[1] ঈশ্বর ও প্রভু যীশু খ্রীষ্টের দাস, আমি যাকোব, বিভিন্ন দেশে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকা ইস্রায়েলের দ্বাদশ গোষ্ঠীর উদ্দেশে: শুভেচ্ছা।
[2] হে আমার ভাইবোনেরা, যখনই তোমরা বিভিন্ন প্রকারের পরীক্ষার সম্মুখীন হও, সেগুলিকে নির্মল আনন্দের বিষয় বলে মনে কোরো,
[3] কারণ তোমরা জানো যে, তোমাদের বিশ্বাসের পরীক্ষা ধৈর্য উৎপন্ন করে।
[4] ধৈর্যকে অবশ্যই তার কর্ম সাধন করতে হবে, যেন তোমরা পরিপক্ব ও সম্পূর্ণ হয়ে উঠতে পারো, কোনো-বিষয়ের অভাব তোমাদের না থাকে।
[5] তোমাদের কারও যদি প্রজ্ঞার অভাব থাকে, সে ঈশ্বরের কাছে তা চাইবে, যিনি কোনও ত্রুটি না ধরে উদারভাবে সকলকে দান করে থাকেন, আর তাকে তা দেওয়া হবে।
[6] কিন্তু চাওয়ার সময় তাকে বিশ্বাস করতে হবে, সে যেন সন্দেহ না করে। কারণ যে সন্দেহ করে, সে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো, বাতাসে তাড়িত ও উৎক্ষিপ্ত।
[7] সেই মানুষ এমন মনে না করুক যে, সে প্রভুর কাছ থেকে কিছু পাবে।
[8] সে দ্বিমনা মানুষ, তার সমস্ত কর্মে অস্থিরমতি।
[9] যে ভাইবোনেরা অতি সাধারণ পরিস্থিতিতে আছে, সে তার উচ্চ অবস্থানের জন্য গর্ববোধ করুক।
[10] কিন্তু যে ধনী, সে তার নিম্নতর অবস্থানের জন্য গর্বিত হোক, যেহেতু সে বুনোফুলের মতো হারিয়ে যাবে।
[11] কারণ সূর্য প্রখর তাপ নিয়ে উদিত হয় ও গাছপালা শুকিয়ে যায়; তার ফুল ঝরে যায় ও সৌন্দর্য নষ্ট হয়। একইভাবে, ধনী ব্যক্তি তার কর্মব্যস্ততা সত্ত্বেও বিলীন হয়ে যাবে।
[12] ধন্য সেই মানুষ, যে পরীক্ষার মধ্যেও ধৈর্যধারণ করে, কারণ পরীক্ষা সহ্য করলে সে জীবনমুকুট লাভ করবে, যা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ঈশ্বর তাদের দিয়েছেন, যারা তাঁকে ভালোবাসে।
[13] প্রলোভনে পড়লে কেউ যেন না বলে, “ঈশ্বর আমাকে প্রলুব্ধ করেছেন।” কারণ মন্দ বিষয়ের দ্বারা ঈশ্বরকে প্রলুব্ধ করা যায় না, আবার তিনিও কাউকে প্রলুব্ধ করেন না।
[14] কিন্তু প্রত্যেক মানুষ তার নিজের কামনা-বাসনার দ্বারা আকর্ষিত হয়ে প্রলোভনে পড়ে ও কুপথে চালিত হয়।
[15] পরে, সেই কামনা পূর্ণগর্ভ হয়ে পাপের জন্ম দেয় এবং পাপ পূর্ণতা লাভ করে মৃত্যু প্রসব করে।
[16] আমার প্রিয় ভাইবোনেরা, ভ্রান্ত হয়ো না।
[17] সমস্ত উৎকৃষ্ট ও নিখুঁত দান ঊর্ধ্বলোক থেকে, আকাশের জ্যোতিষ্কমণ্ডলীর সেই পিতা থেকে আসে, যিনি অপসৃয়মান ছায়ার মতো পরিবর্তিত হন না।
[18] তাঁর মনোনয়ন অনুসারে তিনি সত্যের বাক্য দ্বারা আমাদের জন্ম দিয়েছেন, যেন তাঁর সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে আমরা এক প্রকার প্রথম ফসলরূপে গণ্য হতে পারি।
[19] আমার প্রিয় ভাইবোনেরা, তোমরা এ বিষয়ে মনোনিবেশ করো: প্রত্যেকেই শ্রবণে সত্বর ও কথা বলায় ধীর হও এবং ক্রোধ করার ব্যাপারেও ধীরতা অবলম্বন করো।
[20] কারণ মানুষের ক্রোধ ঈশ্বরের কাঙ্ক্ষিত ধর্মময় জীবনের বিকাশ ঘটাতে পারে না।
[21] সেই কারণে, সমস্ত নৈতিক কলুষতা ও প্রবলরূপে বলবৎ মন্দতা থেকে মুক্ত হও ও তোমাদের মধ্যে রোপিত সেই বচনকে নতনম্ররূপে গ্রহণ করো, যা তোমাদের পরিত্রাণ সাধন করতে পারে।
[22] বাক্যের কেবলই শ্রোতামাত্র হয়ো না ও নিজেদের প্রতারিত কোরো না। বাক্য যা বলে, তা কোরো।
[23] যে বাক্য শ্রবণ করে, কিন্তু তার নির্দেশ পালন করে না, সে এমন মানুষের মতো, যে আয়নায় তার মুখ দেখে,
[24] নিজেকে দেখার পর সে চলে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গেই ভুলে যায়, সে দেখতে কেমন।
[25] কিন্তু যে নিখুঁত বিধানের প্রতি আগ্রহভরে দৃষ্টি দেয়, যা স্বাধীনতা প্রদান করে ও যা শুনেছে তা ভুলে না গিয়ে নিরন্তর তা পালন করতে থাকে, সে সবকাজেই আশীর্বাদধন্য হবে।
[26] কেউ যদি নিজেকে ধর্মনিষ্ঠ বলে মনে করে, কিন্তু নিজের জিভকে লাগাম দিয়ে বশে না-রাখে, সে নিজের সঙ্গেই প্রতারণা করে এবং তার ধর্ম অসার।
[27] পিতা ঈশ্বরের কাছে বিশুদ্ধ ও নির্দোষরূপে গ্রহণযোগ্য ধর্ম হল এই: অনাথ ও বিধবাদের দুঃখকষ্টে তত্ত্বাবধান করা এবং সাংসারিক কলুষতা থেকে নিজেকে রক্ষা করা।