[1] তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন, “এখন তুমি দেখবে আমি ফরৌণের প্রতি কী করব: আমার শক্তিশালী হাতের কারণে সে তাদের যেতে দেবে; আমার শক্তিশালী হাতের কারণে সে তাদের তার দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবে।”
[2] এছাড়াও ঈশ্বর মোশিকে বললেন, “আমিই সেই সদাপ্রভু।
[3] সর্বশক্তিমান ঈশ্বররূপে আমি অব্রাহামের, ইস্হাকের ও যাকোবের কাছে আবির্ভূত হলাম, কিন্তু সদাপ্রভু—আমার এই নামে পুরোপুরিভাবে আমি তাদের কাছে নিজের পরিচয় দিইনি।
[4] যে কনানদেশে তারা বিদেশিরূপে বসবাস করছিল, সেটি তাদের দেওয়ার জন্য আমি তাদের সাথে আমার নিয়ম প্রতিষ্ঠিতও করলাম।
[5] এছাড়াও, আমি সেই ইস্রায়েলীদের কান্না শুনেছিলাম, যাদের মিশরীয়রা ক্রীতদাস করে রেখেছে, এবং আমি আমার নিয়ম স্মরণ করলাম।
[6] “সুতরাং, ইস্রায়েলীদের বলো: ‘আমি সদাপ্রভু, এবং মিশরীয়দের জোয়ালের তলা থেকে আমি তোমাদের বের করে আনব। তাদের ক্রীতদাস হয়ে থাকার হাত থেকে আমি তোমাদের স্বাধীন করব, এবং এক প্রসারিত হাত ও মহৎ দণ্ডাদেশ সহ আমি তোমাদের মুক্ত করব।
[7] আমার নিজস্ব প্রজারূপে আমি তোমাদের গ্রহণ করব, এবং আমি তোমাদের ঈশ্বর হব। তখন তোমরা জানবে যে আমিই তোমাদের সেই ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি মিশরীয়দের জোয়ালের তলা থেকে তোমাদের বের করে এনেছেন।
[8] আর উন্নমিত হাত দিয়ে আমি তোমাদের সেই দেশে নিয়ে আসব, যেটি দেওয়ার প্রতিজ্ঞা আমি অব্রাহামের, ইস্হাকের ও যাকোবের কাছে করলাম। এক অধিকাররূপে আমি সেটি তোমাদের দেব। আমিই সদাপ্রভু।’ ”
[9] মোশি ইস্রায়েলীদের এই খবর দিলেন, কিন্তু তাদের আত্মবিশ্বাসহীনতা ও কঠোর পরিশ্রমের কারণে তারা তাঁর কথা শোনেনি।
[10] তখন সদাপ্রভু মোশিকে বললেন,
[11] “যাও, মিশররাজ ফরৌণকে তার দেশ ছেড়ে ইস্রায়েলীদের যেতে দিতে বলো।”
[12] কিন্তু মোশি সদাপ্রভুকে বললেন, “আমি যেহেতু কম্পমান ঠোঁটে কথা বলি তাই ইস্রায়েলীরাই যখন আমার কথা শুনছে না, ফরৌণ তবে কেন আমার কথা শুনবেন?”
[13] ইস্রায়েলীদের ও মিশররাজ ফরৌণের বিষয়ে সদাপ্রভু মোশি ও হারোণের সাথে কথা বললেন, এবং ইস্রায়েলীদের মিশর থেকে বের করে আনার আদেশ তিনি তাঁদের দিলেন।
[14] তাঁদের কুলের নেতা এঁরাই: ইস্রায়েলের প্রথমজাত সন্তান রূবেণের ছেলেরা: হনোক, পল্লু, হিষ্রোণ ও কর্মি। এঁরাই হলেন রূবেণের গোষ্ঠী।
[15] শিমিয়োনের ছেলেরা: যিমূয়েল, যামীন, ওহদ, যাখীন, সোহর, ও এক কনানীয় মহিলার ছেলে শৌল। এঁরাই হলেন শিমিয়োনের গোষ্ঠী।
[16] তাঁদের নথি অনুসারে এই হল লেবির ছেলেদের নাম: গের্শোন, কহাৎ, ও মরারি। (লেবি 137 বছর বেঁচেছিলেন)
[17] গোষ্ঠী অনুসারে, গের্শোনের ছেলেরা: লিব্নি ও শিমিয়ি।
[18] কহাতের ছেলেরা: অম্রাম, যিষ্হর, হিব্রোণ ও উষীয়েল। (কহাৎ 133 বছর বেঁচেছিলেন)
[19] মরারির ছেলেরা: মহলি ও মূশি। তাঁদের নথি অনুসারে এঁরাই লেবির বিভিন্ন গোষ্ঠী।
[20] অম্রাম তাঁর পিসিমা সেই যোকেবদকে বিয়ে করলেন, যিনি অম্রামের জন্য মোশি ও হারোণের জন্ম দিলেন। (অম্রাম 137 বছর বেঁচেছিলেন)
[21] যিষ্হরের ছেলেরা: কোরহ, নেফগ ও সিখ্রি।
[22] উষীয়েলের ছেলেরা: মীশায়েল, ইল্সাফন ও সিথ্রি।
[23] হারোণ অম্মীনাদবের মেয়ে ও নহশোনের বোন ইলীশেবাকে বিয়ে করলেন, এবং তিনি হারোণের জন্য নাদব ও অবীহূ, ইলীয়াসর ও ঈথামরের জন্ম দিলেন।
[24] কোরহের ছেলেরা হলেন: অসীর, ইল্কানা ও অবীয়াসফ। এঁরাই হলেন কোরহের বিভিন্ন গোষ্ঠী।
[25] হারোণের ছেলে ইলীয়াসর পুটিয়েলের মেয়েদের মধ্যে একজনকে বিয়ে করলেন, এবং তিনি তাঁর জন্য পীনহসের জন্ম দিলেন। এঁরাই হলেন গোষ্ঠী ধরে ধরে লেবীয় কুলের বিভিন্ন নেতা।
[26] এই হারোণ ও মোশিকেই সদাপ্রভু বললেন, “বিভাগ ধরে ধরে তোমরা ইস্রায়েলীদের মিশর থেকে বের করে আনো।”
[27] তারাই—এই মোশি ও হারোণই ইস্রায়েলীদের মিশর থেকে বের করে আনার বিষয়ে মিশররাজ ফরৌণের সাথে কথা বললেন।
[28] এদিকে সদাপ্রভু যখন মিশরে মোশির সাথে কথা বললেন,
[29] তখন তিনি মোশিকে বললেন, “আমি সদাপ্রভু। আমি তোমাকে যা যা বলছি সেসব কথা মিশররাজ ফরৌণকে গিয়ে বলো।”
[30] কিন্তু মোশি সদাপ্রভুকে বললেন, “আমি যেহেতু কম্পমান ঠোঁটে কথা বলি, তাই ফরৌণ আমার কথা শুনবেন কেন?”