[1] ওহে ধনী ব্যক্তিরা, তোমরা এখন শোনো, তোমাদের উপরে যে দুঃখ-দুর্দশা ঘনিয়ে আসছে, তার জন্য তোমরা কাঁদো ও বিলাপ করো।
[2] তোমাদের ধনসম্পদ পচে যাচ্ছে ও কাপড়-জামা কীটভক্ষিত হচ্ছে।
[3] তোমাদের সোনা ও রুপোয় ক্ষয় ধরেছে। সেই ক্ষয়িষ্ণুতা তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে ও আগুনের মতো তোমাদের শরীরকে গ্রাস করবে, কারণ শেষের দিনগুলিতে তোমরা ধন সঞ্চয় করেছ।
[4] দেখো! যে মজুরেরা তোমাদের জমিতে ফসল কেটেছে, তাদের মজুরি তোমরা দাওনি, তারা তোমাদের বিরুদ্ধে আর্তস্বর করছে। শস্যচ্ছেদকদের কান্না প্রভু সর্বশক্তিমানের কানে গিয়ে পৌঁছেছে।
[5] তোমরা পৃথিবীতে বিলাসিতায় ও আত্ম-সুখভোগে জীবন কাটিয়েছ। পশুহত্যার দিনে তোমরা নিজেদের হষ্টপুষ্ট করেছ।
[6] যারা প্রতিরোধ করেনি, সেইসব নির্দোষ মানুষকে তোমরা অপরাধী সাব্যস্ত করে হত্যা করেছ।
[7] তাই ভাইবোনেরা, তোমরা প্রভুর আগমন পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করো। দেখো, মূল্যবান ফসলের জন্য চাষি জমির দিকে তাকিয়ে কত প্রতীক্ষা করে, প্রথম ও শেষ বর্ষণের জন্য সে কতই না সহিষ্ণুতা অবলম্বন করে।
[8] তোমরাও তেমনই ধৈর্যধারণ করো ও অবিচল থাকো, কারণ প্রভুর আগমন সন্নিকট।
[9] ভাইবোনেরা, পরস্পরের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ কোরো না, নতুবা তোমাদের বিচার করা হবে। বিচারক দুয়ারেই দাঁড়িয়ে আছেন!
[10] ভাইবোনেরা, কষ্টযন্ত্রণা ভোগের সময় সেইসব ভাববাদীর দীর্ঘসহিষ্ণুতার আদর্শ গ্রহণ করো, যাঁরা প্রভুর নামে কথা বলেছিলেন।
[11] যেমন তোমরা জানো, যাঁরা কষ্টভোগের সময় নিষ্ঠাবান ছিলেন, তাঁদের আমরা ধন্য বলে মনে করি। তোমরা ইয়োবের নিষ্ঠার কথা শুনেছ এবং দেখেছ, শেষে প্রভু কী করলেন। প্রভু সহানুভূতিশীলতা ও করুণায় পূর্ণ।
[12] আমার ভাইবোনেরা, সবচেয়ে বড় কথা, তোমরা দিব্যি কোরো না—স্বর্গ বা মর্ত্য, বা অন্য কিছুরই নামে নয়। তোমাদের “হ্যাঁ,” হ্যাঁ-হোক, আর “না,” না হোক, নইলে তোমরা দোষী সাব্যস্ত হবে।
[13] তোমাদের মধ্যে কেউ কি সমস্যায় ভুগছে? সে প্রার্থনা করুক। কেউ কি সুখে আছে? সে প্রশংসা-গীতি গান করুক।
[14] তোমাদের মধ্যে কেউ কি অসুস্থ আছে? সে মণ্ডলীর প্রাচীনদের আহ্বান করুক, তাঁরা তার জন্য প্রার্থনা করবেন ও প্রভুর নামে তাকে তেল দিয়ে অভিষেক করবেন।
[15] আর বিশ্বাসের সঙ্গে নিবেদিত প্রার্থনা, সেই অসুস্থ ব্যক্তিকে নিরাময় করবে। প্রভু তাকে তুলে ধরবেন। যদি সে পাপ করে থাকে, সে ক্ষমা লাভ করবে।
[16] সেই কারণে, তোমরা পরস্পরের কাছে পাপস্বীকার করো ও পরস্পরের জন্য প্রার্থনা করো, যেন তোমরা আরোগ্যতা লাভ করতে পারো। ধার্মিক মানুষের প্রার্থনা শক্তিশালী ও কার্যকরী।
[17] এলিয় আমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন। দেশে বৃষ্টি না হওয়ার জন্য তিনি একান্তভাবে প্রার্থনা করেছিলেন, আর সাড়ে তিন বছর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়নি।
[18] আবার তিনি প্রার্থনা করলেন, আকাশমণ্ডল বারিবর্ষণ করল ও পৃথিবী শস্য উৎপন্ন করল।
[19] আমার ভাইবোনেরা, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি সত্যভ্রষ্ট হয় ও অপর কেউ তাকে ফিরিয়ে আনে,
[20] তাহলে, একথা মনে রেখো: পাপীকে যে কেউ তার ভ্রান্ত পথ থেকে ফেরায়, সে তাকে মৃত্যু থেকে রক্ষা করে ও তার পাপরাশি আবৃত করে।