Skip to content
Opens in a new window
Listen to this chapter • 5:00

[1] প্রিয় বন্ধুরা, যেহেতু আমাদের কাছে এসব প্রতিশ্রুতি আছে, তাই যা কিছু আমাদের শরীর ও আত্মাকে কলুষিত করে, এসো আমরা সেসব থেকে নিজেদের শুচিশুদ্ধ করি এবং ঈশ্বরের প্রতি সম্ভ্রমবশত পবিত্রতা সিদ্ধ করি।

[2] তোমরা তোমাদের হৃদয়ে আমাদের জন্য স্থান দিয়ো। আমরা কারও প্রতি অন্যায় করিনি, আমরা কাউকে অপভ্রষ্ট করিনি, আমরা কাউকে শোষণ করিনি।

[3] তোমাদের অভিযুক্ত করার জন্য আমি একথা বলছি না। আমি পূর্বেই তোমাদের বলেছি যে, তোমরা আমাদের অন্তরে এমন স্থান জুড়ে আছো যে, আমরা মরি তো একসঙ্গে, আবার বাঁচি তো একসঙ্গে।

[4] তোমাদের প্রতি আমার পরম আস্থা আছে; তোমাদের নিয়ে আমার ভীষণ গর্ব; আমি প্রবলরূপে অনুপ্রাণিত, আমাদের সমস্ত কষ্ট-সংকটের মধ্যেও আমার আনন্দের সীমা নেই।

[5] কারণ, আমরা ম্যাসিডোনিয়ায় আসার পরেও, আমাদের এই শরীরের কোনো বিশ্রাম ছিল না, কিন্তু জীবনের প্রতিটি মোড়ে বিপর্যস্ত হচ্ছিলাম—বাইরে সংঘর্ষ, অন্তরে ভয়।

[6] কিন্তু ঈশ্বর, যিনি দুঃখিত মানুষদের সান্ত্বনা প্রদান করেন, তিনি তীতের আগমন দ্বারা আমাদের সান্ত্বনা প্রদান করলেন।

[7] আর কেবলমাত্র তাঁর আগমন দ্বারা নয়, কিন্তু তোমরা তাঁকে যে সান্ত্বনা দিয়েছ, তার দ্বারাও আশ্বস্ত করলেন। তিনি আমার জন্য তোমাদের আকাঙ্ক্ষা, তোমাদের গভীর দুঃখ, আমার জন্য তোমাদের প্রবল দুশ্চিন্তার কথাও ব্যক্ত করলেন, যেন আমার আনন্দ পূর্বের থেকেও আরও বেশি হয়।

[8] আমার পত্রের দ্বারা আমি তোমাদের দুঃখ দিলেও, আমি তার জন্য অনুশোচনা করি না। আমি অনুশোচনা করলেও—আমি দেখছি যে আমার পত্র তোমাদের আহত করেছে, কিন্তু তা মাত্র অল্প সময়ের জন্য—

[9] এখন আমি আনন্দিত, তোমাদের দুঃখ দিয়েছিলাম বলে নয়, কিন্তু সেই দুঃখ তোমাদের অনুতাপের পথে চালিত করেছিল বলে। কারণ ঈশ্বর যেমন চেয়েছিলেন, তোমরা তেমনই দুঃখিত হয়েছিলে, অতএব, আমাদের দ্বারা তোমাদের কোনো ক্ষতি হয়নি।

[10] ঐশ্বরিক দুঃখ নিয়ে আসে অনুতাপ, যা পরিত্রাণের পথে চালিত করে; সেখানে অনুশোচনার কোনও অবকাশ নেই; কিন্তু জাগতিক দুঃখ নিয়ে আসে মৃত্যু।

[11] দেখো, ঈশ্বরের অভিমত অনুযায়ী তোমাদের মধ্যে কী সব বিষয় উৎপন্ন করেছে: কত আগ্রহ, নিজেদের শুদ্ধ দেখানোর জন্য কত আকুলতা, কত না ধিক্কার, কত আশঙ্কা, কত প্রতীক্ষা, কত উদ্বেগ, ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য কত না প্রস্তুতি। এই ব্যাপারে, প্রতি ক্ষেত্রেই তোমরা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করেছ।

[12] তাই আমি যদিও তোমাদের লিখেছিলাম, যে অন্যায় করেছিল, এ তার বিরুদ্ধে, অথবা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের বিরুদ্ধে নয়, বরং ঈশ্বরের দৃষ্টিতে তোমরা নিজেরাই দেখতে পাও যে, তোমরা আমাদের প্রতি কত অনুরক্ত।

[13] এ-সমস্তের দ্বারা আমরা উৎসাহ লাভ করেছি। আমাদের নিজস্ব উৎসাহের অতিরিক্তরূপে, আমরা তীতকে কত না সুখী দেখে আমরাও বিশেষভবে আনন্দিত হয়েছিলাম, কারণ তোমাদের সকলের দ্বারা তাঁর আত্মা সঞ্জীবিত হয়েছে।

[14] আমি তাঁর কাছে তোমাদের সম্পর্কে গর্বপ্রকাশ করেছিলাম, আর তোমরা আমাকে অপ্রস্তুত করোনি। কারণ যেমন তোমাদের কাছে আমাদের বলা সব কথাই ছিল সত্যি, তেমনই তীতের কাছে তোমাদের সম্পর্কে যে গর্বপ্রকাশ করেছিলাম, তাও সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে।

[15] আর তোমাদের জন্য তাঁর স্নেহ আরও বেশি প্রবল হয়, যখন তিনি স্মরণ করেন যে, তোমরা কেমন আদেশ পালন করেছিলে, তাঁকে সভয়ে ও কম্পিত হৃদয়ে গ্রহণ করেছিলে।

[16] আমি আনন্দিত যে, আমি তোমাদের উপরে সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারি।

2 করিন্থীয় — Chapters