[1] পৌল, ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী খ্রীষ্ট যীশুর একজন প্রেরিতশিষ্য এবং আমাদের ভাই তিমথি, করিন্থে স্থিত ঈশ্বরের মণ্ডলী এবং সমস্ত আখায়া প্রদেশের যত সন্তজন আছে, তাদের সর্বজন সমীপেষু:
[2] আমাদের পিতা ঈশ্বর ও প্রভু যীশু খ্রীষ্ট থেকে অনুগ্রহ ও শান্তি তোমাদের প্রতি বর্তুক।
[3] আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ঈশ্বর ও পিতার প্রশংসা হোক, যিনি করুণাময় পিতা ও সমস্ত সান্ত্বনার ঈশ্বর,
[4] যিনি আমাদের সকল কষ্টের জন্য সান্ত্বনা প্রদান করেন, যেন আমরা স্বয়ং যে সান্ত্বনা ঈশ্বরের কাছ থেকে লাভ করেছি, যারা যে কোনো কষ্টভোগ করছে, তাদের সেই সান্ত্বনা দ্বারা সান্ত্বনা প্রদান করতে পারি।
[5] কারণ যেমন খ্রীষ্টের কষ্টভোগ আমাদের জীবনে প্রচুররূপে প্রবাহিত হয়েছে, তেমনই খ্রীষ্টের মাধ্যমে আমাদের সান্ত্বনাও যেন প্রবলরূপে উপচে পড়ে।
[6] আমরা যদি যন্ত্রণাগ্রস্ত হই, তা তোমাদের সান্ত্বনা ও পরিত্রাণের জন্য; যদি আমরা সান্ত্বনা লাভ করি, তা তোমাদের সান্ত্বনার জন্য, যা তোমাদের মধ্যে ধৈর্যসহ, আমরা যে কষ্টভোগ করি, সেই একই কষ্টভোগে সহ্যশক্তি উৎপন্ন করে।
[7] আর তোমাদের জন্য আমাদের প্রত্যাশা অবিচল, কারণ আমরা জানি যে, যেমন তোমরা আমাদের কষ্টভোগের অংশীদার হও, তেমনই তোমরা আমাদের সান্ত্বনারও সহভাগী হয়ে থাকো।
[8] ভাইবোনেরা, আমি চাই না, এশিয়া প্রদেশে যে দুর্দশা আমরা ভোগ করেছিলাম, তা তোমাদের অজানা থাকে। আমাদের সহ্যশক্তির থেকেও বহুগুণে বেশি আমরা নিদারুণ চাপের মধ্যে ছিলাম, যার ফলে আমরা প্রাণের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম।
[9] প্রকৃতপক্ষে, আমরা আমাদের অন্তরে মৃত্যুর দণ্ডাদেশ অনুভব করেছিলাম। কিন্তু এরকম ঘটল, আমরা যেন নিজের উপরে নির্ভর না করে ঈশ্বরের উপরে করি, যিনি মৃতদের উত্থাপিত করেন।
[10] তিনিই আমাদের এরকম মৃত্যুজনক সংকট থেকে উদ্ধার করেছেন এবং তিনি আমাদের উদ্ধার করবেন। তাঁরই উপর আমরা আশা রেখেছি যে, তিনি আমাদের পুনরায় উদ্ধার করবেন,
[11] যেমন তোমরা তোমাদের প্রার্থনা দ্বারা আমাদের সাহায্য করে থাকো। এরপর অনেকের প্রার্থনার উত্তরে আমরা যে মহা-অনুগ্রহ লাভ করেছি, সেই কারণে, অনেকেই আমাদের পক্ষে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবে।
[12] এখন আমাদের গর্ব এই: আমাদের বিবেক সাক্ষ্য দেয় যে, আমরা ঈশ্বরের দেওয়া পবিত্রতায় এবং সরলতায় জগতের মধ্যে আচরণ করেছি, বিশেষত তোমাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে। এই গুণগুলি ঈশ্বর থেকে লব্ধ। আমরা জাগতিক প্রজ্ঞা অনুসারে নয়, কিন্তু ঈশ্বরের অনুগ্রহের দ্বারা এরকম করেছি।
[13] আমরা শুধু তা-ই লিখছি, যা তোমরা পড়তে ও বুঝতে পারবে। আমি এই আশাতেই আছি।
[14] এখন পর্যন্ত তোমরা আমাদের আংশিকরূপে বুঝতে পেরেছ, যেন প্রভু যীশুর দিনে তোমরা আমাদের জন্য গর্ব করতে পারো, যেমন আমরা তোমাদের জন্য গর্ব করব।
[15] আমি যেহেতু এ বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম, যাত্রার শুরুতে আমি প্রথমে তোমাদের কাছে যাব, যেন তোমরা দুবার উপকৃত হতে পারো।
[16] আমি ম্যাসিডোনিয়া যাওয়ার পথে তোমাদের পরিদর্শন করার পরিকল্পনা করেছিলাম এবং চেয়েছিলাম সেখান থেকে তোমাদের কাছে ফিরে আসতে, তারপর তোমরা যেন আমাকে যিহূদিয়ার পথে প্রেরণ করো।
[17] এই পরিকল্পনা করার সময় আমি কি তা লঘুভাবে করেছিলাম? নাকি আমি আমার পরিকল্পনাগুলি জাগতিক উপায়ে করি যে, একইসঙ্গে আমি “হ্যাঁ, হ্যাঁ” ও “না, না” বলি?
[18] কিন্তু ঈশ্বর যেমন নিশ্চিতরূপে বিশ্বস্ত, তোমাদের কাছে আমাদের বার্তা তেমনই “হ্যাঁ” বা “না” নয়।
[19] কারণ ঈশ্বরের পুত্র, যীশু খ্রীষ্ট, যাঁকে আমি, সীল ও তিমথি তোমাদের কাছে প্রচার করেছিলাম, তিনি “হ্যাঁ” ও “না” মেশানো ছিলেন না, কিন্তু তাঁর মধ্যে সবসময়ই “ইতিবাচক” ব্যাপার ছিল।
[20] কারণ ঈশ্বর যত প্রতিশ্রুতিই দিয়েছে, সেগুলি খ্রীষ্টের মধ্যে “ইতিবাচক” হয়েছে। আর তাই, তাঁরই মাধ্যমে ঈশ্বরের মহিমার উদ্দেশে আমরা “আমেন” বলি।
[21] এখন ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে আমাদের, উভয়কেই খ্রীষ্টে দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করেছেন। তিনি আমাদের অভিষিক্ত করেছেন,
[22] আমাদের উপরে তাঁর অধিকারের সিলমোহর দিয়েছেন এবং সন্নিকট সব বিষয়ের নিশ্চয়তাস্বরূপ তাঁর আত্মাকে আমাদের হৃদয়ে অগ্রিম দানস্বরূপ স্থাপন করেছেন।
[23] আমি আমার প্রাণের উপরে ঈশ্বরকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, তোমাদেরকে কঠোর তিরস্কার থেকে বাঁচানোর জন্যই আমি করিন্থে ফিরে যাইনি।
[24] তোমাদের বিশ্বাসের উপরে প্রভুত্ব করতে চেয়েছি বলে নয়, কিন্তু তোমাদের আনন্দের জন্য আমরা তোমাদের সহকর্মী হয়েছি, কারণ বিশ্বাস সম্পর্কে বলতে গেলে, তোমরা তার উপরে সুদৃঢ়রূপে প্রতিষ্ঠিত আছো।