[1] আমার ভাইবোনেরা, তোমরা অনেকেই শিক্ষক হতে চেয়ো-না, কারণ তোমরা জানো যে, আমরা যারা শিক্ষা দিই, আমাদের আরও কঠোরভাবে বিচার করা হবে।
[2] আমরা সকলেই বিভিন্নভাবে ভুল করি। কেউ যদি তার কথাবার্তায় কখনও ভুল না করে, তাহলে সেই সিদ্ধপুরুষ, তার সমস্ত শরীর সে বশে রাখতে সমর্থ।
[3] অশ্বদের বশে রাখার জন্য যখন আমরা তাদের মুখে লাগাম পরাই, তখন আমরা সমস্ত পশুটিকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
[4] কিংবা উদাহরণস্বরূপ, জাহাজের কথাই ধরো। যদিও সেগুলি অনেক বড় ও প্রবল বাতাসে চালিত হয়, তবুও নাবিক একটি ছোট্ট হালের সাহায্যে সেগুলিকে যেদিকে যাওয়ার ইচ্ছা, নিয়ে যায়।
[5] একইভাবে, জিভ শরীরের একটি ছোট্ট অঙ্গ, কিন্তু তা মহা দম্ভের সব কথা বলে থাকে। ভেবে দেখো, সামান্য একটি স্ফুলিঙ্গ কীভাবে মহা অরণ্যকে প্রজ্বলিত করে!
[6] সেইরকম, জিভও যেন এক আগুন, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে অধর্মের এক জগতের মতো রয়েছে। সমগ্র ব্যক্তিসত্তাকে তা কলুষিত করে, তার সমগ্র জীবনচক্রে আগুন জ্বালায় এবং সে নিজেও নরকের আগুনে জ্বলে।
[7] সব ধরনের পশুপাখি, সরীসৃপ ও সামুদ্রিক প্রাণী দমন করতে পারা যায় ও মানুষ তাদের দমন করেছে,
[8] কিন্তু জিভকে কেউই দমন করতে পারে না। এ এক অশান্ত মন্দতা ও প্রাণঘাতী বিষে পূর্ণ।
[9] এই জিভ দিয়েই আমরা আমাদের প্রভু ও পিতার গৌরব করি, আবার এ-দিয়েই আমরা ঈশ্বরের সাদৃশ্যে সৃষ্ট সব মানুষকে অভিশাপ দিই।
[10] একই মুখ থেকে প্রশংসা ও অভিশাপ বের হয়ে আসে। আমার ভাইবোনেরা, এরকম হওয়া উচিত নয়।
[11] একই উৎস থেকে কি মিষ্টি জল ও লবণাক্ত জল, উভয়ই প্রবাহিত হতে পারে?
[12] আমার ভাইবোনেরা, ডুমুর গাছে কি জলপাই, কিংবা দ্রাক্ষালতায় কি ডুমুর উৎপন্ন হতে পারে? তেমনই লবণাক্ত জলের উৎসও সুমিষ্ট জল দিতে পারে না।
[13] তোমাদের মধ্যে কে বিজ্ঞ ও বুদ্ধিমান? সে তার সৎ জীবন ও নম্রতায় কৃত কর্মসমূহের দ্বারা, যা বিজ্ঞতার মাধ্যমে আসে, তা প্রদর্শিত করুক।
[14] কিন্তু তোমরা যদি তোমাদের অন্তরে তিক্ত ঈর্ষা ও স্বার্থকেন্দ্রিক উচ্চাশা পোষণ করো, তার জন্য গর্বপ্রকাশ কোরো না বা সত্যকে অস্বীকার কোরো না।
[15] এ ধরনের “বিজ্ঞতা” স্বর্গ থেকে নেমে আসে না। তা পার্থিব, অনাত্মিক ও শয়তানসুলভ।
[16] কারণ যেখানে তোমাদের মধ্যে আছে ঈর্ষা ও স্বার্থকেন্দ্রিক উচ্চাশা, সেখানেই তোমরা দেখবে বিশৃঙ্খলা ও সব ধরনের মন্দ অভ্যাস।
[17] কিন্তু স্বর্গ থেকে যে বিজ্ঞতা আসে, প্রথমত সেটি বিশুদ্ধ, তারপরে তা শান্তিপ্রিয়, সুবিবেচক, অনুগত, করুণায় ও উৎকৃষ্ট ফলে পূর্ণ, পক্ষপাতশূন্য ও অকপট।
[18] শান্তিস্থাপনকারী যারা শান্তিতে বীজবপন করে, তারা ধার্মিকতার ফসল উৎপন্ন করবে।