Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 5:43

[1] হে আমার ভাইবোনেরা, আমাদের মহিমাময় প্রভু যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসীরূপে তোমরা পক্ষপাতিত্ব দেখিয়ো না।

[2] মনে করো, কোনো লোক সোনার আংটি ও মনোরম পোশাক পরে তোমাদের মণ্ডলীর সভায় এল এবং মলিন পোশাক পরিহিত একজন দীনহীন লোকও সেখানে এল।

[3] তোমরা যদি মনোরম পোশাক পরিহিত লোকটির প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেখাও ও তাকে বলো, “এখানে আপনার জন্য একটি ভালো আসন আছে,” কিন্তু সেই দীনহীন লোকটিকে বলো, “তুমি ওখানে দাঁড়াও” বা “আমার পায়ের কাছে মেঝের উপরে বসো,”

[4] তাহলে তোমরা কি নিজেদের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণ করছ না ও মন্দ ভাবনা নিয়ে বিচারকের স্থান গ্রহণ করছ না?

[5] আমার প্রিয় ভাইবোনেরা, তোমরা শোনো: জগতের দৃষ্টিতে যারা দরিদ্র, ঈশ্বর কি তাদের মনোনীত করেননি, যেন তারা বিশ্বাসে ধনী হয় এবং যারা তাঁকে ভালোবাসে, তাদের কাছে প্রতিশ্রুত রাজ্যের অধিকারী হয়?

[6] কিন্তু তোমরা সেই দরিদ্রকে অপমান করেছ। ধনী ব্যক্তিরাই কি তোমাদের শোষণ করে না? তারাই কি তোমাদের বিচারালয়ে টেনে নিয়ে যায় না?

[7] তারাই কি সেই পরমশ্রেষ্ঠ নামের নিন্দা করে না, যাঁর নিজস্ব অধিকাররূপে তোমরা পরিচিত হয়েছ?

[8] শাস্ত্রের এই রাজসিক বিধান, “তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতোই ভালোবেসো,” যদি তোমরা প্রকৃতই মেনে চলো, তাহলে তোমরা ঠিকই করো।

[9] কিন্তু তোমরা যদি পক্ষপাতিত্ব দেখাও, তবে পাপ করো এবং বিধানের দ্বারাই তোমরা বিধান-ভঙ্গকারীরূপে দোষী সাব্যস্ত হও।

[10] কারণ সমস্ত বিধান পালন করে কেউ যদি শুধুমাত্র একটি পালনে ব্যর্থ হয়, সে তার সমস্তই লঙ্ঘনের দায়ে দোষী হবে।

[11] কারণ যিনি বলেছেন, “ব্যভিচার কোরো না,” তিনিই আবার বলেছেন, “তোমরা নরহত্যা কোরো না।” তোমরা হয়তো ব্যভিচার করোনি, কিন্তু যদি নরহত্যা করে থাকো, তাহলে তোমরা বিধান-ভঙ্গকারী হয়েছ।

[12] যে বিধানের দ্বারা তোমরা স্বাধীনতা লাভ করেছ, তারই দ্বারা তোমাদের যেন বিচার হতে চলেছে, তোমরা সেইমতো কথা বলো ও কাজ করো।

[13] কারণ যে দয়া প্রদর্শন করেনি, তারও বিচার করা হবে নির্দয়ভাবে। দয়াই বিচারের উপরে জয়লাভ করে।

[14] কোনো মানুষ যদি দাবি করে তার বিশ্বাস আছে, কিন্তু কোনো কর্ম না থাকে, তাহলে আমার ভাইবোনেরা, এতে কী লাভ হবে? এধরনের বিশ্বাস কি তাকে পরিত্রাণ দিতে পারে?

[15] মনে করো, কোনো ভাই বা বোনের পরিধেয় বস্ত্র ও দৈনন্দিন আহারের সংস্থান নেই।

[16] তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তাকে বলে, “শান্তিতে যাও, তুমি উষ্ণ ও তৃপ্ত থাকো,” কিন্তু তার শারীরিক প্রয়োজন সম্পর্কে সে কিছুই না করে, তাহলে, তাতে কী লাভ হবে?

[17] একইভাবে, বিশ্বাসের সঙ্গে যদি কর্ম যুক্ত না হয়, তাহলে বিশ্বাস স্বয়ং মৃত।

[18] কিন্তু কেউ হয়তো বলবে, “তোমার বিশ্বাস আছে, আমার আছে কর্ম।” আমাকে তোমার কর্মহীন বিশ্বাসের প্রমাণ দেখাও, আমি তোমাকে আমার কর্মের মাধ্যমে বিশ্বাস দেখাব।

[19] তুমি তো বিশ্বাস করো যে, কেবলমাত্র এক ঈশ্বর আছেন। ভালো, এমনকি, ভূতেরাও তা বিশ্বাস করে ও ভয়ে কাঁপে।

[20] ওহে নির্বোধ মানুষ, কর্মবিহীন বিশ্বাস যে নিরর্থক, তুমি কি তার প্রমাণ চাও?

[21] আমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহাম, তাঁর পুত্র ইস্‌হাককে বেদির উপরে উত্সর্গ করেছিলেন এবং তাঁর কর্মের দ্বারাই তাঁকে কি ঈশ্বরের সাক্ষাতে ধার্মিক দেখানো হয়নি?

[22] তাহলে, তোমরা দেখতে পাচ্ছ যে, তাঁর বিশ্বাস ও তাঁর কর্ম একযোগে সক্রিয় ছিল এবং কর্মের দ্বারাই তাঁর বিশ্বাস পূর্ণতা লাভ করেছিল।

[23] আবার শাস্ত্রেরও এই বচন পূর্ণ হল, যা বলে, “অব্রাহাম ঈশ্বরকে বিশ্বাস করলেন এবং তা তাঁর পক্ষে ধার্মিকতা বলে গণ্য হল।” আর তিনি ঈশ্বরের বন্ধু—এই নামে আখ্যাত হলেন।

[24] তোমরা দেখতে পাচ্ছ, কোনো মানুষ কেবলমাত্র বিশ্বাসে নয়, কিন্তু তার কর্মের দ্বারাই নির্দোষ গণিত হয়।

[25] একইভাবে, বেশ্যা রাহবও তাঁর কর্মের জন্য কি ধার্মিক বলে প্রদর্শিত হননি? তিনি সেই গুপ্তচরদের থাকার আশ্রয় দিয়ে, পরে অন্য পথ দিয়ে তাদের বিদায় দিয়েছিলেন।

[26] যেমন আত্মাবিহীন শরীর মৃত, তেমনই কর্মবিহীন বিশ্বাসও মৃত।

যাকোব — Chapters