমরা তাঁকে বিশ্বাস করো।”

[30] অতএব, তারা জিজ্ঞাসা করল, “আপনাকে বিশ্বাস করতে পারি, এমন কী অলৌকিক চিহ্নকর্ম আপনি আমাদের দেখাবেন? আপনি কী করবেন?

[31] ‘তিনি আহারের জন্য স্বর্গ থেকে তাদের খাদ্য দিয়েছিলেন,’ শাস্ত্রে লিখিত এই বচন অনুসারে, আমাদের পূর্বপুরুষেরা মরুপ্রান্তরে মান্না ভোজন করেছিলেন।”

[32] যীশু তাদের বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, মোশি স্বর্গ থেকে তোমাদের সেই খাদ্য দেননি, বরং আমার পিতাই স্বর্গ থেকে প্রকৃত খাদ্য দান করেন।

[33] কারণ যিনি স্বর্গ থেকে অবতরণ করে জগৎকে জীবন দান করেন, তিনিই ঈশ্বরীয় খাদ্যস্বরূপ।”

[34] তারা বলল, “প্রভু, এখন থেকে সেই খাদ্যই আমাদের দিন।”

[35] যীশু তখন ঘোষণা করলেন, “আমিই সেই জীবন-খাদ্য। যে আমার কাছে আসে, সে কখনও ক্ষুধিত হবে না এবং যে আমাকে বিশ্বাস করে, সে কোনোদিনই পিপাসিত হবে না।

[36] কিন্তু আমি যেমন তোমাদের বলেছি, আমাকে দেখেও তোমরা এখনও পর্যন্ত আমাকে বিশ্বাস করোনি।

[37] পিতা যা সব আমাকে দেন, সেসবই আমার কাছে আসবে, আর যে আমার কাছে আসে, তাকে আমি কখনও তাড়িয়ে দেব না।

[38] কারণ আমার ইচ্ছা পূরণের জন্য আমি স্বর্গ থেকে আসিনি, আমি এসেছি যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা পূরণের জন্য।

[39] আর যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর ইচ্ছা এই, তিনি যাদের আমাকে দিয়েছেন, আমি যেন তাদের একজনকেও না হারাই, কিন্তু শেষের দিনে আমি যেন তাদের মৃত্যু থেকে উত্থাপিত করি।

[40] কারণ আমার পিতার ইচ্ছা এই, পুত্রের দিকে যে দৃষ্টিপাত করে তাঁকে বিশ্বাস করে, সে যেন অনন্ত জীবন লাভ করে। আর শেষের দিনে আমি তাকে উত্থাপিত করব।”

[41] একথায় ইহুদিরা তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করতে লাগল, কারণ তিনি বলেছিলেন, “আমিই সেই খাদ্য, যা স্বর্গলোক থেকে নেমে এসেছে।”

[42] তারা বলল, “এ কি যোষেফের পুত্র যীশু নয়, যার পিতামাতা আমাদের পরিচিত? তাহলে কী করে ও এখন বলছে, ‘আমি স্বর্গলোক থেকে নেমে এসেছি’?”

[43] প্রত্যুত্তরে যীশু বললেন, “তোমরা নিজেদের মধ্যে অসন্তোষ দেখিয়ো না।

[44] পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, তিনি আকর্ষণ না করলে কেউ আমার কাছে আসতে পারে না, আর শেষের দিনে আমি তাকে উত্থাপিত করব।

[45] ভাববাদীদের গ্রন্থে লিখিত আছে, ‘তারা সবাই ঈশ্বরের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করবে।’ পিতার কথায় যে কর্ণপাত করে এবং তাঁর কাছে শিক্ষা লাভ করে, সে আমার কাছে আসে।

[46] ঈশ্বরের কাছ থেকে যিনি এসেছেন, তিনি ব্যতীত আর কেউ পিতার দর্শন লাভ করেনি, একমাত্র তিনিই পিতাকে দর্শন করেছেন।

[47] আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, যে বিশ্বাস করে, সে অনন্ত জীবন লাভ করেছে।

[48] আমিই সেই জীবন-খাদ্য।

[49] তোমাদের পিতৃপুরুষেরা মরুপ্রান্তরে মান্না ভোজন করেছিলেন, তবুও তাঁদের মৃত্যু হয়েছিল।

[50] কিন্তু এখানে স্বর্গ থেকে আগত সেই খাদ্য রয়েছে, কোনো মানুষ তা ভোজন করলে তার মৃত্যু হয় না।

[51] আমিই স্বর্গ থেকে অবতীর্ণ সেই জীবন-খাদ্য। যদি কেউ এই খাদ্যগ্রহণ করে, সে চিরজীবী হবে। আমার মাংসই এই খাদ্য, যা জগতের জীবন লাভের জন্য আমি দান করব।”

[52] তখন ইহুদিদের নিজেদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হল, “এই লোকটি কীভাবে আমাদের আহারের জন্য তার মাংস দান করতে পারে?”

[53] যীশু তাদের বললেন, “আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমরা যদি মনুষ্যপুত্রের শরীর ভোজন এবং তাঁর রক্ত পান না করো, তোমাদের মধ্যে জীবন নেই।

[54] যে আমার শরীর ভোজন ও আমার রক্ত পান করে, সে অনন্ত জীবন লাভ করেছে এবং শেষের দিনে আমি তাকে উত্থাপিত করব।

[55] কারণ আমার মাংসই প্রকৃত খাদ্য এবং আমার রক্তই প্রকৃত পানীয়।

[56] যে আমার শরীর ভোজন ও আমার রক্ত পান করে, সে আমার মধ্যে থাকে, আর আমি তার মধ্যে থাকি।

[57] জীবন্ত পিতা যেমন আমাকে প্রেরণ করেছেন এবং আমি যেমন পিতারই জন্য জীবনধারণ করি, আমাকে যে ভোজন করে, সে ও তেমনই আমার জন্য জীবনধারণ করবে।

[58] এই সেই খাদ্য যা স্বর্গলোক থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। তোমাদের পিতৃপুরুষেরা মান্না ভোজন করেছিলেন, তাদের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু যে এই খাদ্য ভোজন করে, সে চিরকাল জীবিত থাকবে।”

[59] কফরনাহূমের সমাজভবনে শিক্ষা দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বললেন।

[60] একথা শুনে তাঁর শিষ্যদের মধ্যে অনেকে বললেন, “এ এক কঠিন শিক্ষা। এই শিক্ষা কে গ্রহণ করতে পারে?”

[61] শিষ্যেরা এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছে, জানতে পেরে যীশু তাঁদের বললেন, “একথায় কি তোমরা আঘাত পেলে?

[62] তাহলে, মনুষ্যপুত্রকে তোমরা তাঁর পূর্বস্থানে উন্নীত হতে দেখলে কী বলবে?

[63] পবিত্র আত্মাই জীবন দান করেন, শরীর কিছু উপকারী নয়। তোমাদের কাছে আমার কথিত বাক্যই আত্মা এবং সেগুলিই জীবন।

[64] কিন্তু তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আছে, যারা বিশ্বাস করে না।” কারণ প্রথম থেকেই যীশু জানতেন, তাঁদের মধ্যে কে তাঁকে বিশ্বাস করে না এবং কে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে।

[65] তিনি বলে চললেন, “এই জন্য আমি তোমাদের বলছি, পিতার কাছ থেকে সামর্থ্য লাভ না করলে, কেউ আমার কাছে আসতে পারে না।”

[66] এসময় থেকে বহু শিষ্য ফিরে গেল এবং তারা আর তাঁকে অনুসরণ করল না।

[67] তখন যীশু সেই বারোজন শিষ্যকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরাও কি আমাকে ছেড়ে যেতে চাও?”

[68] শিমোন পিতর তাঁকে উত্তর দিলেন, “প্রভু, আমরা কার কাছে যাব? আপনার কাছেই আছে অনন্ত জীবনের বাক্য।

[69] আমরা বিশ্বাস করি এবং জানি যে, আপনিই ঈশ্বরের সেই পবিত্র ব্যক্তি।”

[70] যীশু তখন বললেন, “তোমাদের এই বারোজনকে কি আমি মনোনীত করিনি? তবুও তোমাদের মধ্যে একজন হচ্ছে এক দিয়াবল।”

[71] (একথার দ্বারা তিনি শিমোন ইষ্কারিয়োৎ-এর পুত্র যিহূদার বিষয়ে ইঙ্গিত করলেন। সে বারোজন শিষ্যের অন্যতম হলেও পরবর্তীকালে যীশুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল)

যোহন — Chapters